যিনি নিজের অবস্থান থেকে শরয়ী ৪৮ মাইল বা তার অধিক দূরত্বে গমনের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং গন্তব্যস্থানে পনের দিন বা তার অধিক সময় অবস্থানের নিয়ত না করে, এমন ব্যক্তিকে পুনরায় নিজের আবাসস্থলে ফিরে আসা পর্যন্ত মুসাফির বলা হয়।

 

শরীয়ত মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি দিয়েছে। তবে সফরে অস্বাভাবিক কষ্ট না হলে রোযা রাখা উত্তম। অন্যথায় অনুত্তম। সর্বাবস্থায় মুসাফির রোযা না রাখলে পরবর্তীতে তা অবশ্যই কাযা করতে হবে, কাফফারার প্রয়োজন নেই।

হযরত আনাস রা.কে সফর অবস্থায় রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন- "যে রোযা রাখবে না সে অবকাশের সুযোগ গ্রহণ করলো। আর যে সফরে রোযা রাখলো সে উত্তম পন্থাই গ্রহণ করলো। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৬/১৩২, হা-৯০৬৭)

সফরাবস্থায় রোযা রাখা শুরু করলে নফল নামাযের ন্যায় তার উপর তা পূরণ করা ওয়াজিব। তাই শুরু করে ভেঙ্গে ফেলা বৈধ নয়। ভেঙ্গে ফেললে গুনাহগার হবে। তাতে কাযা ওয়াজিব হবে, কাফফারা দিতে হবে না। হযরত আনাস রা. বলেন- কেউ রোযা রেখে সফরে বের হলে রোযা ভাঙ্গতে পারবে না। তবে যদি পিপাসার কারণে জীবননাশের আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে রোযা ভাঙতে পারবে। অবশ্য পরে তা কাযা করতে হবে। (রদ্দুল মুহতার শামী: ২/৪৩১)

মুকীম অবস্থায় রোযা রেখে সফর আরম্ভ করলেও তা পূর্ণ করতে হবে। যেমনি হযরত আনাস রা. এর উপরোক্ত বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

কোনো মুসাফির রোযা না রেখে রমযানে দিনের শেষাংশে আপনাবস্থানে ফিরে আসলে বা মুকিম হয়ে গেলে অথবা কোনো মহিলা দিনের শেষাংশে হায়েয নিফাস থেকে পবিত্র হয়ে গেলে রমযানের মর্যাদা রক্ষার্থে অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরী। তবে এর দ্বারা ওই দিনের রোযা আদায় হবে না; বরং অন্যান্য দিনের মত এ দিনেরও কাযা ওয়াজিব। হযরত ইব্রাহীম নাখয়ী রহ. বলেন, মুসাফির রমযানের দিনের বেলায় খানা খেয়ে পরে মুকিম হয়ে গেলে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে। (ফতোয়ায়ে তাতারখানীয়া: ৩/৪২৮)

 

হযরত হাসান রহ. বলেন- সুবহে সাদিকের পর যে হায়েয থেকে পবিত্র হলো, সে দিনের বাকি অংশে পানাহার করবে না। (তাতারখানীয়া: ৩/৪২৮)

 

উত্তর প্রদানে

মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ

মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল