الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

উত্তর: ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক, যদি স্বামী স্ত্রীকে এক তালাক (তালাকে রজঈ) প্রদান করেন এবং তা প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক হয়, তাহলে স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নতুন বিবাহ ছাড়াই রুজু (পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্কে ফিরে আসা) করার অধিকার স্বামীর থাকে। রুজুর মাধ্যমে পূর্বের বিবাহই বহাল থাকে; নতুন আকদ বা নতুন মোহর প্রয়োজন হয় না।আল্লাহ তাআলা বলেন

আর তাদের স্বামীরা যদি সংশোধন কামনা করে, তবে ইদ্দতের মধ্যে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিক হকদার। সূরা আল-বাকারাহ: ২২৮ -আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :তালাক দুইবার। এরপর হয় উত্তমভাবে স্ত্রীকে রেখে দেবে, অথবা সুন্দরভাবে বিদায় দেবে। সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯ -এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে প্রথম ও দ্বিতীয় তালাকের পর রুজুর সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন  : তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিও না এবং তারাও যেন বের না হয়। সূরা আত-তালাক: ১ -এ আয়াত ইদ্দতের সময় দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সুযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা বহন করে।

 

রুজুর পদ্ধতি:  হানাফি ফিকহ অনুযায়ী রুজু দুইভাবে হতে পারে;-

১. কথার মাধ্যমে রুজু:

স্বামী স্পষ্ট ভাষায় বলবেন:- আমি তোমাকে রুজু করলাম।/ আমি তোমাকে আমার স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে নিলাম।/আমি তালাক প্রত্যাহার করলাম।এ ধরনের স্পষ্ট বাক্য দ্বারা রুজু হয়ে যায়।

২. কাজের মাধ্যমে রুজু:

ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) করলে অথবা সহবাসের উদ্দেশ্যে এমন আচরণ করলে, যা ফিকহে রুজুর প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়, তাহলেও রুজু সম্পন্ন হয়ে যায়।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে ঋতুকালে তালাক দিলে রাসূলুল্লাহ বলেন:তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয় (রুজু করে)। صحيح البخاري: ٥٢٥١، صحيح مسلم: ١٤٧١এ হাদিস রুজুর বৈধতার সুস্পষ্ট দলিল।

 

রুজুর শর্ত

১. তালাক প্রথম বা দ্বিতীয় হতে হবে।২. তালাক রজঈ হতে হবে।৩. স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে রুজু করতে হবে।৪. রুজুর উদ্দেশ্য সংসার রক্ষা ও সংশোধন হওয়া উচিত।

ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে :- যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায় এবং এর মধ্যে রুজু না করা হয়, তাহলে রুজুর সুযোগ শেষ হয়ে যায়। তবে উভয় পক্ষ সম্মত হলে নতুন মোহর, নতুন আকদ ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুনরায় বিবাহ করা যাবে, যদি এটি প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক হয়ে থাকে।

সাক্ষী রাখা:- রুজু সাক্ষী ছাড়াও শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে ভবিষ্যতের বিরোধ এড়ানোর জন্য সাক্ষী রাখা উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেন :- তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখ। সূরা আত-তালাক: ২

অতএব, এক তালাকের পর শরীয়ত স্বামী-স্ত্রীকে পুনর্মিলনের সুযোগ দিয়েছে ইদ্দতের মধ্যে কথার মাধ্যমে অথবা দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে রুজু করলে পূর্বের বিবাহ বহাল থাকে এবং নতুন বিবাহের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে নতুন আকদ ও নতুন মোহর ব্যতীত পুনরায় সংসার শুরু করা বৈধ নয়।


الادلة الشرعية

١. سورة البقرة (٢٢٨-٢٢٩)

   ﴿وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا...

﴿الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ...

٢. سورة الطلاق (١-٢)

    ﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ...

   ﴿فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ...

٣. صحيح البخاري (٥٢٥١)

    عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ، فَذَكَرَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ ﷺ، فَقَالَ: مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا، ثُمَّ لِيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدُ، وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ، فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ.

٤. صحيح مسلم (١٤٧١)

    عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ، فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُرَاجِعَهَا، ثُمَّ يُمْسِكَهَا حَتَّى تَطْهُرَ، ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ، وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ.

উত্তর প্রদানে

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা