প্রবন্ধ

 

রোযার অর্থ

রোযা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। হযরত আদম আ.-এর যুগ থেকেই রোযার সূচনা। পরবর্তী সকল নবী রাসূলের ধর্মেই রোযার বিধান ছিলো। যদিও পদ্ধতি ছিলো ভিন্ন। তাইতো ইহুদী নাসারাও রোযা রাখতো। ইউনানী এবং হিন্দু ধর্মেও রোযার প্রমাণ পাওয়া যায়। আর বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম স্তম্ভই হচ্ছে রোযা। মোটকথা দুনিয়ার প্রায় সকল ধর্মেই রোযার গুরুত্ব এবং শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি রয়েছে।

রোযার আভিধানিক অর্থ: আরবী ভাষায় রোযা কে صيام (সিয়াম) বলে।

 

রোযার পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তে صيام )সিয়াম) হল সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তের সাথে পানাহার ও স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। (কিতাবুল ফিকহি আলাল মাযাহিবিল আরবাআ: ১/৫১২)

 

রোযা কখন ফরয হয়েছিলো?

নবুয়ত প্রাপ্তির পর বহুদিন পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ হতে হুকুম ছিলো, শুধু প্রতিমা পূজা ত্যাগ করে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।

তাই রাসূল সা. মক্কায় অবস্থান কালে প্রায় তের বছরের পুরো সময়টিতে শুধু আল্লাহ পাকের উপরোক্ত হুকুম শুনিয়েছেন ও আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছেন। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য বিধি-বিধান নাযিল হওয়া শুরু হয়। প্রথমে নামায এবং দ্বিতীয় হিজরীর ১০ই শাবান মদিনা শরীফে রমযানের রোযা ফরয করা হয়। (কিতাবুল ফিকহি আলাল মাযাহিবিল আরবাআ: ১/৫১৩)

 

রোযার ফযীলত

হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

قَالَ اللَّهُ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِنَّا الصِّيَامَ ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ.

وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ

'মানুষের সকল আমলই তার নিজের জন্য। তবে রোযা তার ব্যতিক্রম। কেননা রোযা হচ্ছে আমার জন্য। আমি তার বিনিময় দেবো। আর রোযা হবে (জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য) ঢালস্বরূপ।' (বুখারী শরীফ: ১/২৫৫, হা-১৯০৪)

অন্য হাদিসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন,

وَالَّذِي نَفْس محمدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى

مِنْ ربح المِسْكِ.

'সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের জীবন, রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুগন্ধি হতে উত্তম।' (বুখারী শরীফ: ১/২৫৪, হা-১৯০৪)

অপর হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِنَّ فِي الجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، لا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ.

জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে, যা দিয়ে শুধু রোযাদারই প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী শরীফ: ১/২৫৪, হা-১৮৯৬)

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যক্তি পূর্ণবিশ্বাস রেখে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে রমযানের রোযা রাখে, তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারী শরীফ: ১/২৫৫, হা-২০১৪)

রাসূলসা. ইরশাদকরেন, إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الجَنَّةِ، وَغُلِقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ

وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ

যখন রমযান মাস শুরু হয় তখন আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বুখারী শরীফ: ১/২৫৫, হা-৩২৭৭)

 

ইফতারের ফযীলত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ

রোযাদারের আনন্দময় দুটি মুহূর্ত রয়েছে, একটি ইফতারের মুহূর্ত, অন্যটি আল্লাহর স্বাক্ষাত লাভের মুহূর্ত। (বুখারী শরীফ: ১/২৫৪, হা-১৯০৪)

 

সাহরীর ফযীলত

সাহরীর ফযীলত সম্পর্কে নবী কারীম সা. বলেন, تَسَخَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً

তোমরা সাহরী খাও। কেননা তাতে বরকত রয়েছে। (বুখারী শরীফ: ১/২৫৭)

রাসূল সা. আরো বলেন, যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে সে উক্ত রোযাদারের (রোযার) সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে।

(ইবনে মাযাহ শরীফ: ১/১২৫, হা-১৯২৩)

 

উত্তর প্রদানে

মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ

মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল