ফিকহ তালাক

তাফবীজে তালাকের সমাধান



জনাব, আসসালামু আলাইকুম জনাব, আসসালামু আলাইকুম মোহতরাম আমার স্ত্রী রাগের মাথায় গত ৬ মাস বাপের বাড়ি। ২২ ই ফেব্রুয়ারিতে আমি এস এম এস এক তালাক পাঠাই এবং ২৪ ই মার্চ আমি এসএমএসে তালাক প্রত্যাহার লিখে পাঠাই। পরে আমার স্ত্রী ২ মাসে ২ বার তালাক নোটিশ পাঠায়। ১ম নোটিশ ২৬ ই মার্চ, ২য় নোটিশ ৩ই মে।


الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

     ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক তালাক ইসলামে বৈধ হলেও অত্যন্ত অপছন্দনীয় একটি বিষয়। অতি প্রয়োজন ব্যতীত শরীয়ত তালাক প্রদানকে নিরুৎসাহিত করেছে। তবে কোনো ব্যক্তি সুস্থ মস্তিষ্কে স্পষ্ট ভাষায় মৌখিক বা লিখিতভাবে তালাক প্রদান করলে, তা শরয়ী শর্ত সাপেক্ষে সংঘটিত হয়ে যায়।

    সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, ২২ ফেব্রুয়ারি "আমি এস এম এস এক তালাক পাঠাই" লিখে পাঠানোর মাধ্যমে স্ত্রীর উপর একটি রাজঈ তালাক সংঘটিত হয়েছে। অতঃপর এক রাজঈ তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যেই ২৪ মার্চ "আমি এসএমএসে তালাক প্রত্যাহার লিখে পাঠাই" লিখে স্ত্রীকে পাঠিয়ে তালাক প্রত্যাহার ও বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করায়, এটিকে রুজু (رجعة) হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে পূর্বের এক তালাক গণনায় বহাল থাকবে; তবে বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নতুন নিকাহের প্রয়োজন হবে না।

আর প্রশ্নে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, কাবিননামায় "বনিবনা না হলে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে"এ মর্মে শর্ত উল্লেখ থাকায় এটি তাফওয়ীযে তালাক হিসেবে গণ্য হবে। আপনি দিয়েছেন এক তালাক আর সে তাফওয়ীযে তালাকের অধিকার বলে গ্রহণ করেছে তিন তালাক। মোট চার তালাক। আর তালাক সর্বোচ্চ তিনটা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। তিনের পর আর তালাক হয় না। সুতরাং স্ত্রী তিন তালাক প্রাপ্তা হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন।  তবে আপনারা পুনরায় সংসার করতে চাইলে করণীয় হলো, ইদ্দত পালনের পর স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার পর সংসার করা অবস্থায় স্বামী মারা গেলে বা তালাক দিলে, ইদ্দত পালন পরবর্তী চাইলে আপনি তার সাথে পুনরায় বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় নয়।


 আরও পড়ুন: হিলা বিবাহের মাধ্যমে কী পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল হওয়া যাবে?

الادلة الشرعية

 

بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع ٤/٢٧١/مكتبة العتيق

     أما الصريح : فهو اللفظ الذي لا يُستعمل إلا في حل قيد النكاح، وهو لفظ الطلاق أو التطليق مثل قوله : «أنت طالق» أو «أنت الطلاق، أو طلقتك، أو أنتِ مُطَلَقةٌ مُشَدِّدًا ، سُمِّي هذا النوع صريحًا؛ لأن الصريح في اللغة اسم لما هو ظاهر المراد . المراد مكشوف المعنى  عند السامع  من قولهم  : صرح فلان بالامر اي كشفه  واوضحه

        الدر المختار (٣/٢٣)

            التطليق الى الزوج لا الى زوجة لان عقد النكاح من قبله فكان الرجوع اليه كالبيع فان الفسخ فيه الى من له ولاية العقد   وهو البائع

          رد المحتار (٣/٣٢)

          ( اكبر قوله :التطليق الى الزوج)  اي انما هو اليه لا الى غيره فلا يصح تفويضه  الى الزوجة الا باذنه فان فوض اليها صح فحينئذ تطلق نفسها كما شاءت في حدود ما فوض

         فتح القدير شرح الهداية (٣/٢٩٨)

              ولا تطلق الزوجة نفسها الا اذا فوض اليها الطلاق والتفويض تارة يكون مطلقا وتارة يكون معلقا بشرط فاذا فوض اليها الطلاق على الاطلاق صار الامر بيدها فمتى ما قالت طلقت نفسي يقع الطلاق

           الفتاوى الهندية ١/٣٥٣

                 ويقع طلاق كل زوج بالغ عاقل

           رد المحتار (٤/٥٥٢

                  المراد بالتفويض تمليك الطلاق

           الموسوعة  الفقهية (١٣/١١٢)

                صيغة  التفويض اما ان تكون مطلقة او تكون مقيدة بزمن معين او تكون بصيغه تعم جميع الاوقات  او تكون بصيغة تعم جميع الاوقات فان كانت صيغة التفويض مطلقة فقد ذهب جمهور الفقهاء الى ان حق الطلاق للمراة مقيدة بمجلس علمها وان طال ما لم تبدل مجلسها حقيقة كقيامها  عنه او حكما بان تعمل ما يقطعه مما يدل على الاعراض عنه

          الفتاوى الهندية (١/٣٨٨)

                جعل امرها بيدها ثم اقامها عن المجلس او جامعها  طوعا او كرها خرج من يدها

মুফতি মুঈনুল ইসলাম  

মুফতিফাতাওয়া ও মাসায়েল 

মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মা’হাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা


📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

০৮ জুলাই ২০২৬