ঈদে মিলাদুন্নবী: নবীপ্রেম, শরিয়তের নির্দেশনা ও ইতিহাসের আলোকে একটি পর্যালোচনা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের হৃদয়ে তাঁর ভালোবাসা পৃথিবীর সব মানুষ, এমনকি নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক হওয়া আবশ্যক। কিন্তু নবীপ্রেমের প্রকৃত পরিচয় কী? কেবল আবেগ, শোভাযাত্রা, স্লোগান ও বিশেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতানাকি তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর আদর্শে জীবন গঠন এবং তাঁর আনীত শরিয়তের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ?
ঈদে মিলাদুন্নবী প্রসঙ্গে মূল আলোচনা এখানেই। কারণ একদিকে রাসুল ﷺ-এর জন্মের প্রতি আনন্দ, তাঁর সীরাত আলোচনা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়; অন্যদিকে কোনো নির্দিষ্ট দিনকে শরিয়তনির্ধারিত ধর্মীয় উৎসব বা ঈদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য শরিয়তের সুস্পষ্ট দলিল প্রয়োজন। এই দুই বিষয়কে এক করে ফেলা হলে আলোচনাটি আবেগনির্ভর হয়ে যায়; আর দলিলভিত্তিক আলোচনা তখন আড়ালে পড়ে যায়।
নবীপ্রেমের মাপকাঠি কী?
আল্লাহ তাআলা বলেন
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
“বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।” সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১।
অর্থাৎ ভালোবাসার দাবি শুধু মুখের উচ্চারণ নয়; তার বাস্তব প্রমাণ হলো অনুসরণ। আবার আল্লাহ বলেন:
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” সূরা আহযাব, ৩৩:২১।
সুতরাং রাসুল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার সর্বোচ্চ প্রকাশ হলো তাঁর সুন্নাহকে জীবনের আদর্শ বানানো। নামাজে তাঁর পদ্ধতি, লেনদেনে তাঁর সততা, পরিবারে তাঁর চরিত্র, সমাজে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ইবাদতে তাঁর অনুসরণএসবের প্রতি উদাসীন থেকে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো নবীপ্রেমের পূর্ণ রূপ হতে পারে না।
রাসুল ﷺ নিজ জন্মদিনকে কীভাবে স্মরণ করেছেন?
মাওলিদ প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহিহ হাদিসগুলোর একটি হলো আবু কাতাদা রা.-এর বর্ণনা। রাসুল ﷺ-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন:
فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ
“এই দিনেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়েছে।” সহিহ মুসলিম, ১১৬২।
এই হাদিস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ রাসুল ﷺ তাঁর জন্মের দিনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেই দিনের সঙ্গে একটি ইবাদত “রোজা” সম্পর্কিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, তাঁর জন্মের কথা স্মরণ করা বা জন্মের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা মূলত নিন্দনীয় বিষয় নয়।
কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: তিনি কি প্রতিবছর রবিউল আউয়ালে কোনো নির্দিষ্ট দিনকে ঈদ ঘোষণা করেছিলেন? কোনো বার্ষিক মীলাদ মাহফিল করেছিলেন? সাহাবায়ে কেরামকে তা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন? সহিহ হাদিসে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং প্রমাণিত পদ্ধতি হলো সোমবারের রোজা।
অতএব এই হাদিসকে “মীলাদের বর্তমান অনুষ্ঠান প্রমাণের সরাসরি দলিল” বলা যেমন অতিরঞ্জিত, তেমনি এই হাদিস থেকে জন্মের দিনের স্মরণ ও আল্লাহর শুকরিয়ার কোনো বৈধতাই নেইএ কথাও সঠিক নয়।
ইসলামে ঈদ কি মানুষের নির্ধারণের বিষয়?
ঈদ শুধু আনন্দের নাম নয়; ইসলামী পরিভাষায় এটি একটি পুনরাবৃত্ত ধর্মীয় দিবসের মর্যাদা বহন করে। তাই কোনো দিনকে শরিয়তের নির্দিষ্ট ঈদ বানাতে হলে দলিল প্রয়োজন।
রাসুল ﷺ বলেছেন
إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا، وَإِنَّ عِيدَنَا هَذَا الْيَوْمُ
“প্রত্যেক জাতির একটি ঈদ রয়েছে, আর এটি আমাদের ঈদ।” সহিহ বুখারি, ৩৯৩১।
এখানে ঈদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিষয়টি স্পষ্ট। রাসুল ﷺ মুসলিমদের নির্দিষ্ট ঈদকে স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছেন। তাই কোনো নতুন দিবসকে ইসলামের ধর্মীয় ঈদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
এ কারণেই মীলাদুন্নবীকে যদি “ঈদ” বলা হয় এবং এটিকে শরিয়ত নির্ধারিত তৃতীয় ঈদ হিসেবে বিশ্বাস করা হয়, তাহলে এর জন্য সুস্পষ্ট শরয়ি দলিল অপরিহার্য। কেবল রাসুল ﷺ-এর জন্ম মহান ও আনন্দের বিষয়এই সত্য দ্বারা একটি নতুন শরয়ি ঈদ প্রতিষ্ঠিত হয় না।
বিদআতের প্রশ্ন কোথায়?
রাসুল ﷺ বলেছেন
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” সহিহ বুখারি, ২৬৯৭।
আরেক হাদিসে এসেছে
وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
“প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” সহিহ মুসলিমে বর্ণিত জাবির রা.-এর হাদিস।
এখানে অবশ্যই একটি উসুলি বিষয় মনে রাখা দরকার। কোনো নতুন জিনিস দুনিয়াবি বা সাংগঠনিক হওয়া এবং কোনো নতুন কাজকেবিশেষ সওয়াবের ধর্মীয় অনুষ্ঠানহিসেবে নির্ধারণ করা এক বিষয় নয়। মাইক্রোফোন, মুদ্রিত বই, মাদরাসার শ্রেণিকক্ষএসবকে কেউ নতুন ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে আবিষ্কার করছে না। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দিন, নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট ধর্মীয় ফজিলতকে শরিয়তের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে তার দলিল দরকার।
মীলাদুন্নবীর পক্ষে দুটি বহুল উদ্ধৃত দলিল হলো:
১)আল্লাহ তাআলার বাণী;
قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنْزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
“মরিয়মপুত্র ঈসা বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আকাশ থেকে একটি খাদ্যভর্তি দস্তরখান অবতীর্ণ করুন, যা আমাদের প্রথম ও পরবর্তীদের জন্য ঈদ হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আর আমাদের রিজিক দান করুন; আপনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’” সূরা আল-মায়িদা, ৫:১১৪।
এখানে “عِيدًا” শব্দটি এসেছে, এটি সত্য। কিন্তু এখান থেকে মীলাদুন্নবীর বার্ষিক ঈদ প্রমাণ করা হলে আয়াতের প্রেক্ষাপট ও দলিলের প্রকৃতি উভয়ই উপেক্ষিত হয়।
প্রথমত, ঈসা আলাইহিস সালাম নিজের জন্মদিনকে ঈদ বানানোর কথা বলেননি; তিনি আল্লাহর কাছে আসমান থেকে একটি মায়েদা বা খাদ্যভর্তি দস্তরখান অবতীর্ণ করার আবেদন করেছিলেন। সেই অলৌকিক মুজিযা অবতীর্ণ হওয়ার দিনকে তাঁদের জন্য ঈদ করার কথা বলেছেন। ইবনু কাসীর রহ. এ আয়াতের তাফসীরে সুদ্দী রহ.-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ তারা চেয়েছিল, যে দিন মায়েদা অবতীর্ণ হবে, সে দিনকে তারা এবং পরবর্তীরা সম্মান করবে।
অতএব এখানে ঈদের কারণ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ একটি বিশেষ মুজিযা ও নিয়ামত, কোনো নবীর জন্মবার্ষিকী নয়।
দ্বিতীয়ত, এই আয়াতের মাধ্যমে যদি কোনো বিশেষ দিনকে বার্ষিক ধর্মীয় ঈদ বানানোর সাধারণ নীতি প্রতিষ্ঠা করা উদ্দেশ্য হতো, তাহলে প্রথমেই প্রমাণ করতে হতো, ঈসা আলাইহিস সালামের উম্মতের জন্য যে বিধান ছিল, তা আমাদের শরিয়তেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না। কারণ পূর্ববর্তী নবীদের শরিয়তের প্রত্যেক বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে উম্মতে মুহাম্মদীর শরিয়তের বিধান হয়ে যায় না। আমাদের জন্য চূড়ান্ত শরিয়ত হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত শরিয়ত।
তৃতীয়ত, আয়াতের কোথাও “কোনো মহান ব্যক্তির জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ঈদ পালন করা বৈধ” এমন কোনো সাধারণ নীতি নেই। যদি এমন নীতি থাকত, তবে রাসুল ﷺ-এর সাহাবায়ে কেরাম, যাঁরা তাঁর প্রতি আমাদের সবার চেয়ে অধিক ভালোবাসাশীল ছিলেন, তাঁরা সর্বপ্রথম তাঁর জন্মদিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতেন। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে এমন কোনো সহিহ বর্ণনা নেই।
আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোরআন নিজেই মায়েদার ঘটনাকে একটি “آيَةًمِنْكَ”, অর্থাৎ আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাজেই এখানে ঈদের সঙ্গে যুক্ত বিশেষত্বটি সেই অলৌকিক মুজিযা ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের কারণে; নিছক কোনো ব্যক্তির জন্মদিন হওয়ার কারণে নয়।
সুতরাং “ঈসা আলাইহিস সালাম একটি নিয়ামতের দিনকে ঈদ বলেছেন, তাই রাসুল ﷺ-এর জন্মদিনকেও ঈদ বলা যাবে” এই যুক্তি সরাসরি প্রমাণ নয়। বরং এর দ্বারা সর্বোচ্চ এতটুকু বোঝা যায় যে, আল্লাহর বিশেষ কোনো নিয়ামত বা নিদর্শনের কারণে কোনো দিনকে আনন্দ ও স্মরণের দিন হিসেবে অভিহিত করা ভাষাগতভাবে সম্ভব। কিন্তু সেটিকে ইসলামের নির্ধারিত ধর্মীয় ঈদ বানানোর জন্য আলাদা শরয়ি দলিল প্রয়োজন।
অতএব এই আয়াতকে মীলাদুন্নবীর বর্তমান বার্ষিক অনুষ্ঠান বা তৃতীয় শরয়ি ঈদের সরাসরি দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা দলিলের ওপর অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
২)
মীলাদুন্নবীর পক্ষে আরেকটি যুক্তি হলো; জুমার দিনকে কেন এত মর্যাদা দেওয়া হয়েছে? রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এই দিনেই আদম আলাইহিস সালাম সৃষ্টি হয়েছেন। সুতরাং কোনো মহান ব্যক্তির জন্মের কারণে একটি দিন বিশেষ মর্যাদা পেতে পারে; অতএব রাসুল ﷺ-এর জন্মদিনও বিশেষ মর্যাদার দিন হওয়া উচিত।
এখানে প্রথমে মূল হাদিসটি দেখা যাক। আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন;
خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ، وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا
“সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এই দিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে।” সহিহ মুসলিম, ৮৫৪।
অতএব হাদিসটি সহিহ এবং জুমার দিনের ফজিলতের সঙ্গে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির সম্পর্কও সত্য। কিন্তু এখান থেকে “জন্মবার্ষিকী পালন করা সুন্নাহ” এ সিদ্ধান্ত বের করা যায় না।
কারণ রাসুল ﷺ জুমার দিনের মর্যাদার একটি কারণ হিসেবে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি উল্লেখ করেছেন; কিন্তু তিনি বলেননি যে, “আদমের জন্মের স্মরণে প্রতি বছর জুমার দিন তাঁর জন্মবার্ষিকী পালন করো।” বরং জুমার দিনের জন্য শরিয়ত নিজেই বিশেষ ইবাদত নির্ধারণ করেছে, জুমার সালাত, খুতবা, গোসল, সুগন্ধি ব্যবহার, আগে মসজিদে যাওয়া, দরুদ ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত ইত্যাদি।
অর্থাৎ এখানে যে মর্যাদা প্রমাণিত হয়েছে, তা শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত জুমার দিনের মর্যাদা; কোনো ব্যক্তির জন্মবার্ষিকী পালনের সাধারণ নীতি নয়।
আর একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল ﷺ যদি শুধু কোনো মহান ব্যক্তির জন্মের সঙ্গে একটি দিনের সম্পর্ক থাকার কারণে সেই দিনকে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার সাধারণ নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন, তাহলে তাঁর নিজের জন্মদিন সোমবার হওয়ার কারণে সোমবারের জন্য কোনো বার্ষিক ঈদ বা জন্মোৎসব নির্ধারণ করতেন। কিন্তু সহিহ হাদিসে আমরা উল্টো দেখিতিনি সোমবারের ক্ষেত্রে রোজা রেখেছেন।
আবু কাতাদা রা. বলেন, রাসুল ﷺ-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন
فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ
“এই দিনেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়েছে।” সহিহ মুসলিম, ১১৬২।
এখানে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে। রাসুল ﷺ তাঁর জন্মের দিনকে অস্বীকার করেননি; বরং জন্মের কথা স্মরণ করে আল্লাহর শুকরিয়াস্বরূপ ইবাদত করেছেন। তাই জন্মের স্মরণ নিজেই নিষিদ্ধ, এ কথা বলা ঠিক নয়। কিন্তু এই হাদিস একই সঙ্গে এটিও দেখায় যে, জন্মদিন স্মরণের যে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, তা হলো রোজা; বার্ষিক উৎসব, জুলুস বা নতুন ঈদ প্রতিষ্ঠা করা নয়।
অতএব “জুমার দিন আদম আ.-এর জন্ম হয়েছে, তাই জুমার মর্যাদা; সুতরাং জন্মদিনকে কেন্দ্র করে মীলাদও শরিয়তসম্মত” এই যুক্তিতে একটি মৌলিক দলিলের অতিরঞ্জন রয়েছে। হাদিসটি জুমার ফজিলতের কারণ বর্ণনা করছে; এটি জন্মবার্ষিকী পালনের বিধান দিচ্ছে না।
বরং হাদিসটি আমাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে, কোনো ঘটনা বিশেষ মর্যাদার কারণ হলেই সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন ইবাদত বা নতুন ধর্মীয় উৎসব নির্ধারণ করতে পারি না; কীভাবে তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে, সেটিও শরিয়ত থেকেই জানতে হবে।
ইতিহাস কী বলে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: মাওলিদ অনুষ্ঠানকে সাহাবায়ে কেরাম বা খোলাফায়ে রাশেদীনের আমল বলে প্রমাণ করার জন্য যেসব বর্ণনা প্রচার করা হয়, সেগুলোর ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।
আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর নামে প্রচলিত “যে ব্যক্তি মীলাদের জন্য এক দিরহাম ব্যয় করবে, সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে” এবং আলী রা.-এর নামে “যে ব্যক্তি মীলাদকে সম্মান করবে, সে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করবে” এই দুই বর্ণনাকে মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেকের আলোচনায় ভিত্তিহীন বলা হয়েছে। সেখানেআন-নি‘মাতুল কুবরানামে প্রচারিত একটি সংস্করণ এবং প্রকৃত গ্রন্থের মধ্যে পার্থক্যের কথাও বিস্তারিত এসেছে।
একইভাবে উমর রা., আলী রা., জুনাইদ বাগদাদী, মারুফ কারখী, সাররি সাকতী ও ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী রহ.-এর নামে প্রচারিত কিছু মাওলিদ-সংক্রান্ত বর্ণনারও নির্ভরযোগ্য সনদ বা প্রাচীন উৎস না থাকার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।আলকাউসার-এর সংশ্লিষ্ট আলোচনায় এগুলোর সঙ্গেআন-নি‘মাতুল কুবরানামের একটি বিতর্কিত সংস্করণের সম্পর্কও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এখানে মূলনীতি হলোকোনো বক্তব্য কোনো বইয়ে লেখা থাকলেই তা হাদিস হয়ে যায় না। হাদিসের জন্য সনদ, রাবির গ্রহণযোগ্যতা, বর্ণনার ধারাবাহিকতা ও মতনের নির্ভরযোগ্যতা বিবেচনা করতে হয়। বিশেষত সাহাবিদের নামে জাল বর্ণনা প্রচার করা অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ।
মীলাদুন্নবীর সূচনাকাল........
মীলাদুন্নবী অনুষ্ঠানের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে ইরবিলের শাসক আল-মালিক আল-মুজাফফর আবু সাঈদ কুকুবরী ইবনু যায়নুদ্দীন আলী-এর নাম বিশেষভাবে সামনে আসে। তিনি ৬৩০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং ইরাকের ইরবিল অঞ্চলের শাসক ছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্রে তাঁর শাসনামলে রবিউল আউয়াল মাসে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে মাওলিদ আয়োজনের বিবরণ পাওয়া যায়।
ইমাম ইবনু কাসীর রহ. তাঁর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, মুজাফফরুদ্দীন রবিউল আউয়ালে মীলাদুন্নবী করতেন এবং অত্যন্ত ব্যাপকভাবে তা উদযাপন করতেন। তিনি তাঁকে সাহসী, বীর, বুদ্ধিমান ও দানশীল শাসক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সূত্রে এসেছে, মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদ আবুল খাত্তাব ইবনু দিহইয়া ইরবিলে এসে মুজাফফরুদ্দীনের মীলাদুন্নবী-আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁর জন্য “আত-তানভীর ফি মাওলিদিল বশীর আন-নযীর” নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন; মুজাফফরুদ্দীন তাঁকে এর জন্য এক হাজার দিনার পুরস্কার দেন।
মীলাদুন্নবীর আয়োজনটি ছোট কোনো ব্যক্তিগত বৈঠক ছিল না; বরং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আলেম, ফকিহ, ওয়ায়েজ, কারি, সুফি ও সাধারণ মানুষ এতে উপস্থিত হতেন। তাঁবু স্থাপন, বক্তৃতা, কিরাআত এবং ব্যাপক খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থা করা হতো। ঐতিহাসিক বর্ণনায় একেকটি আয়োজনে বিপুল পরিমাণ পশু জবাই, খাদ্য ও মিষ্টি বিতরণের কথাও এসেছে।
ইমাম ইবনু কাসীরের বর্ণনা থেকে আরও জানা যায়, মুজাফফরুদ্দীনের মীলাদুন্নবী -আয়োজন এতটাই প্রসিদ্ধ ছিল যে, মীলাদুন্নবী বিষয়ে গ্রন্থ রচনাকারী আলেমদেরও তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। ফলে মাওলিদ ধীরে ধীরে ব্যক্তিগতভাবে সীরাত পাঠের বিষয় না থেকে একটি বৃহৎ সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
তবে “মুজাফফরুদ্দীনই পৃথিবীর সর্বপ্রথম মীলাদুন্নবী অনুষ্ঠান শুরু করেন” এটি চূড়ান্ত ও বিতর্কমুক্ত ঐতিহাসিক বক্তব্য নয়। কিছু সূত্রে তাঁর পূর্বে মসুলের শায়খ উমর ইবনু মুহাম্মাদ আল-মুল্লা-এর মীলাদুন্নবী আয়োজনের কথা এসেছে। আবার ফাতেমি শাসনামলেও মীলাদুন্নবী-সংক্রান্ত আয়োজনের ঐতিহাসিক আলোচনা রয়েছে। তাই গবেষণাসম্মত ভাষা হলো: পরবর্তী মধ্যযুগে মীলাদুন্নবী অনুষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিক, বৃহৎ ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপক আকার লাভ করে এবং ইরবিলের মুজাফফরুদ্দীনের আয়োজন এ ইতিহাসের অন্যতম প্রসিদ্ধ অধ্যায়।
এখানে ইতিহাস ও শরয়ি বিধানের পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। কোনো শাসক কোনো কাজ ব্যাপকভাবে শুরু করেছেনএটি ইতিহাসের তথ্য; কিন্তু তা রাসুল ﷺ-এর সুন্নাহ কি না, তা নির্ধারণের জন্য কোরআন, সহিহ হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের আমল ও শরিয়তের উসূলের দিকে ফিরে যেতে হবে।
অন্যদিকে পরবর্তী যুগের কিছু সুন্নি আলেম মীলাদুন্নবীকে সম্পূর্ণ বাতিল না করে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। তাই শুধু ইতিহাসের ভিত্তিতে এক পক্ষের মতকে চূড়ান্ত প্রমাণ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি “পরবর্তী যুগে শুরু হয়েছে” এই তথ্যকে একাই সব ধরনের মাওলিদ হারাম প্রমাণের একমাত্র দলিল বানানোও যথেষ্ট নয়। প্রকৃত বিচার হবেএটি কী উদ্দেশ্যে, কী পদ্ধতিতে এবং কী বিশ্বাসের সঙ্গে পালন করা হচ্ছে এবং শরিয়তের কোন মূলনীতির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইমাম সুয়ূতী রহ.-এর বক্তব্যও কী উপেক্ষা করা যাবে?
না। এই বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ.হুসনুল মাকসিদ ফি আমালিল মাওলিদনামক রচনায় মাওলিদ সম্পর্কে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাছে এমন মাওলিদযেখানে কুরআন পাঠ, নবীজির জন্ম ও সীরাতের বর্ণনা, এরপর খাবার পরিবেশন এবং এর বাইরে শরিয়তবিরোধী কিছু না থাকে “বিদআতে হাসানা” হিসেবে গণ্য হতে পারে।
অতএব “আহলে সুন্নাতের সব আলেম মীলাদুন্নবীকে হারাম বলেছেন” এ বক্তব্যও সঠিক নয়। বরং পরবর্তী যুগের একদল সুন্নি আলেম শর্তসাপেক্ষে এর অনুমতি দিয়েছেন। হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ.-এর কাছ থেকেও মাওলিদ সম্পর্কে অনুরূপ একটি বক্তব্য নকল করা হয়েছে, মূল কাজটি সালাফের আমলে ছিল না, কিন্তু তাতে ভালো ও মন্দ উভয় বিষয় থাকতে পারে; ভালো বিষয় রাখা এবং মন্দ বিষয় বর্জন করলে তা ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা যায়এমন বক্তব্য পরবর্তী গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।
অতএব এ বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত হলো:মীলাদুন্নবীকে কেন্দ্র করে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; কিন্তু জাল হাদিস, শিরকী বক্তব্য, অশ্লীলতা, গান-বাজনা, অপব্যয়, বেপর্দা ও শরিয়তবিরোধী কাজকোনোটিই নবীপ্রেমের বৈধ প্রকাশ নয়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়: জাল বর্ণনা ও হারাম কর্মকাণ্ড
কোনো মীলাদুন্নবী মাহফিলে যদি রাসুল ﷺ-এর সীরাত বলা হয়, সহিহ হাদিস পাঠ করা হয়, দরুদ পড়া হয়, কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হয় এবং মানুষকে সুন্নাহ অনুসরণের দিকে আহ্বান করা হয়তাহলে এসব কাজ নিজ নিজ অবস্থায় শরিয়তসম্মত।
কিন্তু এর সঙ্গে যদি জাল কাহিনি, মনগড়া ফজিলত, শিরকী বক্তব্য, অশ্লীলতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, গান-বাজনা, অপচয় কিংবা অন্য কোনো হারাম কাজ যুক্ত হয়, তবে সেগুলো কোনোভাবেই “নবীপ্রেম” নামে বৈধ হয়ে যাবে না। এমনকি মাওলিদকে বৈধ মনে করা আলেমরাও শর্ত দিয়েছেন যে, এর সঙ্গে হারাম ও শরিয়তবিরোধী বিষয় যুক্ত করা যাবে না।আলকাউসার-এ উদ্ধৃত সুয়ূতীর আলোচনাতেও এই শর্তের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তাহলে সঠিক পথ কোনটি?
সঠিক পথ হলো: রাসুল ﷺ-এর জন্মকে আল্লাহর মহান নিয়ামত হিসেবে স্মরণ করা, তাঁর প্রতি অগাধ ভালোবাসা রাখা, তাঁর সীরাত অধ্যয়ন করা এবং তাঁর সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা।
যদি কেউ মাওলিদের একটি সাধারণ মাহফিলকে শরিয়তবিরোধী বিষয়মুক্ত রেখে কুরআন, দরুদ, সীরাত, নসিহত ও দান-সদকার মাধ্যমে আয়োজন করেন এবং এটিকে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত তৃতীয় ঈদ বা অপরিহার্য সুন্নাহ মনে না করেন, তাহলে এ বিষয়ে কিছু আলেমের অনুমতির মত রয়েছে, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। আবার যারা এটিকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসব ও “ঈদ” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাকে শরিয়তের বাইরে মনে করেন, তাদেরও শক্তিশালী উসুলি ভিত্তি রয়েছে।
কিন্তু যে বিষয়টি নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই তা হলো: রাসুল ﷺ-এর নামে জাল কথা বলা যাবে না, তাঁর নামে শিরকী বক্তব্য প্রচার করা যাবে না, তাঁর ভালোবাসার নামে তাঁর সুন্নাহ লঙ্ঘন করা যাবে না এবং কোনো নতুন রসমকে তাঁর নির্দেশিত দ্বীনের অংশ বলে দাবি করা যাবে না।
উপসংহার
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্ম মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিরাট নিয়ামত। তাঁকে ভালোবাসা ঈমানের দাবি। তাঁর সীরাত আলোচনা করা, তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা, তাঁর চরিত্র অনুসরণ করা এবং তাঁর সুন্নাহকে জীবিত করা, এসবই মুমিনের সৌভাগ্য।
কিন্তু নবীপ্রেমের প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে অনেক গভীর। আল্লাহ তাআলা ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে বলেছেন“তোমরা আমার রাসুলের অনুসরণ করো।”
তাই মাওলিদ নিয়ে মতভেদ থাকলেও আমাদের সবার ঐকমত্যের জায়গাটি হওয়া উচিত। রাসুল ﷺ-এর সীরাতকে জীবনের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা।তাঁর জন্মের কথা স্মরণ করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর শিক্ষা বাস্তবায়ন করা; তাঁর প্রশংসা করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা; তাঁর নামে সমাবেশ করার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা।
আর যদি মীলাদুন্নবী পালন করা হয়, তবে তা যেন কখনো জাল বর্ণনা, শিরক, অশ্লীলতা, অপচয় ও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের মঞ্চ না হয়। আবার যারা মীলাদুন্নবীকে বিদআত মনে করেন, তারাও যেন রাসুল ﷺ-এর সীরাত, জন্ম ও গুণাবলি আলোচনা করাকে মীলাদুন্নবী বিতর্কের সঙ্গে একাকার না করেন।
কারণ আমাদের আসল পরিচয় কোনো দলীয় শিরোনামে নয়, আমরামুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মত। আর সেই উম্মতের প্রকৃত সফলতা নিহিত তাঁর ভালোবাসাকে আবেগের ভাষা থেকে আমলের ভাষায় রূপান্তর করার মধ্যে।
اللهم ارزقنا حب نبيك صلى الله عليه وسلم واتباع سنته، واحشرنا تحت لوائه، آمين.
উল্লেখযোগ্য উৎস ও রেফারেন্স
১. সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২, সোমবারের রোজা ও
রাসুল ﷺ-এর জন্মের
সম্পর্ক। (Sunnah)
২. সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৯৩১, ঈদ সম্পর্কে রাসুল ﷺ-এর বক্তব্য। (Sunnah)
৩. সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬৯৭, দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজনের ব্যাপারে সতর্কতা। (Sunnah)
৪. সহিহ মুসলিম, “প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা” মর্মের হাদিস। (Sunnah)
৫. ইমাম সুয়ূতী, হুসনুল মাকসিদ ফি আমালিল মাওলিদ। (Fatawa Islam)
৬. মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আস-সালেহী আশ-শামী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১/৩৬২–৩৭৪। (Masaha)
৭.আল-হাবী লিল ফাতাওয়া, ১/২৫১–২৫২, ইমাম সুয়ূতীর মাওলিদ-সংক্রান্ত
রচনা ও ঐতিহাসিক আলোচনার সূত্র। (Al-Kawsar)
৮. মাওলিদ-সংক্রান্ত কথিত জাল বর্ণনার পর্যালোচনা, মাসিকআলকাউসার, রবিউল আউয়াল ১৪৪৩; এবং মাওলানা
মুহাম্মাদ আবদুল মালেকের সংশ্লিষ্ট গবেষণা। (Al-Kawsar)
৯.আলকাউসার, রবিউল আখির
১৪৩৩/মার্চ ২০১২, “ইসলামে কি তৃতীয় কোনো ঈদ আছে”। (Al-Kawsar)
১০.জাওয়াহিরুল বিহার, ৩/৯২ এবং
মাওলিদ-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক উদ্ধৃতির আলোচনাও সংশ্লিষ্ট গবেষণায় উল্লেখিত হয়েছে।
(Al-Kawsar)
মুফতি মুয়াজ বিন ইয়াহইয়া
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ ,
শেখ জানূরুদ্দীন র. দারুল কুরআন মাদরাসা, (চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসা) ঢাকা-১২১৯
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল