ফিকহ হাদীস অস্বিকারকারী

কুরআনই যথেষ্ট -হাদীস মানার প্রয়োজন কী?

প্রশ্ন: কুরআনই তো ইসলামের জন্য যথেষ্ট। তাহলে হাদীস মানার প্রয়োজন কী?

الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

উত্তর:  ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক, শুধু কুরআনই যথেষ্ট, হাদীস মানার প্রয়োজন নেই”—এ কথা সঠিক নয়। কারণ কুরআন মাজীদ নিজেই রাসূলুল্লাহ -এর আনুগত্যকে ফরজ করেছে এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে নির্দেশ দিয়েছে। তাই কুরআনকে সত্যিকার অর্থে মানতে হলে রাসূলুল্লাহ -এর সুন্নাহ ও সহীহ হাদীসও মানতে হবে।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন

﴿وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا﴾

রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।

(সূরা আল-হাশর: ৭)আরও ইরশাদ করেন

﴿مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ﴾

যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল।(সূরা আন-নিসা: ৮০)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন

﴿وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ﴾

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো।(সূরা আন-নিসা: ৫৯)

আবার আল্লাহ তাআলা বলেন

﴿فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴾

যারা রাসূলের আদেশের বিরোধিতা করে, তারা সতর্ক থাকুক তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এসে পড়তে পারে।(সূরা আন-নূর: ৬৩)  রাসূলুল্লাহ বলেছেন

أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْقُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ

জেনে রেখো! আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সঙ্গে তার অনুরূপ (সুন্নাহ)ও দেওয়া হয়েছে।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৪৬০৪)  আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেছেন

تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ

আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকবে, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।(আল-মুওয়াত্তা, ইমাম মালিক)

বাস্তবভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, কুরআনে সালাত কায়েম করার নির্দেশ রয়েছে; কিন্তু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা, রুকু-সিজদার পদ্ধতি, তাশাহহুদ, সালাম—এসব কুরআনে বিস্তারিত নেই। এগুলো রাসূলুল্লাহ -এর হাদীস ও আমল থেকেই জানা যায়।

একইভাবে যাকাতের নিসাব, বিভিন্ন সম্পদের যাকাতের হার, হজের বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি, রোযার বহু মাসআলা, বিবাহ-তালাক, উত্তরাধিকার, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অসংখ্য শরয়ী বিধানের ব্যাখ্যা সহীহ হাদীসের মাধ্যমেই উম্মত লাভ করেছে। যদি কেউ হাদীস অস্বীকার করে, তবে সে ইসলামের অধিকাংশ বিধানই সঠিকভাবে পালন করতে পারবে না। কারণ কুরআনের ব্যাখ্যাকার ও বাস্তব শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ তাঁর জীবনই কুরআনের বাস্তব রূপ। অতএব, কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ একে অপরের পরিপূরক। কুরআন মানতে হলে হাদীসও মানতে হবে। আর যে ব্যক্তি হাদীসকে শরীয়তের দলিল হিসেবে অস্বীকার করে, সে কুরআনের বহু সুস্পষ্ট নির্দেশনার বিরোধিতা করে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কুরআন ও সহীহ সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে জীবন পরিচালনা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

 

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা

 

 

📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

১২ জুলাই ২০২৬