মুহতারাম মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম হুজুর, বিয়েতে হুজুর হুজুরের জবানে বরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি কি অমুকের কন্যা অমুককে বিয়ে করতে রাজি আছেন? বর উত্তর দিয়েছিলেন তিনি রাজি আছেন| সেই সময় উভয় পক্ষের অনেক পুরুষ আত্মীয় সেই জায়গায় উপস্থিত ছিলেন|কনের অবস্থান ছিলো বিয়ে পড়ানোর জায়গা থেকে দূরে ঘরের ভেতরে| তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বাইরের কোন কথা ভেতরে শোনা যাচ্ছিলো না এবং কনের সাথে কেবল বরের ভাবী ছিল|কনের ভাই এবং বরের ভাই এসে কনেকে এসে এভাবে জিজ্ঞেস করে, তুমি কি অমুককে বিয়ে করতে রাজি? পাত্রী বুঝতে পারেনি, বিয়ের প্রক্রিয়া চলমান| সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়, কোনো কী ঝামেলা হয়েছে কিনা| তাই চুপ থাকে, তাৎক্ষনিকভাবে বরের ভাবী মশকরা করে উঠে এভাবে আয়োজন করে রাজী কিনা জিজ্ঞেস করলে কেউ কী বলে সে রাজিনা? উক্ত মশকরায় কনে প্রতিবাদ করেনি, হয়তো হালকা মুচকি হাসি আসতে পারেস্বাক্ষীরা এরপর আর অপেক্ষা করেনি| ¯স্বাক্ষীরা একে পরোক্ষ রাজি ভেবে বাইরে গিয়ে ¯ স্বাক্ষ্য দেয়|  কনের চুপ থাকার কারণ অমত ছিলো না, বরং বুঝতে না পারা ছিলো ২০ মিনিট পর নিকাহনামা এলে, তাতে নিজেই সই করে কনে|উক্ত বিয়ে কী সহীহ ছিলো?

 

 

الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

 

       ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য দুজন পুরুষ অথবা এক পুরুষ ও দুই নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব এক পক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রস্তাব, এবং কবুল তথা অপর পক্ষের সম্মতিসূচক জবাব অথবা স্পষ্ট

বাক্য: এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে যার মাধ্যমে নিকাহ বোঝা যায়|ইজাব-কবুল ছাড়া শুধু সম্মতি জিজ্ঞেস করা বা এক পক্ষের রাজি আছি বলার মাধ্যমে বিবাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না|

    আপনার বর্ণিত ঘটনায় বরকে শুধু আপনি কি বিয়ে করতে রাজি?বলা হয়েছে এবং তিনি রাজি আছি বলেছেনএটি মূলত কবুলের ইঙ্গিত, কিন্তু শরীয়তসম্মত ইজাব (যেমন: আমি তোমার সাথে মেয়েটিকে বিবাহ দিলাম) স্পষ্টভাবে উল্লেখ পাওয়া যায় না| কনের পক্ষ থেকেও একইভাবে স্পষ্ট ইজাব-কবুল বা গ্রহণের প্রকাশ ঘটেনি; শুধু মাত্র পরে নিকাহনামায় ^স্বাক্ষর করেছেন|আর শরীয়তের দৃষ্টিতে ইজাব যদি স্পষ্টভাবে না হয় এবং কবুলও যদি পরিষ্কারভাবে না বোঝা যায় তাহলে নিকাহের মূল রুকন পূর্ণ হয় না|

অতএব, শুধু প্রশ্নের জবাবে রাজি আছি বলা এবং পরে নীরবতা বা  স্বাক্ষরএসব দ্বারা নিশ্চিতভাবে নিকাহ সাব্যস্ত হয় না, যতক্ষণ না ইজাব-কবুল স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়|তাই উক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে বিষয়টি ফিকহি দৃষ্টিতে অস্পষ্ট  এবং নিশ্চিতভাবে সহীহ নিকাহ বলা যায় না, যতক্ষণ না মজলিসে ইজাব-কবুলের স্পষ্ট শব্দ ও ধারা প্রমাণিত হয়| সুতরাং বিয়েটি সহিহ হয়নি | এখন নতুন করে যথাযথভাবে স্পষ্ট ইজাব  কবুল ও দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে

|

 

الأدلة الشرعية

 الدر المختار ، كتاب النكاح،٣/٩

      فى الدر المختار-  و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا

 صحيح ابن حبان ٤٠٧٥

     عَنْ عَائِشَةَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لا نِكَاحَ إِلا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ ، وَمَا كَانَ مِنْ نِكَاحٍ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ ، فَهُوَ بَاطِلٌ

 الهداية، ج ١، ص ١٩٠

      قال في الهداية "ولا ينعقد النكاح إلا بشاهدين

 بدائع الصنائع، ج ٢، ص ٢٥٢

   قال في بدائع الصنائع "ومن شرائط صحة النكاح حضور شاهدين حرين مسلمين

 الدر المختار مع رد المحتار، ج ٣، ص ٩

      قال في الدر المختار "وشروطه شهودان ذكران أو رجل وامرأتان" قال في الفتاوى الهندية

 الهداية، ١/١٩٠، دار إحياء التراث العربي

   قال في الهداية "وينعقد النكاح بالإيجاب والقبول وقال أيضًا"وهو أن يقول أحدهما زوجتك أو أنكحتك ويقول الآخر قبلت

 الدر المختار مع رد المحتار، ٣/٧، دار الفكر

    قال في الدر المختار "وركنه الإيجاب والقبول"

 

و الله اعلم بالصواب


 

 

উত্তর প্রদানে


মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি,{ফতোয়া বিভাগ,}মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ ঢাকা

মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল