ফিকহ নামায/সালাত

ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সংক্রান্ত মাসায়েল


======================================

তাকবীরের সংখ্যা

মাসআলা : অন্যান্য নামাযের চেয়েঈদের নামাযে আরো কিছু বেশি তাকবীর রয়েছে। এতাকবীরগুলোর সংখ্যা কতটি- এব্যাপারে হাদীস-আছারে একাধিক সংখ্যার কথা এসেছে। কোনো কোনো বর্ণনায় যেমন দুই রাকাতে মোট বারো তাকবীরের কথা এসেছে, অন্য বর্ণনায় দুই রাকাতে মোট ছয় তাকবীরের কথা এসেছে। এ দুটি ছাড়াও আরো দু-একটি সংখ্যার কথা কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে। হাদীসে বর্ণিত এসব সংখ্যার সবগুলোই সঠিক ও আমলযোগ্য। বারো তাকবীরের নিয়ম যেভাবে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তেমনি ছয় তাকবীরের নিয়মও হাদীস ও আছার দ্বারা প্রমাণিত। একাধিক জলিলুল কদর সাহাবী এই পদ্ধতির উপর আমল করছেন। ইমাম আহমাদ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

اخْتَلَفَ أَصْحَابُ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي التّكْبِيرِ وَكُلّهُ جَائِزٌ.

তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। (সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত এ) সবগুলো সংখ্যাই জায়েয ও আমলযোগ্য। -আলফুরুউ, মাকদিসী ৩/২০১

সুতরাং আমাদের দেশে ফিকহে হানাফীর অনুসরণে যে ছয় তাকবীরে ঈদের নামায পড়া হয় সেটাকে কোনো কোনো গায়রে মুকাল্লিদ ভাই কর্তৃক খেলাফে সুন্নত ও ভিত্তিহীন আখ্যা দেয়া হাদীস ও আছারের স্বল্প পড়াশোনাকেই প্রমাণ করে। এ সম্পর্কে দলীলভিত্তিক বিস্তারিত জানার জন্য মাসিক আলকাউসার অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫ সংখ্যা অথবা মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত ‘সহীহ হাদীসের আলোকে তারাবীর রাকাত সংখ্যা ও সহীহ হাদীসের আলোকে ঈদের নামায’ পুস্তিকাটি পড়া যেতে পারে।

মাসআলা : ঈদের অতিরিক্ত তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে কম সংখ্যা ধরে বাকি তাকবীর আদায় করবে। যেমন, তিন তাকবীর হয়েছে, নাকি দুই তাকবীর- এ নিয়ে সন্দেহ হলে দুই তাকবীর ধরে অবশিষ্ট একটি তাকবীর বলে নেবে।

মাসআলা : ইমাম যদি প্রথম রাকাতে ভুলে অতিরিক্ত তাকবীর না বলে কেরাত শুরু করে দেয় তাহলে কেরাত অবস্থায় তাকবীরের কথা স্মরণ হলে কেরাত ছেড়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নেবে। অতঃপর পুনরায় কেরাত পড়ে নেবে। কেরাত শেষ হওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হলে তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৪; আলমুহীতুর রেযাবী ১/৪১৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২

মাসআলা : ইমাম ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে রুকুতে চলে গেলে (চাই প্রথম রাকাতের তাকবীর হোক বা দ্বিতীয় রাকাতের) তাকবীর বলার জন্য আর রুকু থেকে ফিরে আসবে না। এবং বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী রুকুতেও তাকবীর বলবে না। এক্ষেত্রে নামায শেষে সিজদায়ে সাহু করে নেবে। (যদি জামাত ছোট হয়) -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৬; আলমুহীতুর রেযাবী ১/৪১৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; মিনহাতুল খালিক ২/১৪৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে রুকুতে চলে যাওয়ার পর তাকবীর আদায়ের জন্য রুকু থেকে ফিরে আসলে যদিও কোনো কোনো ফকীহ নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তবুও বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কাজটি ভুল হলেও এ কারণে নামায নষ্ট হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : হানাফী মাযহাবের কেউ অন্য মাযহাবের ইমামের পেছনে নামায পড়লে (এবং ইমাম সাহেব বারো তাকবীর বা অন্য কোনো সংখ্যা অনুযায়ী নামায পড়ালে) ইমামের অনুসরণে সেও অতিরিক্ত তাকবীর ইমামের মতোই বলবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২৪; মাবসূত, সারাখসী ২/৪২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২


١لأدلة الشرعية


الفروع للمقدسي، جـ ٣، صـ ٢٠١

    اخْتَلَفَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي التَّكْبِيرِ وَكُلُّهُ جَائِزٌ
سنن الدارقطني، جـ ١، صـ ٤٠٧، حـ ١٨٠٣
   
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ فِي الْعِيدَيْنِ وَالِاسْتِسْقَاءِ

المحيط البرهاني، جـ ٢، صـ ٥٠٠

    وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَقْرَأَ فِي الْعِيدِ بِسُورَةِ الْأَعْلَى وَالْغَاشِيَةِ أَوْ ق وَالْقَمَرِ
بدائع الصنائع، جـ ١، صـ ٦١٩

    وَالتَّكْبِيرُ لِلرُّكُوعِ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ كَسَائِرِ الصَّلَوَاتِ
 سنن الدارقطني، جـ ١، صـ ٤٠٧

    أَنَّ عُمَرَ كَانَ يُجَهِّرُ بِالْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ
بدائع الصنائع، جـ ١، صـ ٦١٧


    التَّكْبِيرُ فِي صَلَاةِ الْعِيدِ سُنَّةٌ مَأْثُورَةٌ

🖊উত্তর প্রদানে :

মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল


📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

২৭ মে ২০২৬