ঘুষের প্রকার ও  সমসাময়িক বিশ্লেষণ

ঘুষের প্রকার ও  সমসাময়িক বিশ্লেষণ

 

(১)

বিচার কাজে বা অন্য কোন পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়া নেওয়া ঘুষের অন্তর্ভুক্ত তাই উভয়টা হারাম।

যেমন বর্তমান সময়ে অযোগ্য লোকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয় এর দ্বারা যোগ্য লোক বঞ্চিত হয়।

তবে যদি কোন যোগ্য লোক  ঘুষ ছাড়া  চাকরি না পায় তাহলে যেহেতু যোগ্য ব্যক্তির  জন্য উপযুক্ত চাকরি তার নাগরিক  অধিকার বিধায় অধিকার  আদায়ের জন্য ঘুষ দেওয়া তার জন্য জায়েজ আছে কিন্তু  নেওয়া জায়েজ নয় কারণ দেওয়াতে বাধ্যবাধকতা আছে কিন্তু নেওয়াতে নেই।

وفي رد المحتار  ٨/٢٦

ثم الرشوة على اربعة اقسام : منها ما هو حرام على الاخذ والمعطي وهو الرشوة على تقليد القضاء والامارة

 

(২)

কাজী,  ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারকের জন্য বাদী বিবাদী কোন পক্ষ থেকে টাকা নেয়া ঘুষ হিসেবে গণ্য হবে।

তবে যদি বিচারক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত না হয় তাহলে তার জন্য বিচার করে বিনিময় নেওয়া জায়েজ আছে তবে শর্ত হলো ন্যায়বিচার করতে হবে।

وفي رد المحتار  والثاني ارتشاء القاضي ليحكم وهو كذلك ولو القضاء بحق لانه واجب عليه

 

(৩)

হক বা অধিকার আদায়ের জন্য বা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যদি ঘুষ দেয়া হয় সেটা বৈধ কিন্তু নেওয়া বৈধ নয়। এক্ষেত্রে ঘুষদাতা  যেহেতু বাধ্য   তাই সে গুনাহগার হবে না অবশ্য গ্রহণকারী  গুনাগার হবে। যেমন বর্তমান সময়ে বিভিন্ন লোককে হক আদায় করতে অথবা তার ক্ষতি থেকে হেফাজত থাকতে ঘুষ দেওয়া হয় সেটা দেওয়া জায়েজ হলেও গ্রহণকারী জন্য সর্বাবস্থায় না জায়িজ।

وفي رد المحتار : الثالث اخذ المال ليسوي امره عند السلطان دفعا للضرر او جلبا للنفع هو حرام على الاخذ فقط

()

 

কারো থেকে নিজের মাল বা প্রাণ হেফাজত করার জন্য ঘুষ দেওয়া যেমন বর্তমান সময় বিভিন্ন স্থানে এলাকার নেতাদেরকে বাধ্য হয়ে যে চাঁদা  দেওয়া হয়   সেটা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। বাধ্যবাধকতার কারণে তা দেওয়া জায়িজ আছে কিন্তু গ্রহণ করা জায়েজ নয়।

الرابع : ما يدفع لدفع الخوف من المدفوع  اليه على نفسه  او ماله حلال للدافع  حرام على الاخذ لان دفع الضرر   على المسلم واجب ولا يجوز اخذ المال ليفعل  الواجب


 মুফতি মুঈনুল ইসলাম

মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি  ফাতাওয়া ও মাসায়েল


📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

১৪ জানুয়ারী ২০২৬