এক.

রোযার কাফফারা হলো প্রতিটি রোযার পরিবর্তে দুই মাস (হিজরী গণনায়) ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখা। যে ব্যক্তি এভাবে রোযা রাখতে সক্ষম নয়, তার জন্য শরীয়তে বিকল্প হিসেবে একটি দাস (গোলাম) আযাদ করা। বর্তমানে যেহেতু দাস-দাসীর প্রচলন নেই, তাই তার বিকল্প হিসেবে শরীয়তের বিধান হচ্ছে, কেউ এভানে রোযা রাখতে অক্ষম হলে তার বিধান হলো প্রতিটি রোযার পরিবর্তে ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো, এটাই রোযার কাফ্ফারা। (রদ্দুল মুহতার:৩-৩৯০ যাকারিয়া)

দুই.

কাফফারার রোযা আদায়কালীন তার ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে বরং কোনো একটি রোযা মাঝখানে ছুটে গেলে পুনরায় নতুন করে রোযা শুরু করতে হবে। এক্ষেত্রে পিছনের রোযাগুলো নফল হিসেবে গণ্য হবে। কাফ্ফারার রোযা হিসেবে পরিগণিত হবে না। (রদ্দুল মুহতার:৩-৩৯০ যাকারিয়া)

তিন.

মহিলাদের মাসিক ঋতুর কারণে ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হলে শরীয়তে তা ওযর হিসেবে বিবেচ্য। অর্থাৎ এ কারণে পুনরায় নতুন করে রোযা রাখার প্রয়োজন নেই। পূর্বের রোযাগুলো কাফফারা স্বরূপ গণ্য হবে। তবে শর্ত হচ্ছে, হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার সাথে সাথে পুনরায় রোযা আরম্ভ করতে হবে। একদিনও বিলম্ব হয়ে গেলে ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে না। বিশিষ্ট ফকীহ হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রহ. বলেন- "যার উপর কাফফারা হিসাবে দুই মাস ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখা জরুরী, সে যদি মাঝখানে অসুস্থ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারে, তাহলে আবার নতুন করে রোযা রাখা শুরু করতে হবে।" (কেননা ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে গেছে) (আল বাহরুর রায়েক: ২/৪৮৫ যাকারিয়া)

উল্লেখ্য, মাসিক ঋতুস্রাব সাধারণ অসুস্থতা নয়। বিধায় এ ব্যাপারটি স্বতন্ত্র।

চার.

রোযা রাখতে সক্ষম ব্যক্তি ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ালে কাফফারা আদায় হবে না; বরং যে ব্যক্তি অসুস্থতা বা ভিন্ন কারণে রোযা রাখতেই অক্ষম, শুধু তার জন্য ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানোর বিধান সীমাবদ্ধ। (আলবাহরুর রায়েক: ২/৪৮৪ যাকারিয়া)

উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রমযান মাসে রোযাই রাখেনি। এমন ব্যক্তির উপর কাযা ওয়াজিব, কাফফারা নয়। তার জন্য পরকালে ভয়ানক ও কঠিন আযাব অপেক্ষা করছে। শুধু কাযা দ্বারাও তার অপরাধ ক্ষমা হবে না। হ্যাঁ, হালকা হতে পারে।

পাঁচ.

এক রোযার কাফফারা আদায় করার পূর্বেই যদি কেউ একাধিকবার ইচ্ছাকৃত রোযা ভেঙ্গে ফেলে, তাহলে সবক'টি রোযার জন্য একটি কাফফারাই যথেষ্ট। তবে পৃথকভাবে প্রতিটি রোযার কাযা আদায় করতে হবে। অন্যথায় প্রত্যেকটি রোযার জন্য পৃথক পৃথক কাফফারা দিতে হবে। (মাহমুদিয়া: ২২/৩৭৩, ফারুকিয়া)

 

উত্তর প্রদানে

মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ

মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল