চেহারা কি পর্দার অন্তর্ভুক্ত? কুরআন, তাফসীর ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ

মুফতি মুঈনুল ইসলাম  সিলেটি:


(১)

কুরআনের আলোকে পর্দার বিধান

প্রথম দলিল

 واذا سألتموهن متاعا فسلوهن. من وراء حجاب ذلك اطهر لقلوبكم  قلوبهن (٥٣).

ব্যাখ্যার সারমর্ম- যখন তোমরা নবীদের স্ত্রীদের সাথে  কথা বলবে তখন তোমরা আড়াল থেকে কথা কথা বলবে,। ( সূরাতুল আহযাব ৫৩)

এ আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বে নারীরা  স্বাভাবিকভাবে পুরুষের সামনে  আসতো অতপর যখন এ আয়াত নাযিল হয়   তখন নারীদের উপর পর্দার বিধান  আরোপ করা হয়।

দ্বিতীয় দলিল

يا ايها النبي  قل لأزواجك وبناتك ونساء المؤمنين يدنين عليهم  عليهن من جلابيبهن ( سورة الاحراب ٥٩)

 আল্লাহ বলেন হে নবী আপনি আপনার স্ত্রীগণ ও মেয়ে  এবং , মুমিন নারীগনকে বলে দিন তারা যেন তাদের জিলবাব (বড় চাদর) এর কিছু অংশ তাদের উপর ঝুলে দেয়।

উল্লেখ্য : জিলবাব এটি জালাবিব এর বহুবচন অর্থ বড় চাদর আর জিলবাব এমন বড় চাদর কে বলে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখ।


আরও পড়ুন: রবের সান্নিধ্যে মুমিনের প্রশান্তি: হৃদয়ের শান্তি লাভের ইসলামী উপায়


সারসংক্ষেপ : এ আয়াতে রব্বুল আলামিন বলেছেন মহিলারা  জিলবাব তো পরবে-ই আর জিলবাদ এর কিছু অংশ নিজেদের উপর  ঝুলিয়ে দিবে। মৌলিকভাবে এ আয়াতে  জিলভাবের একটা অংশ ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ থেকে একথা বুঝা যায় যে তারা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় জিলবাব  তো পরবে-ই তথা  মোটা চাদর পরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত  ডাকবে এবং সাথে সাথে জিলবাবের   একটা অংশ চেহারার উপর  ঝুলিয়ে দেবে। যদি এ আয়াতে চেহারা ঢাকা ছাড়া শুধু জিলবাব  তথা মোটা চাদর পরিধান  করার কথা বলা হত যা দ্বারা  মাথা থেকে  পূর্ণ শরীর  ডাকা হয় তাহলে আয়াতে এভাবে  বলা হত যে তারা যেন জিলবাব পরি দান করে।

আর এভাবে বলা হত না যে তারা যেন  জিলবাব এর কিছু অংশ তাদের উপর জুড়ে দেয় কারণ ঝুলানোর দ্বারা তো পূর্ণ শরীর টাকা যায় না বরং কিছু অংশ জুলাই লে সেটা দ্বারা চেহারা ই সম্ভব হয় এমন ব্যাখ্যা ই বর্ণিত হয়েছে পরবর্তী সাহাবা  তাবেয়ী সহ অনেকের নিকট হতে।

 আরও পড়ুন:   বিবাহিত নারী-পুরুষ যে কারণে পরকীয়ায় জড়ায়

(২)

পর্দার বিধানে শিথিলতা

 

وَٱلۡقَوَ ٰ⁠عِدُ مِنَ ٱلنِّسَاۤءِ ٱلَّـٰتِی لَا یَرۡجُونَ نِكَاحࣰا فَلَیۡسَ عَلَیۡهِنَّ جُنَاحٌ أَن یَضَعۡنَ ثِیَابَهُنَّ غَیۡرَ مُتَبَرِّجَـٰتِۭ بِزِینَةࣲۖ وَأَن یَسۡتَعۡفِفۡنَ خَیۡرࣱ لَّهُنَّۗ وَٱللَّهُ سَمِیعٌ عَلِیمࣱ

আর বৃদ্ধ নারী যারা বিবাহের আশা রাখে না তারা যদি তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের (বাড়তি)কাপড় খুলে রাখে তাহলে তাদের জন্য দোষ নেই তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। এখানে যে কাপড়টি না পরার সুযোগ আছে সেটি হল জিলবাব বা বর্তমান সময়ের নিকাব যা সাহাবী ও তাবিয়ী এবং মহিলা সাহাবিয়া এর আমল দ্বারা প্রমাণিত।

সুতরাং সূরা আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে যে জিলবাব চেহারার উপর জুলিয়ে রাখার  কথা বলা হয়েছে সেটি হলো যুবতী মেয়েদের ক্ষেত্রে আর সূরা নূরে বৃদ্ধা মহিলার জন্য ওই কাপড়টাই না পরার অবকাশ দেওয়া হয়েছে এটাই সাহাবা তাবেয়ীসহ বিজ্ঞ ওলামাদের তাফসীরের খোলাসা। 

মোটকথা : মহিলাদের পর্দার তিনটি স্তর (১) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পূর্ব পর্যন্ত শালীন পোশাক পরিধান করবে হাত-পা চেহারা খোলা রাখতে পারবে (২)প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে নিয়ে ফিতনামুক্ত বয়সে পৌছা পর্যন্ত নিজেকে ফিতনা থেকে বাঁচানোর জন্য  হাত ও পায়ের গোড়ালি সহ বিশেষত চেহারা অবশ্যই পর্দার অন্তর্ভুক্ত। (৩)  মোটামুটি ফিতনা মুক্ত বয়সে পৌঁছে গেলে চেহারা হাত মুখ বের করে শালীন পোশাক পরিধান করার অনুমতি রয়েছে।

এমনিভাবে বর্তমান ফিৎনার যুগে মহিলাদের চেহারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত কেননা অনেক সময় পরপুরুষ চেহারার দিকে তাকানোর মাধ্যমে ফিতনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায় পাশাপাশি চেহারা সৌন্দর্যের প্রতীক বটে সুতরাং কোন মহিলা যখন ঘর থেকে বের হবে অথবা পর পুরুষের সামনে যাবে তখন অবশ্যই চেহারা আবৃত করবে ফলে নারী পুরুষ উভয়ই ফিতনা থেকে  দূরে থাকা সম্ভব।

الدر المختار ٢/٩٧/الازهر

 وتمنع المرأة الشابة ( من كشف الوجه بين رجال) لا؛ لأنه عورة بل لخوف الفتنة كمسه وإن أمن الشهوة؛ لأنه أغلظ، ولذا ثبت به حرمةالمصاهرة

 যুবতী নারীকে পরপুরুষদের সামনে মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ মুখমণ্ডল স্বয়ং সতর হওয়া নয় বরং মুখ খোলা রাখলে পুরুষদের মধ্যে ফিতনা ও কুপ্রবৃত্তির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়া। অনুরূপভাবে, কামনার আশঙ্কা না থাকলেও যুবতী নারীকে স্পর্শ করা বৈধ নয়; কারণ স্পর্শের বিধান আরও কঠোর। এজন্য স্পর্শের কারণে হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়ে যায়।

 

رد المحتار ٩٧/الازهر

 : وتمنع المرأة ... إلخ) أي: تنهى عنه وإن لم يكن عورة قوله: (بل لخوف الفتنة) أي: الفجور بها، قاموس أو الشهوة والمعنى: تمنع من الكشف لخوف أن يرى الرجال وجهها فتقع الفتنة ؛ لأنه مع الكشف قد يقع النظر إليها بشهوة قوله: (كمسه) أي: كما يمنع الرجل من مس وجهها وكفها وإن أمن الشهوة ..... إلخ. قال الشارح في الحظر والإباحة: وهذا في الشابة، أما العجوز التي لا تشتهى فلا بأس بمصافحتها ومس يدها إن أمن اهـ. ثم كان المناسب في التعبير ذكر مسألة المس بعد مسألة

আল্লামা ইবন আবিদীন  শামী(রহ.) বলেন, যুবতী নারীকে পরপুরুষের সামনে মুখমণ্ডল খোলা রাখতে নিষেধ করা হবে। এর কারণ মুখমণ্ডল নিজেই সতরের অন্তর্ভুক্ত—এটি নয়; বরং মুখ খোলা রাখলে পরপুরুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে, কামনার দৃষ্টিতে তাকাতে পারে এবং এর ফলে ফিতনা ও অশ্লীলতার পথ খুলে যেতে পারে। তাই ফিতনা প্রতিরোধের স্বার্থে তাকে মুখমণ্ডল আবৃত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ কারণে যেভাবে একজন পুরুষের জন্য যুবতী নারীর মুখমণ্ডল বা হাত স্পর্শ করা বৈধ নয়—যদিও সে কামনার অনুপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে—ঠিক তেমনি মুখমণ্ডলও উন্মুক্ত রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে এই বিধান যুবতী নারীর জন্য। পক্ষান্তরে, এমন বৃদ্ধা নারী যাকে সাধারণত কামনার বস্তু মনে করা হয় না, তার ক্ষেত্রে যদি কামনার কোনো আশঙ্কা না থাকে, তাহলে তার হাত স্পর্শ করা বা করমর্দন করার অবকাশ রয়েছে।

 আরও পড়ুন:  নারীর গৃহে অবস্থান : পরাধীনতা নয়, মৌলিক অধিকার

(৩)

নামাজে মহিলা কতটুকু পর্দা করবে? 

এমনিভাবে নামজে মহিলাদের চেহারাও দুই হাতের কব্জি এবং অগ্রগণ্য মতানুযায়ী  দুই পায়ের গোড়ালি ব্যতীত পুরা শরীর সতরের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখিত তিন অঙ্গ ছাড়া শরীরের যেকোন অঙ্গের একচতর্থাংশ অথবা তার চেয়ে বেশি অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে  তিন তাসবিহ পরিমান সময় খোলা থাকলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে এক চতুর্থাংশ বা তার চেয়ে বেশি তিন তাসবি পরিমাণের চেয়ে কম সময় খোলা থাকে তাহলে নামাজ নষ্ট হবে না। তবে নামাজের শুরু থেকে যদি কোনো অঙ্গ খোলা থাকে অথবা নামাজের ভিতরে ইচ্ছাকৃতভাবে খুলে রাখে  তাহলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে ।

উল্লেখ্য : মহিলার একটি অঙ্গ , মাথার চুল পৃথক একটি অঙ্গ, টাকনোসহ হাঁটু পর্যন্ত এক অঙ্গ, হাতের কব্জি তোকে পূর্ণ হাত একটি অঙ্গ  সুতরাং  এ সকল অঙ্গের  এক চতুর্থাংশ অথবা তার চেয়ে ভুলবশত তিন তাসবি পরিমাণ যদি খোলা থাকে তাহলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে আর ইচ্ছাকৃতভাবে হলে সাথে সাথেই নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে।

 

شرح مختصر الطحاوي ١/٧٠١/دار البشائر

 مسألة : عورة المرأة في الصلاة ] (۱)

قال أبو جعفر : أما المرأة فتواري في صلاتها كل شيء منها، إلا وجهها وكفيها وقدميها).

قال أبو بكر : وذلك لأن جميع بدنها عورة، لا يحل للأجنبي النظر إليه منها إلا هذه الأعضاء (٢).

ويدل عليه قول الله تعالى : ﴿وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ) (۳) :

روي أنها الكحل والخاتم ، فدل أن يديها ووجهها ليسا بعورة وقال النبي صلى الله عليه وسلم : لا يقبل الله صلاة حائض إلا بخمار (۱) ، فدل أن رأسها عورة، وما كان عورة : وَجَب ستره في الصلاة واليد والوجه والقدم ليست بعورة فلا يلزمها سترها في الصلاة.

ইমাম আবু জাফর  ত্বাহাবী (রহ.) বলেন, নারী নামাজে তার সমগ্র শরীর আবৃত রাখবে। তবে মুখমণ্ডল, দুই হাতের কবজি পর্যন্ত এবং দুই পা (গোড়ালি পর্যন্ত)—এ তিনটি অঙ্গ এর ব্যতিক্রম।

ইমাম আবু বকর জাস্সাস (রহ.) এ বিধানের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, নারীর সমগ্র শরীরই সতরের অন্তর্ভুক্ত। তাই পরপুরুষের জন্য তার শরীরের কোনো অংশ দেখা বৈধ নয়, কেবল মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা ব্যতীত।

এর প্রমাণ আল্লাহ তাআলার এ বাণী: "তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত থাকে তা ব্যতীত।" (সূরা নূর: ৩১)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে, এখানে ‘স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত’ বলতে চোখের সুরমা ও হাতের আংটি বোঝানো হয়েছে। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, মুখমণ্ডল ও দুই হাত সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এছাড়া রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামাজ ওড়না (খিমার) ছাড়া আল্লাহ কবুল করেন না।" এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নারীর মাথা সতরের অন্তর্ভুক্ত। আর শরীআতে যে অঙ্গ সতর হিসেবে গণ্য, তা নামাজে আবৃত রাখা ফরজ। সুতরাং মাথাসহ শরীরের অন্যান্য সতরের অঙ্গ ঢেকে রাখা আবশ্যক। তবে মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়; তাই নামাজে এগুলো আবৃত করা আবশ্যক নয় ।

 

تنوير الابصار ٢/٩٥ مكتبة الازهر

ستر عورته......... وللحره جميع بدنها خلا الوجه والكفين

رد المحتار ٢/١٠٠/الازهر

اذا انكشف ربع عضو اقل من قدر اداء ركن فلا يفسد اتفاقا لان الانكشف الكثير في الزمان القليل عفو كالنكشاف القليل في الزمان الكثير  واما اذا ادى مع الانكشاف ركنا فانها تفسد اتفاقا  واعلم ان هذا التفصيل في الانكشاف الحادث في اثناء الصلاة واما المقارن لابتدائها فانه يمنع انعقادها مطلقا اتفاقا بعد ان يكون المكشوف ربع العضو

(قوله : بلا صنعه) فلو به فسدت في الحال عندهم,,,,,,, اي وان كان اقل  من اداء ركن ،،،،،،،او انكشف عورته ففيها اذا تعمد ذلك فسدت صلاته وان قل والا فان ادى ركنا فكذلك

নামাজ চলাকালীন যদি কোনো  অঙ্গের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন সময়ের জন্য খোলা থাকে, যা একটি রুকন (প্রায় তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলার সমান সময়) আদায়ের চেয়ে কম, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে নামাজ নষ্ট হবে না। কারণ অল্প সময়ের জন্য বেশি অংশ খোলা থাকাকে শরীআত ক্ষমা করেছে, যেমন দীর্ঘ সময়ের জন্য অল্প অংশ খোলা থাকাও ক্ষমাযোগ্য।কিন্তু যদি ওই সতরের অংশ এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি পরিমাণ খোলা থাকা অবস্থায় একটি রুকন আদায় হয়ে যায় (অর্থাৎ প্রায় তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়), তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ভিত্তিহীন ঘটনা : ওয়ায়েস করনীর দাঁত ভাঙার গল্প

তবে এই বিধান কেবল সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন নামাজের মধ্যে হঠাৎ সতর খুলে যায়। পক্ষান্তরে, নামাজ শুরু করার সময় থেকেই যদি কোনো সতরের অঙ্গের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ খোলা থাকে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে শুরু থেকেই নামাজ শুদ্ধ হবে না।

আর যদি নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের সতর খুলে দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে—যদিও খোলা থাকার সময় একটি রুকন পরিমাণের চেয়েও কম হয়। একইভাবে, ইচ্ছাকৃতভাবে সতর খোলা রাখলে অংশ কম হলেও নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে খুলে যায়, তাহলে একটি রুকন (প্রায় তিন তাসবীহ) পরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে নামাজ নষ্ট হবে।

 

مراقي الفلاح ١/٢٣١/مكتبة الاسعد

وجميع بدن الحرة عورة إلا وجهها وكفيها ) باطنهما وظاهرهما في الأصح وهو المختار، وذراع الحرة عورة في ظاهر الرواية، وهي الأصح، (و) إلا (قدميها ) في أصح الروايتين باطنهما وظاهرهما لعموم الضرورة ليسا من العورة، فشعر الحرة حتى المسترسل عورة في الأصح وعليه الفتوى فكشف ربعه يمنع صحة الصلاة،

وفيه ايضا ١/٣٣٢)

وكشف ربع عضو من أعضاء العورة ) الغليظة أو الخفيفة . من الرجل والمرأة ( يمنع صحة الصلاة ) مع وجود السائر لا ما دون ربعه،

স্বাধীন নারীর (আযাদ নারীর) সমগ্র শরীরই সতরের অন্তর্ভুক্ত। তবে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী মুখমণ্ডল, দুই হাতের কবজি পর্যন্ত (হাতের তালু ও হাতের পিঠ উভয় দিক) সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়।  তবে এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মত অনুযায়ী দুই পা (পায়ের উপরিভাগ ও তলদেশ উভয়ই) সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ সাধারণভাবে এ অঙ্গগুলো ঢেকে রাখা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য।

অপরদিকে স্বাধীন নারীর মাথার সমস্ত চুল, এমনকি লম্বা হয়ে নিচে ঝুলে থাকা চুলও সতরের অন্তর্ভুক্ত। এ মতের উপরই ফতোয়া প্রদান করা হয়। তাই চুলের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ খোলা থাকলে নামাজ শুদ্ধ হবে না।

এছাড়াও গ্রন্থকার বলেন, পুরুষ বা নারী—উভয়ের ক্ষেত্রেই সতরের কোনো অঙ্গের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ খোলা থাকলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। তবে এক-চতুর্থাংশের কম অংশ খোলা থাকলে নামাজ নষ্ট হবে না।

 

حاشية الطحطاوي على مراقي الفلاح ١/٢٣١/  الاسعد

التحقيق ان القدم ليست بعوره في الصلاة....................

  قوله: (يمنع صحة الصلاة) أي : إذا كان قدر أداء ركن عند أبي يوسف و محمد اعتبر أداء الركن حقيقة والمختار قول أبي يوسف للاحتياط كما في الحلبي زاد في منية المصلي اعتبار أداء الركن مع سنته .

قال شارحها البرهان الحلبي : وذلك مقدار ثلاث تسبيحات، وقال ابن أمير حاج وهذا تقييد غريب ووجهه قريب وقيد بعضهم الكشف بكونه بغير صنعه، أما لو كشفه بفعله فسدت للمال بلا خلاف قهستاني عن المنية، وعزاء في البحر إلى القنية، وجرى عليه صاحب الدر قال في البحر : وهذا تقييد غريب والمذهب الإطلاق .

ইবারতের মূল বক্তব্য হলো, নামাজে সতরের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি অংশ অনিচ্ছাকৃতভাবে খুলে গেলে প্রায় তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে নামাজ নষ্ট হবে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে সতর খুলে দিলে এক মুহূর্তের জন্যও খোলা রাখলে সঙ্গে সঙ্গেই নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়া বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী নারীর দুই পা নামাজে সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়।

 

فتاوى محموديه ٥/٥٢٠/اشرفي بك

ساڑھی میں نماز

سوال [۲۳۱۰] : یہاں پر خواتین میں کرتہ اور پائجامہ پہننے کا رواج نہیں ہے اور وہ لہنگا پر ساڑھی باندھ لیتی ہیں ، اور کسی قسم کا کپڑا اندر استعمال نہیں ہوتا ہے۔ تو کیا اس صورت میں ان کی نماز ادا ہو جائے گی یا پھر ان کو ساڑھی کے اندر پاجامہ یا اس قسم کا کپڑا پہننا پڑے گا ؟

الجواب حامداً ومصلياً :

اگر لہنگا اور ساڑھی اس طرح ہے کہ جسم نظر نہیں آتا تو ان کی نماز ادا ہو جائے گی اس کے اندر پائجامہ ہو یا نہ ہو، ورنہ انکشاف کی حالت میں نماز نہیں ہوگی ، کیونکہ ستر عورت فرض ہے اور عورت کو چہرہ ، دونوں ہاتھ، دونوں قدم کے سوا تمام بدن کو چھپانا نماز میں فرض ہے: والرابع ستر العورة، وهي للحرة جميع بدنها خلا الوجه والكفين والقدمين اهـ .

 

আরও পড়ুন: ব্যভিচারের মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ সন্তানের শরঈ অবস্থান

উপসংহার

ইসলাম নারীকে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পবিত্রতা দানের লক্ষ্যে পর্দার বিধান প্রবর্তন করেছে। কুরআনুল কারীমের নির্দেশনা, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনের তাফসীর এবং ফুকাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পর্দা কেবল পোশাকের নাম নয়; বরং এটি শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। নারীর ঘর থেকে বের হওয়া, পরপুরুষের সামনে উপস্থিত হওয়া এবং নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক বিধান রয়েছে, যা ইসলামী শরীআতের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ আলোচনায় কুরআনের আয়াত, সাহাবা ও তাবেঈনের ব্যাখ্যা এবং হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে পর্দার বিভিন্ন স্তর, বৃদ্ধা নারীর জন্য প্রদত্ত শিথিলতা এবং নামাজে সতর সংক্রান্ত বিধান উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান ফিতনাপূর্ণ পরিবেশে নারীর শালীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্দার গুরুত্ব আরও অধিক অনুভূত হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্দার বিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দান করুন এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে পবিত্রতা ও ফিতনামুক্ত রাখুন। আমীন।


মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মা’হাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল


📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

৩০ জুন ২০২৬