এক.
রোযার নিয়ত ফরয। নিয়ত অন্তরের সংকল্প মাত্র। রোযার নিয়ত বিভিন্ন বইতে বিভিন্নভাবে দেয়া আছে। এগুলো হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়; তাই আরবীতে নিয়ত পড়তেই হবে, না পড়লে রোযা হবে না এ ধারণা মারাত্মক ভুল। নিজ ভাষায় মনে মনে বলবে যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রোযা রাখছি। মুখে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই।বুখারী শরীফে রয়েছে- ،إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِসমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। (বুখারী: ১/২, হা-০১)
দুই:
পুরো রমযানের জন্য একত্রে একবার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়; বরং প্রত্যেক রোযার নিয়ত পৃথকভাবে করা জরুরী। কারণ, প্রতিটি রোযাই স্বতন্ত্র আমল। রোযার নিয়ত রাতেই করা উচিত। রাতে করতে না পারলে কমপক্ষে দিনে সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়ার পূর্বেই করা আবশ্যক। অন্যথায় রোযা সহীহ হবেনা। হাদিসে আছে, দিনের প্রথম দিকে রাসূল সা. এক সাহাবীকে ঘোষণা করতে বললেন, যেসব লোক সকাল থেকে কিছু খায়নি তারা যেন আশুরার রোযা রাখে। আর যারা কিছু খেয়ে ফেলেছে, তারা দিনের বাকি অংশে পানাহার থেকে বিরত থাকে। কারণ, আজকের দিবসটি আশুরার দিবস।(বুখারী: হা- ২০০৭)
তিন:
প্রতিটি রোযার নিয়ত আগের দিন সূর্যাস্তের পর থেকে করা জায়েয, এর পূর্বে করলে সে নিয়ত ধর্তব্য নয়। আর সূর্যাস্তের পর সুবহে সাদিক পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাসের অবকাশ আছে। এতে নিয়তের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ (البقرة: ١٨٧)
রমযানের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। (বাকারা: ১৮৭)
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ
মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল