যেসব কারণে শুধু কাযা ওয়াজিব হয়

==========================

মাসআলা : রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অসাবধানতাবশত কোনো খাদ্য বা পানীয় গলার ভেতরে চলে গেলেও রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে। আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২


মাসআলা : ওযু বা গোসলের সময় রোযার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর পানি চলে গেলে রোযা ভেঙে যাবে এবং শুধু কাযা করতে হবে।

সুফিয়ান  সাওরী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রোযা অবস্থায় (ওযু করার সময়) কুলি করতে গিয়ে (অনিচ্ছাকৃতভাবে) গলার ভেতর পানি চলে গেলে রোযা ভেঙে যাবে এবং তার কাযা করতে হবে। চাই ওযু ফরয নামাযের জন্য হোক বা নফল নামাযের জন্য। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭৩৮০; কিতাবুল আছল ২/১৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৮, ৩৮৮


মাসআলা : যা সাধারণত আহারযোগ্য নয় বা কোনো উপকারে আসে না, তা খেলেও রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও ইকরিমা রাহ. বলেন, (পেটে) কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোযা ভেঙে যায়। কোনো কিছু বের হওয়ার দ্বারা রোযা ভাঙে না। ুসহীহ বুখারী ১/২৬০ (তালীক); বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪১০


মাসআলা : হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে রোযা ভেঙে যাবে। এটা যে ভয়াবহ গুনাহের কাজ তা বলাই বাহুল্য।

হাদীস শরীফে কামেচ্ছা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকাকে রোযার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার জান! রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ তাআলার নিকট মেশকের চেয়েও বেশি প্রিয় (আল্লাহ তাআলা বলেন,) রোযাদার আমার জন্য পানাহার করা থেকে এবং কামেচ্ছা চরিতার্থ করা থেকে বিরত থাকে। সহীহ বুখারী ১/২৫৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭২; ফাতাওয়া শামী ২/৩৯৯


মাসআলা : রোযা অবস্থায় হায়েয বা নেফাস শুরু হলে রোযা ভেঙে যাবে। পরে তা কাযা করে নেবে।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহায় নারীদের লক্ষ করে বললেনু

...أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ، قُلْنَ: بَلى، قَالَ: فَذلِكِ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا.

...নারীরা কি ঋতুস্রাবের সময় রোযা ও নামায থেকে বিরত থাকে না।

নারীরা বলল, অবশ্যই।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটাই তাদের দ্বীনের অসম্পূর্ণতা। ুসহীহ বুখারী, হাদীস ৩০৪; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪৪০; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ১০০


মাসআলা : দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি থুথুর সাথে ভেতরে চলে যায়, তবে রক্তের পরিমাণ থুথুর সমান বা বেশি হলে রোযা ভেঙে যাবে। ুআলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৬

মাসআলা : দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার অধিক পরিমাণ খাবার গিলে ফেললে রোযা ভেঙে যাবে এবং শুধু কাযা করতে হবে। ুমাবসূত, সারাখসী ৩/৯৩-৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২

মাসআলা : ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে। জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২০; কিতাবুল আছল ২/২০২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩২৬


মাসআলা : মুখে বমি চলে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোযা ভেঙে যাবে। যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪১৫


মাসআলা : আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছাকৃত গলার ভেতরে টেনে নিলে রোযা ভেঙে যাবে এবং কাযা করতে হবে। রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫


মাসআলা : সুবহে সাদিকের পর সাহরির সময় বাকি আছে ভেবে পানাহার অথবা স্ত্রীসঙ্গম করলে রোযা ভেঙে যাবে। তেমনি ইফতারের সময় হয়ে গেছে ভেবে সূর্যাস্তের পূর্বে ইফতার করে নিলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।


আউন রাহ. থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ. রাত বাকি আছে ভেবে সাহরি খেলেন। তারপর জানতে পারলেন, তিনি সুবহে সাদিকের পর সাহরি করেছেন। তখন তিনি বললেন, আমি আজ রোযাদার নই। (অর্থাৎ আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে।) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯

আলী ইবনে হানযালা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রোযার মাসে উমর রা.-এর নিকট ছিলেন। তার নিকট পানীয় পেশ করা হল। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ সূর্য ডুবে গেছে ভেবে তা পান করে ফেলল। এরপর মুআযযিন আওয়াজ দিল, আমীরুল মুমিনীন! সূর্য এখনো ডোবেনি।

তখন উমর রা. বললেন, যারা ইফতার করে ফেলেছে, তারা একটি রোযা কাযা করবে। আর যারা ইফতার করেনি, তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ুমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/১৫০


মাসআলা : রোযা অবস্থায় ভুলবশত পানাহার করার পর রোযা নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাযা করা জরুরি হবে। ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১-৪০২; হাশিয়াতুত তাহতাবী, পৃ. ৩৬৮



মাসিক আলকাউসার


মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

তাখাসুস্স ফিল ফিকহ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

সম্মানিত মুফতি ও সদস্য, ফতোয়া বোর্ডফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা