নামাজে কিরাআতের সর্বনিম্ন পরিমাণ জাহর-ইখফার সীমা দলিলভিত্তিক বিশ্লেষণ
মুফতি মুঈনুল ইসলাম সিলেটি: .......................................................................................
আদ্দুররুল মুখতারের বক্তব্য দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে উচ্চস্বরে এবং নিম্নস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা : উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার সর্বনিম্ন সীমা হল এমনভাবে কিরাআত পড়া যাতে অন্য কেউ তা শুনতে পারে। আর নিম্নস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো এমনভাবে তিলাওয়াত পড়া যাতে পাঠকারী নিজে তার কিরাআত শুনতে পারে। আদ্দুররুল মুখতারে বর্ণিত হয়েছে
(و) أدنى الجهر إسماع غيره، و أدنى المخافتة إسماع نفسه ومن بقربه؛ فلو سمع رجل أو رجلان فليس بجهر، والجهر أن يسمع الكل، خلاصة
উচ্চস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো এমনভাবে কিরাআত করা যাতে অন্য কেউ তা শুনতে পারে। আর নিম্নস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো এমনভাবে তিলাওয়াত করা যাতে পাঠকারী নিজে তার কিরাআত শুনতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় তার নিকটবর্তী ব্যক্তিও সেই তিলাওয়াত শুনতে সক্ষম হবে।তবে ইমাম যদি এমনভাবে কিরাআত পড়েন যে মাত্র একজন বা দুজন মুসল্লি তা শুনতে পায় তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে জাহর (উচ্চস্বরে কিরাআত) হিসেবে গণ্য হবে না। বরং প্রকৃত জাহর হলো এমনভাবে কিরাআত করা যাতে প্রথম কাতারের সকল মুসল্লি তা শুনতে পারে। এ কথাই খুলাসাহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।(আদ্দুরুল মুখতার ২/৩০৮/ আজহার)
২. নিম্নস্বরে নামাজে কেরাত পড়ার সর্বনিম্ন সীমা।
নিম্নস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো : এমনভাবে তিলাওয়াত করা যাতে পাঠকারী নিজে তার কিরাআত শুনতে পারে।আর এটা আল্লামা হিন্দওয়ানী ও আল্লামা ফযলী রহ.এর মতে।আর ইমাম কারখী ও আবু বকর আল-বালখী রহ মতে নিজ কানে কেরাত শ্রবন করা আবশ্যক নয় বরং অক্ষরগুলো শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট ।এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা নিম্নে বর্ণিত হল
اعلم أنهم اختلفوا في حد وجود القراءةعلى ثلاثة أقوال:
فشرط الهندوانى والفضلي لوجودها خروج صوت يصل إلى أذنه، وبه قال الشافعي وشرط بشر المريسي (1) وأحمد: خروج الصوت من القم وإن لم يصل إلى أذنه، لكن بشرط كونه مسموعاً في الجملة، حتى لو أدنى أحد صماحه إلى فيه يسمع .
ولم يشترط الكرخي وأبو بكر البلخي السماع، واكتفيا بتصحيح الحروف. واختار شيخ الإسلام وقاضيخان وصاحب المحيط والحلواتي قول الهندواني، كذا في معراج الدراية. ونقل في المجتبى عن الهندواني أنه لا يجزيه ما لم تسمع أذناه ومن بقربه، وهذا لا يخالف ما مر من الهندواني، لأن ما كان مسموعاً له يكون مسموعاً لمن في قربه، كما في الحلية والبحر. ثم إنه اختار في الفتح أن قول الهندواني وبشر متحدان بناء على أن الظاهر سماعه بعد وجود الصوت إذا لم يكن مانع. وذكر في البحر تبعاً للحلية أنه خلاف الظاهر بل الأقوال ثلاثة. وأيد العلامة خير الدين الرملي في فتاواه (1) كلام الفتح بما لا مزيد عليه، فارجع إليه. وذكر أن كلا من قولي الهندواني والكرخي مصححان، وأن ما قاله الهندواني أصح وأرجح لاعتماد أكثر علمائنا عليه اهـ.
وبما قررناه ظهر لك أن ما ذكر هنا في تعريف الجهر والمخافتة، ومثله في سهو المنية وغير، مبني على قول الهندواني؛ لأن أدنى الحد الذي توجد فيه القراءة عنده خروج الصوت يصل إلى أذنه أي: ولو حكماً، كما لو كان هناك مانع من صمم أو جلية أصوات أو نحو ذلك، وهذا معنى قوله : أدنى المخافتة إسماع نفسه، وقوله : ومن بقربه، تصريح باللازم عادة كما مر. وفي القهستاني وغيره أو من بقربه، بأو، وهو أوضح ويبتني على ذلك أن أدنى الجهر إسماع غيره أي ممن لم يكن بقربه بقرينة المقابلة،
৩. ইখফার সর্বনিম্ন পরিমাণ।
নামাজী ব্যক্তি কতটুকু নিম্ন আওয়াজে পড়লে সেটি নিম্নস্বরে পড়াগণ্য হবে এ ব্যাপারে ফুকাহাদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।
প্রথম মত : আল্লামা হিন্দওয়ানী ও আল্লামা ফযলী রহ.এর মতে নামাজী ব্যক্তির তেলাওয়াত কিরাআত হিসেবে তখনই গণ্য হবে যখন সে নামাজে এমনভাবে কেরাত পাঠ করবে যে তার মুখ থেকে এমনভাবে শব্দ বের হবে যা পাঠকারী নিজ কানে শুনতে সক্ষম হবে। মোটকথা নামাজি ব্যক্তি তার কেরাত নিজ কানে যদি শুনে তাহলে সেটা নিম্নস্বরের কেরাত হিসেবে গণ্য হবে
দ্বিতীয় মত : ইমাম কারখী ও আবু বকর আল-বালখী রহ মতে কিরাআতের জন্য শব্দ শোনা শর্ত নয় বরং অক্ষরগুলো শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট। উক্ত মতে পক্ষে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে কেরাত কানের কাজ নয় বরং জবানের কাজ বিধায় অক্ষরগুলো জবান দ্বারা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ হলেই কেরাত আদায় হয়ে যাবে। ফলে এমন ব্যক্তির নামাজ ও শুদ্ধ হয়ে যাবে। মিরাজুদ দিরায়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে শাইখুল ইসলাম কাযী খান সাহিবুল মুহীত এবং হালওয়াতী রহ.হিন্দওয়ানীর মতকেই গ্রহণ করেছেন। তবে মুজতাবা গ্রন্থে হিন্দওয়ানীর নামে আরও একটি বর্ণনা এসেছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত পাঠকারীর নিজের কান এবং তার নিকটবর্তী ব্যক্তির কান পর্যন্ত শব্দ না পৌঁছায় ততক্ষণ কিরাআত যথেষ্ট হবে না। কিন্তু এটি পূর্বোক্ত বক্তব্যের বিরোধী নয়। কারণ যে শব্দ পাঠকারী নিজে শুনতে পারে স্বাভাবিক অবস্থায় তার পাশে অবস্থানকারী ব্যক্তিও তা শুনতে সক্ষম হয়। আল-হিলইয়াহ ও আল-বাহরুর রায়িক গ্রন্থে এ ব্যাখ্যাই প্রদান করা হয়েছে।আল্লামা খায়রুদ্দীন রামলী (রহ.) তাঁর ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেন যে হিন্দওয়ানী ও কারখী উভয়ের মতই হানাফি মাযহাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ হানাফি ইমাম যেহেতু হিন্দওয়ানীর মতের ওপর নির্ভর করেছেন তাই তার মতটিই অধিক বিশুদ্ধ অধিক শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। এই আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, জাহরের সর্বনিম্ন সীমা হলো—এমনভাবে কিরাআত করা, যাতে অন্য কেউ তা শুনতে পারে। এখানে অন্য কেউ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যে একেবারে নিজের সঙ্গে লেগে নেই কারণ এটি মুখাফাতাহর বিপরীত অবস্থা।(রদ্দুল মুহতার ২/৩০৮/আজহার)
মোটকথা : নিম্নস্বরে (মুখাফাতাহ) কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো এমনভাবে তিলাওয়াত করা যাতে পাঠকারী নিজে তার কিরাআত শুনতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় তার নিকটবর্তী ব্যক্তিও সেই তিলাওয়াত শুনতে সক্ষম হবে।আর এটা আল্লামা হিন্দওয়ানী ও আল্লামা ফযলী রহ.এর মতে।আর ইমাম কারখী ও আবু বকর আল-বালখী রহ মতে নিজ কানে রাত শ্রবন করা আবশ্যক নয় বরং
অক্ষরগুলো শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট।
উপরোক্ত বর্ণনায় ইব্রাহিম হালাবি রাহিমাহুল্লাহ এর বর্ণনা দ্বারা একথা প্রতিমান হচ্ছে যে উভয় মতামত শুদ্ধ সুতরাং কেউ যদি শুধুমাত্র শুদ্ধভাবে অক্ষর উচ্চারণ করে আর উচ্চারণের আওয়াজ নিজ কানে না শুনতে পায় তবুও তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে পুনরায় পড়তে হবে না এমনটি ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়াতে বর্ণিত হয়েছে ।
سوال : نماز اگر اتنی زور سے نہیں پڑھتا کہ خود سن سکے تو نماز ہو جائے گی یا نہیں؟ مفتی بہ
قول کیا ہے؟
الجواب
احوط تو یہی ہے کہ اتنی زور سے پڑھے کہ خود سن سکے، البتہ گزشتہ نمازوں کا اعادہ نہیں
প্রশ্ন:যদি কোনো ব্যক্তি নামাজে এত আস্তে কিরাআত পড়ে যে সে নিজেই তা শুনতে পায় না তাহলে তার নামাজ কি সহীহ হবে? এ বিষয়ে মুফতাবিহি মত কী?
উত্তর: সতর্কতা ও উত্তম পন্থা (আহওয়াত) হলো— নামাজে কিরাআত এতটুকু আওয়াজে পড়া যাতে অন্তত নিজে শুনতে পারে। তবে যদি অতীতে কেউ এমনভাবে কিরাআত পড়ে থাকে যে নিজে শুনতে পেত না তাহলে পূর্বে আদায়কৃত নামাজগুলো পুনরায় পড়ার (ইআদা করার) প্রয়োজন নেই।
(মাহমুদিয়া ৭/৪৯/আশরাফি বুক)
৪. যাহারের পরিমাণ : ইমাম কতটুকু উঁচু আওয়াজে কেরাত পড়লে সেটা যাহার তথা উচ্চস্বরের কেরাত হবে? এবং কখন তা নিম্নস্বর হিসেবে গণ্য হবে?
এ ব্যাপারে আদ্দুরুল মুখতারের বক্তব্য
و) أدنى الجهر إسماع غيره، و أدنى المخافتة إسماع نفسه ومن بقربه؛ فلو سمع رجل أو رجلان فليس بجهر، والجهر أن يسمع الكل، خلاصة
উচ্চস্বরে এবং নিম্নস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো এমনভাবে কিরাআত করা যাতে অন্য কেউ তা শুনতে পারে। আর নিম্নস্বরে কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা হলো এমনভাবে তিলাওয়াত করা যাতে পাঠকারী নিজে তার কিরাআত শুনতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় তার নিকটবর্তী ব্যক্তিও সেই তিলাওয়াত শুনতে সক্ষম হবে।তবে ইমাম যদি এমনভাবে কিরাআত পড়েন যে মাত্র একজন বা দুজন মুসল্লি তা শুনতে পায় তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে জাহর (উচ্চস্বরে কিরাআত) হিসেবে গণ্য হবে না। বরং প্রকৃত জাহর হলো এমনভাবে কিরাআত করা যাতে প্রথম কাতারের সকল মুসল্লি তা শুনতে পারে। এ কথাই খুলাসাহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।(আদ্দুরুল মুখতার ২/৩০৮/ আজহার)
নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার জায়গা যেমন যোহর এবং আসরের নামাজে ইমাম কতটুকু উচু আওয়াজে কেরাত পড়লে তা উচ্চস্বরে পড়া হয়েছে বলে গণ্য করা হবে এবং সাহু সিজদা অবশ্য কবে?
এ বিষয় স্পষ্টভাবে রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে সর্বনিম্ন প্রথম কাতারের সব মুসল্লী যদি ইমামের কেরাত শুনতে পান তাহলে সেটা উচ্চস্বরে কেরাত পড়া হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। এবং ইমামের উপর সাহু সিজদা অবশ্যক হবে।
ولذا قال في الخلاصة والخانية عن الجامع الصغير: إن الإمام إذا قرأ في صلاة المخافتة بحيث سمع رجل أو رجلان لايكون جهراً، والجهر أن يسمع الكل اهـ. أي: كل الصف الأول لاكل المصلين، بدليل ما في القهستاني عن المسعودية : أن جهر الإمام إسماع الصف الأول اهـ .
এ কারণেই খুলাসাহ ও খানিয়্যাহ গ্রন্থে জামি সাগীর থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে ইমাম যদি সির্রী নামাজে এমনভাবে কিরাআত করেন যা একজন বা দুজন মুসল্লি শুনতে পায় তবে তা জাহর বলে গণ্য হবে না। প্রকৃত জাহর হলো প্রথম কাতারের সকল মুসল্লি শুনতে পাওয়ার মতো উচ্চস্বরে কিরাআত করা। এখানে "সকল" বলতে পুরো মসজিদের সকল মুসল্লিকে বোঝানো হয়নি বরং প্রথম কাতারের সবাইকে বোঝানো হয়েছে। কুহিস্তানীতে মাসউদিয়্যাহ গ্রন্থ থেকে এ ব্যাখ্যাই উদ্ধৃত হয়েছে।(রদ্দুল মুহতার ২/৩০৮/আজহার)
৫. কতটুকু পরিমাণ কেরাত বিপরীত পড়লে সাহু সিজদাহ ওয়াজিব হবে?
যে সকল নামাজে ইমামের জন্য নিম্নস্বরে কিরাআত পড়ার বিধান রয়েছে সেখানে যদি উচ্চস্বরে কিরাআত পড়েন অথবা যেসব নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়ার বিধান রয়েছে সেখানে কতটুকু নিম্নস্বরে কিরাআত পড়লে সহু সিজদা ওয়াজিব হবে নিম্নে তার আলোচনা পেশ করা হলো।
যেসব নামাজে ইমামের জন্য নিম্নস্বরে কিরাআত পড়ার বিধান রয়েছে যেমন যোহর আসর সেখানে তিনি যদি উচ্চস্বরে কিরাআত করেন অথবা যেসব নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়ার বিধান রয়েছে যেমন মাগরিব এশা ফজর সেখানে নিম্নস্বরে কিরাআত পড়েন তাহলে সহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক বিশুদ্ধ মত হলো এ ভুলটি তখনই সরয়ী দৃষ্টিকোণে গ্রহণযোগ্য হবে যখন কিরাআতের পরিমাণ এতটুকু হবে যে পরিমাণ কিরাআত দ্বারা নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থের বক্তব্য
والجهر فيما يخافت فيه) للإمام (وعكسه) لكل مصل في الأصح، والأصح تقديره (بقدر ما تجوز به الصلاة في الفصلين وقيل :) قائله قاضيخان يجب السهو (بهما) أي: بالجهر والمخافتة (مطلقاً) أي : قل أو كثر وهو ظاهر الرواية)
যেসব নামাজে ইমামের জন্য নিম্নস্বরে (সির্রীভাবে) কিরাআত করা সুন্নত সেখানে তিনি যদি উচ্চস্বরে (জাহর করে) কিরাআত করেন অথবা যেসব নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত করা সুন্নত সেখানে নিম্নস্বরে (মুখাফাতাহ) কিরাআত করেন তাহলে সহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক বিশুদ্ধ মত হলো এ ভুলটি তখনই গণ্য হবে যখন কিরাআতের পরিমাণ এতটুকু হবে, যে পরিমাণ কিরাআত দ্বারা নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়।তবে কাযী খান (রহ.) এর মতে জাহর বা মুখাফাতাহ যে কোনো একটির বিপরীতটি ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত অল্প বা বেশি যতটুকুই করা হোক না কেন সহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর এটিই জাহিরুর রিওয়ায়াহ এর বাহ্যিক বক্তব্য।(আদ্দুরুল মুখতার ২/৬৫৭/আজহার)
৬. নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন কতটুকু কেরাত পড়া অবশ্যক?
এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কথা হলো এই যে বড় এমন একটি আয়াত যা ধারাবাহিক ছোট তিনটি আয়াতের সমপরিমাণ হয় যে তিন আয়াতে অক্ষর হিসেবে সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর পাওয়া যায় এতটুকুই কেরাত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। নিম্নের এ দীর্ঘ আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থের বক্তব্য
قوله: والأصح ... إلخ) صححه في الهداية والفتح والتبيين والمنية؛ لأن اليسير من الجهر والإخفاء لا يمكن الاحتراز عنه، وعن الكثير يمكن، وما تصح به الصلاة كثير، غير أن ذلك عنده اية واحدة وعندهما ثلاث
লেখকের বক্তব্য "এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত" এই মতকে আল-হিদায়াহ, ফাতহুল কাদীর, তাবয়ীনুল হাকায়িক এবং আল-মুনইয়াহ গ্রন্থে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কারণ হলো জাহর (উচ্চস্বরে কিরাআত) বা ইখফা (নিম্নস্বরে কিরাআত) এর ক্ষেত্রে খুব সামান্য পরিমাণ কম-বেশি হয়ে যাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকা বাস্তবে সম্ভব নয়। কিন্তু যদি তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হয়ে যায় তাহলে তা থেকে বিরত থাকা সম্ভব। তাই সহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মানদণ্ড হিসেবে এমন পরিমাণ কিরাআত ধরা হয়েছে যে পরিমাণ কিরাআত দ্বারা নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়।তবে এই পরিমাণ নির্ধারণে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে এক আয়াত পরিমাণ কিরাআতই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে এর পরিমাণ হলো তিনটি ছোট আয়াত অথবা তার সমপরিমাণ কিরাআত।
(রদ্দুল মুহতার ২/৬৫৭/আজহার)এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্তভাবে আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
(وضم) أقصر (سورة) كالكوثر أو ما قام مقامها، وهو
ثلاث آيات قصار، نحو ثم نظر (۱) ثم عبس وبسر) (٢) ثم أدبر واستكبر ) (۳) ، وكذا لو كانت الآية أو الآيتان تعدل ثلاثاً قصاراً.
নামাজে সূরা ফাতিহার পর অন্তত সবচেয়ে ছোট একটি পূর্ণ সূরা যেমন সূরা আল-কাওসার পড়া ওয়াজিব। এর পরিবর্তে এমন পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে, যা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হয়।তিনটি ছোট আয়াতের উদাহরণ হিসেবে ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন
﴿ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ﴾
এছাড়াও, যদি একটি বা দুটি আয়াত দৈর্ঘ্য ও পরিমাণের দিক থেকে এই তিনটি ছোট আয়াতের সমান হয়, তাহলেও তা পড়া যথেষ্ট হবে এবং সূরা মিলানোর ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।(আদ্দুরুল মুখতার ২/১৮৪/দারুল মারিফা)
লক্ষনীয় বিষয় : উপরে বর্ণিত আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থে কেরাতের পরিমাণ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সূরা কাউসার এর উপমার দ্বারা একথা বুঝানো উদ্দেশ্য নয় যে সূরা কাউসার বা এর মত একটি সূরা কেরাত হিসাবে পড়া আবশ্যক বরং ছোট তিনটি আয়াত কেরাত হিসেবে পড়া জরুরী সেটাই বোঝানো উদ্দেশ্য আর যেহেতু সূরা কাউসারে তিনটি আয়াত রয়েছে এজন্য উপমা স্বরুপ সেটা উল্লেখ করা হয়েছে সুতরাং সূরা কাওসার এর উল্লেখ সূরা হিসেবে নয় বরং ছোট তিনটি আয়াত হিসেবে তবে নির্ভরযোগ্য কথা হল কুরআনে তারচেয়েও ধারাবাহিক ছোট তিনটি আয়াত পাওয়া যায় যেমন
ثُمَّ نَظَرَ (٢١) ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ (٢٢) ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ (٢٣)
এই তিনটি আয়াত কুরআনের সবচেয়ে ছোট ধারাবাহিক তিন আয়াত এরচেয়ে ছোট ধারাবাহিক ৩ আয়াত পাওয়া যায় না আর কেরাতের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ছোট তিনটি আয়াতের কথা বলা হয়েছে আর এটা যেহেতু কুরআনের সবচেয়ে ছোট ধারাবাহিক তিন আয়াত বিধায় কেরাতে সর্বনিম্ন পরিমানের ক্ষেত্রে এই তিন আয়াতই মানদণ্ড হিসেবে ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন আর সূরা কাওসার এর ৩ আয়াত যেহেতু বর্ণিত তিন আয়তের চেয়ে বড় বিধায় সর্বনিম্ন কেরাতের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সূরা কাউসার এর ৩ আয়াত মানদন্ড হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
মোটকথা:সুতরাং কোন ইমাম যদি সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর সমপরিমাণ কেরাত উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে পড়েন অথবা নিম্নস্বরের কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে পড়েন তাহলে তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে অন্যথায় নয়।
৭. নামাজ শুদ্ধ হওয়ার সর্বনিম্ন মানদন্ড ৩০ অক্ষর : রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে
قوله : (تعدل ثلاثاً قصاراً) أي : مثل: (ثم نظر) ... إلخ وهي ثلاثون حرفاً، فلو قرأ آية طويلة قدر ثلاثين حرفاً يكون قد أتى بقدر ثلاث آيات
লেখকের বক্তব্য: “এটি তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ।” অর্থাৎ, যেমন
ثُمَّ نَظَرَ (٢١) ثُمَّ عَبَسَوَبَسَرَ (٢٢) ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ (٢٣)
এই ছোট আয়াত গুলোর মোট অক্ষরসংখ্যা প্রায় ত্রিশটি।
সুতরাং, যদি কেউ এমন একটি দীর্ঘ আয়াত তিলাওয়াত করে, যার পরিমাণ প্রায় ত্রিশ অক্ষরের সমান হয়, তবে তা তিনটি ছোট আয়াত তিলাওয়াত করার সমপরিমাণ গণ্য হবে।(রদ্দুল মুহতার ২/১৮৫/দারুল মারিফা)
৮. এক, দুই আয়াত বিপরীত পড়লে সাহু সিজদা অবশ্যক হবে কি?
আদ্দুরুল মুখতারের বক্তব্য অনুযায়ী কোন ইমাম যদি সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর নয় বরং তারচেয়ে অল্প কেরাত যদি উচ্চস্বরে পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে পড়েন অথবা নিম্নস্বরের কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে পড়েন তাহলে তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে। এটাই জাহিরুর রেওয়াত।
والجهر فيما يخافت فيه) للإمام (وعكسه) لكل مصل في الأصح، والأصح تقديره (بقدر ما تجوز به الصلاة في الفصلين وقيل :) قائله قاضيخان يجب السهو (بهما) أي: بالجهر والمخافتة (مطلقاً) أي : قل أو كثر وهو ظاهر الرواية)
যেসব নামাজে ইমামের জন্য নিম্নস্বরে (সির্রীভাবে) কিরাআত করা সুন্নত সেখানে তিনি যদি উচ্চস্বরে (জাহর করে) কিরাআত করেন অথবা যেসব নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত করা সুন্নত সেখানে নিম্নস্বরে (মুখাফাতাহ) কিরাআত করেন তাহলে সহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক বিশুদ্ধ মত হলো এ ভুলটি তখনই গণ্য হবে যখন কিরাআতের পরিমাণ এতটুকু হবে, যে পরিমাণ কিরাআত দ্বারা নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়।তবে কাযী খান (রহ.) এর মতে জাহর বা মুখাফাতাহ যে কোনো একটির বিপরীতটি ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত অল্প বা বেশি যতটুকুই করা হোক না কেন সহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর এটিই জাহিরুর রিওয়ায়াহ এর বক্তব্য।(আদ্দুরুল মুখতার ২/৬৫৭/আজহার)
৯. সর্বনিম্ন একটি আয়াত উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে পড়া অথবা নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার দ্বারা সাহুর বিষয়ে জাহিরুর রেওয়াত এর বিশ্লেষণ।
জাহিরুর রেওয়াত অনুযায়ী সর্বনিম্ন একটি আয়াত ও যদি উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে পড়ে অথবা নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে কেরাত পড়ে তাহলে সাহু সিজদা আবশ্যক হবে কিন্তু হিদায়াহ গ্রন্থের রচয়িতা আল্লামা বুরহানউদ্দিন মারগিনানী ও আল্লামা জামাল উদ্দিন যায়লায়ী এবং ফাতুহুল কদীরের লেখক আল্লামা ইবনুল হুমামের মতো মহান ফকীহগণ যাহিরুর রিওয়ায়াহ পরিত্যাগ করে অপর মত তথা সর্বনিম্ন নামাজ শুদ্ধ হওয়া পরিমাণ কেরাত কেউ যদি উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে পড়ে অথবা নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে কেরাত পড়ে তখন সাহু সিজদা আবশ্যক হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তথা তারা যাহিরুর রিওয়ায়াহ পরিত্যাগ করেছেন একমাত্র মানুষের কষ্ট ও সংকীর্ণতা দূর করার উদ্দেশ্যে এবং উম্মতের জন্য সহজতার কথা বিবেচনা করে সেই বর্ণনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আর উম্মতের সহজতার উদ্দেশ্য ইসলামী বিধানে সহজকরণ ফিকহের কিতাবে এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।নিম্নে রদ্দুল মুহতারে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।
قوله : (وهو ظاهر الرواية) قال في البحر: وينبغي عدم العدول عن ظاهر الرواية الذي نقله الثقات من أصحاب الفتاوى اهـ زاد المصنف في منحه : وإنما عولنا على الأول تبعاً للهداية، وأنا أعجب من كثير من كمل الرجل كيف يعدل عن ظاهر الرواية الذي هو بمنزلة نص صاحب المذهب إلى ما هو كالرواية الشاذة اهـ .
أقول: لا عجب من كمل الرجال كصاحب الهداية والزيلعي وابن الهمام حيث عدلوا عن ظاهر الرواية لما فيه من الحرج، وصححوا الرواية الأخرى للتسهيل على الأمة، وكم له من نظير، ولذا قال القهستاني : ويجب السهو بمخافتة كلمة لكن فيه شدة. وقال في شرحالمنية: والصحيح ظاهر الرواية، وهو التقدير بما تجوز به الصلاة من غير تفرقة؛ لأن القليل من الجهر في موضع المخافتة عفو أيضاً ؛ ففي حديث أبي قتادة في الصحيحن: «أنه عليه الصلاة والسلام كان يقرأ في الظهر في الأوليين بأم القرآن وسورتين وفي الأخريين بام الكتاب، ويسمعنا الآية أحياناً اهـ. ففيه التصريح بأن ما صححه في الهداية ظاهر الرواية أيضاً، فإن ثبت ذلك فلا كلام، وإلا فوجه تصحيحه ما قلنا وتأيده بحديث الصحيحين، وقد قدمنا في واجبات الصلاة عن شرح المنية أنه لا ينبغي أن يعدل عن الدراية أي : الدليل وافقتها رواية
লেখকের বক্তব্য: এটিই যাহিরুর রিওয়ায়াহ তথা মাযহাবের মূল ও প্রসিদ্ধ বর্ণনা)।আল্লামা ইবনু নুজাইম রাহিমাহুল্লাহ আল-বাহরুর রায়িক গ্রন্থে বলেন নির্ভরযোগ্য ফিকহবীদ ইমামগণ যে যাহিরুর রিওয়ায়াহ হিসেবে যে মত বর্ণনা করেছেন তা পরিত্যাগ করে অন্য মত গ্রহণ করা উচিত নয়। এরপর মুসান্নিফ তথা আল্লামা শামসুদ্দিন তুমুরতাসি মিনহুল গাফফার গ্রন্থে আরও বলেন আমরা হিদায়াহ এর অনুসরণে প্রথম মতটিকেই গ্রহণ করেছি তথা নামাজ শুদ্ধ হওয়া পরিমাণ কেরাত । তবে আমি বিস্মিত হই যে অনেক বড় বড় আলিম কীভাবে এমন একটি মত গ্রহণ করেন যা যাহিরুর রিওয়ায়াহ এর বিপরীত অথচ যাহিরুর রিওয়ায়াহ ইমাম আবু হানীফা রাহিমাহুল্লাহর সুস্পষ্ট বক্তব্যের মর্যাদা রাখে আর অপর মতটি শায (অপ্রসিদ্ধ) বর্ণনার মতো।
এর জবাবে আল্লামা ইবনু আবিদীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি বলি: এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কারণ হিদায়াহ-এর রচয়িতা ও আল্লামা যায়লাঈ এবং আল্লামা ইবনুল হুমামের মতো মহান ফকীহগণ যাহিরুর রিওয়ায়াহ থেকে সরে এসে অপর মত গ্রহণ করেছেন মানুষের কষ্ট ও সংকীর্ণতা দূর করার উদ্দেশ্যে। তাঁরা উম্মতের জন্য সহজতার কথা বিবেচনা করে সেই বর্ণনাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ফিকহে এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এ কারণেই আল্লামা কুহিস্তানী বলেন মুখে পড়ার স্থানে নিচু স্বরে একটি শব্দও পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে তবে এ মতের মধ্যে কঠোরতা রয়েছে।
আর শরহুল মুনইয়াহ তে বলা হয়েছে সহীহ মত হলো যাহিরুর রিওয়ায়াহ অর্থাৎ, জাহর (উচ্চস্বরে পড়া) ও ইখফা (নিম্নস্বরে পড়া) এর ক্ষেত্রে এমন পরিমাণকে মানদণ্ড ধরা হবে যতটুকু কিরাআত দ্বারা নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায় এর মধ্যে বেশি কমের পৃথক কোনো বিভাজন করা হবে না। কারণ ইখফার স্থানে সামান্য উচ্চস্বরে পড়া যেমন ক্ষমাযোগ্য তেমনি জাহরের স্থানে সামান্য নিচু স্বরে পড়াও ক্ষমাযোগ্য। এর সমর্থনে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এ বর্ণিত আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺযোহরের নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে আরও দুটি সূরা পড়তেন এবং শেষ দুই রাকাতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়তেন। আর কখনো কখনো তিনি আমাদেরকে একটি আয়াত শুনিয়ে দিতেন।এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে হিদায়াহ এ যাকে সহীহ বলা হয়েছে সেটিও প্রকৃতপক্ষে যাহিরুর রিওয়ায়াহ এর অন্তর্ভুক্ত।
যদি বিষয়টি এভাবেই প্রমাণিত হয় তাহলে আর কোনো আলোচনার অবকাশ থাকে না। আর যদি তা প্রমাণিত না ও হয় তবুও ওই মতকে সহীহ বলার কারণ হলো উম্মতের জন্য সহজতা সৃষ্টি করা। উপরন্তু সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর উক্ত হাদীসও এ মতকে শক্তিশালী সমর্থন প্রদান করে।
এর আগেও আমরা নামাজের ওয়াজিবসমূহ আলোচনার সময় শরহুল মুনইয়াহ থেকে উল্লেখ করেছি যে যখন কোনো বর্ণনার সঙ্গে শক্তিশালী দলিল সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে তখন সেই দলিলসমর্থিত মতকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।(রদ্দুল মুহতার.২/ ৬৫৮/আজহার)
সারসংক্ষে :আলোচনায় মূলত যাহিরুর রিওয়ায়াহ এবং এর বিপরীত বর্ণনার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের নীতিমালা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একদল ফকীহের মতে যেহেতু যাহিরুর রিওয়ায়াহ ইমাম আবু হানীফা রহ এর মাযহাবের মূল ও সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনা তাই তা পরিত্যাগ করে অন্য মত গ্রহণ করা উচিত নয়।তবে আল্লামা ইবনু আবিদীন (রহ.) ব্যাখ্যা করেন যে হিদায়াহ যায়লাঈ ও ইবনুল হুমামের মতো প্রখ্যাত ফকীহগণ যাহিরুর রিওয়ায়াহ এর বিপরীত মত গ্রহণ করেছেন কোনো দুর্বলতার কারণে নয় বরং উম্মতের কষ্ট দূর করা এবং শরীয়তের সহজতার নীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে। শেষ পর্যন্ত আল্লামা শামী রাহিমাহুল্লাহ গুন নিয়াতুল মোতামাল্লী শরহুল মুনইয়াতুল এর আলোকে হেদায়া গ্রন্থকারের মতকে যাহিরুর রিওয়ায়াহ জাহিরুর রেওয়াত প্রমাণিত করেছেন । কারণ জাহর ও ইখফার ক্ষেত্রে সামান্য ব্যতিক্রম শরীয়তে ক্ষমাযোগ্য যার সমর্থন সহীহ হাদীসেও বিদ্যমান। ফলে যদি হিদায়াহ-এর বক্তব্য যাহিরুর রিওয়ায়াহ-এর অন্তর্ভুক্ত প্রমাণিত হয় তাহলে কোনো মতভেদ থাকে না। আর যদি তা না ও হয় তবুও সহজতার নীতি ও শক্তিশালী হাদীসের ভিত্তিতে সেই মত গ্রহণের অবকাশ রয়েছে। সুতরাং, ফিকহি মাসআলায় বর্ণনার পাশাপাশি শক্তিশালী দলিল শরীয়তের সহজতা এবং উম্মতের কল্যাণ এই তিনটি বিষয়ও মত নির্বাচন করার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
১০. উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে পড়া নিম্নস্বরে পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে কেরাত পড়ার বিধান ইমাম এবং মুনফারিদ তথা একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি উভয়ের জন্য অবশ্যক কি?
এ ব্যাপারে মূলকথা হল উচ্চস্বরে কেরাত পড়ার স্থানে উচ্চস্বরে পড়া নিম্নস্বরে পড়ার স্থানে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ইমামের জন্য ওয়াজিব এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই বরং সর্বসম্মতিলিত মত এটি।
সুতরাং জাহর তথা উচ্চস্বরে কিরাআত যেসব নামাজে শরীয়ত নির্ধারণ করেছে যেমন মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাত দুই ঈদের নামাজ জুমার নামাজ তারাবিহ এবং রমজান মাসে বিতরের নামাজ উচ্চস্বরে কিরাআত করা ওয়াজিব ইমাম সাহেব যদি এসকল নামাজে নামাজ শুদ্ধ হওয়া পরিমাণ কেরাত নিম্নস্বরে পড়েন তাহলে তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে অন্যথায় নয় । আর একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য এ সকল নামাজে কেরাত উচ্চস্বরে অথবা নিম্নস্বরে যেকোনভাবে পড়ার অনুমতি রয়েছে চাইলে সে উচ্চস্বরে কেরাত পড়তে পারবে আবার ইচ্ছা হলে নিম্নস্বরে ও পড়তে পারবে এটাই গ্রহণযোগ্য। আর ইমামের ক্ষেত্রে ইখফা তথা নিম্নস্বরে পড়া আবশ্যক যেমন যুহর আছর ইত্যাদি নামাজের ক্ষেত্রে ইমামে নিম্নস্বরে কিরাআত নিম্নস্বরে করবে এটা ওয়াজিব।শুধুমাত্র মতানৈক্য হল এক সুরতে আর সেটা হল সির্রি তথা যে সকল নামাজে কেরাত নিম্নস্বরে পড়া হয় যেমন যোহর এবং আসরের নামাজ এ দুই ওয়াক্তের ক্ষেত্রে একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য নিম্নস্বরে কেরাত আবশ্যক নাকি এক্ষেত্রেও জাহর ও ইখফার ক্ষেত্রে তার স্বাধীনতা রয়েছে ? একদল উলামায়ে কেরামের মত অনুযায়ী একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য কেরাত নিম্নস্বরে পড়া ওয়াজিব। আরেকদল উলামায়ে কেরামের মতে ওয়াজিব নয় বিধায় আসর জোহর নামাজে একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি যদি নিম্নস্বরে কেরাত না পড়ে বরং উচ্চস্বরে পড়ে ফেলে তাহলে তার ওপর সাহু সিজদা আবশ্যক নয় এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধতম মত এবং জাহিরুর রেওয়ায়ত । এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা ফিকহের কিতাব থেকে পেশ করা হলো
রদ্দুল মুহতার গ্রন্থের বক্তব্য।
ان الجهر يجب على الإمام فيما يجهر فيه وهو صلاة الصبح والأوليان من المغرب والعشاء وصلاة العيدين والجمعة والتراويح والوتر في رمضان، والإسرار يجب على الإمام والمنفرد فيما يسر فيه وهو صلاة الظهر والعصر والثالثة من المغرب والأخريان من العشاء وصلاة الكسوف والاستقاء كما في البحر، لكن وجوب الإسرار على الإمام بالاتفاق، وأما على المنفرد فقال في البحر: إنه الأصح، وذكر في الفصل الآتي أنه الظاهر من المذهب وفيه كلام ستعرفه هناك .
জাহর তথা উচ্চস্বরে কিরাআত যেসব নামাজে শরীয়ত নির্ধারণ করেছে সেসব নামাজে ইমামের জন্য উচ্চস্বরে কিরাআত করা ওয়াজিব। এগুলো হলো ফজরের নামাজ মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাত দুই ঈদের নামাজ জুমার নামাজ তারাবিহ এবং রমজান মাসে বিতরের নামাজ।
অপরদিকে যেসব নামাজে ইখফা তথা নিম্নস্বরে কিরাআত নির্ধারিত সেসব নামাজে ইমাম ও একাকী নামাজ আদায়কারী (মুনফারিদ) এর জন্য নিম্নস্বরে কিরাআত করা ওয়াজিব। এগুলো হলো যোহর ও আসরের নামাজ মাগরিবের তৃতীয় রাকাত ইশার শেষ দুই রাকাত সূর্যগ্রহণের নামাজ (সালাতুল কুসূফ) এবং বৃষ্টির জন্য আদায়কৃত নামাজ (সালাতুল ইস্তিসকা)। আল-বাহরুর রায়িক-এ এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।তবে ইখফা করার বিধান সম্পর্কে একটি মতভেদ রয়েছে। ইমামের ক্ষেত্রে নিম্নস্বরে কিরাআত করা ওয়াজিব এ বিষয়ে ফকীহদের সর্বসম্মতি রয়েছে। কিন্তু একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রেও তা ওয়াজিব কি না এ বিষয়ে মতভেদ আছে। আল-বাহরুর রায়িক-এ বলা হয়েছে সহীহ মত অনুযায়ী মুনফারিদের জন্যও ইখফা করা ওয়াজিব। তবে পরবর্তী আলোচনায় লেখক উল্লেখ করবেন যা এ বিষয়ে আরও কিছু বিশদ আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে।(রদ্দুল মুহতার ২/২০১/আযহার)আলোচিত মাসআলার বিষয় আব্দুররুল মুখতার গ্রন্থের বক্তব্য
ويخير المنفرد في الجهر) وهو أفضل ويكتفي بأدناه (إن أدى وفى السرية يخافت حتماً على المذهب كمتنفل بالليل منفرداً ؛ فلو ام جهر, لطبعية النفل للفرض (ويخافت) المنفرد (حتماً) أو وجوباً إن قضي) الجهوية في وقت المخافتة، كان صلى العشاء بعد طلوع الشمس، كذا ذكره
একাকী নামাজ আদায়কারী (মুনফারিদ) জাহরী নামাজে ইচ্ছা করলে উচ্চস্বরে অথবা নিম্নস্বরে কিরাআত করতে পারে। তবে উচ্চস্বরে কিরাআত করাই উত্তম। আর জাহরের ক্ষেত্রে এমন পরিমাণ উচ্চস্বরে পড়াই যথেষ্ট, যাতে জাহরের সর্বনিম্ন সীমা পূরণ হয়ে যায়।
কিন্তু সিররী নামাজে মুনফারিদের জন্য মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী অবশ্যই নিম্নস্বরে (ইখফা করে) কিরাআত করা আবশ্যক। একই বিধান রাতে একাকী আদায়কৃত নফল নামাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে যদি সে নফল নামাজে ইমামতি করে তাহলে উচ্চস্বরে কিরাআত করবে। কারণ এ ক্ষেত্রে নফল নামাজ জামাআতের অনুসরণে ফরজ নামাজের বিধানের অধীন হয়ে যায়।
অনুরূপভাবে যদি কোনো ব্যক্তি জাহরী নামাজকে এমন সময়ে কাজা আদায় করে যা মূলত সিররী নামাজের সময় যেমন সূর্যোদয়ের পর ইশার নামাজ কাজা পড়ে তাহলে তার জন্যও নিম্নস্বরে কিরাআত করাই ওয়াজিব। ফকীহগণ এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
(আদ্দুরুল মুখতার ২/২০৬/আজহার) রদ্দুল মুহতার গ্রন্থের বক্তব্য
: (على المذهب) كذا في البحر رادا على ما في العناية من أن ظاهر الرواية أنه مخير
أقول: ما في العناية صرح به أيضاً في النهاية والكفاية والمعراج. ونقل في التاترخانية من المحيط أنه لا سهو عليه إذا جهر فيما يخافت؛ لأنه لم يترك واجباً، وعلله في الهداية في باب سجود السهو بأن الجهر والمخافتة من خصائص الجماعة. وقال الشراح: إنه جواب ظاهر الرواية، وأما جواب رواية النوادر فإنه يلزمه السهو، وفي الذخيرة: إذا جهر فيما يخافت عليه السهو، وفي ظاهر الرواية: لا سهو عليه، نعم صحح في الدرر تبعاً للفتح والتبيين وجوب المخافتة، ومشى عليه في شرح المنية والبحر والنهر والمنح وقال في الفتح: فحيث كانت المخافتة واجبة على المنفرد ينبغي أن يجب بتركها السجود اهـ. فتأمل. قوله : (فلو أم) أي: فلو صلى المتنقل بالليل إماماً جهر، ومقتضاه أن الوتر في غير رمضان كذلك؛ لأن كلاً منهما تكره فيه الجماعة على سبيل التداعي، وبدونه لا. وإذا وجب الجهر في النفل يجب يتركها في الوتر كما أفهمته عبارة الزيلعي، أفاده الرحمتي.
والزيعلي وغيرهما، من أن وجوب الجهر والمخافتة من خصائص الإمام دون المنفرد.
লেখকের বক্তব্য: এটাই মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মত: আল-বাহরুর রায়িক-এ এ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, যা আল-ইনায়াহ গ্রন্থে বর্ণিত মতের জবাব। কারণ আল-ইনায়াহ এ বলা হয়েছে যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুযায়ী একাকী নামাজ আদায়কারী (মুনফারিদ) ইখফার নামাজে ইচ্ছা করলে জাহর বা ইখফা উভয়টির যেকোনো একটি করতে পারে।আমি (ইবনু আবিদীন) বলি আল-ইনায়াহ এর এ বক্তব্য আন-নিহায়াহ আল-কিফায়াহ ও আল-মি'রাজ গ্রন্থেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার তাতারখানিয়াতে আল-মুহীত থেকে বর্ণিত হয়েছে যে মুনফারিদ ইখফার স্থানে উচ্চস্বরে কিরাআত করলে তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না কারণ সে কোনো ওয়াজিব পরিত্যাগ করেনি।
আল-হিদায়াহ এ সাহু সিজদার আলোচনায় এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে জাহর ও ইখফার বিধান মূলত জামাআতের (অর্থাৎ ইমামের) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই ব্যাখ্যাকারগণ বলেন এটি যাহিরুর রিওয়ায়াহ-এর বক্তব্য। পক্ষান্তরে রিওয়ায়াতে নাওয়াদির অনুযায়ী এমন অবস্থায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।আয-যাখীরাহ-তেও উল্লেখ করা হয়েছে যে ইখফার স্থানে জাহর করলে সাহু সিজদা ওয়াজিব। কিন্তু যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুযায়ী সাহু সিজদা ওয়াজিব নয়।তবে আদ-দুরার ফাতহুল কাদীর ও আত-তাবয়ীন-এর অনুসরণে মুনফারিদের জন্য ইখফা করা ওয়াজিব এই মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। শরহুল মুনইয়াহ আল-বাহর আন-নাহর এবং আল-মিনাহ-তেও এই মতই গ্রহণ করা হয়েছে।এ কারণে ফাতহুল কাদীর এ বলা হয়েছে যদি মুনফারিদের জন্য ইখফা করা ওয়াজিব হয় তবে তা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে সাহু সিজদাও ওয়াজিব হওয়া উচিত। অতএব বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।এরপর লেখক বলেন যদি রাতে নফল নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি ইমামতি করেন তবে তিনি উচ্চস্বরে কিরাআত করবেন। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায রমজান ব্যতীত অন্য সময়ের বিতরের নামাজেও যখন জামাআত করা হয় তখন একই বিধান প্রযোজ্য। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই জামাআত মূলত নফল নামাজের অনুসারী বিধান বহন করে।
তবে যায়লাঈসহ একাধিক ফকীহের বক্তব্য হলো জাহর ও ইখফার ওয়াজিব হওয়ার বিধান মূলত ইমামের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।(রদ্দুল মুহতার ২/২০৬/আযহার)
১১. আল্লামা ইবনে আবিদিন শামী রাহিমাহুল্লাহর অভিমত।
আল্লামা শামী রাহিমাহুল্লাহ দলিলের মাধ্যমে এটিই প্রমাণ করেছেন যে মুনফারিদ তথা একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির উপর সির্রি নামাজ যেমন যোহর আছর ইত্যাদি নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া আবশ্যক নয় এটাই জাহিরুর রেওয়ায়াহ ও গ্রহণযোগ্য মাযহাব। আর যারা বলেছেন একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির উপর নিম্নস্বরে কেরাত পড়া আবশ্যক সেটা নাদিরুর রেওয়ায়ার ভিত্তিতে বিধায় নীতিগতভাবে জাহিরুর রেওয়ায়তই প্রাধান্য পাবে।
والحاصل أن الجهر في الجهرية لا يجب على المنفرد اتفاقاً؛ وإنما الخلاف في وجوب الإخفاء عليه في السرية، وظاهر الرواية عدم الوجوب كما صرح بذلك في التاترخانية عن المحيط، وكذا في الذخيرة وشروح الهداية كالنهاية والكفاية والعناية ومعراج الدراية . وصرحوا بأن وجوب السهو عليه إذا جهر فيما يخافت رواية النوادر اهـ. فعلى ظاهر الرواية : لا سهو على المنفرد إذا جهر فيما يخافت فيه، وإنما هو على الإمام فقط.
সারকথা হলো জাহরী নামাজে একাকী নামাজ আদায়কারী (মুনফারিদ) এর জন্য উচ্চস্বরে কিরাআত করা ওয়াজিব নয় এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে। তবে মতভেদ হয়েছে কেবল এ বিষয়ে যে সিররী নামাজে তার জন্য নিম্নস্বরে কিরাআত (ইখফা) করা ওয়াজিব কি না।
যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুযায়ী মুনফারিদের জন্য ইখফা করা ওয়াজিব নয়। তাতারখানিয়া গ্রন্থে আল-মুহীত থেকে এ কথাই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। একই বক্তব্য আয-যাখীরাহ এবং আল-হিদায়াহ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ যেমন আন-নিহায়াহ আল-কিফায়াহ, আল-ইনায়াহ ও মি'রাজুদ দিরায়াহ এও উল্লেখ করা হয়েছে।এসব গ্রন্থে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে সিররী নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত করার কারণে মুনফারিদের ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার বিধানটি ‘রিওয়ায়াতে নাওয়াদির’-এর ভিত্তিতে যাহিরুর রিওয়ায়াহর ভিত্তিতে নয়।অতএব যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুযায়ী একাকী নামাজ আদায়কারী যদি সিররী নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত করে তবে তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। সাহু সিজদার এ বিধান কেবল ইমামের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
(রদ্দুল মুহতার ২/৬৫৭/আজহার)
১২. নামাজে সর্বনিম্ন কিরাআতের পরিমাণ কত?
নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন কতটুকু কেরাত পড়া অবশ্যক।?
এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত কথা হলো এই যে বড় এমন একটি আয়াত যা ধারাবাহিক ছোট তিনটি আয়াতের সমপরিমাণ হয় যে তিন আয়াতে অক্ষর হিসেবে সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর পাওয়া যায় এতটুকুই কেরাত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। নিম্নের এ দীর্ঘ আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্তভাবে আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
(وضم) أقصر (سورة) كالكوثر أو ما قام مقامها، وهو
ثلاث آيات قصار، نحو ثم نظر (۱) ثم عبس وبسر) (٢) ثم أدبر واستكبر ) (۳) ، وكذا لو كانت الآية أو الآيتان تعدل ثلاثاً قصاراً.
নামাজে সূরা ফাতিহার পর অন্তত সবচেয়ে ছোট একটি পূর্ণ সূরা—যেমন সূরা আল-কাওসার—পড়া ওয়াজিব। এর পরিবর্তে এমন পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করলেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে, যা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হয়।তিনটি ছোট আয়াতের উদাহরণ হিসেবে ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন
﴿ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ﴾
এছাড়াও, যদি একটি বা দুটি আয়াত দৈর্ঘ্য ও পরিমাণের দিক থেকে এই তিনটি ছোট আয়াতের সমান হয়, তাহলেও তা পড়া যথেষ্ট হবে এবং সূরা মিলানোর ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
লক্ষনীয় বিষয় : উপরে বর্ণিত আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থে কেরাতের পরিমাণ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সূরা কাউসার এর উপমার দ্বারা একথা বুঝানো উদ্দেশ্য নয় যে সূরা কাউসার বা এর মত একটি সূরা কেরাত হিসাবে পড়া আবশ্যক বরং ছোট তিনটি আয়াত কেরাত হিসেবে পড়া জরুরী সেটাই বোঝানো উদ্দেশ্য আর যেহেতু সূরা কাউসারে তিনটি আয়াত রয়েছে এজন্য উপমা স্বরুপ সেটা উল্লেখ করা হয়েছে সুতরাং সূরা কাওসার এর উল্লেখ সূরা হিসেবে নয় বরং ছোট তিনটি আয়াত হিসেবে তবে নির্ভরযোগ্য কথা হল কুরআনে কারীমে ধারাবাহিকভাবে তার চেয়েও ছোট ৩ আয়াত একসাথে পাওয়া যায় ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَযেমন এই তিনটি আয়াত কুরআনের সবচেয়ে ছোট ধারাবাহিক তিন আয়াত এরচেয়ে ছোট ধারাবাহিক ৩ আয়াত পাওয়া যায় না আর কেরাতের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ছোট তিনটি আয়াতের কথা বলা হয়েছে আর এটা যেহেতু কুরআনের সবচেয়ে ছোট ধারাবাহিক তিন আয়াত বিধায় কেরাতে সর্বনিম্ন পরিমানের ক্ষেত্রে এই তিন আয়াতই মানদণ্ড হিসেবে ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন আর সূরা কাওসার এর ৩ আয়াত যেহেতু বর্ণিত তিন আয়তের চেয়ে বড় বিধায় সর্বনিম্ন কেরাতের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সূরা কাউসার এর ৩ আয়াত মানদন্ড হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। (আদ্দুরুল মুখতার ২/১৮৪/দারুল মারিফা)
১৩.নামাজে কেরাতের সর্বনিম্ন মানদন্ড ত্রিশ অক্ষর
নামাজে সূরা মিলানোর ক্ষেত্রে তিনটি ছোট আয়াত বলতে কুরআনের ধারাবাহিকভাবে বিদ্যমান সবচেয়ে ছোট তিনটি আয়াতকে বোঝানো হয়েছে যার পরিমাণ ত্রিশ অক্ষর। তাই একটি দীর্ঘ আয়াত থেকেও যদি অন্তত এই পরিমাণ তিলাওয়াত করা হয়, তবে তা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হিসেবে গণ্য হবে। গ্রহণযোগ্য মতানুসারে অক্ষর হিসেবে সর্বনিম্ন ১৮ হরফ নামাজ শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে মানদণ্ড হওয়ার মতটি গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং কেউ যদি সর্বনিম্ন ৩০ অক্ষর নামাজে তিলাওয়াত করে তাহলে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। এখন কথা হল সুরা ফাতেহা পাঠ করার পর কেরাত হিসেবে কুরআনের কোন জায়গা থেকে পাঠ করা ওয়াজিব সেক্ষেত্রেও যদি কেউ সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর সমপরিমাণ কেরাত পাঠ করে তাহলে ওয়াজিব আদায় হওয়ার পাশাপাশি মাকরূহে তাহরিমি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে ।
قوله : (تعدل ثلاثاً قصاراً) أي : مثل: (ثم نظر) ... إلخ وهي ثلاثون حرفاً، فلو قرأ آية طويلة قدر ثلاثين حرفاً يكون قد أتى بقدر ثلاث آيات، لكن سيأتي في فصل يجهر الإمام أن فرض القراءة آية، وأن الآية عرفاً طائفة من القرآن مترجمة أقلها سنة أحرف ولو تقديراً كـ لم يلد) (1) إلا إذا كانت كلمة فالأصح عدم الصحة اهـ. ومقتضاه أنه لو قرأ آية طويلة قدر ثمانية عشر حرفاً يكون قد أتى بقدر ثلاث آياته .
وقد يقال: إن المشروع ثلاث آيات متوالية على النظم القرآني مثل : (ثم نظر) إلخ، ولا يوجد ثلاث متوالية أقصر منها، فالواجب إما هي أو ما يعدلها من غيرها لا ما يعدل
ثلاثة أمثال أقصر آية وجدت في القرآن، ولذا قال تعدل ثلاثاً قصاراً، ولم يقل تعدل ثلاثة أميال أقصر آية. على أن في بعض العبارات تعدل أقصر سورة، فليتأمل، وسنذكر في فصل الجهر زيادة في هذا البحث قوله : (ذكره الحلبي) أي: في شرحه الكبير على المنية. وعبارته : وإن قرأ ثلاث آيات قصاراً أو كانت الآية أو الآيتان تعدل ثلاث آيات قصار خرج عن حد الكراهة المذكورة يعني كراهة التحريم. قال الشارح في شرحه على الملتقى: ولم أره لغيره وهو مهم فيه يسر عظيم لدفع كراهة التحريم
লেখকের বক্তব্য: তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী রাহিমাহুল্লাহ বলেন যে হাছকাফী রাহিমাহুল্লাহ তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ দ্বারা এমন তিনটি আয়াতকে বোঝানো হয়েছে, যেমন:
﴿ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ﴾
এই তিনটি আয়াতে মোট ত্রিশটি অক্ষর রয়েছে। সুতরাং কেউ যদি নামাজে একটি দীর্ঘ আয়াত থেকে অন্তত ত্রিশ অক্ষর পরিমাণ তিলাওয়াত করে তাহলে তা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ গণ্য হবে।এবং তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে ।তবে সামনে ইমামের জাহরী কিরাআত সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করা হবে যে কিরাআতের ফরজের সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো একটি পূর্ণ আয়াত। প্রচলিত পরিভাষায় আয়াত বলতে কুরআনের এমন একটি স্বতন্ত্র অংশকে বোঝায় যার নিজস্ব সমাপ্তি রয়েছে। এর সর্বনিম্ন পরিমাণ প্রায় ছয়টি অক্ষর বা আনুমানিক সেই পরিমাণ। যেমন لَمْ يَلِدْ তবে যদি তা কেবল একটি মাত্র শব্দ হয় তাহলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তা নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে না।এই আলোচনার ভিত্তিতে বাহ্যত মনে হতে পারে যদি কোনো দীর্ঘ আয়াত থেকে আঠারো অক্ষর পরিমাণ পড়া হয় তবে সেটিও তিনটি ক্ষুদ্র আয়াতের সমান হয়ে যাবে।
কিন্তু এর উত্তরে বলা যায় শরীয়তে যে তিনটি আয়াত পড়ার কথা বলা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের ধারাবাহিক বিন্যাসে অবস্থিত তিনটি পূর্ণ আয়াত যেমন
ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَকুরআনে পরপর অবস্থিত এই তিনটির চেয়ে ছোট আর কোনো তিনটি আয়াত নেই। তাই ওয়াজিব হলো হয় এই পরিমাণ তিলাওয়াত করা অথবা অন্য এমন আয়াত বা আয়াতসমষ্টি পড়া যা এই তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হয়। তবে এর দ্বারা কুরআনের সবচেয়ে ছোট একটি আয়াতকে তিনবার গণনা করে তার সমপরিমাণ পড়াই উদ্দেশ্য নয়। এজন্যই আল্লামা হাছকাফী বলেছেন তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ তিনি বলেননি সবচেয়ে ছোট একটি আয়াতের তিন গুণ পরিমাণ। যদি এমন বলতেন তাহলে এই ছোট্ট এক আয়াত তিনবার গণনা করে ১৮ অক্ষর নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারণ করা হতো কিন্তু বিষয়টি এমন নয় বিধায় সর্বনিম্ন পরিমাণ ১৮ অক্ষর নির্ধারণ করার সুযোগ নাই। তবে ইব্রাহিম হালবী গুনয়াতুল মুতামাল্লী শরহু মুনইয়াতুল মুসল্লি গ্রন্থে লিখেছেন। যদি কেউ তিনটি ছোট আয়াত পড়ে অথবা একটি কিংবা দুটি এমন আয়াত পড়ে যা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ তাহলে সে পূর্বে উল্লেখিত মাকরূহে তাহরীমী হুকুমের বাইরে চলে আসবে।এর ব্যাখ্যায় মুলতাকাল আবহুর আল্লামা ইব্রাহিম হালবী বলেন আমি এ বক্তব্য অন্য কোনো আলেমের গ্রন্থে দেখিনি। তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মত। কারণ এর মাধ্যমে মাকরূহে তাহরীমীর অপছন্দনীয় অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সহজতা সৃষ্টি হয়। (রদ্দুল মুহতার ২/১৮৫/দারুল মারিফা)
সারসংক্ষেপ:উক্ত ইবারতের সারমর্ম হলো নামাজে সূরা মিলানোর ক্ষেত্রে তিনটি ছোট আয়াত বলতে কুরআনের ধারাবাহিকভাবে বিদ্যমান তিনটি পূর্ণ ক্ষুদ্র আয়াতকে বোঝানো হয়েছে যার পরিমাণ আনুমানিক ত্রিশ অক্ষর। তাই একটি দীর্ঘ আয়াত থেকেও যদি অন্তত এই পরিমাণ তিলাওয়াত করা হয়, তবে তা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, কুরআনের সবচেয়ে ছোট একটি আয়াতকে তিনবার ধরে মাত্র আঠারো অক্ষর পড়লেই যথেষ্ট হবে; কারণ শরিয়তের উদ্দেশ্য হলো তিনটি পূর্ণ আয়াতের সমপরিমাণ তিলাওয়াত, সবচেয়ে ছোট একটি আয়াতের তিন গুণ নয়। সুতরাং কেউ যদি তিনটি ছোট আয়াত অথবা একটি বা দুটি এমন দীর্ঘ আয়াত পড়ে যা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হয় সর্বনিম্ন ৩০ অক্ষর হয় তাহলে সে মাকরূহে তাহরীমী থেক মুক্ত হয়ে যাবে ইব্রাহিম হালাবি বলেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য একটি মত কারণ এতে মাকরূহে তাহরীমীর বিধান থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সহজতা সৃষ্টি হয়েছে। নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর সমপরিমাণ পড়লে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায় এব্যাপারে পূর্বের তুলনায় আর অস্পষ্টভাবে নিম্নে রদ্দুল মুহতারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে
تنبيه: لم أر من قدر أدنى ما يكفي بحد مقدر من الآية الطويلة، وظاهر كلام البحر كغيره أنه موكول إلى العرف (1) لا إلى عدد حروف أقصر آية، وعلى هذا لو أراد قراءة قدر ثلاث آيات التي هي واجبة عند الإمام لا بد أن يقرأ من الآية الطويلة مقدار ثلاثة أمثال مما يسمى بقراءته قارئاً عرفاً، ولذا فرضوا المسألة بآية الكرسي وآية المداينة. وفي التاترخانية والمعراج وغيرهما : لو قرأ آية طويلة كآية الكرسي أو المداينة البعض في ركعة والبعض في ركعة اختلفوا فيه على قول أبي حنيفة، قيل لا يجوز؛ لأنه ما قرأ آية تامة في كل ركعة وعامتهم على أنه يجوز؛ لأن بعض هذه الآيات يزيد على ثلاث قصار أو يعدلها فلا تكون قراءته أقل من ثلاث آيات اهـ . لكن التعليل الأخير ربما يفيد اعتبار العدد في الكلمات أو الحروف، ويفيده قولهم: لو قرأ آية تعدل أقصر سورة جاز، وفي بعض العبارات تعدل ثلاثاً قصاراً أي : كقوله تعالى : (ثم نظر: ثُمَّ عَبْسَ وَبَسرَ. ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكبر) (١)، وقدرها من حيث
الكلمات عشر، ومن حيث الحروف ثلاثون، فلو - قرأ الله لا إله إلا هو الحي القيوم لا تأخذه سنة ولا نوم ) يبلغ مقدار هذه الآيات الثلاث، فعلى ما قلناه لو اقتصر على هذا المقدار في كل ركعة كفى عن الواجب،
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ত্রিশ অক্ষর সমপরিমাণ পড়লে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায় এব্যাপারে পূর্বের তুলনায় আর অস্পষ্টভাবে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।
সতর্কীকরণ: এ বিষয়ে আমি এমন কোনো ফকীহের বক্তব্য পাইনি যিনি দীর্ঘ একটি আয়াত থেকে ওয়াজিব পরিমাণ কিরাআতের সর্বনিম্ন সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। বরং আল-বাহরুর রায়িক এর ভাষ্যসহ অন্যান্য ফকীহদের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে এর পরিমাণ নির্ধারণ উরফ (প্রচলিত রীতি) এর ওপর নির্ভরশীল অর্থাৎ সবচেয়ে ছোট আয়াতের অক্ষরসংখ্যাকে মানদণ্ড ধরা হয় না।
এ ভিত্তিতে বলা যায় যদি কেউ ইমাম আবু হানীফা রহ.এর মতে ওয়াজিব পরিমাণ অর্থাৎ তিনটি আয়াতের সমপরিমাণ দীর্ঘ একটি আয়াত থেকে পড়তে চান তবে তাকে সেই দীর্ঘ আয়াত থেকে এমন পরিমাণ পড়তে হবে যা প্রচলিত রীতিতে কিরাআত হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণেই ফকীহগণ উদাহরণ হিসেবে আয়াতুল কুরসি এবং আয়াতে মুদায়ানাহর আলোচনা করেছেন।
তাতারখানিয়া আল-মি'রাজ প্রভৃতি গ্রন্থে উল্লেখ আছে যদি কেউ আয়াতুল কুরসি বা আয়াতে মুদায়ানার মতো একটি দীর্ঘ আয়াতের কিছু অংশ এক রাকাআতে এবং অবশিষ্ট অংশ অন্য রাকাআতে পড়ে তাহলে ইমাম আবু হানীফা রহ এর মত অনুযায়ী এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
একদল বলেছেন এটি যথেষ্ট হবে না কারণ প্রত্যেক রাকাআতে তিনি একটি পূর্ণ আয়াত পড়েননি।
তবে অধিকাংশ আলেমের মত হলো এটি যথেষ্ট হবে। কারণ এ ধরনের দীর্ঘ আয়াতের একটি অংশও অনেক সময় তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ কিংবা তারও বেশি হয়ে যায়। ফলে তার কিরাআত তিনটি ছোট আয়াতের চেয়ে কম থাকে না।তবে শেষোক্ত তথা দ্বিতীয় মতের যুক্তি থেকে মনে হতে পারে যে এখানে শব্দ সংখ্যা বা অক্ষর সংখ্যাকেও বিবেচনা করা হয়েছে। এ ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে ফকীহদের এ বক্তব্য যে যদি কেউ এমন একটি আয়াত পড়ে যা সবচেয়ে ছোট একটি সূরার সমপরিমাণ তাহলে তা যথেষ্ট হবে।কোনো কোনো গ্রন্থে বলা হয়েছে তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ। এর উদাহরণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার এ তিনটি আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে
ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ
এই তিনটি আয়াতে মোট ১০টি শব্দ এবং ৩০টি অক্ষর রয়েছে।অতএব যদি কেউ
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ
এ পর্যন্ত পড়ে তবে সেটি উল্লিখিত তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হয়ে যায় তখন তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যদি কেউ প্রত্যেক রাকাআতে দীর্ঘ আয়াত থেকে কেবল এই পরিমাণই পড়ে তাহলে তার ওপর যে ওয়াজিব পরিমাণ কিরাআত ছিল তা আদায় হয়ে যাবে।(রদ্দুল মুহতার ২/৩১৪/আজহার)
সারসংক্ষেপ:দীর্ঘ আয়াত থেকে ওয়াজিব পরিমাণ কিরাআতের কোনো নির্দিষ্ট সীমা ফকীহগণ নির্ধারণ করেননি বরং এর পরিমাণ উরফ (প্রচলিত রীতি) এর ওপর নির্ভরশীল। তবে ফকীহদের কিছু বক্তব্য থেকে শব্দ বা অক্ষরসংখ্যাকেও বিবেচনায় নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যেমন নিম্নে বর্ণিত তিনটি ছোট আয়াতের উদাহরণে ১০টি শব্দ ও ৩০টি অক্ষর উল্লেখ করা হয়েছে
ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ
এই তিনটি আয়াতে মোট ত্রিশ অক্ষর আছে এবং
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ
পর্যন্ত অংশকে তার সমপরিমাণ বলা হয়েছে। এ ভিত্তিতে অধিকাংশ ফকীহের মতে দীর্ঘ আয়াত থেকে যদি তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ কিরাআত পরিমাণের বিচারে আদায় করা হয় তবে ওয়াজিব কিরাআত সম্পন্ন হবে।সর্বনিম্ন ৩০ অক্ষর নামাজে তিলাওয়াত করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে এ মর্মে কিতাবুল ফাতাওয়াতে একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে
تین چھوٹی آیتوں سے مراد
سوال:- نماز میں سورہ فاتحہ کے ساتھ سورہ ملانے کے مسئلہ میں کہا جاتا ہے کہ اگر ایک آیت تین چھوٹی آیتوں کے برابر کی پڑھ لے تو نماز درست ہو جائے گی، تو تین چھوٹی آیتوں سے کون سی چھوٹی آیتیں مراد ہیں؟
جواب:۔ فقہاء نے قرآن کی سب سے چھوٹی تین آیات کی حیثیت سے ان آیات کا
ذکر کیا ہے : ﴿ ثُمَّ نَظَرَ ، ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ، ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ (۲) - یہی بات قاضی خان اور علامہ حلبی و غیرہ نے لکھی ہے، (۳) ان آیات میں تلفظ کے اعتبار سے تيس حروف ہوتے ہیں، لہذا سورہ فاتحہ کے ساتھ کم سے کم ایک ایسی آیت کا پڑھنا واجب ہے، جو ٣٠ حروف مشتمل ہو۔
প্রশ্ন:নামাজে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা বা আয়াত মিলিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বলা হয় যদি কেউ এমন একটি আয়াত পড়ে যা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ হয় তাহলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তাহলে তিনটি ছোট আয়াত বলতে কোন আয়াতগুলো বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:ফকীহগণ কুরআনের সবচেয়ে ছোট তিনটি আয়াত হিসেবে নিম্নোক্ত আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন
﴿ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ﴾
এ কথাটি কাযী খান আল্লামা হালাবীসহ অন্যান্য ফকীহও উল্লেখ করেছেন।উচ্চারণের হিসাবে এই তিনটি ছোট আয়াতে মোট প্রায় ৩০টি অক্ষর রয়েছে। তাই সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্তত এমন একটি আয়াত পড়া ওয়াজিব যাতে প্রায় ৩০টি অক্ষর থাকে। এতটুকু পরিমাণ পড়লে সূরা মিলানোর ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।( কিতাবুল ফাতাওয়া ২/১৯৩/ নয়ীমিয়া)
নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন ৩০ অক্ষরকে মানদণ্ড হিসেবে ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে
نماز میں کتنی قرآت واجب ہے؟
سوال :نماز میں سورت کا ملانا واجب ہے، سوال یہ ہے کہ کتنا ملانا واجب ہے؟ آیا تین چھوٹی آیت ملانا واجب ہے یا ایک بڑی آیت بھی کافی ہے؟ اور ایک بڑی آیت کس کو کہتے ہیں ایک بڑی آیت میں کتنے لفظ ہونا چاہیے جس سے اس کو بڑی آیت کہہ سکیں؟
الجواب حامداً مصلياً
محمد احمد صدیقی ضلع پرتاب گڑھ۔
ایک سورت ملائے یا تین چھوٹی آیت ملائے کہ مجموعہ تین آیات میں کم از کم تھیس حروف ہوں جیسے ثم نظر، ثم عبس ويسر ، ثم أدبر و استکبر یا ایک بڑی آیت ملائے ، جیسے آية الكرسي يا آية المداینه اگر اتنی مقدار پڑھے کہ میں حروف ہو جائیں تب بھی کفایت ہو جائے گی،
প্রশ্ন:
নামাজে সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সূরা বা কিছু কুরআন তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। প্রশ্ন হলো, কতটুকু তিলাওয়াত করা ওয়াজিব? তিনটি ছোট আয়াত পড়া কি ওয়াজিব, নাকি একটি বড় আয়াত পড়লেও যথেষ্ট হবে? আর "বড় আয়াত" বলতে কী বোঝায়? একটি বড় আয়াতে কতটি অক্ষর বা শব্দ থাকলে তা বড় আয়াত হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তর:সূরা ফাতিহার পরে সম্পূর্ণ একটি সূরা পড়া যেতে পারে, অথবা তিনটি ছোট আয়াত পড়লেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো, ওই তিনটি আয়াতে মোট কমপক্ষে ৩০টি অক্ষর থাকতে হবে। এর উদাহরণ হলো
﴿ثُمَّ نَظَرَ ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ﴾
এছাড়া একটি বড় আয়াত পড়লেও যথেষ্ট হবে। যেমন আয়াতুল কুরসী বা আয়াতুদ্-দায়ন (সূরা আল-বাকারার ঋণ-সংক্রান্ত দীর্ঘ আয়াত)।এমনকি যদি একটি আয়াত সম্পূর্ণ না পড়ে, কিন্তু যতটুকু পড়েছে তাতে কমপক্ষে ৩০টি অক্ষর পূর্ণ হয়ে যায়, তবুও সূরা মিলানোর ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।(মাহমুদিয়া ৭/৩০/৷ আশরাফি বুক)এমনিভাবে আহসানুল ফাতাওয়া গ্রন্থে ত্রিশ অক্ষরকে নামাজ শুদ্ধ হার মানদন্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ।
قرارت فرض کی مقدار :
سوال : قرارت زرین کا ادنی درجہ جس کے سوا نماز صحیح نہیں ہوتی کیا ہے؟ بینوا توجروا
بعض نے اٹھارہ حروف کا قول نقل کیا ہے ، مگر احتیاط اس میں ہے کہ تیس حروف ہوں،
কিরাআতের ফরজ পরিমাণ
প্রশ্ন: কিরাআতের এমন সর্বনিম্ন পরিমাণ কত, যার কম পড়লে নামাজ সহীহ হবে না?
উত্তর: কোনো কোনো আলেম সর্বনিম্ন ১৮ অক্ষর হওয়ার মত উল্লেখ করেছেন। তবে সতর্কতার দাবি হলো অন্তত ৩০ অক্ষর পরিমাণ কিরাআত পড়া। (আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৭০/জাকারিয়া)
উপসংহার:উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নামাজে সূরা মিলানোর ক্ষেত্রে ‘তিনটি ছোট আয়াত বলতে কুরআনের ধারাবাহিকভাবে বিদ্যমান সর্বক্ষুদ্র তিনটি পূর্ণ আয়াতকে বোঝানো হয়েছে এ তিনটি আয়াতে মোট ৩০টি অক্ষর রয়েছে। তাই একটি দীর্ঘ আয়াত থেকেও যদি অন্তত এই পরিমাণ তিলাওয়াত করা হয়, তবে তা তিনটি ছোট আয়াতের সমপরিমাণ গণ্য হবে এবং কিরাআত আদায় হয়ে যাবে। যদিও কিছু ইবারত থেকে ১৮ অক্ষরের ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবে নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড নয়। বরং ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্যের সারমর্ম হলো—ধারাবাহিক তিনটি ক্ষুদ্র আয়াতের সমপরিমাণ, অর্থাৎ ৩০ অক্ষর তিলাওয়াতই সর্বনিম্ন ওয়াজিব কিরাআতের গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড।এমনইভাবে বর্ণিত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে জাহরী নামাজে মুনফারিদের জন্য উচ্চস্বরে কিরাআত করা ওয়াজিব নয় এ বিষয়ে ফকীহদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তবে সির্রী নামাজে তার জন্য আস্তে কিরাআত করা ওয়াজিব কি না এ বিষয়ে হানাফি ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুযায়ী আস্তে পড়া ওয়াজিব নয়; ফলে মুনফারিদ যদি সির্রী নামাজে উচ্চস্বরে কিরাআত করেন তাহলে যাহিরুর রিওয়ায়াহ অনুসারে তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। যদিও রিওয়ায়াতুন নাওয়াদির-এর ভিত্তিতে কিছু ফকীহ সাহু সিজদার কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও হানাফি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (যাহিরুর রিওয়ায়াহ) মত অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে সাহু সিজদা আবশ্যক নয়। অতএব মুনফারিদের কিরাআতের বিধান ইমামের বিধান থেকে ভিন্ন তার ক্ষেত্রে জাহর বা ইখফা কোনোটিই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ওয়াজিব নয়।
মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মা’হাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল