শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে চাঁদ দেখা ছাড়াই পরদিন রোযা রাখবে। কিন্তু ২৯ দিন হলে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখতে হবে। এর দু অবস্থা:
ক. আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে চাঁদ দেখা দুষ্কর। শরীয়ত এক্ষেত্রে রোযা শুরু হওয়ার জন্য একজন দ্বীনদার ব্যক্তির চাঁদ দেখাই যথেষ্ট মনে করে। আবু দাউদ শরীফসহ হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন- একজন মরুবাসী রাসূল স.-এর নিকট চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলে রাসূল সা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, অবশ্যই। এরপর রাসূল সা. সকলকে তার চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোযা রাখার নির্দেশ দেন। (আবু দাউদ: ২৩৪০, নাসায়ী: ২১১১)
খ. আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে, তখন শুধু একজনের খবর যথেষ্ট নয়; বরং বহু লোক সাক্ষ্য দিতে হবে, যাদের কথা বিশ্বাসযোগ্য। কারণ পরিষ্কার আকাশে অনেকেরই চাঁদ দেখার কথা ছিল, কেউ সাক্ষ্য দেয় নি। তাই এ অবস্থায় শুধু দু-একজনের খবরের উপর নির্ভর করা যায় না। (রদ্দুলমুহতার: ৩/৩৮৮)
গ, রাসূল সা. রমযান ছাড়া অন্য মাসের তুলনায় শাবান মাসে বেশী বেশী রোযা রাখতেন। এটা রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি ধরা যায়। তবে রাসূল সা. তার উম্মতকে শাবানের ২৯ এবং ৩০ তারিখে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য যে ব্যক্তি আগে থেকেই বিশেষ দিবসে নফল রোযা রেখে অভ্যস্ত তার জন্য শাবানের ২৯ ও ৩০ তারিখেও তা বৈধ আছে। (বুখারী: ১/২৫৬, হা-১৯১৪)
তবে শাবানের ৩০ তারিখে রমযান হওয়ার সন্দেহে রোযা রাখা সকলের জন্য অবৈধ। এটাকে يوم الشك 'সন্দেহের দিবস বলে।
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ
মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা