মাজার জিয়ারত ও মান্নতের বিধান কোরআন সুন্নাহর আলোকে দলিলভিত্তিক আলোচনা।
মুফতি মুঈনুল ইসলাম সিলেটি
..............................................................
১.মান্নত (নযর) কাকে বলে?
২. মান্নত বৈধ হওয়ার দলিল
৩.মান্নত শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত।
৪.মাজারে সদকা করার মান্নতের বিধান।
৫.মাজারে দান করার বিধান ।
৬.মাজার জিয়ারতের নিষিদ্ধতার কারণ।
৭.মাজার জিয়ারতের নিষিদ্ধ পদ্ধতি।
৮.মাজার জিয়ারতের বৈধ পদ্ধতি।
৯.মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা
১০.মহিলাদের জন্য মাজার জিয়ারতের বিধান।
১.মান্নত (নযর) কাকে বলে?
আভিধানিক অর্থ: মান্নত (نذر) অর্থ হলো নিজের ওপর এমন একটি আমল আবশ্যক যা আগে তার ওপর ওয়াজিব ছিল না।
শরয়ী পরিভাষায়: "নিজের ওপর এমন একটি নেক আমলকে আবশ্যক করে নেওয়া যা শরীয়ত আগে তার ওপর আবশ্যক করেনি। এটি শর্তযুক্ত (যেমন, কোনো কাজ হলে একটি রোজা রাখব) অথবা শর্তহীন উভয় ধরনের হতে পারে।
২.মান্নত বৈধ হওয়ার দলিল
হাদীস শরীফে এসেছে যে, জাবির রা. বলেন-
أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَوْمَ الْفَتْحِ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي نَذَرْتُ إِنْ فَتَحَ اللهُ عَلَيْكَ مَكَّةَ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَقَالَ: صَلِّ هَاهُنَا، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: صَلِّ هَاهُنَا، فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: شَأْنَكَ إِذًا.
মক্কা বিজয়ের দিন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি মান্নত করেছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি আপনার দ্বারা মক্কার বিজয় দান করেন তাহলে বায়তুল মাকদিসে নামায পড়ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (বায়তুল মাকদিসে গিয়ে পড়া লাগবে না) এখানেই পড়ে নাও। লোকটি আবারো জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই উত্তর দিলেন যে, এখানেই পড়ে নাও। লোকটি তৃতীয়বার একই কথা জিজ্ঞেস করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তোমার যা ইচ্ছা। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৯১৯)
মান্নতের এই দ্বিতীয় প্রকারের প্রতি হাদীসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত হাদীস সহীহ বুখারী-মুসলিমসহ হাদীসের অনেক কিতাবাদীতে বিশুদ্ধ সনদে একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ النَّذْرَ لَا يُقَرِّبُ مِنِ ابْنِ آدَمَ شَيْئًا لَمْ يَكُنِ اللهُ قَدَّرَهُ لَهُ، وَلَكِنِ النَّذْرُ يُوَافِقُ الْقَدَرَ، فَيُخْرَجُ بِذَلِكَ مِنَ الْبَخِيلِ مَا لَمْ يَكُنِ الْبَخِيلُ يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَ.
আল্লাহ তাআলা বনী আদমের জন্য যা নির্ধারণ করে রাখেননি তারা তা মান্নত করার মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারবে না। তবে কখনো কখনো মান্নত তাকদীরের মোতাবেক হয় এবং এর দ্বারা কৃপণ লোকদের থেকে এমন সম্পদ বের করে নিয়ে আসা হয়, যা সে বের করতে চায়নি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৪০)
উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীনে কেরাম দুটি কথা বলেছেন-
এক. এ বিশ্বাসের সাথে মান্নত করা নিষেধ যে, মান্নত তাকদীর পরিবর্তন করে দেয়।
দুই. ইবাদতের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্য কাজের সাথে শর্তযুক্ত করা যে, যদি আমার এ কাজ পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে আমি এত টাকা সদকা করব- কোনো ইবাদতকে এভাবে শর্তযুক্ত করা প্রশংসনীয় কাজ নয়; বরং তা অপছন্দনীয় ও অসুন্দর পদ্ধতি।
বিপদ-মসিবত থেকে মুক্তি বা কোনো প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে মাসনূন পদ্ধতি হচ্ছে, বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা। শর্তহীন নফল নামায ও দান সদকা করে আল্লাহ তাআলার নিকট কাকুতি-মিনতি সহকারে দুআ করা। নফল নামায ও দান-সদকা করার বিষয়টিকে অন্য কোনো কাজের সাথে শর্তযুক্ত করবে না; বরং বিপদের সময় তাৎক্ষণিক সামর্থ্যানুযায়ী এসব কাজ করবে। বিপদ-মসিবত থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে এটাই হচ্ছে অধিক উপকারী। অবশ্য মান্নত করার এ দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অপছন্দনীয় হলেও তা গোনাহ নয়। কেউ এমনটি করলে সে গোনাহগার হবে না। ইমাম তহাবী রাহ. বলেন-
ولم يكن نهيه عنه لأنه معصية.
অর্থাৎ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মান্নত করতে যে নিষধ করেছেন এটা এ কারণে নয় যে, মান্নত করা গুনাহের কাজ। (শরহু মাআনিল আছার ২/৩০৭)
প্রকাশ থাকে, হাদীসের উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞাটি হচ্ছে, মান্নত করা প্রসঙ্গে তথা মান্নত করা উচিত কি না- এ বিষয়ে। কিন্তু কেউ মান্নত করে ফেললে তার জন্য সেটা পূর্ণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কুরআন-হাদীসে মান্নত পূর্ণ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কুরআন মাজীদের الْأَبْرَار (নেককারদের) সিফাতের বর্ণনায় ইরশাদ হয়েছে-
یُوْفُوْنَ بِالنَّذْرِ.
অর্থাৎ তারা মান্নত করার পর তা পূর্ণ করে (সূরা দাহর (৭৬)
সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللهَ فَلْيُطِعْهُ.
অর্থাৎ কেউ যদি আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মান্নত করে তাহলে সে যেন তা করে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৯৬)
লক্ষণীয় যে, হাদীসে যে মান্নত পূর্ণ করার কথা এসেছে তা হচ্ছে ভালো কাজের মান্নত; কোনো গুনাহের কাজের মান্নত নয়। গুনাহের কাজের মান্নত করা হারাম। এবং তা পূর্ণ করাও জায়েয নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلاَ يَعْصِهِ.
আর যে কোনো গুনাহের মান্নত করল সে যেন গুনাহের কাজটি না করে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৯৬) বযলুল মাজহুদ ১৪/২৪৬
৩.মান্নত শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত।
মন্নত শুদ্ধ হওয়ার প্রধান তিন শর্ত
১. যে কাজের মানত করা হবে, তা যেন গুনাহের কাজ না হওয়া। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজের মান্নত করে যেটা মৌলিকভাবে গুনাহের কাজ নয় তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে।
২. পাশাপাশি মন্নতকৃত কাজ এমন ইবাদত হতে হবে, যার প্রকার থেকে কোনো আমল শরিয়তে ফরজ বা ওয়াজিব হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে সদকা করা কেননা যাকাত এবং সদকাতুল ফিতির প্রকার থেকে রয়েছে। সুতরাং কেউ যদি সদকা করার মান্নত করে তাহলে তার প্রকার থেকে যাকাত এর মত ফরজ সদকা থাকার কারণে উক্ত মান্নাত গ্রহণযোগ্য হবে।
৩. সাথে সাথে কাজটি ইবাদতে মাকসুদা তথা এমন হতে হবে, যা নিজেই উদ্দেশ্যপূর্ণ ইবাদত; অন্য কোনো ইবাদতের মাধ্যম নয় যেমন যাকাত এটি ইবাদতে মকসুদা।
সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সদকা করার মন্নত করে তাহলে বর্ণিত তিনটি শর্ত প্রযোজ্য হওয়ার কারণে এমন মান্নত শুদ্ধ হবে। কেননা সদকা করা একটি অন্যতম সওয়াবের কাজ পাশাপাশি সেটা ইবাদতে মাকসুদা আবার তার প্রকার থেকে যাকাত অথবা সদকাতুল ফিতিরের মত অবশ্য কেউ ইবাদত রয়েছে বিধায় এমন মানব বিশুদ্ধ হবে এবং তা পূর্ণ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর অবশ্য হবে ।
এ ব্যাপারে আল বাহরুর রায়িক কিতাবের বক্তব্য
واعلم بأنهم صرحوا بأن شرط لزوم النذر ثلاثة كون المنذور ليس بمعصية، وكونه من جنسه واجب، وكون الواجب مقصوداً لنفسه قالوا : فخرج بالأول النذر بالمعصية، والثاني نحو عيادة المريض، والثالث ما كان مقصوداً لغيره حتى لو نذر الوضوء لكل صلاة لم يلزم، وكذا لو نذر سجدة التلاوة.
জেনে রাখুন ফকিহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে কোনো মান্নত বাধ্যতামূলকভাবে পালনীয় হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।
প্রথমত: যে কাজের মানত করা হবে তা যেন গুনাহ বা শরিয়তবিরোধী কাজ না হয়।
দ্বিতীয়ত: সেই কাজটি এমন ইবাদত হতে হবে যার একই ধরনের কোনো আমল শরিয়তে মূলত ফরজ বা ওয়াজিব হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।
তৃতীয়ত: কাজটি এমন হতে হবে যা নিজেই উদ্দেশ্যপূর্ণ ইবাদত অন্য কোনো ইবাদতের মাধ্যম (ওয়াসিলা) নয়।
তাই প্রথম শর্তের কারণে গুনাহের কাজের মান্নত শুদ্ধ হয় না। দ্বিতীয় শর্তের কারণে রোগী দেখতে যাওয়ার মানত বাধ্যতামূলক হয় না। আর তৃতীয় শর্তের কারণে এমন ইবাদতের মানতও পালন করা আবশ্যক হয় না যা অন্য ইবাদতের জন্য মাধ্যমমাত্র। সুতরাং কেউ যদি প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন করে ওজু করার মানত করে তবে সেই মানত পালন করা তার ওপর আবশ্যক হবে না। একইভাবে, কেউ যদি তিলাওয়াতের সিজদা করার মান্নত করে তাও বাধ্যতামূলক হবে না।( আল- বাহরুর রায়িক ২/৫১৪/আশরাফিয়া)
৪.মাজারে সদকা করার মান্নতের বিধান।
মাজারের মান্নতের উদ্দেশ্যের বিবেচনায় হুকুম ভিন্নও হবে
১.মাজারে মান্নতকারীর উদ্দেশ্য যদি হয় পীরের নামে মান্নত করা এবং তার নৈকট্য অর্জন করা আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত এ উদ্দেশ্যই হয়ে থাকে তাহলে এ ধরনের মান্নত গুনাহ ও হারাম। এমন মান্নত করা এবং তা পূর্ণ করা থাকে নিষেধ করা হয়েছে যেমন হাদিসে এসেছে
وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلاَ يَعْصِهِ.
আর যে কোনো গুনাহের মান্নত করল সে যেন গুনাহের কাজটি না করে। (সহীহ বুখারী হাদীস ৬৬৯৬)
এ ধরনের মান্নত শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিকভাবে সংঘটিতই হয় না ফলে তা পূরণ করাও ওয়াজিব নয়।এ ব্যাপারে আদ্দুরুল মুখতার এর বক্তব্য
واعلم أن النذر الذي يقع للأموات من أكثر العوام وما يؤخذ من الدراهم والشمع والزيت ونحوها إلى ضرائح الأولياء الكرام تقرباً إليهم فهو بالإجماع باطل وحرام ما لم يقصدوا صرفها لفقراء الأنام، وقد ابتلى الناس بذلك ولا سيما في هذه الاعصار
জেনে রাখুন সাধারণ মানুষের মধ্যে মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে যে মান্নত প্রচলিত রয়েছে এবং সম্মানিত আওলিয়ায়ে কেরামের মাযারে তাদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যে টাকা পয়সা মোমবাতি তেল ইত্যাদি নিবেদন করা হয় তা সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল ও হারাম। তবে যদি উদ্দেশ্য হয় এগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গরিব দুঃখীদের মাঝে ব্যয় করা তাহলে সে বিধান এর অন্তর্ভুক্ত নয়। দুর্ভাগ্যবশত মানুষ এ ধরনের কাজে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছে বিশেষ করে বর্তমান যুগে এ প্রবণতা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।(৩/৪৯১/আযহার)
মোটকথা :এখানে লেখক বলতে চেয়েছেন যদি পীরের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মান্নত করা হয় তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কিন্তু যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গরিবদের উপকার করার উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয় করা হয় তাহলে সেটা বৈধ।
লক্ষ্যনীয় বিষয় :এ ধরনের মান্নতকৃত বস্তু বা অর্থের বিধান :এ ধরনের মান্নতকৃত অর্থ বা বস্তুর ব্যাপারে স্পষ্ট কথা হল যে তা মালে হারামের অন্তর্ভুক্ত প্রকৃত গরিব ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্য তা ভক্ষণ করা জায়েজ নেই।
ولا يجوز أن يصرف ذلك لغني ولا لشريف منصب أو ذي نسب أو علم، ما لم يكن فقيراً، ولم يثبت في الشرع جواز الصرف للأغنياء للإجماع على حرمة النذر للمخلوق، ولا ينعقد ولا تشتغل الذمة به، ولأنه حرام بل سحت، ولا يجوز لخادم الشيخ أخذه إلا أن يكون فقيراً أو له عيال فقراء عاجزون فيأخذونه على سبيل الصدقة المبتدأة، وأخذه أيضاً مكروه ما لم يقصد الناذر التقرب إلى الله تعالى وصرفه إلى الفقراء، ويقطع النظر عن نذر الشيخ.
এ ধরনের মান্নতের অর্থ কোনো ধনী ব্যক্তিকে দেওয়া বৈধ নয়। একইভাবে শুধু মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি সম্মানিত বংশের অধিকারী বা আলেম হওয়ার কারণেও তাকে এ অর্থ দেওয়া যাবে না যতক্ষণ না সে প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র হয়।শরীয়তে ধনীদের জন্য এ ধরনের অর্থ ব্যয়ের কোনো বৈধতা প্রমাণিত নয়। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মান্নত করা সর্বসম্মতিক্রমে (ইজমার ভিত্তিতে) হারাম। এ ধরনের মান্নত আদৌ সংঘটিত হয় না এবং এর দ্বারা মান্নতকারীর ওপর কোনো দায়িত্বও বর্তায় না।
উপরন্তু এ অর্থ হারাম বরং এটি অবৈধ (সুহত) সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
মাযার বা শাইখের খাদেমের জন্যও এ অর্থ গ্রহণ করা বৈধ নয়। তবে যদি সে নিজে দরিদ্র হয় অথবা তার এমন দরিদ্র ও অক্ষম পরিবার পরিজন থাকে তাহলে তারা এটিকে নতুন করে প্রদত্ত সাধারণ সদকা হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে।তবুও এভাবে গ্রহণ করাও মাকরূহ যদি না মান্নতকারীর উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন এবং গরিবদের মাঝে দান করা হয়, এবং সে শাইখের নামে মান্নতের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। ( রদ্দুল মুহতার ৩/৪৯১/আজহার)
মূলকথা: মাযারের নামে মান্নত করে যে অর্থ দেওয়া হয় তা শরীয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ অর্থের অন্তর্ভুক্ত । তবে যদি মান্নতকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দরিদ্রদের সাহায্য করা হয়, তাহলে সেই অর্থ গরিবদের জন্য সদকা হিসেবে ব্যয় করা যেতে পারে কিন্তু তা শাইখ বা মাযারের নামে মান্নত হিসেবে গণ্য হবে না।
এ ধরনের মান্নত অবৈধ হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছেএ ব্যাপারে রদ্দুল মুহতার এর বক্তব্য
منها أنه نذر لمخلوق والنذر للمخلوق لا يجوز؛ لأنه عبادة والعبادة لا تكون لمخلوق، ومنها : أن المنذور له ميت والميت لا يملك. ومنها : أنه إن ظن أن الميت يتصرف في الأمور دون الله تعالى واعتقاده ذلك كفر
এমন মান্নত অবৈধ হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে।
প্রথমত এটি সৃষ্টির নামে মান্নত। অথচ সৃষ্টির নামে মান্নত করা বৈধ নয়। কারণ মান্নত একটি ইবাদত আর ইবাদত কেবল আল্লাহ তাআলারই জন্য হতে পারে কোনো সৃষ্টির জন্য নয়।
দ্বিতীয়ত যার নামে মান্নত করা হচ্ছে তিনি মৃত। আর মৃত ব্যক্তি কোনো কিছুর মালিক হন না।
তৃতীয়ত যদি কেউ এ বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তাআলাকে বাদ দিয়ে মৃত ব্যক্তি নিজেই জগতের বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন তাহলে এ ধরনের বিশ্বাস কুফরি।
( রদ্দুল মুহতার ৩/৪৯১/ আযহার)
২.তবে যদি উদ্দেশ্য ভিন্ন হয় যেমন মান্নতকারীর উদ্দেশ্য পীরের নামে মান্নত করা বা তাঁর নৈকট্য অর্জন করা নয় বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেখানে বসবাসকারী লোকদের উপকার করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে এ ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে।
প্রথম অবস্থা :মাজারে বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট যাদের উপকার করার উদ্দেশ্য তারা যদি ধনী হয় তাহলে এ মান্নতও সহীহ হবে না। কারণ ধনীদেরকে দান করা এমন কোনো ইবাদত নয় যা মান্নতের বিষয় হতে পারে এবং এর সমজাতীয় কোনো ওয়াজিব ইবাদতও নেই।আদ্দুরুল মুখতার এর বক্তব্য স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে ধনী ব্যক্তির জন্য মান্নত শুদ্ধ হয় না।
: نذر التصدق على الأغنياء لم يصح ما لم ينو أبناء السبيل،
ধনীদেরকে সদকা করার মান্নত সহীহ হয় না। তবে যদি মান্নতকারী যদি মুসাফিরের নিয়ত করে থাকেন তাহলে সে ক্ষেত্রে মান্নত সহীহ হবে।
(আদ্দুররুল মুখতার ৫/৫৪১/আযহার)
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি যাদের জন্য দান করা হবে তারা গরিব ও অভাবী হয় তাহলে মান্নত সহীহ হবে। তবে উক্ত অর্থ গরিব মিসকিন ছাড়া কারো পিছনে বিয়ে করা যাবে না । আর এ ধরনের মান্নতের ক্ষেত্রে এমন অর্থ কোনো নির্দিষ্ট গরিবকে দেওয়া আবশ্যক নয় বরং যেকোনো গরিব মিসকিন কে দেওয়া যাবে তথা মাজারে যে সমস্ত গরিব অবস্থান করে তাদের পিছনে খরচ করার পাশাপাশি যেকোনো গরিবের জন্য উক্ত টাকা খরচ করার সুযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে কেফায়াতুল মুফতির সুস্পষ্ট বক্তব্য নিম্নে পেশ করা হলো
شیخ عبد القادر جیلانی کے مزار پر چادر چڑھانے کی نذر کا حکم ..
(سوال) ایک شخص نے یہ نذر مانی کہ میں بغداد میں حضرات پیران پیر شیخ عبد القادر جیلانی کے مزار پر ایک خلاف چڑھاؤں گا تو اس پر اس نذر کا ادا کر ناواجب ہے یا نہیں اور اگر یہ شخص اس غلاف پر جتنا رو پیر لگتا ہے استار و پیہ حضرت پیران پیر کی روح مبارک کو ثواب پہنچانے کی غرض سے کسی مصرف خیر میں صرف کرے تو درست ہے یا نہیں ؟ اور اگر وہ اسطرح کرے تو اس کی نذر ادا ہو گی یا نہیں ؟
(جواب (۲۲۷) اگر اس نذر سے نذر کرنے والے کا صاحب قبر کی نذر کرنا اور اس کی طرف تقرب مقصود تھا اور ظاہر یہی ہے تو یہ نذر ہی معصیت و حرام ہے اور ایسی صورت میں نذر منعقد و نذر منعقد و صحیح نہیں ہوتی اس نذر کا معصیت ہوتا تو عبارت ذیل سے واضح ہے۔
وقد نص العلامة قاسم بن قطلو بغا فى شرح در رالبحار ان النذر الذي يقع من أكثر العوام للاموات كان يقول يا سيدى ان رد غائبي او شفى مريضي فلك من الذهب والفضة كذا
و من الثياب كذا او الطعام أو الشمع والزيت كذا حرام و باطل لكونه نذر المخلوق و ما يؤخذ من الشميع والزيت والدرهم ونحوها الى ضرائح الأولياء تقرباً اليهم حرام لا يحل اكله لا لغنى ولا لفقير ولا يجوز لخادم القبور اخذه و مثله في الدر المختار اور نذر معصیت کا صحیح نہ ہونا بھی اس مہارت مذکورہ سے واضح ہو گیا نیز عبارات ذیل بھی ملاحظہ ہوں ۔
لا يلزمه النذر الا اذا كان طاعة و ليس بواجب وكان من جنسه واجب على التعيين فلا يصح النذر بالمعاصي ولا بالواجبات الخ اعلم انهم صرحوا بان شرط لزوم النذر ثلاثة كون المنذور ليس بمعصية و كونه من جنسه واجب الخ ہاں اگر نذر کرنے والے کا مقصود صاحب قبر کی نذر کرنا نہ تھا اور ان کی جانب تقرب منظور نہ تھا باحہ غلاف کو صدقہ کرنا اور مجاوروں کو اس کی قیمت یا اس کے کپڑے سے نفع پہنچانا مقصود تھا تو اس کی بھی دو صورتیں ہیں اول یہ کہ جن پر تصدق مقصود ہے وہ غنی ہوں اس صورت میں بھی نذر صحیح نہیں ہوئی کیونکہ اتصدق علی الاغنیاء قربت مقصودہ نہیں نیز اس کی جنس سے کوئی دوسر اواجب شرعی بھی نہیں ہے۔ نذر التصدق على الاغنياء لم يصح مالم بنوابناء السبيل (رد المحتار) (ه) دوسری صورت یہ کہ وہ محتاج ہوں تو اس صورت میں نذر تو صحیح ہو جائے گی لیکن صرف اس طور ہے که انقدر قیمت خلاف صدقہ کر دیا جائے گا اور اس صورت میں فقیر کی تعیین ضروری نہیں ہے (۶) اور غلاف چڑھانا جائز نہیں ہے۔ کیونکہ فعل منذور اگر خود معصیت نہ ہو لیکن کوئی خارجی معصیت اسے عارض ہوتی ہو تو اس معصیت کا ترک لازم ہو جاتا ہے ولو نذر ذبح ولده يلزمه الشاة استحسانا ) قلت وجه لزوم الشاة ان النذر بالذبح قدصح والذبح قربة مقصودة و من جنسه واجب شرعى وهو الا ضحية اما اضافة الذبح الى الولد فملغاة لكونها معصية وانما
لم تو ثر في ابطال النذر لكونها عارضة عن مفهوم المنذور وهو الذبح ولما بطلت الاضافة الى الولد حكمنا بوجوب الشاة التى هى ادنى الذبائح الحاصل اگر صورت مسئولہ میں مقصود نذر میں تقرب الى صاحب القبر ہو تو نذر صیح نہیں اور اگر مقصود تقرب الی اللہ اور تصدق على المجاورین ہو تو یہ بھی صحیح نہیں کیونکہ مجاورین اکثر انا ہوتے ہیں ہاں اگر تقرب الی اللہ مقصود ہو اور فقراء پر تصدق تو نذر صحیح ہوئی اور نازر کو جائز ہے کہ وہ قیمت غلاف فقراء و مساکین و طلبہ پر تقسیم کر دے۔ واللہ اعلم کتبہ محمد کفایت اللہ غفر له مدرس مدرسہ امینیہ دہلی
এক ব্যক্তি মান্নত করেছে যে আমি বাগদাদে গিয়ে বড় পীর হযরত শাইখ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) এর মাযারে একটি গিলাফ (চাদর) চড়াব।
এখন প্রশ্ন হলো
১. তার জন্য কি এই মান্নত পূরণ করা ওয়াজিব হবে?
২. যদি সে গিলাফের জন্য যে অর্থ ব্যয় হতো সেই অর্থ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত শাইখ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর রূহের ঈসালে সাওয়াবের নিয়তে কোনো কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে তাহলে তা কি শরীয়তসম্মত হবে?
৩. আর এভাবে ব্যয় করলে তার মান্নত আদায় হয়ে যাবে কি?
উত্তর: :যদি মান্নতকারীর উদ্দেশ্য হয় মাযারের অধিবাসী (শাইখ আবদুল কাদির জিলানী রহ.) এর নামে মান্নত করা এবং তাঁর নৈকট্য অর্জন করা, আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত এ উদ্দেশ্যই হয়ে থাকে তাহলে এ ধরনের মান্নত গুনাহ ও হারাম। এমন মান্নত শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিকভাবে সংঘটিতই হয় না ফলে তা পূরণ করাও ওয়াজিব নয়।
এ বিষয়ে আল্লামা কাসিম ইবন কুতলুবুগা (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে সাধারণ মানুষ মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে যে ধরনের মান্নত করে যেমন হে আমার পীর আমার হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ফিরে এলে অথবা আমার রোগী সুস্থ হলে আমি আপনার জন্য এত স্বর্ণ রৌপ্য কাপড় খাদ্য মোমবাতি বা তেল দেব এ ধরনের মান্নত হারাম ও বাতিল। কারণ এটি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে মান্নত করা। একইভাবে আওলিয়াদের মাযারে তাঁদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে যে অর্থ তেল মোমবাতি বা অন্যান্য জিনিস দেওয়া হয় তাও হারাম। এগুলো ধনী গরিব কারো জন্যই ভোগ করা বৈধ নয় এবং মাযারের খাদেমের জন্যও তা গ্রহণ করা জায়েয নয়।
এছাড়া ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন মান্নত সহীহ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে
১. মান্নতের বিষয়টি যেন গুনাহ না হয়।
২. যে কাজের মান্নত করা হচ্ছে তার সমজাতীয় কোনো ইবাদত শরীয়তে ওয়াজিব হিসেবে বিদ্যমান থাকতে হবে।
৩. কাজটি এমন হতে হবে যা নিজেই একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।
এ কারণে গুনাহের কাজের মান্নত কিংবা আগে থেকেই ওয়াজিব এমন কাজের মান্নত শরীয়তে সহীহ হয় না।
তবে যদি উদ্দেশ্য ভিন্ন হয়যদি মান্নতকারীর উদ্দেশ্য মাযারের অধিবাসীর নামে মান্নত করা বা তাঁর নৈকট্য অর্জন করা না হয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গিলাফ দান করা এবং সেখানে বসবাসকারী লোকদের উপকার করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে এ ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে।
প্রথম অবস্থা: যাদের উপকার করার উদ্দেশ্য তারা যদি ধনী হয় তাহলে এ মান্নতও সহীহ হবে না। কারণ ধনীদেরকে দান করা এমন কোনো ইবাদত নয় যা মান্নতের বিষয় হতে পারে এবং এর সমজাতীয় কোনো ওয়াজিব ইবাদতও নেই।
দ্বিতীয় অবস্থা:যদি যাদের জন্য দান করা হবে তারা গরিব ও অভাবী হয় তাহলে মান্নত সহীহ হবে। তবে শর্ত হলো গিলাফ চড়ানোর পরিবর্তে গিলাফের সমপরিমাণ মূল্য গরিবদেরকে সদকা করে দিতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট গরিবকে দেওয়া আবশ্যক নয় যে কোনো অভাবীকে দেওয়া যাবে।
কিন্তু গিলাফ চড়ানো নিজে বৈধ হবে না। কারণ কোনো মান্নতের মূল কাজ যদি বৈধও হয় কিন্তু তার সঙ্গে বাইরের কোনো হারাম বিষয় যুক্ত হয়ে যায় তাহলে সেই হারাম বিষয়টি পরিত্যাগ করা আবশ্যক।(কেফায়েতুল মুফতি ২/২৪৬/যাকারিয়া)
সারকথা :১. যদি মান্নতের উদ্দেশ্য মাযারের অধিবাসীর নৈকট্য অর্জন বা তাঁর নামে মান্নত করা হয় তাহলে এ মান্নত বাতিল তা পূরণ করা ওয়াজিব নয়। এবং এমন অর্থ মালে হারামের অন্তর্ভুক্ত।
২. যদি উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি হয় কিন্তু মাযারের অবস্থানরতদের জন্য দান করা হয় অথচ তারা ধনী হয় তাহলেও মান্নত সহীহ নয়। এমন মাল যদিও হালাল কিন্তু ধনীদের ভক্ষণ করা জায়েজ নাই।
৩. আর যদি উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা এবং গরিব মিসকীন ও তালিবুল ইলমদের সদকা করা হয় তাহলে মান্নত সহীহ হবে এমন অর্থ যেকোনো গরিবের পিছনে খরচ করা যাবে। তবে যেহেতু এটা মান্নতের অর্থ বিধায় তা গরিব মিসকিন ছাড়া অন্য কোন খাতে খরচ করার সুযোগ নেই।
৫.মাজারে দান করার বিধান।
সাধারণ মুসলমানরা নিম্নে বর্ণিত কারণে মাজারে নফন সদকা করে থাকেন।
ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে:
অনেকেই মনে করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করলে তার সওয়াব সংশ্লিষ্ট বুযুর্গসহ নিজের আত্মীয় স্বজনের রূহের কাছে পৌঁছাবে।
মাযারের খাদেম মুসাফির বা গরিবদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে :
কেউ কেউ মনে করেন মাযারে আগত দরিদ্র মানুষ বা খাদেমদের উপকার হবে ফলে তিনি অনেক সওয়াবের অধিকারী হবেন।
মনের আশা পূরণের উদ্দেশ্যে: অনেকেই মাজারে শায়িত আল্লাহওয়ালার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের পাশাপাশি মনের আশা পূরণের জন্য দান খয়রাত করে থাকেন । এবং এ এ মর্মে উক্ত বুযুর্গের উসিলায় আল্লাহর কাছে অন্তরে লালিত আশা পূরণের জন্য দোয়া করে থাকেন।
মনের কোন নেক আশা পূরণের জন্য প্রথমে দান খয়রাত করার পর কোন আল্লাওয়ালা বুযুর্গের উসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করা এটা দোয়া কবুলের উত্তম পদ্ধতি।
এ ধরনের দানের অর্থ মাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন কাজে বিয়ে করা যেতে পারে যেমন মাজারের সাথে মসজিদ নির্মাণ মজার সংরক্ষণের জন্য যে কোন পদক্ষেপ মেহমান মুসাফিরের জন্য খাবারের ব্যবস্থা ইত্যাদি যেকোনো খাতে এ ধরনের অর্থ ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে।
শাহজালাল মাজারসহ দেশের বিভিন্ন মাজারগুলোতে যেহেতু মদ গাঁজা থেকে শুরু করে গান বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রের আস্ফালন দেখা যায় যা শরীয়তে নিষিদ্ধ। এবং মাজারে যারা অবস্থান করে তোদের মধ্যে নামাজের মত গুরুত্বপূর্ণ এবাদতকে গুরুত্ব না দেওয়া সহ আরো অনেক অপকর্মতে তারা লিখতে থাকেন পাশাপাশি মাজারের দানকৃত অর্থের স্বচ্ছতা তাকে না বিধায় মাজারে দান খয়রাত না করে গরিব অসহায় লোকদের জন্য অর্থ খরচ করাই অধিক কল্যাণকর।
৬.মাজার জিয়ারতের নিষিদ্ধতার কারণ।
কবর জিয়ার নিষিদ্ধতার ব্যাপারে হাদিসে এসেছে
سنن ابي داوود (٣٦٩٨)
عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ نَهَيْتُكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ وَأَنَا أَمُرُكُمْ بِهِنَّ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْكِرَةً
উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় তার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺবলেছেন আমি আগে তোমাদের তিনটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছিলাম। এখন আমি তোমাদের সেগুলো করার নির্দেশ দিচ্ছি। আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো। কেননা কবর জিয়ারত আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
وإنَّما كان نَهيُ النَّبيِّ عليه الصَّلاةُ والسَّلامُ لهم في أوَّلِ الأمرِ؛ لِقُربِ عَهدِهم بالجاهليَّةِ وما يَفعَلونه ويتَكلَّمون به مِن أمورٍ تُخالِفُ الإسلامَ، مِن تَعظيمِ القُبورِ، وغيرِ ذلك، فلمَّا استَقرَّ الإسلامُ في نُفوسِهم، ومَحا آثارَ الجاهليَّةِ، وعَلِموا أحكامِ الشَّرعِ أمَرَهم بزيارتِها، فقال النَّبيُّ صلَّى اللهُ علَيه وسلَّم "فَزُوروها"، أي: القبورَ، "وَلْتَزِدْكم زِيارتُها خيرًا"، أي: لِمَا في زِيارتِها مِن ترقيقِ القلوبِ، والتَّزهيدِ في الدُّنيا والتَّقلُّلِ منها، وتذكيرِ بالآخِرةِ والإقبالِ عليها،
প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ ﷺকবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। কারণ তখন সাহাবায়ে কেরাম মাত্রই জাহেলি যুগ থেকে ইসলামে প্রবেশ করেছিলেন। জাহেলি যুগে তারা কবরকে অতিরিক্ত সম্মান করা এবং ইসলামের পরিপন্থী নানা কথা ও কাজ করতেন। তাই সেই প্রভাব পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত কবর জিয়ারত থেকে তাদের বিরত রাখা হয়েছিল।
পরে যখন তাদের অন্তরে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হলো জাহেলি যুগের কুসংস্কার ও প্রভাব মুছে গেল এবং তারা শরিয়তের বিধান ভালোভাবে জেনে নিলেন তখন রাসুলুল্লাহ ﷺকবর জিয়ারতের অনুমতি দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা কবর জিয়ারত করো। আর কবর জিয়ারত যেন তোমাদের কল্যাণ আরও বৃদ্ধি করে। ( আদ্দুরারুছ ছানিয়া /আলবাহিছ)
৭.মাজার জিয়ারতের নিষিদ্ধ পদ্ধতি।
১.শিরকী পদ্ধতি :
যখন মৃত ব্যক্তির কাছে এমন কিছু চাওয়া হয় যা একমাত্র আল্লাহই দিতে পারেন।যেমন
হে পীর সাহেব আমাকে সন্তান দাও।আমার রোগ ভালো করে দিন।আমার বিপদ দূর করুন।
মৃত ব্যক্তির তার সিজদা করা।আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য। সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।(সূরা জিন: ১৮)
এ ধরনের জিয়ারত শিরকের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
২. বিদআতী পদ্ধতি
যেসব কাজ শরীয়তে প্রমাণিত নয় কিন্তু সওয়াবের কাজ মনে করে করা হয়।যেমন কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা। কবর স্পর্শ করে বরকত নেওয়া।
কবরের সামনে হাত বেঁধে দাঁড়ানো।কবরের উপর চাদর পতাকা বা বিশেষ সাজসজ্জা দেওয়াকে ইবাদত মনে করা।কবরের পাশে মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালানো।নির্দিষ্ট দিনে মাজারে ওরস বা বিশেষ অনুষ্ঠানকে ধর্মীয় ইবাদত মনে করা।
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺবলেছেন
لَعَنَ اللَّهُ زَوَّارَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ
আল্লাহ অভিশাপ করেছেন তাদেরকে যারা কবরকে উপাসনাস্থল বানায় এবং সেখানে প্রদীপ জ্বালায়।(সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ৩২০)
৮.মাজার জিয়ারতের বৈধ পদ্ধতি।
৩. সুন্নতী পদ্ধতি যা বৈধ ও উত্তম
এটাই শরীয়তসম্মত জিয়ারতের পদ্ধতি এরদ্বারা উদ্দেশ্য একমাত্র আখিরাত স্মরণ করা।মৃতের জন্য দোয়া করা।নিজের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা।
পদ্ধতি:
কবরস্থানে গিয়ে সালাম দেওয়া।
মৃতদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা।
কুরআন তিলাওয়াত করে সওয়াব পৌঁছানো ।
কবরের সামনে বিনয় ও ইবরত গ্রহণের মনোভাব রাখা।
রাসূলুল্লাহ ﷺকবরস্থানে গিয়ে এ দোয়া পড়তেন
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِين.
হে মুমিন ও মুসলিম অধিবাসীগণ! আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক (সহীহ মুসলিম হাদীস ৯৭৪)
এবং কবর যিয়ারতের পর দুআ করতে চাইলে কবরকে সামনে রেখে দুআ করবে না। বরং কিবলামুখী হয়ে দোয়া করবে।হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন রা.এর দাফনের ঘটনায় তিনি বলেন
فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ دَفْنِهِ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ رَافِعًا يَدَيْهِ يَقُولُ: اللهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ عَنْهُ رَاضِيًا فَارْضَ عَنْهُ.
আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবদুল্লাহ যুলবিজাদাইন এর কবরে দেখেছি যখন তিনি তার দাফন থেকে ফারেগ হলেন দুই হাত তুলে কেবলামুখী হয়ে তার জন্য দুআ করেন ইয়া আল্লাহ আমি তার উপর সন্তুষ্ট আপনিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস ১৭০৬)
৭. মাজার জিয়ারত করা মুস্তাহাব।
মাজার জিয়ারত করা উত্তম এবং ছওয়াবের কাজ এ ব্যাপারে আল বাহরুর রায়িক গ্রন্থের বক্তব্য
ولا بأس بزيارة القبور والدعاء للأموات إن كانوا لمؤمنين من غير وطء القبور لقوله ﷺ إني كنت نهيتكم عن زيارة القبور ألا فزوروها (1) ولعمل الأمة من لدن الرسول ﷺ إلى يومنا هذا اهـ. وصرح في المجتبى بأنها مندوبة
মুমিন মৃত ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা জায়েয তবে কবরের ওপর পা দিয়ে হাঁটা বা পদদলিত করা যাবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺবলেছেন ।আমি আগে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো।
এছাড়াও রাসূলুল্লাহ ﷺএর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সমগ্র উম্মাহ এ আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আল-মুজতাবা গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে কবর জিয়ারত করা মুস্তাহাব।
( আল বাহরুর রায়িক)
৮.মজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা।
যেমন কবর জিয়ারত করা শরিয়তসম্মত ও বৈধ তেমনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাও বৈধ তবে যে সকল মাজারে শরীয়ত গর্হিত কাজ যেমন সিজদা দেওয়া বিভিন্ন কুসংস্কার মূলক কাজ সংগঠিত হয় এ ধরনের মাজারে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে না যাওয়া উচিত।
এব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়াতে
سوال نمبر: 159671
عنوان:زیارتِ قبور کے لیے سفر کا حکم؟
سوال:کیا فرماتے ہیں علمائے کرام و مفتیان عظام مسئلہ ذیل میں: کیا اپنے گھر سے بالخصوص کسی قبر کی زیارت کرنے کی نیت سے سفر کرنا شرعاً کیسا ہے؟ قرآن و حدیث کی روشنی میں اصلاح فرمائیں۔
جس طرح زیارتِ قبور شرعاً جائز ہے اس طرح کسی خاص شخص کی قبر کی زیارت کے لیے سفر کرنا بھی جائز ہے، ممانعت کی کوئی دلیل نہیں ہے، اس سلسلے میں بخاری وغیرہ کی جو حدیث پیش کی جاتی ہے جس میں اللہ کے رسول صلی اللہ علیہ وسلم نے صرف تین مساجد کے لیے شد رحال یعنی سفر کی اجازت دی ہے، اس حدیث سے زیارتِ قبول کے لیے سفر کی ممانعت پر استدلال درست نہیں ہے؛ اس لیے کہ روئے زمین پر صرف تین ہی مسجدیں خصوصی فضیلت کی حامل ہیں، ان کے علاوہ دیگر تمام مسجدیں مساوی درجے کی ہیں تو کسی اور خاص مسجد کی طرف سفر کرنے کا کوئی معنی نہیں ہے، رہے مشاہد اور قبریں تو ان کا معاملہ مساجد سے مختلف ہے، اس سلسلے میں مزید توجیہات وتفصیلات کے لیے فتح الباری، مرقاة المفاتیح اور دیگر معتبر شروح حدیث دیکہیں۔ وفی الإحیاء: ذہب بعض العلماء إلی الاستدلال بہ علی المنع من الرحلة لزیارة المشاہد وقبور العلماء والصالحین، وما تبین فی أن الأمر کذلک، بل الزیارة مأمور بہا لخبر: (کنت نہیتکم عن زیارة القبور ألا فزوروہا)․ والحدیث إنما ورد نہیا عن الشد لغیر الثلاثة من المساجد لتماثلہا، بل لا بلد إلا وفیہا مسجد، فلا معنی للرحلة إلی مسجد آخر، وأما المشاہد فلا تساوی بل برکة زیارتہا علی قدر درجاتہم عند اللہ
جواب صحیح ہے البتہ مزید یہ عرض ہے کہ برزگان دین کی جن مزارات پر اہل بدعت کا تسلط ہو اور وہاں بدعات وخرافات انجام دی جاتی ہوں، وہاں زیارت کے لیے نہیں جانا چاہیے؛ بلکہ اپنے مقام ہی پر رہ کر ایصالِ ثواب وغیرہ پر اکتفاء کرنا چاہیے۔
শিরোনাম: কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করার বিধান
প্রশ্ন:সম্মানিত আলেম ও মুফতিগণের নিকট জানতে চাই, নিজের বাড়ি থেকে বিশেষভাবে কোনো ব্যক্তির কবর জিয়ারতের নিয়তে সফর করা শরিয়তের দৃষ্টিতে কেমন কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর:যেমন কবর জিয়ারত করা শরিয়তসম্মত ও বৈধ তেমনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাও বৈধ। এ ধরনের সফর নিষিদ্ধ এ মর্মে নির্ভরযোগ্য কোনো দলিল নেই।
এ প্রসঙ্গে কেউ কেউ সহিহ বুখারির সেই হাদিস পেশ করেন যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺবলেছেন যে তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে বিশেষ সফর করা উচিত নয়। কিন্তু এ হাদিস থেকে কবর জিয়ারতের জন্য সফর নিষিদ্ধ প্রমাণ করা সঠিক নয়। কারণ হাদিসটির উদ্দেশ্য হলো—সমগ্র পৃথিবীতে কেবল তিনটি মসজিদেরই বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এ তিনটি ছাড়া অন্য সব মসজিদ ফজিলতের দিক থেকে সমপর্যায়ের। তাই কোনো নির্দিষ্ট মসজিদের বিশেষ ফজিলতের আশায় সেখানে সফর করার কোনো অর্থ হয় না।কিন্তু কবর ও মাজারের বিষয়টি মসজিদের মতো নয়। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা ফাতহুল বারী মিরকাতুল মাফাতীহ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থে রয়েছে।
ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন গ্রন্থে বলা হয়েছেকিছু আলেম এই হাদিস দ্বারা ওলি-আওলিয়া ও নেককার ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর নিষিদ্ধ হওয়ার দলিল পেশ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। কারণ কবর জিয়ারতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺনিজেই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন
আমি আগে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো।
সুতরাং হাদিসে যে সফর থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা কেবল তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য মসজিদে বিশেষ ফজিলতের উদ্দেশ্যে সফর করার ব্যাপারে। কারণ সব মসজিদের মর্যাদা সমান এবং প্রায় প্রত্যেক এলাকাতেই মসজিদ রয়েছে। তাই কেবল মসজিদের ফজিলতের জন্য অন্য শহরে যাওয়ার বিশেষ কোনো অর্থ নেই। কিন্তু নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহ একরকম নয় বরং আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা যত বেশি তাদের কবর জিয়ারতের বরকতও তত বেশি।
অতিরিক্ত নির্দেশনাতবে এটিও মনে রাখা উচিত যে যেসব মাজারে বিদআতপন্থীদের প্রভাব রয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন বিদআত ও কুসংস্কারমূলক কাজ করা হয় সেসব স্থানে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে নিজ অবস্থান থেকেই মৃতের জন্য দোয়া করা ইসালে সওয়াব করা এবং তাদের স্মরণে নেক আমল করাই যথেষ্ট।
( ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রশ্ন নাম্বার ১৫৯৬৭১)
১০.মহিলাদের জন্য মাজার জিয়ারতের বিধান।
গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী পুরুষদের জন্য যেমনি ভাবে মাজার জিয়ারত করা বৈধ মহিলাদের জন্য ও একই বিধান যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় আখিরাতের শিক্ষা গ্রহণ করা মৃতের জন্য দোয়া ও রহমতের আবেদন করা অথবা নেককার ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে বরকত অর্জন করা তাহলে মহিলাদের জন্য ও কবর জিয়ার করতে বাধা নেই।
وقيل: تحرم على النساء، والأصح أن الرخصة ثابتة لهما.
আলেমের মতে নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা হারাম। তবে অধিক বিশুদ্ধ (সহীহ) মত হলো কবর জিয়ারতের যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য ।
এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য নিচে পেশ করা হল।
قال الرملي: أما النساء إذا أردن زيارة القبور إن كان ذلك لتجديد الحزن والبكاء والندب على ما جرت به عادتهن فلا يجوز لهن الزيارة وعليه حمل الحديث لعن الله زائرات القبور وإن كان للاعتبار الترحم والتبرك بزيارة قبور الصالحين فلا بأس إذا كن عجائز، ويكره إذ كن شواب كحضور الجماعة في المساجد.
আল্লামা রামলী (রহ.) বলেন নারীরা যদি কবর জিয়ারতে যায় এবং তাদের উদ্দেশ্য হয় পুরোনো শোককে নতুন করে জাগিয়ে তোলা কান্নাকাটি করা বা বিলাপ করা যা সাধারণত তাদের অভ্যাস তাহলে তাদের জন্য কবর জিয়ারত করা জায়েয নয়। আল্লাহ কবর জিয়ারতকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন এই হাদিসকে এ অবস্থার ওপরই প্রয়োগ করা হবে।
কিন্তু যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় আখিরাতের শিক্ষা গ্রহণ করা মৃতের জন্য দোয়া ও রহমতের আবেদন করা অথবা নেককার ব্যক্তিদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে বরকত অর্জন করা তাহলে বৃদ্ধা নারীদের জন্য এতে কোনো অসুবিধা নেই।
তবে যুবতী নারীদের ক্ষেত্রে এটি মাকরূহ যেমন তাদের জন্য জামাতে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া মাকরূহ বলা হয়েছে।
উপসংহার : ইসলাম এমন একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা যা ইবাদতের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের শিক্ষা দেয়। মাজার জিয়ারত মূলত মৃত্যুর স্মরণ আখিরাতের প্রস্তুতি এবং মৃতের জন্য দোয়া করার উদ্দেশ্যে বৈধ তবে এর সঙ্গে মান্নত করা মাজারের নামে দান-সদকা করা মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা বা এমন কোনো কাজ করা যা শরিয়তের সীমা অতিক্রম করে এসব ইসলামে বৈধ নয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হলো কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসারে জিয়ারত করা শিরক ও বিদআতের সব পথ থেকে দূরে থাকা এবং সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য নির্ধারিত রাখা। তবেই দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মা’হাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা