ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে যাওয়ার বিধান

ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে যাওয়ার বিধান: কুরআন-সুন্নাহ ও হানাফী ফিকহের আলোকে

মুফতি মুঈনুল ইসলাম  সিলেটি

......................................

১. ছোট শিশুদের মসজিদে আনার বৈধতার দলিল

২.শিশুদের মসজিদে প্রবেশ করানো নিষিদ্ধতার প্রমাণ।

৩. দুই ধরনের হাদিসের সামঞ্জসতা।

৪. মসজিদের পবিত্রতা বুঝার বয়স।

৫.দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া।

৬. জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বানুরি  টাউন এর ফতোয়া।

 

১. ছোট শিশুদের মসজিদে আনার বৈধতার দলিল

নিম্নোক্ত হাদিস দ্বারা একথা  সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে ছোট বাচ্চাদেরকে মসজিদে  নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْمِلُ أُمَامَةَ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ صَبِيَّةٌ يَحْمِلُهَا فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عَلَى عَاتِقِهِ يَضَعُهَا إِذَا رَكَعَ وَيُعِيدُهَا إِذَا قَامَ حَتَّى قَضَى صَلاَتَهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ بِهَا

 কাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু  বলেন একদিন আমরা মসজিদে বসে ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ তাঁর নাতনি উমামাহ বিনতে আবুল আস ইবন রবী কে কোলে নিয়ে আমাদের কাছে বেরিয়ে এলেন। উমামাহর মা ছিলেন রাসূলুল্লাহ -এর কন্যা যায়নাব  রাযিয়াল্লাহু আনহা। তিনি তখন ছোট্ট শিশু ছিলেন।রাসূলুল্লাহ তাঁকে কাঁধে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। রুকুতে যাওয়ার সময় তাঁকে নিচে নামিয়ে রাখতেন এবং রুকু থেকে উঠে দাঁড়ালে আবার কাঁধে তুলে নিতেন। এভাবেই তিনি পুরো নামাজ সম্পন্ন করেন।(সুনানে নাসাঈ  হাদিস নং ৭১২ )(বুখারী শরিফ হাদিস নং ৬১৬)

(ফাতহুল বারী ২/৪৬০/ আররিসালাতুল আলামিয়্যা)

 

২.শিশুদের মসজিদে প্রবেশ করানো নিষিদ্ধতার প্রমাণ।

 

عن واثلةبن الاشقع ان النبي صلى الله عليه وسلم قال  جنِّبوا مساجدَكم صبيانَكم ومجانينَكم; ) سننن ابن ماجه ٧٥٠(

ওয়াসিলা ইবনুল আসকা  রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ বলেছেনতোমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে ছোট শিশু ও উন্মাদ ব্যক্তিদের থেকে দূরে রাখো  অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝাতে চেয়েছেন যে তোমরা ছোট বাচ্চাদেরকে  এমন বয়সে   মসজিদে আনো না  যে বয়সে  তারা আসলে  মসজিদের পরিবেশ ও মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়।( সুনানু ইবনে মাজাহ ৭৫০)

৩. দুই ধরনের হাদিসের সামঞ্জসতা।

হাদিসসমূহ থেকে জানা যায় যে  রাসূলুল্লাহ -এর যুগে ছোট শিশুদের মসজিদে আনা হতো। আবার এমন হাদিসও রয়েছে  যাতে শিশুদের মসজিদে না আনার নির্দেশ পাওয়া যায়।শিশুদের মসজিদে আনার বৈধতার পক্ষে ইমাম নাসাঈ তাঁর সুনান এবং ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেনএকদিন আমরা মসজিদে বসে ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ তাঁর নাতনি উমামাহ  আবুল আস ইবন রাবী  ও যায়নাব রাযি. এর কন্যা কে কাধে নিয়ে মসজিদে এলেন। তিনি তখন ছোট শিশু ছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ নামাজ আদায় করলেন। রুকুতে যাওয়ার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং পুনরায় দাড়ালে আবার কাধে তুলে নিতেন।(সুনানে নাসাঈ  হাদিস নং ৭১২ )

এ হাদিস দ্বারা শিশুদেরকে মসজিদে নিয়ে আসার বৈধতা প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে অন্যদিকে ইমাম ইবনে মাজাহ ওয়াসিলা ইবনে আসকা  রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ বলেছেনতোমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে শিশু  উন্মাদ ব্যক্তি  থেকে রক্ষা করো।(সুনানে ইবনে মাজাহ ৭৫০ )  

এই হাদিসে শিশুদের মসজিদে আনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে ফকিহগণ বলেছেন যে শিশুরা ভালো-মন্দ বোঝে  মসজিদে শান্তভাবে থাকতে পারে এবং যাদের দ্বারা মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা বা বিঘ্নের আশঙ্কা নেই এমন শিশুদের বাবা-মায়ের সঙ্গে মসজিদে নিয়ে আসা বৈধ। এ ধরনের শিশুদের ব্যাপারেই বৈধতার হাদিসগুলো প্রযোজ্য।কিন্তু যেসব শিশু দৌড়াদৌড়ি করে চিৎকার-চেচামেচি করে মুসল্লিদের মনোযোগ নষ্ট করে বা সারাক্ষণ অভিভাবকের তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন হয়  তাদের মসজিদে নিয়ে আসা উচিত নয়। অধিকাংশ ফকিহের মত এটাই।এ প্রসঙ্গে শাইখ ড. ওয়াহবা আয-যুহাইলী (রহ.) লিখেছেন

যেসব শিশু এখনো ভালো-মন্দ বোঝার বয়সে পৌঁছেনি তাদের উন্মাদ ব্যক্তি ও পশু মসজিদে নিয়ে আসা মাকরূহ। কারণ  এদের দ্বারা মসজিদ অপবিত্র হওয়ার কিংবা মুসল্লিদের বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এটি হারাম নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ উমামাহ বিনতে যায়নাবকে মসজিদে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সম্ভাব্য ক্ষতির দিক বিবেচনায় এটি মাকরূহ। ইমাম আহমদের মাযহাবে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত মত। আর ইমাম মালিক ও ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের আলেমগণও এ ধরনের শিশুদের মসজিদে আনা মাকরূহ বলেছেন।(আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু  ১ / ৫৫০)

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) ও বলেছেনআমার মতে এমন শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসা বৈধ নয় যারা নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্ত করে। কারণ এতে আল্লাহর একটি ফরজ ইবাদত আদায়কারীদের কষ্ট দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ একবার কিছু সাহাবিকে উচ্চস্বরে কিরাআত করতে শুনে বলেছিলেন  তোমরা একে অপরের ওপর কিরাআতের আওয়াজ উঁচু করো না।  অন্য এক হাদিসে তিনি বলেছেন তোমরা পরস্পরকে কষ্ট দিও না।  সুতরাং যে কাজ নামাজরত মুসল্লিদের বিরক্তির কারণ হয়  তা করা বৈধ নয়। তাই আমি এ ধরনের শিশুদের অভিভাবকদের পরামর্শ দিই তারা যেন সন্তানদের মসজিদে নিয়ে না আসেন।(ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ   ৩ / ২৭)

সারসংক্ষেপ:  ফকিহদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী যেসব ছোট শিশু মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে  তাদের মসজিদে নিয়ে আসা উচিত নয়। আর রাসূলুল্লাহ -এর উমামাহ  রাযি. কে কাধে নিয়ে নামাজ আদায় করার ঘটনাটি সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। কেউ বলেছেন  এটি রাসূলুল্লাহ এর জন্য বিশেষ বিধান ছিল কেউ বলেছেন এটি বিশেষ প্রয়োজনের কারণে সংঘটিত হয়েছিল আবার কেউ বলেছেন পরবর্তীকালে এ বিধান রহিত (মানসূখ) হয়েছে।(ফাতহুল  বারী ২/৪৬০/ হাদিছ ৫১৬)

 

হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য কিতাব আদ্দুরুল মুখতার গ্রন্থের  বক্তব্য

 

ويحرم إدخال صبيان ومجانين حيث غلب تنجيسهم، وإلا فيكره

যেসব ছোট শিশু বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির দ্বারা মসজিদ নাপাক হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে যেমন তারা প্রস্রাব পায়খানা করে ফেলতে পারে বা এমন কিছু করতে পারে যার ফলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি—তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া বা প্রবেশ করানো হারাম। তবে যদি এমন আশঙ্কা প্রবল না থাকে অর্থাৎ তারা মসজিদের আদব শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়  তাহলে তাদেরকে মসজিদে আনা হারাম নয় তবে তা মাকরূহ ।

(আদ্দুরুল মুখতার ২/৫১৮/ আযহার)

রদ্দুল মুহতার গ্রন্থের বক্তব্য : ছোট শিশুদের কে মসজিদে প্রবেশ করানো মাকরুহ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাকরুহে তাহরিমী  বা না জায়েজ অকাট্য হারাম নয় কেননা অকাট্যভাবে কোন জিনিস হারাম প্রমাণিত হওয়ার জন্য তার দলিল কাতয়ী বা অকাট্য হওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয় আর বর্ণিত মাসালার দলিল অকাট্য নয় বরং যন্নী বিধায় এমন দলিলের মাধ্যমে অকাট্য  হারাম প্রমাণিত হবে না মাকরুহে তাহারিমি বা না জায়েজ  প্রমাণিত হবে এজন্য আল্লামা শামি রাহিমাহুল্লাহ একথাই বুঝাতে চেয়েছেন যে যেসব ছোট শিশু বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির দ্বারা মসজিদ নাপাক হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে যেমন তারা প্রস্রাব পায়খানা করে ফেলতে পারে বা এমন কিছু করতে পারে যার ফলে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া বা প্রবেশ করানো  মাকরুহে তাহরিমী বা নাজায়েজ।

قوله :( يحرم.........)  والمراد بالحرمة كراهة التحريم  لظنية الدليل

লেখকের  হারাম  শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো  মাকরূহে তাহরীমী । কারণ এ মাসআলার দলিলটি অকাট্য  নয়  বরং সম্ভাবনামূলক (যান্নী) দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তাই এখানে হারাম বলতে পরিভাষাগত বা চূড়ান্ত অর্থে হারাম বোঝানো হয়নি  বরং মাকরূহে তাহরীমী বোঝানো হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার ২/৫১৮/আযহার) রদ্দুল মুহতার এর ব্যাখ্যা

قوله : (والا فيكره)  اي تنزيها

অন্যথায় মাকরূহ” বলতে এখানে মাকরূহে তানযীহী বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ছোট শিশুরা মসজিদে প্রবেশ করার কারণে  অপবিত্র হওয়ার প্রবল আশঙ্কা না থাকলে তাদেরকে মসজিদে আনা নিষিদ্ধ নয় বরং সুযোগ আছে  তবে তা উত্তম ও শোভনীয়ও নয়।(রদ্দুল মুহতার ২/৫১৮/আযহার)

 

তাকরিরাতে রাফিয়ীর বক্তব্য।

قال الرافعي : قول الشارح: (وإلا فيكره) أي: حيث لم يبالوا بمراعاة حق المسجد من مسح نخامة أو تفل في المسجد، إلا فإذا كانوا مميزين ويعظمون المساجد بتعلم من وليهم، فلا كراهة في دخولهم

ইমাম রাফিঈ  রহ. বলেন শারেহ তথা হাছকাফীর কথা অন্যথায় মাকরূহ (وإلا فيكره) কথার অর্থ হলো যেসব শিশু মসজিদের আদব সম্মান রক্ষা করে না যেমন মসজিদের ভেতরে থুথু ফেলে  নাকের ময়লা পরিষ্কার করে বা এ ধরনের বেয়াদবি করে তাদেরকে মসজিদে আনা মাকরূহ।

তবে যদি শিশুরা বুদ্ধি বিবেচনাসম্পন্ন  হয় এবং তাদের অভিভাবক তাদেরকে শিক্ষা দিয়ে মসজিদের মর্যাদা ও আদব সম্মান রক্ষা করতে অভ্যস্ত করে তোলেন তাহলে তাদের মসজিদে প্রবেশে কোনো মাকরূহ নেই।

সংক্ষিপ্ত সারকথা: ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ নয়। বরং এ বিধান শিশুর আচরণ ও তার দ্বারা মসজিদের পবিত্রতা এবং আদব-শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার ওপর নির্ভরশীল।

 যদি কোনো শিশুর দ্বারা পেশাব পায়খানা ইত্যাদির মাধ্যমে মসজিদ  নাপাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা  মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা হয় তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া মাকরূহে তাহরীমী বা না জায়িজ।  বা মসজিদের আদব-সম্মান নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া মাকরূহে তাহরীমী (নাজায়েজ)।

 যদি শিশুর দ্বারা মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা  না থাকে   বরং মসজিদের ভেতরে থুথু ফেলে  নাকের ময়লা পরিষ্কার করে বা এ ধরনের বেয়াদবি করার ভয় হয় তাহলে  তাদেরকে মসজিদে আনা মাকরূহে তানযীহি 

তবে  যদি শিশু ভালো-মন্দ বোঝে  মসজিদের আদব-শৃঙ্খলা সম্পর্কে সচেতন হয়  অভিভাবকের শিক্ষায় মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে অভ্যস্ত হয  তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসায় কোনো মাকরূহ নেই।  ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়ার এর  বক্তব্যর খোলাছা নিম্নে পেশ করা হলো

  খোলাছা  হলো   যদি কোনো শিশুকে মসজিদে আনার ফলে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে মসজিদে আনা  না জায়িজ । আর যদি অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা না থাকে বরং মসজিদের আদব সম্মান রক্ষা করে না যেমন মসজিদের ভেতরে থুথু ফেলে  নাকের ময়লা পরিষ্কার করে বা এ ধরনের বেয়াদবি করে তাহলে  তাদেরকে মসজিদে আনা মাকরূহে তানযিহী  তবে যদি শিশু বুঝদার হয় নিয়মিত নামাজ পড়ে এবং মসজিদের আদব শিষ্টাচার রক্ষা করতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসায় কোনো অসুবিধা নেই

مسجد میں چھوٹے بچوں کو لانا:

(سوال ۱۳۴ ) ہمارے یہاں بعض مصلی اپنے ساتھ چھوٹے بچوں کو مسجد میں لاتے ہیں اور جماعت خانہ میں بٹھاتے ہیں وہ بچے کبھی روتے ہیں کبھی شرارت کرتے ہیں اور گاہے پیشاب بھی کر دیتے ہیں ان کو کہا جاتا ہے کہ بچوں کو اپنے ساتھ نہ لاؤ اس سے مسجد کی بے حرمتی ہوتی ہے مگر وہ نہیں مانتے، ان کی سمجھ میں آجائے ایسا جواب تحریر

(الجواب) مسجد میں چھوٹے بچوں کو لانے کی اجازت نہیں، مسجد کا ادب و احترام باقی نہ رہے گا اور لانے والے کو بھی اطمینان قلب نہ رہے گا نماز میں کھڑے ہوں گے مگر خشوع و خضوع نہ ہوگا، بچوں کی طرف دل لگار ہے گا حضور صلی اللہ علیہ وآلہ وسلم کا ارشاد ہے جنبوا مساجد کم صبيا نكم و مجانینگم الخ اپنی مسجدوں کو بچوں اور پاگلوں سے بچاؤ ( ابن ماجه ص ۵۵ باب ما یکرہ فی المساجد )

 

اس لئے فقہاء رحمہم اللہ تحریر فرماتے ہیں کہ مسجد میں بچوں کو داخل کرنا اگر اس سے مسجد کے نجس ہونے کا اندیشہ ہو تو حرام ہے اور نہ مکروہ ہے، الاشباہ والنظائر میں ہے ومنها حرمة ادخال الصبيان والمجانين حيث غلب تنجيسهم و الإفيكره الاشباه ص ۵۵۷ القول في احکام المسجد) ہاں اگر بچہ سمجھدار ہو نماز پڑھتا ہو مسجد کے ادب واحترام کا پاس ولحاظ رکھتا ہو تو کوئی حرج نہیں ہے، غالبا اسی بناء پر سات برس کی قید حدیث میں یکردہ نہیں۔ فقط واللہ اعلم بالصواب۔ موجود ہے ۔ وہ نابالغ بچوں کی صف میں کھڑا ہے، اگر صرف ایک ہی بچہ ہوتو وہ بالغوں کی صف میں کھڑا ہو سکتا ہے

প্রশ্ন:আমাদের এলাকায় কিছু মুসল্লি ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদে আসেন এবং তাদের জামাতখানায় বসিয়ে রাখেন। এসব শিশু কখনো কান্নাকাটি করে কখনো দুষ্টুমি করে এমনকি কখনো মসজিদে প্রস্রাবও করে ফেলে। তাদেরকে বলা হলেও যে  এভাবে শিশুদের নিয়ে এলে মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়  তবুও তারা মানতে চান না। তাদের বোঝার মতো করে শরিয়তের বিধান জানিয়ে দিন।

উত্তর:খুব ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসা উচিত নয়। কারণ এতে মসজিদের আদব ও মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া যে ব্যক্তি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে আসে তার নিজের নামাজেও একাগ্রতা নষ্ট হয়। বাহ্যিকভাবে সে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার মন পড়ে থাকে শিশুটির দিকে সে কী করছে কোথায় যাচ্ছে  কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।?এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন

:جَنِّبُوا مَسَاجِدَكُمْ صِبْيَانَكُمْ وَمَجَانِينَكُمْ

অর্থ: তোমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে ছোট শিশু ও উন্মাদদের (অনিয়ন্ত্রিত লোকদের) থেকে দূরে রাখো।এর ভিত্তিতে ফকীহগণ লিখেছেন যদি কোনো শিশুকে মসজিদে আনার ফলে মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে মসজিদে আনা হারাম। আর যদি অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তবুও তাকে আনা মাকরূহ।তবে যদি শিশু বুঝদার হয় নিয়মিত নামাজ পড়ে এবং মসজিদের আদব শিষ্টাচার রক্ষা করতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসায় কোনো অসুবিধা নেই। সম্ভবত এ কারণেই হাদিসে শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট সাত বছরের বয়স উল্লেখ করা হয়নি বরং মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শিশুর বুঝশক্তি ও আচরণ।

আর যদি নাবালক শিশু জামাতে অংশ নেয় তাহলে সে নাবালকদের কাতারে দাড়াবে। তবে যদি একজনই নাবালক থাকে  তাহলে সে প্রাপ্তবয়স্কদের কাতারেও দাড়াতে পারে।

(রহিমিয়্যাহ ৯/১১০ সুনানে ইবন মাজাহ হাদিছ নং ৭৫০  আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির  আহকামুল মাসাজিদ অধ্যায়।)

৪. মসজিদের পবিত্রতা বুঝার বয়স।

ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসা উচিত নয়। বরং এমন শিশুদেরই মসজিদে আনা উচিত যারা মসজিদের মর্যাদা ও আদব-কায়দা বুঝতে এবং তা রক্ষা করতে সক্ষম। সাধারণত এ যোগ্যতা প্রায় সাত বছর বয়স থেকে তৈরি হয়। আর এ কথাই দেওবন্দের ফতোয়াতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।  নিম্নে দারুল উলুম  দেওবন্দের ফাতওয়া পেশ করা হলো

 

سوال نمبر: 57725

عنوان:چھوٹے بچوں كو مسجد لے جانا

سوال:حضرت. میں مغربی بنگال سے ھوں.ھمارے یہاں ایک رواج ھے . بچوں کو نماز کے لے مسجد میں لاتے ہیں خاص کر کہ جمعہ کہ دن۔ براہ کرم، اس بارے میں دلائل کے ساتھ رہنمائی فرمائیں ۔

 جو بچے سات برس کے یا اس سے زیادہ عمر کے ہوں ان کومسجد میں لانے میں کوئی حرج نہیں ہے، ان میں نماز کا شوق پیدا ہوگا، لیکن سات برس سے کم عمر والے بچوں کو مسجد میں نہیں لانا چاہیے تاکہ بچوں کے شور شغب اور شرارت کی وجہ سے نماز میں خلل اور مسجد کا ادب پامال نہ ہو۔

প্রশ্ন:হযরত  আমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে লিখছি। আমাদের এলাকায় বিশেষ করে জুমার দিন ছোট শিশুদেরকে নামাজের জন্য মসজিদে নিয়ে আসার একটি প্রচলন রয়েছে। এ বিষয়ে শরীয়তের দলিলসহ সঠিক দিকনির্দেশনা জানালে উপকৃত হব।

উত্তর:যেসব শিশুর বয়স সাত বছর বা তার বেশি তাদেরকে মসজিদে নিয়ে আসতে কোনো অসুবিধা নেই। এতে তাদের মধ্যে নামাজের প্রতি আগ্রহ ও অভ্যাস গড়ে উঠবে।

তবে সাত বছরের কম বয়সী শিশুদের মসজিদে না আনাই উচিত। কারণ তাদের দুষ্টুমি হৈচৈ বা চঞ্চলতার কারণে মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং মসজিদের আদব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।( ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রশ্ন নম্বর ৫৭৭২৫)

জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন, করাচি এর ফাতওয়া

فتویٰ نمبر : 144709100443

بچوں کو مسجد میں لےجانا؟

جواب

نابالغ بچوں کو مسجد لانے میں مندرجہ ذیل تفصیل ہے:

الف) نابالغ بچے اتنے سمجھ دار ہوں کہ وہ خود  مسجد کے آداب کی رعایت کرتے ہوں یا اپنے  ولی کے سمجھانے پر رعایت کرتے ہوں  اور ان سے مسجد کی تلویث کا خطرہ بھی نہ ہو تو ایسے بچوں کا مسجد  میں لانا بغیر کراہت جائز ہے ۔

ب) وہ نا بالغ بچہ جن سے مسجد کی تلویث کا خطرہ تو نہ ہو لیکن مسجد کے دیگر آداب کی رعایت نہ کرتے ہوں تو ان کو مسجد لانا مکروہ تنزیہی ہے۔

ج) وہ نا بالغ بچہ جن سے مسجد کی تلویث کا غالب گمان ہو   ان کو مسجد لانا ناجائز اور مکروہ تحریمی ہے۔

 

 

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসার বিধান

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের মসজিদে আনার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিস্তারিত বিধান প্রযোজ্য

(ক) যদি শিশু এতটাই বুঝদার হয় যে, সে নিজেই মসজিদের আদব-কায়দা মেনে চলতে পারে, অথবা তার অভিভাবকের বুঝিয়ে দেওয়ার ফলে তা মেনে চলে, এবং তার দ্বারা মসজিদ নাপাক হওয়ারও কোনো আশঙ্কা না থাকে, তাহলে এমন শিশুকে মসজিদে নিয়ে আসা কোনো প্রকার মাকরূহ ছাড়াই জায়েয।

(খ) যদি শিশুর দ্বারা মসজিদ নাপাক হওয়ার আশঙ্কা না থাকে, কিন্তু সে মসজিদের অন্যান্য আদব-কায়দা (যেমন দৌড়াদৌড়ি, চিৎকার-চেঁচামেচি, খেলাধুলা ইত্যাদি) মেনে না চলে, তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসা মাকরূহ তানযীহী।

(গ) আর যদি শিশুর দ্বারা মসজিদ নাপাক হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসা নাজায়েয এবং মাকরূহ তাহরীমী।

রেফারেন্স:ফতোয়া নং: 144709100443জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন, করাচি।

 

উপসংহার: ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসার বিধান একরকম নয়  বরং শরিয়ত এ ক্ষেত্রে শিশুর বুঝশক্তি  আচরণ এবং তার দ্বারা মসজিদের পবিত্রতা ও মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনাকে মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। কুরআন-সুন্নাহ ফকীহদের ব্যাখ্যা এবং হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে তিনটি সুস্পষ্ট বিধান প্রতীয়মান হয়।

প্রথমত যদি কোনো শিশুর দ্বারা মসজিদ অপবিত্র হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে  যেমন প্রস্রাব-পায়খানা করে ফেলার বা অন্য কোনোভাবে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসা মাকরূহে তাহরীমী বা  নাজায়েজ।

দ্বিতীয়ত যদি মসজিদ অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তবে শিশুটি মসজিদের আদব-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে না পারে দৌড়াদৌড়ি  চিৎকার চেঁচামেচি বা অন্যভাবে মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে  তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসা মাকরূহে তানযীহী।

তৃতীয়ত যদি শিশু বুঝদার হয় মসজিদের আদব-শিষ্টাচার সম্পর্কে সচেতন থাকে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে শান্তভাবে অবস্থান করে এবং তার দ্বারা মসজিদের পবিত্রতা বা মুসল্লিদের ইবাদতে কোনো বিঘ্নের আশঙ্কা না থাকে তাহলে তাকে মসজিদে নিয়ে আসায় কোনো প্রকার মাকরূহ নেই  বরং এর মাধ্যমে তার অন্তরে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা জামাতে নামাজের অভ্যাস এবং দ্বীনি পরিবেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অতএব ছোট শিশুদের মসজিদে আনার ক্ষেত্রে শরিয়তের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি হলো বয়স নয়  বরং শিশুর যোগ্যতা  শিষ্টাচার ও পরিস্থিতিই বিধানের ভিত্তি। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের মসজিদের আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়ে উপযুক্ত সময়ে তাদেরকে মসজিদমুখী করা এবং একই সঙ্গে মসজিদের পবিত্রতা মর্যাদা ও মুসল্লিদের খুশু-খুযূ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা।

 

মুফতিফাতাওয়া ও মাসায়েল 

মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মাহাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা

 

📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

১৯ জুলাই ২০২৬