প্রশ্ন: এক ব্যক্তির একটি স্ত্রী ছিল। পরে সে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় আরেকটি বিয়ে করে। কিছুদিন পর প্রথম স্ত্রী বিষয়টি জেনে যায় এবং স্বামীকে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু স্বামী বিষয়টি অস্বীকার করে। প্রথম স্ত্রী বিশ্বাস না করায় সে স্বামীকে একটি কাগজে লিখতে বলে, “তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে কর, তাহলে সে তালাক।” স্বামী লিখল, “আমি যদি তোমাকে এবং অমুককে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করি, তাহলে সে তালাক।” এরপর সে “অমুক” শব্দটি এমনভাবে কেটে দিল, যাতে তা বোঝা না যায়।
এখন প্রশ্ন হলো, এই কৌশলের মাধ্যমে কি সে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক থেকে বাঁচাতে পেরেছে, নাকি দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হয়ে গেছে?
?الجواب باسم ملهم الصدق والصواب
ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক, কেউ যদি লিখিতভাবে এভাবে লেখে—“আমি যদি তোমাকে এবং অমুককে ছাড়া অন্য কোনো মেয়েকে বিয়ে করি, তাহলে সে তালাক।” এরপর “অমুক” শব্দটি কেটে দেয়, তাহলে দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হবে না। কারণ, লেখাটি প্রথমে যে ভাষায় সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এর অর্থ নির্ধারিত হবে। পরবর্তীতে “অমুক” শব্দটি কেটে দেওয়ার দ্বারা পূর্ববর্তী লিখিত শর্তের বিধান পরিবর্তিত হয় না।
অতএব, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হয়নি এবং উভয় স্ত্রীই তার বিবাহবন্ধনে বহাল রয়েছে।
- ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫৩২। ,আল-মুহীতুল বুরহানী, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৮৬।
الادلة الشرعية
سنن الترمذي، كتاب الأحكام، باب ما ذكر عن رسول الله ﷺ في الصلح بين الناس، رقم: ١٣٥٢ سنن أبي داود، كتاب الأقضية، رقم: ٣٥٩٤
عَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ، إِلَّا شَرْطًا أَحَلَّ حَرَامًا أَوْ حَرَّمَ حَلَالً
لمحيط البرهاني، ٤/٤٨٦
وفي الملتقى: عن محمد
رحمه الله تعالى: إذا كتب الرجل إلى امرأته: كل امرأة لي غير فلانة فهي طالق، ثم
محا ذكر فلانة، وبعث بالكتاب، لا تطلق فلانة، وهذه حيلة جيدة..
و الله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে
মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা