এক,
ইফতার করা সুন্নাত। সূর্যাস্তের সাথে সাথেই অবিলম্বে ইফতার করা মুস্তাহাব।
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে-لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرِ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
যতদিন মানুষ বিলম্ব না করে সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের পথে থাকবে। (১/২৬৩, হা-১৯৫৭)
নবীর এ শিক্ষার উপর যুগে যুগে সাহাবা রা. আমল করেছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: হা- ৯০২৫, দারুল হাদিস)
রাসূল সা. মাগরিবের নামাযের পূর্বেই ইফতার করতেন। যাতে মুস্তাহাবের উপর আমল হয়। অনেককে দেখা যায়, অতিরিক্ত তাকওয়া মনে করে মাগরিবের নামাযের পর ইফতার করেন। এটা মারাত্মক ভুল ও সুন্নাত পরিপন্থী।
দুই:
রাসূল সা. তাজা খেজুর )رطب( দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। তাও পাওয়া না গেলে পানি পান করে ইফতার করতেন। এটাই নবী সা. এর আদর্শ। এর উপর আমল মুস্তাহাব। অথচ অনেককে দেখা যায়, খেজুর ও পানি থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য খাবার দ্বারা ইফতার শুরু করেন, এটা অনুত্তম।
রাসূল সা. ইরশাদ করেন-
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ وَجَدَ تَمْرًا فَلْيُفْطِرْ عَلَيْهِ، وَمَنْ لَا، فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ، فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ
যার কাছে খেজুর আছে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। খেজুর সংগ্রহে না থাকলে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা, পানি হলো পবিত্র। (তিরমিযী: হা: ৬৯৪, দারুল হাদীস)
তিন:
সাহরী খাওয়া সুন্নাত ও বরকতের কারণ। যারা সাহরী খায় তাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। ফেরেস্তারাও দু'আ করেন। পেট ভরে খাওয়া জরুরী নয়। সুন্নাতের নিয়তে এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরীর সাওয়াব পাওয়া যায়। রাসূল সা. ইরশাদ করেন-
تَسَخَرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً"তোমরা সাহরী খাও। কেননা, সাহরীতে রয়েছে অপরিসীম বরকত"।(মুসলিম: ১/৩৫০,হা-১০৯৫, দারুল হাদীস)
চার.
সুবহে সাদিকের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত বিলম্ব করে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এতো বেশী বিলম্ব করা ঠিক নয় যে, সুবহে সাদিক হওয়ার আশঙ্কা হয়। এমন করা অনুত্তম বা মাকরুহ।
রাসূল সা. ইরশাদ করেন-إِنَّا مَعَاشِرَ الْأَنْبِيَاءِ أُمِرْنَا أَنْ نُعَجِلَ فِطْرَنَا، وَأَنْ نُؤَخِّرَ سَحُورَنَا
(رجاله رجال صحيح)
অর্থাৎ সকল নবীকে সময় হওয়ার পর ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সাহরী শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩/৩৬৮, হা-৪৮৮০, দারুল ফিকির)
পাঁচ:
ইফতারের সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং দু'আ কবুল হওয়ার সময়। এ সময় খুব মনযোগী হয়ে বিনিষ্টচিত্তে দুয়ায় মগ্ন থাকা চাই। একাকী দুয়া করা ভালো, সুন্নাত বা জরুরী মনে না করার শর্তে সম্মিলিত দুয়া করতেও কোনো সমস্যা নেই। ইফতারের সময় এ দুআ পড়া উত্তম, জরুরী নয়।
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
তবে অর্থের প্রতি খেয়াল করবে। হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্যই রোযা রেখেছি এবং তোমার রিযিক দ্বারাই ইফতার করছি। (আবু দাউদ: হা: ২৩৫৮)
ইফতারের পর রাসূল সা. নিম্নোক্ত দুয়াটি পড়তেন। তাই সবার তা পড়া প্রয়োজন।
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ (ابوداود: رقم: (٢٣٥٧) (صححه الحاكم)
অর্থাৎ পিপাসা দূর হলো, শিরা উপশিরা সতেজ হলো, রোযার সাওয়াবও লিপিবদ্ধ হবে, ইনশাআল্লাহ। (আবু দাউদ:হা: ২৩৫৭)
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ
মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল