রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি কোনো ওযর অথবা রোগ ব্যতীত রমযানের রোযা ছেড়ে দিলো। সে যদি পুরো জীবন রোযা রাখে তাহলেতো রমযানের রোযার সমমান হবে না। (মিশকাত শরীফ: ১/১৭৭)

রাসূল সা. এর উপরোক্ত কথার ব্যাখ্যা এ নয় যে, রমযানের রোযার কাযা নেই; বরং ব্যাখ্যা হলো- রমযানের রোযা রাখার যে পুরষ্কার, সম্মান এবং সাওয়াব পাওয়া যায় তা রমযান ছাড়া আর কখনো পাওয়া যাবে না।

যে সব কারণে কাযা ও কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়। এমন কারণ মৌলিকভাবে

 

দু'টি যথা:

১. রোযা রেখে শরয়ী ওযর ব্যতীত খাদ্য অথবা খাদ্য জাতীয় কোনো জিনিস (যার প্রতি স্বভাবগত আকর্ষণ থাকে এবং খাবারের চাহিদাও পূরণ হয়) ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কাযা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব।

যেমনটি আল্লামা জাযায়েরী রহ. উল্লেখ করেছেন -

الحنفية قالوا : يوجب القضاء والكفارة أمران : الأول أن يتناول غذاء أو ما في معناه بدون عذر شرعي كالأكل والشرب ونحوهما ويميل إليه الطبع وتنقضي به شهوة البطن كتاب الفقه على

المذاهب الأربعة : (٥٣٠/١)

 

২. রোযাবস্থায় যদি ইচ্ছাকৃত যৌন চাহিদা পূরণ করা হয়। তাহলে কাযা, কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব। আল্লামা জাযায়েরী রহ. বলেন-  يقضي شهوة الفرج كاملةالثاني : أن

(কিতাবুল ফিকহি আলাল মাযাহিবিল আরবা'আ: ১/৫৩০)

সুতরাং রমযানে রোযা রেখে দিনে ইচ্ছাকৃত স্ত্রী সহবাস করলে (বীর্যপাত হোক বা না হোক সর্বাবস্থায়) স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর কাযা ও কাফ্ফারা ওয়াজিব।

প্রমাণ- এক দীর্ঘ হাদিসে এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূল সা. এর নিকট এসে বললেন, হুজুর! আমি রোযাবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। রাসূল সা. তাকে কাফ্ফারা আদায়ের নির্দেশ দিলেন। (বুখারী: হা: ১৯৩৬)

অপর বর্ণনায় হযরত কা'ব রা. বলেন, রাসূল সা. তাকে কাযার সাথে কাফ্ফারা আদায় করার আদেশ দেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক:হা: ৭৪৬১)

উল্লেখ্য, অনেকে মনে করেন "রোযাবস্থায় ইচ্ছাকৃত স্ত্রী সহবাস দ্বারা কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়; কিন্তু রোযাবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কাফ্ফারা দেয়া লাগে না"। এমন ধারণা মারাত্মক ভুল। কেননা, এ ব্যাপারে ইমাম দারাকুতনী রহ. তার সুনান কিতাবে বর্ণনা করেন যে, এক লোক রমযানে রোযা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার করে ফেলে। তখন রাসূল সা. তাকে আদেশ করলেন, একটি গোলাম আযাদ করো বা দুই মাস ধারাবাহিক রোযা রাখো কিংবা ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াও। (সুনানে দারা কুতনী: ২/১৯১)

অনুরূপ আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে আছে, ইমাম যুহরী রহ. বলেন-"রমযানে রোযা রেখে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পানাহার করবে, তার হুকুম ইচ্ছাকৃত দিনে সহবাসকারীর অনুরূপ, তার কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। (২/২৭৬)

 

৩. রযা স্মরণ থাকা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত ধুমপান তথা বিড়ি সিগারেট, হুক্কা পান করলে তার বিধানও পানাহার করার মত অর্থাৎ কাযা কাফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব। (শামী-৩/৩৮৫)

৪. সুবহে সাদিক হয়ে গেছে নিশ্চিত জেনেও আযান শোনা যায়নি বা ভালভাবে ভোরের আলো ছড়ায়নি, এখনো অন্ধকার এ ধরণের ভিত্তিহীন অজুহাতে পানাহার বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হলেও কাযা-কাফ্ফ্ফারা উভয়টি ওয়াজিব। (মাআরিফুল কুরআন: ১/৪৫৪)

 

উত্তর প্রদানে

মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ

মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল