যেসব কারণে রোযা ভাঙে না; কিন্তু অনেকে রোযা ভেঙে গেছে বলে মনে করে

=======================================================

মাসআলা : কোনো রোযাদার রোযার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার করলে এতে রোযা নষ্ট হবে না। তবে রোযার কথা স্মরণ হওয়া মাত্র তা পরিহার করতে হবে।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন

مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِم صَوْمَهُ، فَإِنمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ.

যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহ্ই তাকে পানাহার করিয়েছেন। ুসহীহ মুসলিম হাদীস ১১৫৫; কিতাবুল আছল ২/১৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২


মাসআলা : স্বপ্নদোষের কারণে রোযা ভাঙে না।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ ভরে বমি হল। তিনি তখন বললেন, তিনটি বস্তু রোযা ভঙ্গের কারণ নয়ু বমি, শিঙা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/২৬৪; কিতাবুল আছল ২/১৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬


মাসআলা : অনিচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি হলেও রোযা ভাঙবে না।

হাদীসে এসেছে

مَنْ ذَرَعَهُ الْقَيْءُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ.

অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তাকে সে রোযার কাযা করতে হবে না। (অর্থাৎ রোয়া ভাঙবে না)। ুজামে তিরমিযী, হাদীস ৭২০

তেমনি বমি মুখে এসে নিজে নিজেই ভেতরে চলে গেলেও রোযা ভাঙবে না। রদ্দুল মুহতার ২/৪১৪


মাসআলা : রতিক্রিয়া ছাড়া শুধু কল্পনার কারণে বীর্যপাত হলে রোযা ভাঙে না। তবে রোযা অবস্থায় কু-চিন্তা অবশ্যই গর্হিত কাজ। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪


মাসআলা : কামভাবে কোনো মহিলার দিকে দৃষ্টিপাতের কারণে রতিক্রিয়া ছাড়াই বীর্যপাত হলে রোযা ভাঙবে না। তবে রোযা অবস্থায় স্ত্রীর দিকেও এমন দৃষ্টিতে তাকানো অনুচিত।

হাদীসে আছে, জাবের ইবনে যায়েদ রা.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে কামভাবের সাথে তাকিয়েছে, ফলে তার বীর্যপাত ঘটেছে, তার রোযা কি ভেঙে গেছে?

তিনি উত্তরে বললেন, না। সে যথারীতি রোযা পূর্ণ করবে। ুমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৬২৫৯; সহীহ বুখারী ১/২৫৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৪

বলাবাহুল্য যে, কুদৃষ্টি গোনাহের কাজ। আর রোযা অবস্থায় তা আরো ভয়াবহ গোনাহ। এটি ব্যক্তিকে রোযার ফযীলত ও বরকত থেকে বঞ্চিত করে দেয়।


মাসআলা : দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলার দানার চেয়েও কম পরিমাণের খাবার গিলে ফেললে রোযা ভাঙবে না, তবে মাকরূহ হবে। তবে ছোলার চেয়ে পরিমাণে কম খাবারও মুখ থেকে বের করে পুনরায় গিলে ফেললে রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা ওয়াজিব হবে। ুমাবসূত, সারাখসী ৩/৯৩-৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২


মাসআলা : ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর চলে গেলে রোযা ভাঙবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩


মাসআলা : মশা-মাছি অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর চলে গেলে রোযা ভাঙবে না।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, কারো গলায় মাছি ঢুকে গেলে রোযা ভাঙবে না। সহীহ বুখারী ১/২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩


মাসআলা : মাথায় বা শরীরে তেল ব্যবহার করলে রোযার ক্ষতি হয় না। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/৩১৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫


মাসআলা : চোখের পানি দুই-এক ফোঁটা মুখে চলে গেলে রোযার ক্ষতি হয় না। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩


মাসআলা : সাহরির সময় পান খেলে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। যাতে পান-সুপারির কোনো অংশ মুখে না থাকে। এর পরও থুথুতে লালচে ভাব থাকলে, এর কারণে রোযা ভাঙবে না। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২০৩


মাসআলা : সুস্থ অবস্থায় রোযার নিয়ত করার পর যদি অজ্ঞান, অচেতন বা পাগল হয়ে যায়, তাহলে রোযা নষ্ট হবে না। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬৮; আলমাবসূত ৩/৮৮


মাসআলা : লিপস্টিক বা লিপজেল লাগালে রোযা নষ্ট হয় না। তবে রোযা অবস্থায় এগুলো ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ মুখে চলে গেলে রোযা মাকরূহ হয়ে যাবে। আর গলার ভেতর চলে গেলে রোযা ভেঙে যাবে। ুআলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯


মাসআলা : কানে পানি প্রবেশ করলে বা কোনো কারণে পানি প্রবেশ করালে এর দ্বারা রোযা ভাঙবে না। ফিক্হুন নাওয়াযিল ২/২৯৭; যাবিতুল মুফাত্তিরাত, পৃ. ৫৮



মাসিক আলকাউসার


মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

তাখাসুস্স ফিল ফিকহ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

সম্মানিত মুফতি ও সদস্য, ফতোয়া বোর্ডফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা