হায়েয ও নেফাসগ্রস্ত মহিলার রোযা

==========================

মাসআলা : রমযানের দিনে হায়েয ও নেফাসগ্রস্ত মহিলা রোযা থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তীতে ঐ দিনগুলোর রোযা কাযা করে নেবে।

মাসআলা : রমযানের দিনে হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র হলে অবশিষ্ট দিন রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক এবং পরবর্তী সময়ে এ দিনের রোযারও কাযা করতে হবে। ুমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/২২১, হাদীস ৯৪৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮

অসুস্থ ব্যক্তির রোযা

===============

মাসআলা : অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোযা রাখলে রোগ বৃদ্ধি বা আরোগ্য-লাভে বিলম্ব হওয়ার প্রবল আশঙ্কা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তার রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরে সে রোযাগুলোর কাযা করে নেবে। তবে হালকা বা সাধারণ অসুস্থতার অযুহাতে রোযা না রাখা বা রেখে ভেঙে ফেলার সুযোগ নেই। সেজন্য এসব ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ মোতাবেক আমল করাই নিরাপদ। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলার রোযা

============================

মাসআলা : গর্ভবতী মহিলা রোযা রাখলে যদি তার বা সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অনুরূপভাবে স্তন্যদানকারী মা রোযা রাখলে দুগ্ধজাত সন্তানের কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে এ অবস্থায় তাদের রোযা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে ওই রোযা কাযা করে নেবে। আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছেু

إِن اللهَ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ وَعَنِ الْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ.

আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোযার হুকুম শিথিল করেছেন এবং আংশিক নামায কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীর জন্যও রোযার হুকুম শিথিল করেছেন। ুজামে তিরমিযী, হাদীস ৭১৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪২২

দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তির রোযা

=================

মাসআলা : বার্ধক্য বা জটিল কোনো রোগের কারণে যার রোযা রাখার সামর্থ্য নেই এবং পরবর্তীতে কাযা করার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই, এমন ব্যক্তির রোযা রাখার প্রয়োজন নেই। রোযার পরিবর্তে সে ফিদইয়া প্রদান করবে।

নাবালেগ বাচ্চাদের রোযা

==================

মাসআলা : নাবালেগ বাচ্চাদের ওপর যদিও রোযা রাখা জরুরি নয়; তথাপি বাচ্চারা যখন শারীরিকভাবে রোযা রাখতে সক্ষম হয়, তখন থেকে তাদেরকে দুয়েকটি করে রোযা রাখতে উৎসাহিত করবে। আর বালেগ হওয়ার পরই যেহেতু রোযা রাখা আবশ্যক হয়ে যায়, তাই সে বিষয়টি লক্ষ রেখে বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে ছেলে-মেয়েদেরকে রোযার প্রতি অভ্যস্ত করে তুলবে।

সাহাবায়ে কেরাম রা. তাঁদের সন্তানদেরকে রোযা রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। রুবায়্যি বিনতে মুআওয়াজ রা. বলেন, আমরা নিজেরা আশুরার রোযা রাখতাম এবং আমাদের বাচ্চাদেরকেও রোযা রাখাতাম। তাদের জন্য পশমের তৈরি খেলনা রাখতাম। যখন বাচ্চাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদত তখন তাকে খেলনা দিতাম, এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত। সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৬০




মাসিক আলকাউসার


মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

তাখাসুস্স ফিল ফিকহ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

সম্মানিত মুফতি ও সদস্য, ফতোয়া বোর্ডফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা