মুসাফিরের রোযা
=============
মাসআলা : মুসাফির ব্যক্তির জন্য সফর অবস্থায় রোযা রাখা জরুরি নয়। সফর অবস্থায় রোযা না রেখে পরে রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায়ও রোযা রাখা উত্তম।
আসেম রাহ. বলেন, আনাস রা.-কে সফরের হালতে রোযা রাখার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মুসাফিরের জন্য রোযা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রোযা রাখা উত্তম। ুমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯০৬৭
মাসআলা : সফর অবস্থায় যদিও রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে তথাপি কেউ রোযা রাখলে বিনা ওযরে তা ভাঙা জায়েয নয়। সফর অবস্থায় কেউ রোযা রেখে ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে এ কারণে কাফফারা আসবে না। শুধু কাযা করতে হবে। রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১
মাসআলা : সফরের কারণে রোযা না রাখার সুযোগ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ দিনের শুরু তথা সুবহে সাদিকের সময় মুসাফির থাকবে। অতএব সুবহে সাদিকের সময় নিজ এলাকায় বা অন্য কোথাও মুকীম থাকলে সেক্ষেত্রে দিনের বেলা সফর করার পূর্ণ ইচ্ছা থাকলেও সফরের অযুহাতে রোযা না রাখার সুযোগ নেই। এমনিভাবে মুকীম অবস্থায় রোযা রেখে সুবহে সাদিকের পর সফর করলে শরয়ী কোনো ওযর ছাড়া রোযা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই।
মাসআলা : মুসাফির ব্যক্তি যদি সফরের কারণে রোযা না রাখে; কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই সে মুকীম হয়ে যায়, তাহলে সে দিনের অবশিষ্ট সময় রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে আহার ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। আর পরবর্তী সময়ে এ রোযার কাযা করে নেবে।
হাসান বসরী রাহ. বলেন, যে মুসাফির রমযানের দিনে (সফরের হালতে) খাবার খেয়েছে, সে মুকীম হয়ে গেলে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯৪৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮
মাসিক আলকাউসার
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
তাখাসুস্স ফিল ফিকহ শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
সম্মানিত মুফতি ও সদস্য, ফতোয়া বোর্ড, ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা