লাশ স্থানান্তরের বিধান: কুরআন-সুন্নাহ আলোকে একটি গবেষণামূলক পর্যালোচনা
মুফতি মুঈনুল ইসলাম সিলেটি:
.......................................................................................
মৃত ব্যক্তির লাশ স্থানান্তর করা যাবে কিনা বিষয়টি মতানৈক্য নির্ভর এবং বিশ্লেষণের দাবি রাখে তাই আমরা এ বিষয়টি কয়েকটি পয়েন্ট নিয়ে আলোচনা সমাপ্ত করব
১.যেখানে মৃত্যু, সেখানেই দাফন
২ .লাশ স্থানান্তর মাকরূহে তাহরীমী এ মতের দলিল
৩. লাশ স্থানান্তর বৈধ এ মতের দলিল
৪. মাকরূহ বলতে তানযীহী বোঝানো হয়েছে এ মতের বিশ্লেষণ
৫.সাধারণভাবে মাকরুহ দ্বারা মাকরূহে তাহারিমি উদ্দেশ্য নাকি তানজিহি?
৬. জরুরি প্রয়োজনে স্থানান্তরের বিধান
৭. দাফনের পর স্থানান্তরের বিধান
১.যেখানে মৃত্যু, সেখানেই দাফন
কোন মুসলিম মারা গেলে উত্তম হলো সে যে স্থানে মারা গেছে সেখানেই তাকে দাফন করা, ফিকহে হানাফীর গ্রহণযোগ্য কিতাব আল-বাহরুর রায়িকে বর্ণিত হয়েছে
القتيل او الميت يستحب لهما أن يدفنا في المكان الذي قتل أو مات فيه في مقابر أولئك القوم لما روي عن عائشة رضي الله عنها أنها زارت قبر أخيها عبد الرحمن بن أبي بكر رضي الله عنهما ركان مات بالشام وحمل من هناك فقالت: لو كان الأمر فيك بيدي ما نقلتك ولدفنتك حيث مت
যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে বা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে, তাকে যে স্থানে সে নিহত হয়েছে বা মৃত্যুবরণ করেছে, সেখানকার লোকদের কবরস্থানে দাফন করা মুস্তাহাব।
কারণ বর্ণিত আছে যে আয়িশা (রা.) তাঁর ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর (রা.)এর কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। তিনি শাম এ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ সেখান থেকে অন্যত্র নিয়ে এসে দাফন করা হয়। তখন আয়িশা (রা.) বলেন:বিষয়টি যদি আমার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করত তাহলে আমি তোমাকে সেখান থেকে স্থানান্তর করতাম না বরং যেখানে তোমার মৃত্যু হয়েছিল, সেখানেই তোমাকে দাফন করতাম।
(আল বাহরুর রায়িক ২/৩৪১/আশরাফিয়া)
আরও পড়ুন: ইসলামে খিলওয়াত (নির্জনবাস) এর বিধান, পরনারীর সঙ্গে নির্জনতা:
এমনকি যদি কোন ব্যক্তি তার লাশ স্থানান্তরের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যায় তবে তারে ওসিয়ত গ্রহণযোগ্য হবে না এ ব্যাপারে আদ্দুররুল মুখতার কিতাবে বর্ণিত হয়েছে
أوصى بأن يصلي عليه فلان أو يحمل بعد موته إلى بلد آخر أو يكفن في ثوب كذا أو يطين قبره أو يضرب على قبره قبة أو لمن يقرأ عند قبره شيئاً معيناً فهي باطلة.
যদি কোনো ব্যক্তি অসিয়ত করে যে তার জানাজার নামাজ অমুক ব্যক্তি ইমামতি করবেন অথবা মৃত্যুর পর তাকে অন্য কোনো শহর বা দেশে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে কিংবা তাকে অমুক ধরনের কাপড়ে কাফন পরানো হবে অথবা তার কবর মাটি দিয়ে লেপে দেওয়া হবে কিংবা কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণ করা হবে অথবা তার কবরের পাশে নির্দিষ্ট কোনো সূরা আয়াত বা বিশেষ কিছু পাঠ করা হবে তবে এ ধরনের সকল অসিয়ত শরিয়তের দৃষ্টিতে বাতিল এগুলো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক নয়।আদ্দুররুল মুখতার ১০/৩৮১/আযহার।
এমনিভাবে ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দে একটি প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে।
دفن کی وصیت کا حکم کیسا ہے اور ایک جگہ سے سوال (۳۰۳۳) میرے بھائی عرصہ سے بیمار دوسری جگہ لاش کا لے جانا درست ہے یا نہیں تھے، مرض یہاں تک ترقی کر گیا کہ زندگی سے نا امیری ہو گئی، ایسی حالت میں مریض نے یہ وصیت کی کہ مجھ کو میرے باغ میں دفن کرنا ۔ میں حکیم کو لینے گیا تھا میری عدم موجودگی میں میرے بھائی کا انتقال ہوگیا۔ چونکہ میں وجود نہیں تھا برادری کے اور بھائیوں نے مرحوم کو اس کی وصیت کے خلاف دوسری جگہ دفن کر دیا ، اب میں اپنے بھائی کی قبر اکھاڑ کر اس کی نعش باہڈیاں جو کچھ ہو موجب اس کی وصیت کے باغ میں دفن کر سکتا ہوں یا نہیں اگر نہیں تو بروز قیامت مجھ سے وصیت کے بارے میں مواخذہ اور مجھے گناہ ہو گا یا نہیں
الجواب : اس صورت میں اس کی نعش یا ہڈیوں کو نکال کر باغ میں دفن کرنا درست نہیں ہے میت کی قبر کو اس وجہ سے ادھیڑنا اور کھو دنا حرام ہے۔ ایسی وصیت کا کچھ اعتبار نہیں ہوتا ۔ اور آپ پر کچھ گناہ دوسری جگہ دفن کرنے کی وجہ سے نہیں ہوا ۔
প্রশ্ন:
আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। রোগ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। তখন তিনি অসিয়ত করেন যে মৃত্যুর পর যেন তাকে আমাদের নিজস্ব বাগানে দাফন করা হয়।
আমি তখন একজন হাকিম আনতে বাইরে গিয়েছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতেই আমার ভাই ইন্তেকাল করেন। ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার অসিয়তের বিপরীতে তাকে অন্য একটি স্থানে দাফন করে দেন।এখন প্রশ্ন হলো আমি কি তার কবর খুলে লাশ বা হাড়গোড় বের করে তার অসিয়ত অনুযায়ী বাগানে পুনরায় দাফন করতে পারি? যদি তা না পারি তাহলে কিয়ামতের দিন তার অসিয়ত বাস্তবায়ন না করার কারণে আমার কোনো জবাবদিহি বা গুনাহ হবে কি?
উত্তর:
এ অবস্থায় কবর খুলে মৃতদেহ বা হাড়গোড় বের করে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে দাফন করা জায়েজ নয়। কেবল মৃত ব্যক্তির এমন অসিয়ত পূরণ করার জন্য কবর খনন করা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম ,কারণ এ ধরনের অসিয়ত শরিয়তে বাধ্যতামূলক বা কার্যকর বলে গণ্য হয় না। তাই তাকে অন্য স্থানে দাফন করা হয়েছে বলে আপনার ওপর কোনো গুনাহ বা দায় বর্তাবে না।
( ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম ৫/৩৯১/ মাকতাবা দারুল উলুম দেওবন্দ)
সুতরাং উত্তম হবে এটি যে কোন ব্যক্তি যে গ্রামে বা এলাকায় মারা গেছে সেই গ্রামের বা এলাকার কবরস্থানে দাফন করা এটাই। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওসিয়ত গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: কাযা নামায আদায়:শরয়ী দৃষ্টিকোণ
২.লাশ স্থানান্তর মাকরূহে তাহরীমী এ মতের দলিল
মৃত ব্যক্তির লাশ স্থানান্তর করা বৈধ না অবৈধ সেটা নিয়ে হানাফি মাযহাবের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই লাশ স্থানান্তর করা মাকরুহ বলেছেন আবার কেউ কেউ স্পষ্টভাবে লাশ স্থানান্তর করা মাকরূহে তাহরিমি বা নাজায়েজ হিসেবে স্পষ্টভাবে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য ও সর্বজন স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব আল্লামা আহমদ তাহাত্বাবী উল্লেখ করেছেন যে দাফনের পূর্বে সর্বোচ্চ দুই মাইল পর্যন্ত লাশ স্থানান্তর করার সুযোগ রয়েছে কেননা সাধারণত কবরস্থান এতোটুকু দূর হয়ে থাকে তাই জরুরত এতোটুকুই বিধায় এক শহর থেকে অন্য শহরে লাশ স্থানান্তর করা জরুরত না থাকার কারণে মাকরুহে তাহরিমি।
মারাকিল-ফালাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
( فإن نقل قبل الدفن قدر ميل أو ميلين) ونحو ذلك ( لا بأس به ) لأن المسافة إلى المقابر قد تبلغ هذا المقدار . وكره نقله لأكثر منه ) أي : أكثر من الميلين كذا في الظهيرية.
দাফনের আগে মৃতদেহকে এক মাইল বা দুই মাইল অথবা এর কাছাকাছি দূরত্বে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ অনেক সময় কবরস্থান এমন দূরত্বেই অবস্থিত থাকে।তবে এক বা দুই মাইলের চেয়ে বেশি দূরত্বে মৃতদেহ স্থানান্তর করে নিয়ে যাওয়াকে ফকিহগণ মাকরূহ বলেছেন। যেমন যাহীরিয়্যাহ গ্রন্থে এ কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।(মারাকিল ফালাহ ২/২৬৪)
এমনিভাবে হাশিয়াতুত তাহতাবী গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
قوله: (بيان أن النقل من بلد إلى بلد مكروه أي تحريما، لأن قدر الميلين فيه ضرورة، ولا ضرورة في النقل إلى بلد آخر.
লেখকের উদ্দেশ্য হলো :এক শহর বা জনপদ থেকে অন্য শহর বা জনপদ যা দুই মাইলের অধিক এমন দূরত্বে মৃতদেহ স্থানান্তর করে নিয়ে গিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমি। কারণ শরিয়ত কেবল এক বা দুই মাইল পর্যন্ত মৃতদেহ বহন করার অবকাশ দিয়েছে। এর কারণ হলো অনেক সময় নিকটবর্তী কবরস্থান এতটুকু দূরত্বে অবস্থিত থাকে তাই এ পরিমাণ পথ অতিক্রম করা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনসাপেক্ষ।কিন্তু মৃতদেহকে এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত এমন কোনো অপরিহার্য প্রয়োজন থাকে না। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূরবর্তী স্থানে মৃতদেহ স্থানান্তর করে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমি।
( হাশিয়াতুত তাহতাবী২/২৬৫)
এমনইভাবে হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য কিতাব গুনিয়াতুল মুতামাল্লিতে বর্ণিত হয়েছে দুই মাইলের চেয়ে বেশি স্থানান্তর করা জাইজ নয়।
ويستحب في القتيل والميت دفته في المكان الذي مات فيه في مقابر أولئك القوم وان نقل قبل الدفن قدر ميل أو ميلين فلا بأس به قبل هذا التقدير من محمد يدل على أن نقله من بلد الى بلد لا يجوز أو مكروه ولأن مقابر بعض البلدان ربما بلغت هذه المسافة ففيه ضرورة ولا ضرورة في النقل الى بلد اخر ص: ۵۷۳، مسائل متفوقة من الجنائز
শহীদ হোক কিংবা সাধারণ মৃত ব্যক্তি উভয়ের জন্যই উত্তম হলো যে স্থানে তার মৃত্যু হয়েছে, সেখানকার কবরস্থানেই তাকে দাফন করা।
তবে দাফনের পূর্বে যদি মৃতদেহকে এক বা দুই মাইল অথবা এর কাছাকাছি দূরত্বে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, অনেক সময় কোনো এলাকার কবরস্থান এতটুকু দূরত্বে অবস্থিত থাকে। তাই এ পরিমাণ দূরত্বে মৃতদেহ বহন করা প্রয়োজনের আওতাভুক্ত।
ইমাম মুহাম্মদ রহ.এর এ বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে এক শহর বা জনপদ থেকে অন্য শহর বা জনপদে মৃতদেহ স্থানান্তর করে নিয়ে যাওয়া বৈধ নয় অথবা অন্তত মাকরূহ। কেননা এক বা দুই মাইল পর্যন্ত মৃতদেহ বহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেবল প্রয়োজনের কারণে। কিন্তু এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো শরয়ি প্রয়োজন সাধারণত থাকে না। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূরবর্তী স্থানে মৃতদেহ স্থানান্তর করা শরিয়তসম্মত নয়।
(গুনিয়াতুল মুতামাল্লি/৭০৬/ মাসাইলে মুতাফার্রিকা মিনাল জানায়ীজ)
আরও পড়ুন: প্রসঙ্গ: সাহাবায়ে কিরাম রা.-এর সমালোচনা ও তাঁদের ত্রুটিবিচ্যুতি বর্ণনা!
হাশিয়াতুত তাহতাবী এবং গুনিয়াতুল মুতামাল্লি দুই কিতাবের ইবারত দ্বারা স্পষ্টভাবে একথা প্রমাণিত হয় যে দুই মাইলের চেয়ে বেশি লাশ স্থানান্তর করা মাকরুহে তাহারিমি বা জায়েজ নয়। তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে অনেক সময় নিকটবর্তী কবরস্থান এতটুকু দূরত্বে অবস্থিত থাকে তাই এ পরিমাণ পথ অতিক্রম করা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনসাপেক্ষ। আর মৃতদেহকে এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত এমন কোনো অপরিহার্য প্রয়োজন থাকে না। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূরবর্তী স্থানে মৃতদেহ স্থানান্তর করে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমি। এমনিভাবে বেহেশতি জেওর কিতাবে উল্লেখ
قبل دفن کے نعش کا ایک مقام سے دوسرے مقام میں دفن کرنے کے لئے لے جانا خلاف اولی ہے، جبکہ دوسرا مقام ایک دو میل سے زیادہ نہ ہو، اور اگر اس سے
زیادہ ہو تو جائز نہیں، اور بعد دفن کے نعش کھود کر لے جانا تو ہر حال میں نا جائز ہے
দাফনের আগে মৃতদেহকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গিয়ে দাফন করা খিলাফে আওলা বা উত্তমের পরিপন্থী যদি দ্বিতীয় স্থানটি এক বা দুই মাইলের বেশি দূরে না হয়।
আর যদি গন্তব্যস্থল এক বা দুই মাইলের চেয়ে বেশি দূরে হয় তাহলে সেখানে মৃতদেহ নিয়ে গিয়ে দাফন করা জায়েজ নয় তবে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর কবর খনন করে মৃতদেহ অন্যত্র স্থানান্তর করা সব অবস্থাতেই জায়েজ নয়। (বেহেশতি জেওর ১১/১০২)
এমনিভাবে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুফতি আল্লামা আজিজুর রহমান ওসমানী রাহিমাহুল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছে যে লাশ স্থানান্তর মাকরুহ তাহরিমি যাকে আমরা নাজায়েজ বলতে পারি। কেননা মাকরুহ তাহরিমি এর ব্যবহার নাজায়েজের উপর ও হয়।
سوال مردہ کو موجب وصیت اس کے غیر وطن میں دفن کرنا جائز ہے یا نہیں مرا ہوا اس کے وطن میں لے جا کر دفن کرنا اور وطن میں فاصلہ پر ہو کیا یہ بالکل حرام ہے یا مکروہ تحریمی یا تنزیہی ۔ ولی وطن میں ہو اس خیال سے لیجانا درست ہے یانہ بعض احادیث سے اس کا ثبوت ملتا ہے۔ عبدالرحمن بن ابی بکر رضی اللہ تعالیٰ عنہ کو صحابہ کرام نے مکہ معظمہ میں لاکر دفن کیا۔ یہ فعل صحابہ ہے۔ جواز کے لئے اتنی حجت کافی ہے یا نہیں۔ شامى اور در مختار میں مسائل قبر، دفن وغیره لا باس بہ لکھا ہے ۔ غرض میری یہ ہے کہ اسے متعلق بڑافتنہ ہوا ہے، لہذا جواز یا عدم جواز جو جانب راجح ہو ، مفصل طور سے تحریر فرمائیں ۔
الجواب :- قال في شرح المنية الكبير، ويستحب في القتيل والميت دفنه في المكان الذي مات فيه فى مقابر اولئك القوم وان نقل قبل الدفن قدر میل او میدین فلا باس به قيل هذا التقدير عن محمد يدل على ان نقله من بلد إلى بلد لا يجوزا و مكروه ولان مقابر بعض البلدان ربما بلغت هذه المسافة ففيه ضرورة ولا ضرورة فى النقل الى بلد آخر اور شامی نے در مختار کے اس قول فلا باس بنقله قبل دفتہ کی شرح میں لکھا ہے قيل مطلقاً وقيل إلى مادون مدة السفر وقيده محمد بقدر ميل او میلین لان مقابر البلد ربما بلغت هذه المسافة فيكره فيما زاد قال في النهر عن عقد الفرايد هو الظاهر ان عبارات سے واضح ہے کہ قبل دفن میت سے نقل کرنے میں اختلاف ہے ۔ بعض علماء جائز کہتے ہیں اور بعض ناجائز اور مکروہ اور ظاہرا مراد ان کی مکروہ سے مكروه تحرمي ہے ۔ اور صاحب نہر کا اس کو هو الظاھر کہنا اس کی ترجیح کو مقتضی ہے ۔
প্রশ্ন :কোনো ব্যক্তি যদি অসিয়ত করে যে মৃত্যুর পর তাকে তার নিজ শহর বা গ্রামের পরিবর্তে অন্য কোনো স্থানে দাফন করা হবে তাহলে সেই অসিয়ত অনুযায়ী তাকে সেখানে দাফন করা জায়েজ কি না?
আরও পড়ুন: তালাক: রাগের মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নয়, একটি পরিবারের ভবিষ্যতের প্রশ্ন
আবার কেউ যদি নিজ এলাকার বাইরে মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তাকে তার নিজ শহর বা গ্রামে নিয়ে গিয়ে দাফন করা কি বৈধ? যদি নিজ এলাকা অনেক দূরে হয় তাহলে সেখানে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া কি সম্পূর্ণ হারাম নাকি মাকরূহে তাহরীমি নাকি মাকরূহে তানযীহি?
অনেকের ধারণা নিজ জন্মভূমি বা নিজ এলাকায় দাফন হওয়াই অধিক উত্তম। এ উদ্দেশ্যে মৃতদেহ সেখানে নিয়ে যাওয়া কি শরিয়তসম্মত?
কিছু হাদিস ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে আবদুর রহমান ইবন আবি বকর রা কে মৃত্যুর পর মক্কা মুকাররামায় এনে দাফন করা হয়েছিল। যেহেতু এটি সাহাবায়ে কেরামের আমল তাই মৃতদেহ অন্য স্থানে নিয়ে গিয়ে দাফন করার বৈধতার জন্য এটি কি যথেষ্ট দলিল হিসেবে গণ্য হবে না?
এছাড়া দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার এর কবর ও দাফন-সংক্রান্ত আলোচনায় لا بأس به (এতে কোনো অসুবিধা নেই) বাক্যটি উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে কোন মতটি অধিক গ্রহণযোগ্য তা বিস্তারিতভাবে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
উত্তর :
শরহুল মিনয়াতিল কাবির গ্রন্থে বলা হয়েছে : শহীদ হোক কিংবা সাধারণ মৃত ব্যক্তি—উভয়ের জন্যই উত্তম হলো যে স্থানে তার মৃত্যু হয়েছে সেখানকার কবরস্থানেই তাকে দাফন করা।
তবে দাফনের আগে যদি মৃতদেহকে এক বা দুই মাইল অথবা এর কাছাকাছি দূরত্বে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই।
ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে এক শহর বা জনপদ থেকে অন্য শহর বা জনপদে মৃতদেহ স্থানান্তর করে নিয়ে যাওয়া জায়েজ নয় অথবা অন্তত মাকরূহ। কারণ অনেক সময় কোনো এলাকার কবরস্থান এক বা দুই মাইল দূরে অবস্থিত থাকে। তাই এতটুকু দূরত্ব পর্যন্ত মৃতদেহ বহন করা প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার মতো সাধারণত কোনো প্রয়োজন থাকে না।
অন্যদিকে রদ্দুল মুহতারে দুররুল মুখতার এর দাফনের আগে মৃতদেহ স্থানান্তর করলে অসুবিধা নেই এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ।
কিছু আলেমের মতে দাফনের আগে মৃতদেহ যেকোনো দূরত্বে স্থানান্তর করা বৈধ। আবার কারও মতে সফরের দূরত্বের কম হলে বৈধ। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এক বা দুই মাইল পর্যন্তই এর অনুমতি সীমাবদ্ধ রেখেছেন। কারণ অনেক সময় কবরস্থান এত দূরে হয়ে থাকে। তাই এর চেয়ে বেশি দূরত্বে মৃতদেহ স্থানান্তর করাকে মাকরূহ বলা হয়েছে।
আননারুল ফায়িক গ্রন্থে ইকদুল ফারায়িদ থেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য।এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, দাফনের আগে মৃতদেহ অন্য স্থানে স্থানান্তর করার বিধান নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল আলেম এটিকে জায়েজ বলেছেন আরেক দল নাজায়েজ বা মাকরূহ বলেছেন। আর এখানে মাকরূহ বলতে দৃশ্যত মাকরূহে তাহরীমি-ই উদ্দেশ্য। আননারুল ফায়িক গ্রন্থকার ও এ মতকেই অধিক শক্তিশালী ও প্রাধান্যযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: এক তালাকের পর কীভাবে রুজু করবেন? রজঈ তালাকের পূর্ণ শরয়ী বিধান
উপমহাদেশের কিংবদন্তি মুহাক্কিক আলেম ফকিহুল আসর আল্লামা রাশির আহমদ লুদয়ানবী রাহিমাহুল্লাহ তার কালজয়ী ফতোয়ার কিতাব আহসানুল ফাতাওয়াতে একথা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে লাশ স্থানান্তর করা মাকরুহে তাহরিমি।
سوال : میت کو جائے موت سے دوسرے شہر کی طرف منتقل کرتے ہیں کیا تحقیق ہے ؟
الجواب باسم ملهم الصواب
میت کو دوسرے شہر کی طرف نقل کرنا مکروہ تحریمی ہے،
প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর স্থান থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর করে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে শরয়ি বিধান কী?
উত্তর:মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর স্থান থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর করে নিয়ে যাওয়া মাকরূহে তাহরীমী।
পাশাপাশি গ্রন্থাগার লাশ স্থানান্তর করার কিছু ক্ষতির দিক ও উল্লেখ করেছেন
فساد میت کے علاوہ آجکل مزید مندرجہ ذیل مفاسد پیدا ہو گئے ہیں :
اس کا التزام ہونے لگا ہے مصارف کثیرہ و مشقت شدیدہ کا تحمل آبائی قبرستان میں دفن کرنے کے التزام اور اس پر اصرار سے یہ عقیدہ ثابت ہوتا ہے کہ ایک مقام میں دفن ہونے والے اموات کی آپس میں ملاقات ہوتی ہے ، حالانکہ یہ عقیدہ غلط ہے جنازے کو نقل کرنا عموما نماز جنازہ کے تکرار کا سبب بنتا ہے جو نا جائز ہے،
লাশ স্থানান্তর করার কারণে মৃতদেহ পচে যাওয়ার আশঙ্কা ছাড়াও বর্তমানে অন্য শহরে বা অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার কারণে আরও কিছু ক্ষতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন :মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে যেতে অনেক বেশি খরচ হয় এবং পরিবারের লোকজনকে অনেক কষ্ট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বাপ দাদার কবরস্থানে দাফন করতেই হবে এমন জোরাজুরি করতে করতে অনেকের মনে এ ভুল ধারণা তৈরি হয় যে একই কবরস্থানে দাফন হওয়া মৃত ব্যক্তিরা একে অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করেন। অথচ এ বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল।
আবার মৃতদেহ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় দ্বিতীয়বার জানাজার নামাজ পড়তে হয়, অথচ একই মৃতের জানাজার নামাজ বারবার আদায় করা শরিয়তে জায়েজ নয়।
(আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২০৮/যাকারিয়া)
আরও পড়ুন: মুসলিম পরিবারে তালাকের অপব্যবহার: শরীয়তের বিধান, প্রচলিত ভুল ও করণীয়
এমনিভাবে ফাতাওয়ায়ে উসমানিয়াতে এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে যে মারাত্মক প্রয়োজন ব্যতীত লাশ স্থানান্তর করা থেকে বেচে থাকা উচিত
سوال: اگر کسی شخص کا کراچی میں انتقال ہو تو میت کو پنجاب بھیجنا جائز ہے؟
جواب:- دفن سے پہلے میت کو ایک شہر سے دوسرے شہر منتقل کرنے کے بارے میں فقہائے حنفیہ میں اختلاف ہے، بعض حضرات اسے جائز کہتے ہیں اور بعض مکروہ تحریمی بتاتے ہیں، لہذا شدید ضرورت کے بغیر ایسا کرنے سے پر ہیز کرنا چاہئے۔
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তির যদি করাচিতে মৃত্যু হয় তাহলে তাকে দাফনের জন্য মরদেহ পাঞ্জাবে পাঠানো কি জায়েজ?
উত্তর: দাফনের আগে মৃতদেহকে এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর করার ব্যাপারে হানাফি ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে জায়েজ বলেছেন আবার কেউ মাকরূহে তাহরীমী বলেছেন। তাই কোনো জরুরি প্রয়োজন না থাকলে মৃতদেহ এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর করা থেকে বিরত থাকাই উচিত।
(ফাতাওয়ায়ে উসমানী ১/৫৭০/যাকারিয়া)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে লাশ স্থানান্তর করা উজর বা একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত বৈধ নয়, বরং দুই মাইলের চেয়ে বেশি দুর লাশ স্থানান্তর করা মাকরুহে তাহারিমি । কেননা অনেক সময় নিকটবর্তী কবরস্থান এতটুকু দূরত্বে অবস্থিত থাকে; তাই এ পরিমাণ পথ অতিক্রম করা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনসাপেক্ষ। আর মৃতদেহকে এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত এমন কোনো অপরিহার্য প্রয়োজন থাকে না। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূরবর্তী স্থানে মৃতদেহ স্থানান্তর করে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমি।
৩. লাশ স্থানান্তর বৈধ এ মতের দলিল।
হানাফী মাযহাবের যে সকল ফুকাহা সাধারণভাবে লাশ স্থানান্তর বৈধ হিসেবে মতামত পেশ করেছেন তাদের দলিল মারাকিল ফালাহ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে
لو مات في غير بلدة يستحب تركه، فإن نقل إلى مصر آخر لا بأس به، لما روي : أن يعقوب - صلوات الله عليه - مات بمصر ونقل إلى الشام ، وسعد بن أبي وقاص مات في ضيعة على أربعة فراسخ من المدينة ونقل على أعناق الرجال إلى المدينة
কোনো ব্যক্তি যদি নিজের শহরের বাইরে অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করেন তাহলে সেখানেই তাকে দাফন করা উত্তম। তবে যদি মৃতদেহ অন্য শহরে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয় তাতেও অসুবিধা নেই।কারণ বর্ণিত আছে আল্লাহর নবী হযরত ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)-এর মিসরে ইন্তেকাল হয়েছিল। পরে তার মৃতদেহ শামে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়।
অনুরূপভাবে হযরত সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযিয়াল্লাহু আনহু এর মদিনা থেকে চার ফারসাখ দূরের একটি গ্রামে ইন্তেকাল হয়। এরপর সাহাবিগণ তাকে কাধে বহন করে মদিনায় নিয়ে আসেন এবং সেখানেই দাফন করেন।
(মালাকিল ফালাহ২/২৬৫)
উক্ত দলিলের জবাব হিসেবে হাশিয়াতুত তাহতাবী গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
أصله للكمال، فإنه قال في رده كلام صاحب الهداية في التجنيس إنه لا إثم في النقل من بلد إلى بلد لما نقل أن يعقوب إلخ ما نصه إن ذلك شرع من قبلنا ولم تتوفر فيه شروط كونه من شرعنا، ولان اجساد الأنبياء عليهم السلام أطيب ما يكون حال الموت كالحياة والشهداء كسعد رضي الله عنه، ليسوا كغيرهم ممن جيفتهم أشد نتنا من جيفة البهائم فلا يلحق بهم
আল্লামা কামাল ইবনুল হুমাম (রহ.) এ মতের সমালোচনা করে বলেন আত-তাজনীস গ্রন্থে হিদায়ার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ‘এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ স্থানান্তর করলে গুনাহ হবে না। কারণ বর্ণিত আছে হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম এর মৃতদেহ মিসর থেকে শামে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এর জবাবে ইবনুল হুমাম বলেন।
এ ঘটনা পূর্ববর্তী নবীদের শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত। আর পূর্ববর্তী শরিয়তের কোনো বিধান আমাদের শরিয়তেও প্রযোজ্য হবে এ কথা প্রমাণের জন্য যে শর্তগুলো থাকা প্রয়োজন, তা এখানে বিদ্যমান নয়।তাছাড়া নবী রাসূলদের দেহ মোবারক মৃত্যুর পরও জীবিত অবস্থার ন্যায় পবিত্র ও সুগন্ধময় থাকে। অনুরূপভাবে শহীদদের দেহও সাধারণ মানুষের মতো পরিবর্তিত হয় না। যেমন, হযরত সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহু এর দেহ। তাই তাঁদেরকে সাধারণ মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে তুলনা করা সঠিক নয়। কারণ সাধারণ মানুষের মৃতদেহ কিছু সময় পর পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং তাতে এমন দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় মৃত পশুর দুর্গন্ধের চেয়েও তীব্র হয়। সুতরাং নবী ও শহীদদের দেহের ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষের মৃতদেহ স্থানান্তরের বিধান নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
(হাসিয়াতুত তাহতাবী ২/২৬৫)
মুফতি রশিদ আহমদ লুদইয়ানবী রাহিমাহুল্লাহ আহসানুল ফতোয়ায় উক্ত দলিলের জবাব দিয়েছেন।
حضرت يعقوب و حضرت یوسف علیها السّلام :
ان واقعات کی صحت ہی میں کام ہے کسی حدیث سے ثابت نہیں ۔
شرح من قبلنا جب تک قرآن یا حدیث میں منقول نہو محبت نہیں ، قرآن یا حدیث میں منقول ہونے کے باوجود اس کی قیمت کے لئے یہ شرط ہے کہ ہماری شریعت میں اس کے خلاف حکم نہ ہو اور مسئلہ زیر کت میں ترمیان میں کھیل کا حکم اس قدر ہموار ہے کہ اوقات کرو ہی میں بھی نماز جنازہ ادا کرنے کا حکم دیا گیا ہے اور جمع عقیم کے انکار کے لئے نماز میں تاخیر کی اجازت نہیں کی گئی، اسرا جنازہ کا حکم احادیث میجر میں وارد ہو
یہ واقعات نقل بعد دفن سے متعلق ہیں جو باتفاق مشایخ رحمہم اللہ تعالیٰ نا جائز ہے ۔
حضرت سعد بن ابی وقاص رضی اللہ تعالیٰ عنہ :
باہر اس میں ایک شہر سے دوسرے شہر کی طرف نقل نہیں پایا گیا ، آپ کا انتقال مدینہ منورہ سے با بارہ میل کے فاصلہ پر زرعی زمین میں ہوا، قومی احتمال بلکہ فن غالب ہے کہ وہاں کوئی قبرستان نہیں ہو گا اس لئے عرض مدینہ میں لائے گئے۔
হযরত ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) ও হযরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা সম্পর্কে:
আরও পড়ুন: নামাযের সুন্নত কিরাত : কিছু মৌলিক কথা
হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ও হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর মৃতদেহ স্থানান্তরের যে ঘটনাগুলো উল্লেখ করা হয় সেগুলোর সত্যতা নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে কারণ এ বিষয়ে সহিহ কোনো হাদিসে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না।
আর পূর্ববর্তী শরিয়তের (شرع من قبلنا) কোনো বিধান তখনই আমাদের জন্য দলিল হতে পারে, যখন তা কুরআন বা সহিহ হাদিসে বর্ণিত থাকবে। তদুপরি, কুরআন বা হাদিসে উল্লেখ থাকলেও সেটি তখনই আমাদের শরিয়তে প্রযোজ্য হবে যদি আমাদের শরিয়তে তার বিপরীত কোনো বিধান না থাকে।
অথচ আলোচ্য বিষয়ে মৃতদেহ দ্রুত দাফন করার নির্দেশ ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। এমনকি মাকরূহ সময়েও জানাজার নামাজ আদায় করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আবার জামাতের নামাজের অপেক্ষায় জানাজার নামাজ বিলম্বিত করারও অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ মৃতদেহ দ্রুত দাফন করার প্রতি শরিয়ত বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
( অন্য জবাব)
অথবা যেসব ঘটনা উদ্ধৃত করা হয়, সেগুলো দাফনের পর মৃতদেহ স্থানান্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অথচ দাফনের পর কবর থেকে মৃতদেহ অন্যত্র স্থানান্তর করা ফকিহ ও মাশায়েখগণের সর্বসম্মত মতানুযায়ী নাজায়েজ।
হযরত সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা সম্পর্কে:হযরত সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনাতেও এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ স্থানান্তরের কোনো প্রমাণ নেই। তাঁর ইন্তেকাল মদিনা মুনাওয়ারা থেকে প্রায় বারো মাইল দূরের একটি কৃষিজমিতে হয়েছিল। প্রবল সম্ভাবনা, বরং অধিকতর সঠিক ধারণা হলো—সেখানে কোনো কবরস্থান ছিল না। তাই তাঁকে মদিনায় নিয়ে এসে দাফন করা হয়েছিল। সুতরাং এ ঘটনাকে এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ স্থানান্তরের দলিল হিসেবে পেশ করা সঠিক নয়।
(আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২০৮/যাকারিয়া)
সুতরাং, এ সকল জবাবের আলোকে একথা বলা যায় যে সাধারণভাবে এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ স্থানান্তরকে বৈধ প্রমাণ করা শক্তিশালী দলিল দ্বারা সমর্থিত নয়। বরং অধিকাংশ হানাফি ফকিহের মতে, শরিয়তের মূলনীতি হলো মৃতদেহকে দ্রুত মৃত্যুর স্থান বা তার নিকটবর্তী কবরস্থানে দাফন করা উত্তম।
৪. মাকরূহ বলতে তানযীহী বোঝানো হয়েছে এ মতের বিশ্লেষণ।
যারা মুতলাক বা শর্তহীনভাবে লাশ স্থানান্তর করা মাকরূহ বলেছেন মাকরুহে তানযীহি বা তাহরীমি কোনটি স্পষ্ট ভাবে নির্ধারণ করেননি তাদের মাকরুহ শব্দ ব্যবহার দ্বারা মাকরুহে তানজিহি উদ্দেশ্য ফলাফল দাড়াবে উত্তম হলো ব্যক্তি যে স্থানে মারা গেছে সে স্থানে দাফন করা তবে স্থানান্তর করলে সেটা অনুত্তম হবে নিম্নোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণ করা উদ্দেশ্য।
এ ব্যাপারে ফতোয়ায়ে উসমানীতে চমৎকারভাবে আলোচিত বিষয়ের সারসংক্ষেপ পেশ করা হয়েছে। যেসব ফকীহ মৃতদেহ স্থানান্তরকে মাকরূহ বলেছেন, তাদের বক্তব্য থেকে বাহ্যত বোঝা যায় যে তারা মাকরূহে তানযীহী বোঝাতে চেয়েছেন। ‘মাকরূহে তাহরীমী’ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন শুধু ইমাম তাহতাবী তার হাশিয়াতু মারাকিল ফালাহ গ্রন্থে। সম্ভবত তিনি ‘মাকরূহ’ শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে তা থেকে এই অর্থ গ্রহণ করেছেন। তবে তার পূর্ববর্তী আলেমগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ‘মুস্তাহাবের পরিপন্থী মাত্র। সংযুক্ত উদ্ধৃতিগুলো থেকেও বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
আল্লামা বাহরুল উলূম রহ তাঁর রাসায়িলুল আরকান গ্রন্থে বলেন : বর্তমান সময়ে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কবর খুড়ে মৃতদেহ স্থানান্তর করা মাকরূহে তাহরীমী বরং তা অত্যন্ত কঠোরভাবে নিন্দনীয়। কারণ, কবর খনন করে মৃতদেহ বের করা বৈধ নয়। কেননা দাফনের মাধ্যমে তাকে আল্লাহ তাআলার নিকট সোপর্দ করে দেওয়া হয়েছে। তবে দাফনের আগে লাশ স্থানান্তর করা মাকরূহ। আর উত্তম হলো লাশ স্থানান্তর না করা।
এখানে আল্লামা বাহরুল উলুম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে দাফনের পর লাশ স্থানান্তর করা মাকরূহে তাহরীমী। কিন্তু দাফনের আগে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তিনি শুধু মাকরূহ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ‘তাহরীমী’ শব্দ যোগ করেননি। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় এখানে তাঁর উদ্দেশ্য মাকরূহে তাহরীমীর চেয়ে নিম্নস্তরের মাকরূহ আর সেটা হলো মাকরুহে তানজিহি। এ কারণেই তিনি তার পরপরই বলেছেন আর উত্তম হলো স্থানান্তর না করা।সুতরাং বুঝা গেল লাশ স্হানান্তর করা মাকরুহে তানজিহি বা অনুত্তম। যা মোস্তাহাব এর বিপরীত ফলাফল হলো লাশ ব্যক্তিকে লাশ স্থানান্তর না করে যে জায়গায় মারা গেছে সেখানে দাফন করা মোস্তাহাব বা উত্তম আর স্থানান্তর করা মাকরূহে তানজিহি বা অনুত্তম সুতরাং এ এখতেলাফ উত্তম এবং অনুত্তমের জায়েজ নাজায়েজের নয়।
আরও পড়ুন: আশুরার দিন ভালো খাবারের আয়োজন কি ভিত্তিহীন?
আর হযরত আয়িশা রা-এর বক্তব্য। তিনি তাঁর ভাই আবদুর রহমান ইবনু আবী বকর রা এর কবর জিয়ারত করতে গিয়ে বলেছিলেন : আল্লাহর কসম আমি যদি তোমার মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকতাম তাহলে যেখানে তোমার মৃত্যু হয়েছে সেখানেই তোমাকে দাফন করতাম।
ইমাম সারাখসী রহ বলেন। এ হাদীস প্রমাণ করে যে নিহত ব্যক্তি বা সাধারণ মৃত ব্যক্তিকে যেখানে তার মৃত্যু হয়েছে সেখানকার কবরস্থানেই দাফন করা উত্তম।এ হাদিস থেকেই ইমাম সারাখসী রহ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে মৃতদেহ স্থানান্তর না করাই উত্তম। বুঝা গেল স্থানান্তর করা উত্তমের বিপরীত তথা অনুত্তম আর এরই নাম মাকরূহে তানযীহী।
এখন কথা হল : ইমাম মুহাম্মদ রহ.এর বক্তব্য যে যদি মৃতদেহ এক মাইল দুই মাইল বা এর কাছাকাছি দূরত্বে স্থানান্তর করা হয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ বক্তব্য থেকে ফকীহগণ বুঝেছেন যে এক বা দুই মাইলের বেশি দূরত্বে স্থানান্তর করা মাকরূহ।ইমাম সারাখসী রহ থেকেও এমনটি বর্ণিত হয়েছে এর ব্যাখ্যা হল আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে ইমাম সারাখসী রহ মৃতদেহ স্থানান্তর না করাকেই উত্তম বলেছেন। তাই এখানে তাঁর ব্যবহৃত মাকরূহ শব্দ দ্বারা মাকরূহে তানযীহী বোঝানো হয়েছে এটাই অধিকতর স্পষ্ট।
( ফতোয়ায়ে উসমানী১/৫৮০/জাকারিয়া)
এ মাসআলায় হানাফী ফকিগনের মাকরুহ দ্বারা যে মাকরুহে তানজিহি উদ্দেশ্য তার আরো প্রমাণ রয়েছে নিম্নে তা পেশ করা হলো : বহু হানাফী ফকীহ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মৃতদেহ স্থানান্তর করলে কোনো গুনাহ হয় না আর মাকরূহে তানজিহি ও অনুত্তমের নাম যার দ্বারা গুনাহ উদ্দেশ্য হয় না। সুতরাং লাশ স্থানান্তর করলে গুনাহ হয় না একথা আর লাশ স্থানান্তর করা মাকরহে তানজিহি এ দুই কথার ফলাফল এক ও অভিন্ন যার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
মৃতদেহ স্থানান্তর করলে কোনো গুনাহ হয় এমন মন্তব্য যারা করেছেন এদের অন্যতম হলেন হিদায়া-এর লেখক। ইবনুল হুমাম রহ বর্ণনা করেন: যে তাজনীস গ্রন্থের লেখক তথা হেদায়া কিতাবের লেখক বলেছেন এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ স্থানান্তর করলে কোনো গুনাহ হয় না। এমনিভাবে হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য ফকিহ আল্লামা জয়নুদ্দিন ইবনু নুজাইম মিছরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর করা হলেও এতে কোনো গুনাহ নেই।
القتيل او الميت يستحب لهما أن يدفنا في المكان الذي قتل أو مات فيه في مقابر أولئك القوم لما روي عن عائشة رضي الله عنها أنها زارت قبر أخيها عبد الرحمن بن أبي بكر رضي الله عنهما ركان مات بالشام وحمل من هناك فقالت: لو كان الأمر فيك بيدي ما نقلتك ولدفنتك حيث مت لكن مع هذا إذا نقل ميلاً أو ميلين ونحو ذلك فلا بأس، وإن نقل من بلد إلى بلد فلا اتم فيه
“নিহত ব্যক্তি বা সাধারণ মৃত ব্যক্তিকে যেখানে তার মৃত্যু হয়েছে সেখানকার মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা মুস্তাহাব। তবে দাফনের আগে যদি তাকে এক বা দুই মাইল পরিমাণ দূরত্বে স্থানান্তর করা হয় তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। একইভাবে কেউ যদি নিজ শহরের বাইরে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সেখানেই তাকে দাফন করাই উত্তম। তবে অন্য শহরে স্থানান্তর করলেও এতে কোনো গোনাহ নেই।(আল বাহরুর রায়িক ২/৩৪২/আশরাফিয়া)
আরও পড়ুন: প্রচলিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা ও জিমের শরয়ী হুকুম
এমনিভাবে আল্লামা আফেন্দী রাহিমাহুল্লাহ মাজমাউল আনহুর গ্রন্থে একই কথা বলেনএক শহর থেকে অন্য শহরে লাশ স্থানান্তর করা হলেও এতে কোনো গুনাহ নেই।
ويستحب في القتيل والميت دفنه في المكان الذي مات في مقابر أولئك المسلمين وإن نقل قبل الدفن إلى قدر ميل أو ميلين فلا بأس به وكذا لو مات في غير بلده
يستحب تركه فان نقل الى مصر آخر فلا بأس به.
“নিহত ব্যক্তি কিংবা সাধারণ মৃত ব্যক্তিকে যেখানে তার মৃত্যু হয়েছে সেখানকার মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা মুস্তাহাব। তবে দাফনের আগে যদি তাকে এক বা দুই মাইল কিংবা এর কাছাকাছি দূরত্বে স্থানান্তর করা হয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। অনুরূপভাবে কেউ যদি নিজ শহরের বাইরে মৃত্যুবরণ করে তবুও তাকে সেখানেই দাফন করাই মুস্তাহাব। অবশ্য অন্য শহরে স্থানান্তর করা উত্তম নয় তবে যদি অন্য কোনো শহরে স্থানান্তর করা হয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।( মাজমাউল আনহুর ১/২৭৬/ইলমিয়্যাহ)
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা : এমনকি যদি এ কথাও মেনে নেওয়া হয় যে এখানে মাকরূহ বলতে মাকরূহে তাহরীমী বোঝানো হয়েছে তবুও এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সেই মত অনুযায়ী আমল করাই অধিক সতর্কতা ও তাকওয়ার পরিচায়ক এটাই বুঝানো উদ্দেশ্য মাকরুহ দ্বারা । তবে এ কথা নিশ্চিত বাস্তব যে, এ মাসআলাটি হানাফী ফকীহদের মধ্যে মতভেদপূর্ণ। আর যে সব মাসআলা ইজতিহাদভিত্তিক এবং যেখানে ফকীহদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মতপার্থক্য বিদ্যমান সেসব বিষয়ে অকাট্য ও সর্বসম্মত হারাম বিষয়ের মতো কঠোরতা করা বা কঠোরভাবে আপত্তি উপস্থাপন করা সমীচীন নয় এটাই দ্বীনে ইসলামের অনুসরণযোগ্য মূলনীতি যার বাহিরে উম্মতের কল্যাণ নিহিত নয়। সুতরাং এ মাসালাতে এমন নীতি অবলম্বন করা উপযুক্ত বলে মনে করি। আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞতা।
৫.সাধারণভাবে মাকরুহ দ্বারা মাকরূহে তাহারিমি উদ্দেশ্য নাকি তানজিহি?
এ ব্যাপারে চমৎকার আলোচনা রয়েছে ফিকহে হানাফীর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারে
المكروه في هذا الباب نوعان أحدهما ما كره تحريما وهو المحمل عند اطلاقهم الكراهة ..... ثانيهما المكروه تنزيها ومرجعه إلى ما تركه أولى وكثيرا ما يطلقونه كما في شرح المنية فحينئذ اذا ذكروا مكروها فلا بد من النظر في دليله فان كان نهياً ظنياً يحكم بكراهة التحريم الا لصارف للنهي عن التحريم الى الندب فان لم يكن الدليل نهيا بل كان مفيدا للترك الغير الجازم فهي تنزيهية.
এই অধ্যায়ে মাকরূহ দুই প্রকার।
প্রথম প্রকার মাকরূহে তাহরীমী। ফকীহগণ যখন কোনো ব্যাখ্যা বা বিশেষণ ছাড়াই শুধু মাকরূহ শব্দটি ব্যবহার করেন তখন সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এর দ্বারা মাকরূহে তাহরীমী-ই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় প্রকার: মাকরূহে তানযীহী। এর মূল অর্থ হলো (ما تركه أولى) তথা কাজটি বৈধ হলেও তা পরিহার করাই উত্তম তারমানে কাজটি করলে গুনাহ হয় না তবে তা না করাই শরীয়তের দৃষ্টিতে অধিক পছন্দনীয়। শরহুল মুনইয়াহসহ বহু ফিকহি গ্রন্থে মাকরূহ শব্দটি এ অর্থে ও ব্যবহৃত হয়েছে।মোটকথা ফকীহগণ যখন কোনো বিষয়ে শুধু মাকরূহ শব্দ ব্যবহার করেন তখন সেটি মাকরূহে তাহরীমী নাকি মাকরূহে তানযীহী এ সিদ্ধান্তে পৌঁছার জন্য অবশ্যই তার দলিলের দিকে লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।যদি এর দলিল نهيবা নিষেধবাচক হয় এবং সেই নিষেধ ظني তথা সন্দেহজনক দলিল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে মূলনীতি অনুযায়ী সেটিকে মাকরূহে তাহরীমী বলা হবে। তবে যদি এমন কোনো শক্তিশালী প্রমাণ বিদ্যমান থাকে যা ঐ নিষেধকে মাকরুহে তাহরীমী থেকে সরিয়ে নুদুব তথা উত্তম বা মুস্তাহাব হওয়ার দিকে নিয়ে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে তা আর মাকরূহে তাহরীমী থাকবে না। বরং মোস্তাহাব বা উত্তম হিসেবে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে, যদি সংশ্লিষ্ট দলিলটিنهيবা নিষেধবাচক না হয়ে কেবল এতটুকুই প্রমাণ করে যে কাজটি পরিত্যাগ করা উত্তম তাহলে সে ক্ষেত্রে সেই মাকরূহ দ্বারা মাকরূহে তানযীহী-ই উদ্দেশ্য হবে। মোটকথা ফিকহের মূলনীতি হলো মাকরূহ শব্দের প্রকৃত অর্থ নির্ধারণে শুধু শব্দের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয় বরং তার পেছনের দলিলের নির্দেশনাই নির্ধারণ করবে তা মাকরূহে তাহরীমী নাকি মাকরূহে তানযীহী।(রদ্দুল মুহতারে১/২৮০/আযহার)
আরও পড়ুন: ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সংক্রান্ত মাসায়েল
৬. জরুরি প্রয়োজনে স্থানান্তরের বিধান।
একথা সর্বজনস্বীকৃত যে জরুরতে শাদীদা বা একান্ত প্রয়োজনার্থে শরীয়তের যে কোন বিধানের ক্ষেত্রে যথা সম্ভব বান্দার জন্য সহজ করা হয় পাশাপাশি উক্ত বিধানের উপর আমল করার জন্য বান্দাকে উৎসাহিত করা হয় কেননা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন বান্দার সামর্থের বাহিরে তার ওপর কোন বিধান আরোপ করেন না। এ মর্মে আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন সুরাতুল বাকারাতে বলেন "আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্য ও সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না।”(বাকারা ২৮৬)
সুতরাং ব্যক্তি যে স্থানে মারা গেছে সেখানে যদি সহজে দাফনের ব্যবস্থা না হয় বা বা কবরের পরিমান জায়গা ক্রয় করতে হয় অথবা যেখানে মারা গেছে সেখানে কোন কবরস্থান না থাকে অথবা এলাকার কবরস্থান অনেক দূর চাই তা দুই মাইলের বেশি হোক না কেন সকল ক্ষেত্রে লাশ স্থানান্তর করা বৈধ আছে।
(সাত) দাফনের পর লাশ স্থানান্তরের বিধান।
النقل بعد الدفن على ثلاثة أوجه : في وجه يجوز باتفاق. وفي وجه لا يجوز باتفاق، وفي وجه اختلاف. أما الأول: فهو إذا دفن في أرض مغصوبة أو كفن في ثوب مغصوب ولم يرض صاحبه إلا بنقله عن ملكه أو نزع ثوبه جاز أن يخرج منه باتفاق .
وأما الثاني : فكالام إذا أرادت أن تنظر إلى وجه ولدها أو نقله إلى مقبرة أخرى لا يجوز باتفاق .
وأما الثالث : إذا غلب الماء على القبر، فقيل يجوز تحويله لما روي أن صالح بن عبيد الله رؤي في المنام وهو يقول : ( حولوني عن قبري فقد آذاني الماء ثلاثاً، فنظروا فإذا شقه الذي يلي الماء قد أصابه الماء، فأفتى ابن عباس رضي الله عنهما بتحويله، وقال الفقيه أبو جعفر : يجوز ذلك أيضاً ثم رجع ومنع
কবর দেওয়ার পর মৃতদেহ স্থানান্তরের বিধান তিন প্রকার
কবর দেওয়ার পর মৃতদেহ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা দেখা যায় একটিতে সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ একটিতে সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ এবং আরেকটিতে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
প্রথম অবস্থা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ
যদি মৃত ব্যক্তিকে জবরদখলকৃত জমিতে দাফন করা হয় অথবা অন্যের জবরদখলকৃত কাপড়ে কাফন দেওয়া হয় এবং প্রকৃত মালিক তার জমি বা কাপড় ফেরত নেওয়ার জন্য মৃতদেহ স্থানান্তর বা কাফন খুলে নেওয়ার দাবি করেন তাহলে এ অবস্থায় কবর থেকে মৃতদেহ বের করে স্থানান্তর করা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ।
দ্বিতীয় অবস্থা সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ
যদি কোনো মা কেবল সন্তানের মুখ শেষবার দেখার উদ্দেশ্যে কবর খনন করতে চান অথবা মৃতদেহকে একটি কবরস্থান থেকে অন্য কবরস্থানে স্থানান্তর করতে চান তাহলে তা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ নয়।
তৃতীয় অবস্থা মতভেদের বিষয়
যদি কবরে পানি ঢুকে যায় এবং মৃতদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তাহলে তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে কি না এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
একদল আলেম এর বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের দলিল হলো সালিহ ইবনে উবাইদুল্লাহ কে স্বপ্নে দেখা যায় যে তিনি বলছেন আমাকে আমার কবর থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করো কারণ তিনবার পানি এসে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। এরপর লোকেরা কবর পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে কবরের পানির দিকের অংশে সত্যিই পানি প্রবেশ করেছে। তখন ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁর কবর স্থানান্তরের ফতোয়া দেন। একই মত পোষণ করেছিলেন ফকীহ আবু জাফরও। তবে পরবর্তীতে তিনি তাঁর পূর্বের মত থেকে ফিরে এসে এ ধরনের স্থানান্তরকে নিষিদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেন।
(হাশিয়াতুত তাহতাবী ২/২৬৬)
আরও পড়ুন: ঈদের নামাযে আযান-ইকামত নেই
উপসংহার
উপরুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মৃতদেহ স্থানান্তরের মাসআলাটি হানাফি ফিকহে একটি ইজতিহাদভিত্তিক ও মতভেদপূর্ণ বিষয়। তবে অধিকাংশ হানাফি ফকীহের মতে মূলনীতি হলো কোনো মুসলিম যে স্থানে ইন্তেকাল করেন সেখানেই বা তার নিকটবর্তী কবরস্থানে দ্রুত দাফন করা সুন্নত ও মুস্তাহাব। অকারণে এক শহর থেকে অন্য শহরে মৃতদেহ স্থানান্তর করা শরিয়তের কাম্য নয়; বরং বহু ফকীহ তা মাকরূহে তাহরীমী এবং অনেকে মাকরূহে তানযীহী বলেছেন। তবে দাফনের আগে যদি কোনো শরয়ি উজর বা একান্ত প্রয়োজন বিদ্যমান থাকে তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী মৃতদেহ স্থানান্তরের অবকাশ রয়েছে।
অন্যদিকে দাফনের পর কবর থেকে মৃতদেহ স্থানান্তর করা মূলত নিষিদ্ধ। তবে জবরদখলকৃত জমিতে দাফন অন্যের গাসবকৃত কাফন কিংবা মৃতদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে ফকীহগণ পৃথক পৃথক বিধান উল্লেখ করেছেন। ফলে এ বিষয়ের প্রত্যেকটি অবস্থা একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং পরিস্থিতি ও কারণভেদে বিধান পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং এ মাসআলায় মতভেদকে সম্মান করা, শরয়ি প্রয়োজন ব্যতীত মৃতদেহ স্থানান্তর থেকে বিরত থাকা এবং দ্রুত দাফনের সুন্নতের ওপর আমল করাই অধিক সতর্কতা উত্তম আমল ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে যেহেতু এটি ইজতিহাদভিত্তিক মতভেদের বিষয়, তাই এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণকারী গ্রহণযোগ্য ফকীহদের মতকে কেন্দ্র করে অযথা কঠোরতা পারস্পরিক নিন্দা বা বিভেদ সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানী।
মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মা’হাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল