যেসব কারণে কাযা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি
===================================
মাসআলা : রমযানে রোযা রেখে শরীয়তসম্মত কোনো ওযর ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কাযা-কাফফারা দুটোই জরুরি।
হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি রমযানে রোযা রেখে (ইচ্ছাকৃতভাবে) পানাহার করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ করলেন, সে যেন একটি দাস আযাদ করে বা দুই মাস রোযা রাখে বা ষাটজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ায়। ুসুনানে দারাকুতনী ২/১৯১; মাবসূত, সারাখসী ৩/৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৯-৪১০
মাসআলা : রমযানে রোযা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর কাযা ও কাফফারা ওয়াজিব হয়।
একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি রোযা রেখে স্ত্রী সহবাস করেছি।
নবীজী তাকে কাফফারা আদায়ের আদেশ দেন। ুসহীহ বুখারী, হাদীস ৬৭০৯; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২৪
মুহাম্মাদ ইবনে কা‘ব রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই ব্যক্তিকে (যে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়েছিল) কাফফারা আদায়ের সঙ্গে কাযা আদায়েরও আদেশ করেছেন। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭৪৬১
মাসআলা : সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জেনেও আযান শোনা যায়নি অথবা ভালোভাবে আলো ছড়ায়নিু এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কিংবা স্ত্রী সহবাস করলে কাযা ও কাফফারা দুটোই জরুরি হবে।
মাসআলা : রমযানের রোযা রেখে বিনা ওযরে ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হয়। আর যদি রমযানের কোনো রোযা একেবারেই নাই রাখে তাহলে এ কারণে কাফফারা ওয়াজিব হবে না; তাকে শুধু ঐ রোযাটি কাযা করতে হবে। যদিও শরয়ী ওযর ছাড়া রমযানের রোযা না রাখা ভয়াবহ কবীরা গুনাহ। রদ্দুল মুহতার ২/৩৮০; হাশিয়াতুত তাহতাবী পৃ. ২৪৩
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাখাসুস্স ফিল ফিকহ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা সম্মানিত মুফতি ও সদস্য, ফতোয়া বোর্ড, ফাতাওয়া ও মাসায়েল মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মাসিক আলকাউসার