চোখে ঔষুধ ব্যবহার করা হলে (তরল কিংবা জমাট হোক এবং তার স্বাদ গলায় অনুভূত হোক বা না হোক) রোযা ভঙ্গ হবে না। ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে বলা হয়েছে, যদি চোখে ঔষুধ দেয়া হয় এবং গলায় তার স্বাদ অনুভূত হয়, তবুও রোযা ভঙ্গ হবে না। (১/২০৩) খুলাসাতুল ফাতাওয়ার ভাষ্য হলো- সুরমা ব্যবহারে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। যদিও তার স্বাদ বা রং অনুভূত হয়। (১/২৫৩, রশীদিয়া)পক্ষান্তরে হিদায়া গ্রন্থে আছে- কানে কোনো প্রকার তরল ঔষুধ দিলে, তাতে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (হিদায়া: ১/২২০, বুশরা)চোখ এবং কান সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. এর গবেষণা হলো- চোখে সুরমা (এবং তরল কিংবা জমাট ঔষুধ) ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হবে না। তবে যারা এই মর্মে আপত্তি করেন যে, চোখ থেকে গলা পর্যন্ত ছিদ্র আছে। বিধায় চোখে ঔষুধ ব্যবহার করলে গলায় তার স্বাদ অনুভূত হয়। তাই রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। তাদের ফতোয়া সঠিক নয়।কারণ- চোখ থেকে গলা পর্যন্ত যে ছিদ্র আছে, এগুলো অত্যাধিক সূক্ষ্ম হওয়ায় লোমকূপের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর লোমকূপের হুকুম হচ্ছে, রোযাবস্থায় লোমকূপ দিয়ে কোনো কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা নষ্ট হয় না।অতএব, চোখ দিয়ে কোনো কিছু ভেতরে প্রবেশ করলেও রোযা নষ্ট হবেনা।আর কানে ঔষুধ দিলে রোযা নষ্ট না হওয়া উচিত। যদিও আমাদের পূর্ববর্তী ফুকাহায়ে কেরাম বলেছিলেন 'কানে ঔষুধ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে'। কারণ, তাদের ধারণা ছিলে, কানে ঔষুধ ব্যবহার করলে তা গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ একমত যে, কান থেকে গলা পর্যন্ত ঔষুধ পৌঁছার মত কোনো পথ নেই। কানে ঔষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে রোযা নষ্ট হওয়া নির্ভর করে ব্যবহৃত ঔষুধ গলায় পৌঁছার উপর।কিন্তু পর্যালোচনার মাধ্যমে বুঝা গেলো, চোখ ও কানে ঔষুধ ব্যবহার করলে তা গলায় পৌঁছার গবেষণাটি সঠিক নয়। এ কারণেই বর্তমান অনেক উলামার মত হচ্ছে, চোখ ও কানে ঔষুধ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হবে না। তবে সতর্কতাই উত্তম। (ইনআমুল বারী: ৫/৫২২, মাকতাবাতুল হেরা)

 

উত্তর প্রদানে

মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ

মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল