মুহতারাম! আমার বন্ধু শিহাবের বয়স ১৯ বছর, সে রোজা রেখে নদীতে গোসল করতে যায়। নদীতে লাফ দেওয়ার পরে তার নাকে ও কানে পানি ঢুকে যায়। গোসল শেষে বাড়ি এসে প্রতিদিনের অভ্যাস অনুযায়ী আজও মনের ভুলে খাবার খায়। খাওয়া শেষ করে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা হলে সে তার মনের ভুলে খাওয়ার কথা বলে, এটা শুনে তার বন্ধু বললো তোমার তো রোজা ভেঙ্গে গেছে। কারণ রোজা ভুল বশত কিছু খেলেও রোজা ভেঙ্গে যায়, এটা শুনে শিহাব ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খায়। জানার বিষয় হলো, তার রোজা অবস্থায় কানে বা নাকে পানি গেলে বা ভুলবশত খাওয়ার পর রোজা ভেঙ্গে গেছে মনে করে, পরে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবার খেলে তার উপর কাজা আসবে নাকি কাজা কাফফারা উভয়টি আসবে? ইল্লত সহ বিস্তারিত জানাবেন।
নিবেদক, আল আমিন প্রধান
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
শরয়ী দৃষ্টিতে রোজার কথা স্মরণ থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃত নাকে পানি গেলে রোজা ভেঙ্গে যায় এবং উক্ত রোজার কাজা আবশ্যক হয়। এমনিভাবে ভুলবশত খাওয়ার পর রোজা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পুনরায় ইচ্ছাকৃত খাবার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যায় এবং উক্ত রোজার কাজা আবশ্যক হয়। কাফফারা নয়। সুতরাং আপনার বন্ধুর নাকে পানি যাওয়া যদি রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় হয়ে থাকে তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে গেছে এবং উক্ত রোজার কাজা আবশ্যক হবে। অন্যথায় নয়। কিন্তু পরবর্তীতে ভুলবশত খাওয়ার পর রোজা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পুনরায় ইচ্ছাকৃত খাবার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে উক্ত রোজার শুধু কাজা আবশ্যক হবে। কাফফারা নয়।
আর নির্ভরযোগ্য তাহকীক অনুযায়ী কান গ্রহণযোগ্য প্রবেশদ্বার না হওয়ায় তাতে কোন কিছু প্রবেশ করার দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে যদি কারো কানের পর্দা ফাটা থাকে সেক্ষেত্রে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
সূত্র:আল মাকালাতুল ফিকহিয়া: ১/১১৪ করাচি, ফতোয়ায়ে শামী: ৩/৪২২ আজহার,ফাতহুল কাদীর: ২/৩৪৭ রশিদিয়া।
و الله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুহাম্মদ আবু সালেহ
মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল