ইখতেলাফ ও খেলাফের মধ্যে পার্থক্য
(১) এখতেলাফের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য এক হয় পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে তথা যে দুইজন ইখতেলাফ করতেছেন তাদের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন আর তা হল উক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে সঠিক সমাধানে পৌছার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কর্মপদ্ধতি ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক এমনটা হওয়াও দোষের কারণ নয় যেমনটা হয়েছিল চার ইমামের মধ্যে এবং আমাদের আকাবিরদের খন্ড ও অখন্ড ভারত নিয়ে।আর খেলাফের মধ্যে এখতেলাফকারি দুই পক্ষের উদ্দেশ্য ভিন্ন হয় সাথে সাথে কর্ম পদ্ধতি ও ভিন্ন হয়।
মতানৈক্যকারী একদলের উক্ত মোতানৈক্য দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা উদ্দেশ্য হয় আর অপরদিকে অন্যপক্ষের উদ্দেশ্য হয় বিরোধিতা করা ।এমনিভাবে উভয়ের দলিলের পদ্ধতি ও হয় ভিন্ন তথা একদল সঠিক দলিলের মাধ্যমে মতানৈক্য করবে আর অপরদল বিরোধিতার জন্য দলিলের অপব্যাখ্যা করবে।
(২) খেলাফ ওই মতকে বলে যা দলিলবিহীন হয়ে থাকে বরং তা হয় নফসের অনুসরণে যার নিষেধ কুরআন ও হাদিসে রয়েছে।অপরদিকে এখতেলাফ ওই মতকে বলা হয় যার ভিত্তি দলিলের উপর হয়।
(৩) খেলাফ শব্দটি এ'তেকাদি বা আকিদাগত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় আর এখতেলাফ শব্দটি মুজতাহাদ ফিকহি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।তবে ফিকহের কিতাবে যে সমস্ত জায়গায় মতানৈক্যের ক্ষেত্রে খেলাফ শব্দটি ব্যবহার হয়েছে তা মূলত ইকতেলাফের অর্থে ব্যবহার হয়েছে ।
আজমালুল হাওয়াশী ৩০৬/ইজমার অধ্যায়
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুঈনুল ইসলাম
মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি ফাতাওয়া ও মাসায়েল