প্রশ্ন: আমরা জানি ইসলামের ইতিহাসে কয়েকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে। যা প্রতিটি মুসলমানকে আজও কাঁদায়। তার অন্যতম হচ্ছে জামাল ও সিফফিন। এতে হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরাম শহীদ হয়েছেন। এদিকে বুখারির বর্ণনায় হাদিসে বর্ণিত পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত মুসলমান হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামী। অথচ এ যুদ্ধে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিও ছিলেন। এ ব্যাপারে সঠিক মত ও আকীদা কী?

 

الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

   আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা মতে, সকল সাহাবায়ে কেরাম হক ও সত্যের মাপকাঠি। আর দলিল ও প্রমাণের আলোকে ইজতিহাদগত ভুল হক হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। সহীহ দলিল-প্রমাণ ও মুজতাহিদদের ইজতিহাদ ছাড়া নিজস্ব মত অনুযায়ী কোনো প্রমাণিত হকপন্থী দলের বিরোধিতা করা গোমরাহী ও সুস্পষ্ট ভ্রান্তি।সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে হযরত আলী (রা.), হযরত মুয়াবিয়া (রা.) ও হযরত আয়িশা (রা.)—তিনজনই উভয় যুদ্ধে সম্পূর্ণ ইজতিহাদের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই এখানে কাউকে ভ্রান্ত বা গোমরাহ বলার অবকাশ নেই।আর বুখারি শরিফে বর্ণিত হাদিসটি ঐ দুই ব্যক্তি বা দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যাদের উভয়েরই কোনো শরয়ী বা ইজতিহাদি দলিল ছাড়া পরস্পরকে হত্যা করার উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু প্রশ্নোক্ত যুদ্ধে উভয় দলই নিজ নিজ ইজতিহাদের ভিত্তিতে হকের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাছাড়া উভয় দলই হকপন্থী ছিলেন। তাই বুখারির উক্ত হাদিস তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।অতএব, বিশ্বাস করতে হবে তাঁরা সবাই হকের ওপর ছিলেন এবং হকের পথেই শহীদ হয়েছেন।

 সুতরাং তাঁদের কাউকে জাহান্নামী বলার দুঃসাহস দেখানো কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয়।

সূত্র:সহীহ বুখারি, হাদিস: ৩১; বাযলুল মাজহুদ, ১২/৩০৮; ফাতহুল বারী, ১/১৯৫।

الأدلة الشرعية

١. سورة الحجرات (٩-١٠)

     ﴿وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا ۖ فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَىٰ فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّىٰ تَفِيءَ إِلَىٰ أَمْرِ اللَّهِ ۚ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا ۖ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ ۝ إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ...

٢. سورة الحشر (١٠)

     ﴿وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا...

٣. صحيح البخاري، ج ٩، ص ١٨، رقم: ٧٠٨٣

     عَنْ أَبِي بَكْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ...

٤. صحيح مسلم، ج ٤، ص ٢٢١٣، رقم: ٢٩١٦

     عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ، فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ...

٥. صحيح البخاري، ج ٥، ص ٣٥، رقم: ٣٦٧٣

      عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ.

 

উত্তর প্রদানে

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা