প্রশ্ন নং:
(১) “মাওলানা” শব্দের অর্থ কী?
(২) কাউকে “মাওলানা” বলা কি সঠিক?
উত্তর:
“مَوْلَىٰ” (মাওলা) শব্দটি আরবি ভাষার বহুবিধ অর্থে ব্যবহৃত হয়। কুরআন ও হাদীসে এর অর্থ ব্যবহারের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। নিচে কয়েকটি অর্থ উল্লেখ করা হলো—
১. মনিব
وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَبْكَمُ لَا يَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ وَهُوَ كَلٌّ عَلَى مَوْلَاهُ أَيْنَمَا يُوَجِّهْهُ لَا يَأْتِ بِخَيْرٍ هَلْ يَسْتَوِي هُوَ وَمَنْ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَهُوَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ
আল্লাহ আরো দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন দু’ব্যক্তির তাদের একজন হল বোবা, কোন কিছুই করতে সক্ষম নয়। তার মনিবের উপর সে একটা বোঝা, তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন, কোন কল্যাণই সে নিয়ে আসবে না। সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যে ইনসাফের নির্দেশ দেয় আর সরল সুদৃঢ় পথে প্রতিষ্ঠিত? (নাহল, আয়াত ৭৬)
এখানে “মাওলা ” শব্দটি মনিব অর্থে ব্যবহৃত।
২. উত্তরাধিকারী
وَ لِكُلٍّ جَعَلۡنَا مَوَالِیَ مِمَّا تَرَكَ الۡوَالِدٰنِ وَ الۡاَقۡرَبُوۡنَ ؕ وَ الَّذِیۡنَ عَقَدَتۡ اَیۡمَانُكُمۡ فَاٰتُوۡهُمۡ نَصِیۡبَهُمۡ ﴿۳۳﴾
আর আমি প্রত্যেকের জন্য নির্ধারণ করেছি উত্তরাধিকারী, পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়-স্বজন যা রেখে যায় । (সূরা, ৩৩)
এখানে “মাওলা ” শব্দটি উত্তরাধিকারী অর্থে ব্যবহৃত।
৩. আত্মীয়
وَاِنِّيْ خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَّرَاۤءِيْ وَكَانَتِ امْرَاَتِيْ عَاقِرًا فَهَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ وَلِيًّا“
আমার পরে আমার স্বগোত্রীয়রা (কী করবে) সে সম্পর্কে আমি আশঙ্কাবোধ করছি, আর আমার স্ত্রী হল বন্ধ্যা, কাজেই তুমি তোমার তরফ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান কর । (সূরা মারইয়াম, ৫)
এখানে “মাওলা ” শব্দটি আত্মীয় অর্থে ব্যবহৃত।
৪. বন্ধু
فَاِنۡ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡۤا اٰبَآءَهُمۡ فَاِخۡوَانُكُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَ مَوَالِیۡكُمۡ
অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তাহলে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং তোমাদের বন্ধু।
এখানে “মাওলা ” শব্দটি বন্ধু অর্থে ব্যবহৃত।
৫. সঙ্গী / সহচর
مَأْوَاكُمُ النَّارُ هِيَ مَوْلَاكُمْ
“তোমাদের আবাস জাহান্নাম, সেটিই তোমাদের সঙ্গী।” (সূরা হাদীদ, ১৫)
এখানে “মাওলা ” শব্দটি সঙ্গী / সহচর অর্থে ব্যবহৃত।
৬. রক্ষাকারী / সহায় / স্রষ্টা
فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلَاهُ
“নিশ্চয়ই আল্লাহই তার মাওলা।” (সূরা তাহরীম, ৪)
হাদীসের উদাহরণ:
১.
مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ
“কোনো জাতির মুক্তদাস সেই জাতিরই অন্তর্ভুক্ত।” (তিরমিযী,৬৫৭)
২.
كَانَ سَالِمٌ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ يُؤُمُّ الْمُهَاجِرِينَ
“সালেম, আবু হুযাইফার মুক্তদাস, প্রথম মুজাহিরদের ইমামতি করতেন।” (বোখারি, ৭১৭৫)
৩.
وقَالَ لِزَيْدٍ: أنْتَ أخُونَا ومَوْلَانَا
“রাসূল স. যায়েদকে বললেন, তুমি আমাদের ভাই ও মাওলা।” (বোখারী, ২৬৯৯)
৪.
مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ
“আমি যার মাওলা (প্রিয়), আলীও তার মাওলা।” (ইবনে মাজাহ,১১৬ মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৯/১০৯)
মোট কথা :
কুরআন ও হাদীস উভয়েই “মাওলা” শব্দটি আল্লাহ তাআলা ছাড়াও মানুষের জন্য ব্যবহার হয়েছে। যেমন : অভিভাবক, আত্মীয়, বন্ধু, মুক্তদাস, প্রিয় ইত্যাদি অর্থে।
অতএব, আল্লাহ তাআলাই সর্বোচ্চ ও পরিপূর্ণ মাওলা, কিন্তু সম্মানার্থে আলেমদের “মাওলানা” বলা শরীয়তসম্মত ও বৈধ।
মুফতি নুরুদ্দিন মাসরুর
(লেখাটি দারুল উলূম দেওবন্দ ও জামিয়াতুল উলূম আল- ইসলামিয়ার ফতোয়ার আলোকে লেখা হয়েছে)