এম, আর করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায়। এম, আর হলো মাসিক নিয়মিতকরণ।
গর্ভধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে 'এম, আর' সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে জীবিত কিংবা মৃত ভ্রূণ বের করে নিয়ে আসাকে 'এম, আর' বলে। 'এম, আর'-এর কারণে ঋতুস্রাব নিয়মিত হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, যদিও 'এম, আর' ডাক্তারদের পরিভাষায় গর্ভপাত। কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে 'এম, আর' গর্ভপাতের হুকুমে নয়। কেননা 'এম, আর' আট সপ্তাহের ভিতরে হয়। আর এসময়ে সাধারণত বাচ্চার কোনো অঙ্গ, নখ, চুল ইত্যাদি প্রকাশ পায় না। আর কোনো অঙ্গ প্রকাশ হওয়ার পূর্বে ভ্রূণ বেরিয়ে আসলে একে গর্ভপাত কিংবা وضع حملবলা হয় না এবং এর পর যে স্রাব হয় একে নিফাসও বলা হয় না। তথাপিও 'এম, আর' করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কেননা 'এম, আর'-এর কারণে যে রক্ত বের হয় একে 'মাসিক' বা (সবহং) ধরা হয়। অতএব স্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। হ্যাঁ যদি কোনো মহিলার ইফতারের আগ মুহূর্তে 'এম.আর' শুরু করা হয় ও ইফতারের সময় হওয়ার পর স্রাব শুরু হয়, তাহলে তার ঐ দিনের রোযা হয়ে যাবে।
তবে কখনো ৪২ দিন মতান্তরে ৫২ দিনেও কোনো অঙ্গ প্রকাশ হয়ে যায়। যদি কারো ক্ষেত্রে এমন দেখা যায়, তাহলে তা গর্ভপাত হিসাবে ধর্তব্য হবে। তখন এক্ষেত্রে গর্ভপাতের কারণে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পরবর্তী স্রাবও নিফাস হিসাবে গণ্য হবে। (আল ইসলাম ওয়া তিব্বুল হাদীস: ২৫৯)
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ
মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল