ফিকহ তালাক

এক তালাকের পর ইদ্দতে রুজু না করলে কি নতুন বিবাহ জরুরি?

 শর্তভিত্তিক তালাক ও ইদ্দতের রুজু: প্রমাণ ছাড়া সংসার কি ব্যভিচার হয়ে যায়?

মুহতারাম মুফতি সাহেব,  আমার স্বামী প্রবাসী । সে আমাকে একটা শর্ত দেয় । শর্তটা ছিল এমন , ওয় যদি এইবার আসে আর তুই যদি ওরে গালি দিয়া ঘর থেইকা বের করতে না পারস আর ওর আসা বন্ধ করতে না পারস তাইলে তালাক হইয়া যাইবো। তো এরপর যেইদিন আসছে আমি চিল্লাচিল্লি করছি, কুত্তার বাচ্চা বইলা বকা দিছি এরপর সে নিজেই বের হয়ে গেছে । এরপর অনেকদিন পর এক দের বছরের মতো বন্ধ ছিলো । অনেকদিন পর আবার আসছে তখন আমি আর কিছু বলি নাই এর ফলে কি তালাক হবে । এর মধ্যে আমার স্বামী আমাকে বলছিল যদি আসে আমারে অন্য ঘরে চইলা যাইতে এখন এইটা আমার সঠিক মনে নাই বলছিলো কিনা ।২০২৩ সালে সে আমাকে বলে তোরে তালাক দিলাম। সময় তালাকের তারিখ কিছুই মনে নাই। আমরা সাভাবিক ভাবেই স্বামী স্ত্রীর মতো যোগাযোগ কথা সব কিছু ছিল।  তো আমি ইউটিউব ভিডিও দেখলাম যে তালাক দিলে নাকি মুখে গ্রহণ করলাম বলা লাগে । যেহেতু সে প্রবাসী। তো আমি তারে এই ভিডিও পাঠানোর পর সে অনেকদিন পরে বলছে তোমারে গ্রহণ করলাম তোমারে মানলাম। কিন্তু আমরা যতদূর আন্দাজ করতে পারতেছি ঐটা ৩ মাস পরে ছিল।  আমরা তখন জানতাম না মাসিকের হিসাব করা লাগে যার জন্য আমরা শুধু ৩ মাস হিসাব করছিলাম । এখন আমরা সঠিক তালাকের তারিখ, রুজুর তারিখ কিছুই মনে করতে পারছি না। আর বেশি সন্দেহ হইতাসে ৩ মাস পার হয়ে গেছিল । আমার স্বামী বলে সে ৯০% নিশ্চিত সে ৩ মাস পরে গ্রহণ করছে। সে বলতেসে ৩ মাসের ১,২ দিন ,৫,৬ দিন পর গ্রহণ করছে। এই রুজু কি বৈধ হবে যেহেতু ২ জন সন্দেহের মধ্যে আছি ইদ্দতের সময় নিয়া। ২০২৪ জুনে সে দেশে আসছে তখন আমরা সামি স্ত্রীর মতোই ছিলাম কিন্তু নতুন করে বিয়ে করা হয় নাই। আমার স্বামী আমাকে বলতেছে আমি জানি তোমারে নতুন করে বিয়ে করতে হইবো। সে বলতেসে ১ তালাক হইছে ।

 

 

 

 

এই তালাকের অনেকদিন পরে আমি আবার বলছিলাম ছাইড়া দাও সে বলছে দিলাম। এখন আমার আগের রুজু নিয়া সন্দেহ । ইদ্দত আদো কি শেষ হইছিলো নাকি চলতেছিল আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছি না। যদি আগের রুজু ঠিক ভাবে না হয় তাহলে তো পরের দিলাম গণ্য হবে না

 মুখে নাকি স্পষ্ট ভাবে বলতে হয় গ্রহণ করলাম বা সামি স্ত্রীর সুলভ আচরণ করতে হয়।  যেহেতু আমার স্বামী বিদেশ তাই আর এইসব সম্ভব হয় নাই । শুধু মুখে গ্রহণ করছে কিন্তু ইদ্দতের মধ্যে নাকি পরে সঠিক ভাবে আমরা ২জনের কেউ বলতে পারি না।  বেশি মনে হয় ৩ মাস পরে। এক হুজুর বলল যদি স্বামী স্ত্রীর মতো কথা বললে নাকি রুজু হয়।  স্পষ্ট গ্রহণ না বললেও হয়।

 প্লীজ ইকটু তাড়াতাড়ি সমাধান দিয়েন অনেক চিন্তায় আছি।

 আমি বেশি চিন্তা করতেছি তাই আমার স্বামী বারবার বলতেছে ১ বার হইছে । হারাম হইলে আমি তোমারে বলমু

এই রুজু নিয়াই আমি বেশি চিন্তিত । রুজু কি বৈধ হইছে নাকি নতুন নিকাহ লাগবে

 

: যদি নতুন নিকাহ লাগে তাহলে পরের দিলাম আর ওই শর্তের ওই ব্যক্তির আসা কোনো কিছুই তো গণ্য হবে না। কারণ ওই ১ তালাক দেয়ার পরেই সব কিছু। আরেকটা কথা যদি রুজু ইদ্দতের মধ্যে হয়ে থাকে কিন্তু আমরা ভুইলা গেছি বা ভুল মনে করতাছি এখন তাহলে কি ওই রুজু বৈধ হবে। এক কথায় বলতে আমরা রুজুর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ না নিশ্চিত কোনো তারিখ কিছুই বলতে পারছি না

 

মাইশা

নারায়ণগঞ্জ ।

 

 

 

 

الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

 

          ইসলামিক বিধান মতে শর্তের সাথে যদি তালাককে সম্পৃক্ত করে যেমন এভাবে বলে যে তুমি যদি অমুক কাজ  না কর তাহলে তালাক অতঃপর স্ত্রী যদি সেই কাজ করে ফেলে তাহলে তালাক হয় না।

         সুতরাং স্বামী যেহেতু আপনাকে শর্ত দিয়েছে যে অমুক ব্যক্তি ঘরে ঢুকলে তাকে ঘর থেকে বাইর করে না দিলে তুমি তালাক । অতঃপর সে ব্যক্তি আসার পর আপনি যেহেতু তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন ফলে তালাক কার্যকর হবে না।

তেমনি ভাবে এক তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে যদি স্ত্রীকে যথা নিয়মে তথা মৌখিকভাবে অথবা স্বামী স্ত্রীর সুলভ আচরণের মাধ্যমে  ফিরিয়ে না নেয় তাহলে বিবাহ নবায়ন করতে হয় অন্যথায় একসাথে  সংসার করা বৈধ হয় না বরং তা ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হয়  বিধায়  আপনার স্বামী তালাক দেওয়ার পর  যেহেতু ইদ্দতের ভিতর যথা নিয়মে  ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত নয় বরং ইদ্দত পরিপূর্ণ হওয়ার পর স্বামী আপনাকে ফিরিয়ে নিয়েছে এমনটাই প্রায় নিশ্চিত যা আপনার বক্তব্য দ্বারা বুঝা যাচ্ছে , বিধায় তখনই আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন  হয়ে গেছে, তাই পরবর্তী কথাবার্তা বা একসাথে সংসার করা সবই অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং ইদ্দতের ভিতর ফিরিয়ে না নেওয়ার কারণে পরবর্তী তালাক গণ্য হবে না  বরং এক তালাকই ধর্তব্য হবে।

এখন করণীয় হলো নতুন মোহন নির্ধারণ করে সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ করে নেওয়া তবে স্বামী  দুই তালাকের মালিক থাকবে এবং ভবিষ্যতে দুই তালাক দিয়ে দিলে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক চিরস্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য : এক তালাকের পর ইদ্দতের ভিতর ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত ভাবে প্রমাণিত হওয়া লাগবে  সন্দেহজনক ভাবে প্রমাণিত হলে হবে

 

 

 

 

 

 

الادلةالشرعية

 

سورة البقرة (٢٣٠)

 فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره      

    قواعد الفقه ٥٧

     اكبر الراي بمنزله اليقين فيما لا يمكن الوقوف على حقيقته بمنزلة الحقيقة    

الفتاوى الهندية ١/٤٧٠

اذا طلق الرجل امراته تطليقة رجعية وتطليقتين فله ان يراجعها في عدتها رضيت بذلك او لم ترض

الهداية ٢/٣٩٥

الرجعه ان يقول راجعتك او راجعت امراتي

رد المحتار ٥/١٣٥

وان راجعتها بالفعل مثل ان يطاها او يقبلها او ينظر الى فرجها  بشهوة فانه يصير مراجعا عندنا

و الله اعلم بالصواب

 

كتبه                 

المجلس المشترك للإفتاء   

بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫