সাহরি ও ইফতার
=============
মাসআলা : সাহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়; এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা সাহরি খাও। কেননা, সাহরিতে বরকত রয়েছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৫
অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, সাহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। তোমরা সাহরি খাও, যদিও এক ঢোক পানি হয়। কারণ যারা সাহরি খায়, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দুআ করেন। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৪৭৬
মাসআলা : সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত বেশি দেরি করা উচিত নয় যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
আবদুল্লাহ ইবেন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সকল নবীকে (সময় হয়ে গেলে দেরি না করে) তাড়াতাড়ি ইফতার করতে আদেশ করা হয়েছে এবং সাহরি সময়ের শেষদিকে খেতে বলা হয়েছে। আলমুজামুল আওসাত, তবারানী ২/৫২৬; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/৩৬৮
আমর ইবনে মাইমুন আলআওদি রাহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম (সময় হয়ে যাওয়ার পর) তাড়াতাড়ি ইফতার করে নিতেন আর সাহরি সময়ের শেষদিকে খেতেন। মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭৫৯১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯০২৫
মাসআলা : সূর্যাস্তের পর দেরি না করে ইফতার করা মুস্তাহাব।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যতদিন মানুষ দেরি না করে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৫৭
মাসআলা : খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার শুরু করবে।
আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যার কাছে খেজুর আছে সে খেজুর দ্বারা ইফতার করবে। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। কেননা পানি হল পবিত্র। জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৯৪
আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব নামায পড়ার আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর দ্বারা, তা-ও না পেলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন। জামে তিরমিযী, হাদীস ৬৯২
মাসআলা : ইফতারের সময় দুআ কবুল হয়। তাই এ সময় বেশি বেশি দুআ-ইস্তিগফার করা উচিত।
হাদীসে এসেছে, ইফতারের সময় রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (দ্র. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫৩)
মাসিক আলকাউসার
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
তাখাসুস্স ফিল ফিকহ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
সম্মানিত মুফতি ও সদস্য, ফতোয়া বোর্ড, ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা