প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম হুজুর,আমার স্ত্রী একদিন আমার অনুমতি ব্যাতিত বাইরে যাওয়ার বাইনা ধরলো তার বোনদের সাথে,আমি তাকে যেতে নিষেধ করি।কিন্তু সে বলে আমি যাব।আমি বলি, আমার অনুমতি ছাড়া গেলে অনেক খারাপ কিছু হবে।এটা বলার দ্বারা তালাকের ভয় দেখাইছি।সে কিন্তু তার বোনের সাথে বাইরে যায় নি,না গিয়ে একটু পর বলেছে আমি বাইরে গিয়েছি। আমার কথা না শোনার কারনে তারপর আমি বললাম, তুই আমার জীবন থেকে বাদ হয়ে গেলি।সে তখন বললো আমি মিথ্যে বলেছি আমি বাইরে যাই নি আমি ঘরেই আছি।(আমাদের কথোপকথন মেসেজের মাধ্যমে হচ্ছিল)এখন এই কথার দ্বারা তালাক হবে কি না হুজুর? আর আমার মনে তখন তালাকের নিয়ত ছিল কি না এই নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। কিন্তু এই কথা বলার আগে আমি চিন্তা করেছিলাম, তাকে ছেড়ে দেওয়া আমার পক্ষে কোনদিন সম্ভব না,তাকে কোনদিন তালাক দিব না।এর ফতোয়া কি জানাবেন হুজুর।দয়া করে কোন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করবেন না।

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

       ইসলামিক বিধান মতে তালাক পতিত হওয়ার জন্য  উচ্চারিত শব্দ সরিহ তথা তালাকের জন্য গঠিত শব্দ অথবা কেনায়া তথা তালাকার জন্য গঠিত নয় তবে তালাকের সম্ভাবনা রাখে এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ করতে হয় অন্যথায় তালাক পতিত হয় না

 সুতরাং  প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী কোন ধরনের তালাক পতিত হয়নি। কেননা  প্রথমে  লিখেছেন আপনার স্ত্রী আপনার অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে চেয়েছিলেন। আপনি তাকে নিষেধ করেন এবং বলেন "আমার অনুমতি ছাড়া গেলে অনেক খারাপ কিছু হবে।" আপনার বক্তব্য অনুযায়ী এ কথা দ্বারা আপনি তাকে তালাকের ভয় দেখাতে চেয়েছিলেন।একথা দ্বারা কোন ধরনের তালাক পতিত হয়নি কেননা অনেক খারাপ কিছু হবে উক্ত কথা সরিহ তথা তালাকের জন্য গঠিত শব্দ না হওয়ার পাশাপাশি   কেনায়া  তথা তালাকের  ইঙ্গিত সূচক শব্দের অন্তর্ভুক্তও  হয় না তাই এ শব্দ ব্যবহার করার কারণে তালাক পতিত হওয়ার প্রশ্ন আসেনা। অতঃপর স্ত্রীর সাথে কথার প্রসঙ্গে  লিখেছেন  "তুই আমার জীবন থেকে বাদ হয়ে গেলি।" উক্ত বাক্য তালাকের জন্য ইঙ্গিত সূচক হলেও আপনার বর্ণনার দ্বারা বুঝা যাচ্ছে একথা বলার সময় আপনার তালাকের নিয়ত না থাকাটাই নিশ্চিত। কেননা স্ত্রীকে সম্মোধন করে উক্ত কথা বলার আগে আপনার মনে দৃঢ়ভাবে এসেছিল  "তাকে ছেড়ে দেওয়া আমার পক্ষে কোনোদিন সম্ভব নয় তাকে কোনোদিন তালাক দেব না।" উক্ত মনোভাবই  প্রমাণ করে যে তালাকের  নিয়ত ছিল না। পরবর্তীতে কেবল আপনার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে তখন তালাকের নিয়ত ছিল কি না।সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না কেননা  শরীয়তের নীতিমালা হল নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না সুতরাং তালাকের নিয়ত না থাকার বিষয়টি যেহেতু মোটামুটি নিশ্চিত তাই  পরবর্তী সময়ের এ ধরনের সন্দেহ দ্বারা তালাক সাব্যস্ত হয় না।

 

الأدلة الشرعية

صحيح البخاري، كتاب بدء الوحي، حديث: ١ج ١، ص ٦

      إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
سنن أبي داود، كتاب الطلاق، حديث: ٢١٩٤ج ٣، ص ٢٥٥

       ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ، وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ
سنن أبي داود، كتاب الطلاق، حديث: ٢١٧٨ج ٣، ص ٢٥١

       أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ

رد المحتار على الدر المختار، كتاب الطلاق، باب الكناية، ج ٤، ص ٤٥٢

"         والكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو دلالة الحال."
الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الباب الخامس في الكنايات، ج ١، ص ٣٧٥

"      الكنايات لا يعمل بها إلا مع النية.

"
و الله اعلم بالصواب

উত্তর প্রদানে

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা