ফিকহ দুআ-দরূদ

ইসমে আযমের উসীলায় মুনাজাত করা

ইসমে আযমের ফযীলত

ইসমে আযমের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে মুনাজাত করা দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ইসমে আযমের মাধ্যমে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার দোয়ায় সাড়া দেন এবং তাকে দান করেন।

এটি আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণ তাওহীদ, আন্তরিকতা ও নির্ভরতার প্রকাশ। বান্দা যখন আল্লাহর মহান নামের উসীলায় মুনাজাত করে, তখন সে একমাত্র আল্লাহকেই সকল ক্ষমতার মালিক ও সকল প্রয়োজন পূরণকারী হিসেবে স্বীকার করে।

ইসমে আযমের উসীলায় মুনাজাত বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত, নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এতে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আশা আরও বৃদ্ধি পায়।

বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা ও সংকটের সময় ইসমে আযমের উসীলায় মুনাজাত করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত বরকতময় আমল। আল্লাহ তাআলা তাঁর হিকমত অনুযায়ী বান্দার কষ্ট দূর করেন এবং কল্যাণের ব্যবস্থা করে দেন।

এ আমলের মাধ্যমে হৃদয়ে প্রশান্তি, ঈমানের দৃঢ়তা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা সৃষ্টি হয়। বান্দা অনুভব করে যে, প্রকৃত সাহায্য ও আশ্রয় একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই।

ইসমে আযমের উসীলায় মুনাজাতের বরকতে আল্লাহ তাআলা কখনো বান্দার চাওয়া পূরণ করেন, কখনো তার থেকে কোনো বিপদ দূর করে দেন, আবার কখনো আখিরাতের জন্য এর উত্তম প্রতিদান সংরক্ষণ করেন।

তাই ইখলাস, আদব ও একাগ্রতার সঙ্গে ইসমে আযমের উসীলায় মুনাজাত করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ও বরকতময় আম

ইসমে আযমের দোয়া সমূহ

 

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ بِاَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَ نْتَ الْمَنَّانُ، بَدِيْعُ السَّمٰوَاتِ وَالْاَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ اَسْئَلُكَ

.অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি এবং জানি যে, তোমারই জন্য প্রশংসা। তুমি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই; তুমি অতি দয়ালু, বড় দাতা, আসমান ও যমীনের অপূর্ব স্রষ্টা। হে মহত্ত্ব ও সম্মানের অধিকারী! হে চিরঞ্জীব, হে প্রতিষ্ঠাতা! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি।ফায়দা: হযরত আনাছ রাযি. থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বসা ছিলেন তখন পাশে এক ব্যক্তি নামাযরত ছিল। নামাযান্তে লোকটি এই দুআটি পড়ে দুআ করেছিল। আল্লাহর রাসূল তা শুনে বললেন, সে ঐ ইসমে আযম দ্বারা আল্লাহর নিকট দুআ করল যে ইসমে আযম দ্বারা আল্লাহর নিকট দুআ করলে আল্লাহ কবুল করেন। (সুনানে আবি দাঊদ:১৪৯৫)

 

اَللّٰهُمَّ اِنِّـيْ  اَسْئَلُكَ بِاَنِّـيْ اَشْهَدُ اَنَّـكَ اَنْتَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ الْاَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ

 

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে একথার সাক্ষ্য দেওয়ার উসীলায় প্রার্থনা করছি যে, তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তুমি এমন একক ও অমুখাপেক্ষি সত্তা, যে কাউকে জন্ম দেয়নি এবং যাকে কেউ জন্ম দেয় নি এবং যার সমকক্ষ কেউ নেই।ফায়দা: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে উপরোক্ত ভাষায় দু‘আ করতে শুনে বললেন, ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার জীবন, নিশ্চয় সে আল্লাহর এমন নামের উসীলায় দু‘আ করেছে, যে নামের উসীলায় দু‘আ করলে আল্লাহ কবুল করেন এবং প্রার্থনা করলে দান করেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস:৩৪৭৫)

 

وَاِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ

 

(সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৬৩)অর্থ: তোমাদের উপাস্য (মা‘বূদ) কেবলমাত্র এক উপাস্য। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি সীমাহীন দয়ালু ও অতি মেহেরবান।

الٓمۤ. اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১-২)অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।ফযীলত: হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আল্লাহ তাআলার ইসমে আযম উপরোল্লেখিত দুই আয়াতের মধ্যে রয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১৪৯৬)

 

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা

 

📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

১২ জুলাই ২০২৬