ফিকহ তালাক

হিলা বিবাহের মাধ্যমে কী পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল হওয়া যাবে?


 

মুহতারাম মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম হুজুর, আমার জানতে চাওয়া এই যে, স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে এর বিধান কী? দ্বিতীয় জানার বিষয় হলো: তিন তালাক দেওয়ার পর পূর্বের স্বামীর সাথে সংসার করার নিয়ম কী? হিলা বিবাহের মাধ্যমে কী পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল হওয়া যাবে?

নিবেদক

নাম প্রকাশে অনিছুক

 

الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

 

   ইসলামী বিধান মতে তালাক একটি নিকৃষ্ট গর্হিত  বৈধ কাজ অতি প্রয়োজন ব্যতীত শরীয়ত তালাক দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত   করে তথাপি  কোন ব্যক্তি যদি কারণে অকারনে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় লিখিত বা  মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে সংখ্যা  অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যায়।

     সুতরাং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী যেহেতু স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে ফলে সাথে সাথে স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। তাই তখন থেকে আপনাদের জন্য  এক সাথে সংসার করা বৈধ নয়।

বৈধভাবে সংসার করার পদ্ধতি নিম্নরুপ:

উক্ত তালাকপ্রাপ্তা ইদ্দত পালনের মাধ্যমে  স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার পর  স্বামী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দত পালন পরবর্তী চাইলে প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায়  বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে অন্যথায় নয় ।

 

প্রচলিত হিল্লা বিয়ে অবৈধ হওয়ার কারণ :

প্রচলিত হিল্লা বিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো উক্ত বিবাহে  তালাক দেওয়ার শর্ত জড়িয়ে দেওয়া হয় তথা এমন একজন ব্যক্তিকে বিয়ের জন্য প্র¯ত করা হয় এবং শর্ত   করা হয় সে যেন বিবাহ করার পর তালাক দিতে বাধ্য থাকে।

অথচ ইসলামী শরীয়তে তালাক দেওয়ার শর্তে কিছু সময়ের জন্য বিবাহ করা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ । আর এমন কাজ যেহেতু হিল্লা বিবাহে করা হয় তাই প্রচলিত হিল্লা বিবাহ ইসলামী বিধি মতে নিষিদ্ধ ।

দ্বিতীয় কারণ :

তিন তালাক দেওয়ার পর যেহেতু স্বাভাবিকভাবে একজন মহিলা অন্যত্র বিবাহে আবদ্ধ হওয়া ব্যতীত  প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে ও এমন কাজকে মানুষ অপরাধ মনে করে তাই নামে মাত্র বিবাহের জন্য টাকার মাধ্যমে চুক্তি করে কোন ব্যক্তিকে বিবাহের জন্য প্র¯ত করা হয় যাতে বিবাহের পর তালাক দিয়ে উক্ত ব্যক্তি চলে যেতে বাধ্য থাকে। অথচ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কোন ব্যক্তিকে বিবাহের জন্য  প্র¯ত করা অবৈধ। সর্বোপরি এমন পদ্ধতি  অবলম্বন করে বৈধকারী ব্যক্তিকে  ইসলাম অভিশপ্ত হিসেবে ঘোষণা  দিয়েছে।

তৃতীয় কারণ :

বর্ণিত পদ্ধতিতে বিবাহ হলেও অনেক সময় এমনও দেখা যায় যে  সহবাস তো দূরের কথা  এমন স্বামীর সাথে স্ত্রীর কোন দেখা সাক্ষাৎ হয় না অথচ প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে সহবাস শর্ত করা হয়েছে। ইত্যাদি কারণে প্রচলিত হিল্লা বিবাহ নিষিদ্ধ।

 

প্রচলিত হিল্লা বিবাহের বৈধ রূপ

তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা পুনরায় স্বামীর সংসার করতে চাইলে সহজ পদ্ধতি হলো : উক্ত মহিলা ইদ্দত পালন পরবর্তী  একজন পুরুষের সাথে ইসলামী পদ্ধতিতে  বিবাহে আবদ্ধ হবে তথা মহর নির্ধারণ করার পাশাপাশি সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ করবে

এক্ষেত্রে উক্ত( হালালকারী)  লোকটি এমন দ্বীনদার হলে ভালো হয় যে  উক্ত মাসআলার বৈধ অবৈধ দিক সম্পর্কে ভালো জানার পাশাপাশি   একজন মুসলমান ভাইয়ের পেরেশানি দূর করার জন্য নিজে উৎসাহিত হবে এবং বিবাহ পরবর্তী সহবাসের পর স্বেছায় তালাক দিয়ে দিবে।

অতঃপর ইদ্দত পালনের পর উক্ত মহিলা প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহে আবদ্ধ হতে পারবে। এক্ষেত্রে তালাক দেওয়ার  বিষয়টি অন্তরে থাকলেও কোন অসুবিধা হবে না  কেননা তালাকের  বিষয়টি শর্ত হিসেবে তখনই গণ্য হবে যখন তা মৌখিকভাবে উচারিত হবে বা লিখিতভাবে হবে আর বর্ণিত সুরতে তালাক দেওয়ার বিষয়টি হালালকারীর অন্তর্গত বিষয় যার উপর শর্তের  বিধান আরোপিত হবে না।

 

 

الادلة الشرعية

سورة البقرة (٢٣٠)

   فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره

السنن الترمذي ١١٢٠

    عن ابي هريرة رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعن الله المحلل والمحلل له

صحيح البخاري ٥٣١٧

    عن عائشة رضي الله تعالى عنها أنَّ رِفاعةَ القُرَظيَّ تَزَوَّجَ امرَأةً ثُمَّ طَلَّقَها، فتَزَوَّجَت آخَرَ، فأتَتِ النَّبيَّ ﷺ فذَكَرَت له أنَّه لا يَأتيها، وأنَّه ليس معهُ إلّا مِثلُ هُدبةٍ، فقال: لا، حتّى تَذوقي عُسَيلَتَه ويَذوقَ عُسَيلَتَكِ.

البناية في شرح الهداية ٥/٢٥٩

    (واذا تزوج بشرط التحليل) بان قال تزوجتك على ان احللك او قالت هي ذلك (فالنكاح مكروه لقوله عليه السلام) لعن الله المحلل والمحلل له

الهداية ٢/٥٦٧

    والنكاح المؤقت باطل مثل ان يتزوج امراة بشهادة شاهدين عشرة ايام وفي البناية وهو قول عامة الفقهاء



মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি,{ফতোয়া বিভাগ,}মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ ঢাকা

মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

১৪ এপ্রিল ২০২৬