তালাকের আধিক্য : কারণ ও প্রতিকার
তালাকের আভিধানিক অর্থ হলো। উন্মুক্ত করা, ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি। আর শরীয়তের পরিভাষায় তালাক বলা হয়। স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক বন্ধনকে ছিন্ন করা বা খুলে ফেলা।
ইসলাম যেহেতু পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ইসলামের সুমহান নির্দেশনা। বিবাহ-তালাকের বিষয়টিও এর বাইরে নয়। ইসলাম সবসময় সবক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহ দেয় এবং নির্দেশও করে। কোন ক্ষেত্রেই কোনরূপ প্রান্তিকতার সুযোগ ইসলামে নেই।
তালাকের বিষয়ে আমরা যদি অন্যান্য ধর্মের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাবো যে, কোনো কোনো ধর্মে তালাকের সুযোগই রাখা হয়নি। বিয়ের পর যত সমস্যাই হোক না কেন স্বামী বা স্ত্রী পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আবার কোন কোন ধর্মে বিষয়টিকে রাখা হয়েছে একেবারেই উন্মুক্ত! যখন ইচ্ছা তালাক দিবে, মনে চাইলে আবার ফিরিয়ে নিবে। সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। কোন ধর্মে আবার তালাকের ব্যাপারটি ন্যস্ত ছিল ধর্মগুরুদের হাতে। স্বামী-স্ত্রীর কোন অধিকার নেই। বরং তথাকথিত ধর্মগুরু যদি উপযুক্ত মনে করেন তালাক দিবেন। মনে না করলে দিবেন না।
ইসলাম এক্ষেত্রে প্রবর্তন করেছে ইনসাফপূর্ণ ও যৌক্তিক নিয়ম। তালাক একেবারে নিষিদ্ধও বলেনি। আবার উন্মুক্ত প্রয়োগের কথাও বলেনি। বরং বাস্তব ভিত্তিক প্রয়োজনের আলোকে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে। সাথে সাথে ঘোষণা করেছে যে, তালাক হলো বৈধ বিষয় সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয়।
তালাকের মত অপছন্দের বিষয় যাতে না ঘটে সেজন্য ইসলাম বিয়ের পূর্ব থেকেই ব্যবস্থা নিয়েছে। যেমন:
১. বিয়ের পূর্বে মেয়ে দেখার বৈধতা দিয়েছে। অথচ পুরুষের মাহরাম নয় এমন নারীকে দেখা পুরুষের জন্য বৈধ নয়। তথাপি বিয়ের পূর্বে মেয়ে দেখার অনুমতি দিয়েছে। যাতে বিয়ের পর অপছন্দের কারনণ কোন সমস্যা তৈরি না হয়।
২. বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের কোন বিষয় অপছন্দ হতেই পারে। তখন ইসলাম বলে, কোন একদিক অপছন্দ হলেও আরো দশদিক তো ভাল। সেটাকে স্মরণ করে মেনে নাও। কারণ কোন মানুষের সবদিক খারাপ হতে পারেনা। সূরা নিসার ১৯ নং আয়াতে এমনটি বিবৃত হয়েছে।
৩. সমস্যা যদি আরো বেশি হয়। তাহলে তাকে আখেরাতের ভয় দেখাও। কুরআন সুন্নাহর আলোকে বুঝাও।
৪. এতেও যদি সমাধান না হয়, তাহলে কিছুদিন বিছানা পৃথক করে দাও অর্থাৎ আলাদা থাক।
৫. সমস্যা যদি আরো প্রকট হয়, তাহলে উভয়ের অভিভাবকের স্মরণাপন্ন হও। সালিশি বৈঠক কর। তাদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা কর। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা অনেক বেশি।
৬. এসব প্রক্রিয়া অবলম্বনের পরেও যদি ফলপ্রসু কোন সমাধান না হয়, তাহলে এবার তালাক বা বিচ্ছেদের চিন্তা করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবে তালাক বৈধ বিষয় সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয়। এ প্রক্রিয়াগুলোর কথা সূরা নিসার ৩৪ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে।
৭. তালাক যেহেতু একান্ত বাধ্য হয়ে অনন্যোপায় হয়ে দেওয়া হচ্ছে তাই প্রয়োজন পরিমাণ প্রয়োগের কথা বলেছে। অর্থাৎ স্ত্রীর ঋতুর সময়ের বাইরে পবিত্র অবস্থায় এক তালাক দিবে। যাতে পরবর্তিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
আর ইসলাম তালাকের মূল ক্ষমতাও দিয়েছে পুরুষকে। কারণ, নারীরা আবেগী ও অপরিণামদর্শী বেশী হয়। অযৌক্তিক ও ঠুনকো কারণে তালাক দিয়ে ফেলতে পারে। হ্যাঁ, কিছু কিছু সময় বাস্তব কারণ দেখা দেয় বিচ্ছেদের। কিন্তু স্বামী তালাক দিচ্ছে না। তখন স্ত্রীর পক্ষ থেকে খোলা তালাকের প্রস্তাব করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অথবা বিশেষ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ করাতে পারে।
কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো সমাজের বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। তালাকের ঘটনা যেমন গণহারে ঘটছে। আবার শরয়ী সমাধান ছাড়া পুনরায় সংসার করার ব্যাপারও কোন অংশে কম নয়। ২০২২ সালে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায় শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন ৩৭টি তালাকের ঘটনা ঘটে। গ্রামের চেয়ে শহরে এর হার বেশি।
দেশের প্রসিদ্ধ ও উল্লেখযোগ্য ফতোয়া বিভাগের সাথে আজ প্রায় বিশ বছর যাবত যৎসামান্য সম্পৃক্ত থাকার কারণে আমার মনে হয়, বাস্তবতা এর চেয়েও ভয়াবহ।
আরো পরিতাপের বিষয় হলো, এদের অধিকাংশই এসব ঘটনার শরয়ী সঠিক সমাধানের জন্য বিজ্ঞ মুফতীর দ্বারস্ত হয়নি। বরং এই হারাম ও অবৈধ সম্পর্ক নিয়েই যুগের পর যুগ কাটিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় সন্তানও জন্ম নিচ্ছে।
এক্ষেত্রে দুই শ্রেণীর মানুষ দেখা যায়। কেউ তো বিষয়টিকে ছেলে খেলা ভেবে কোন গুরুত্ব না দিয়ে যথাযথ শরয়ী সমাধান না করে আগের মত সংসার করছে। তাওবা করে নিয়েছি, উভয়ের মুরুব্বীগণ মিলিয়ে দিয়েছেন, বা কোন কিছু সদকা করে দেওয়ার মত হাস্যকর বলেন।
আবার কেউ ইউটিউব নির্ভর ফতোয়ায় আস্থা রাখে। অথবা আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাতের বাইরে ভ্রান্ত কোন ফেরকার লোকদের নিকট গিয়ে মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে। আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিযুক্ত কাজী সাহেবান, এ সম্পর্কে মাসআলা-মাসাইল জানে এমন কাজী নেই বললেই চলে। এরা আরো সর্বনাশ করছে।
তালাকের এই মহামারীর আকার ধারণ আর মুসলমানের এ বিষয়ে উদাসীনতার কারণ যদি তালাশ করি, তাহলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দায় খুঁজে পাই। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নারীর দায়টা বেশি মনে হয়।
আজকের নিবন্ধে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করছি:
১. পর্দাহীনতা।
ইসলাম নারী পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দার বিধান ফরয করেছে। উভয়ের দৃষ্টিকে অপর থেকে অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কেন? নিশ্চয়ই এর যৌক্তিক কারণ ও উপকারিতা রয়েছে। যেহেতু এটা কোন মানুষের দেওয়া বিধান নয়। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার বিধান। আর তার বিধান অমূলক হতে পারেনা। হওয়া সম্ভব নয়। তাই যখনি সে বিধান লঙ্ঘিত হবে তখন সেটার কুফলও ভোগতে হবে। স্বামী বা স্ত্রীর যে কেউ যখন পর্দার বিধান অমান্য করে পরনারী বা পরপুরুষের সাথে অবাধ দেখা সাক্ষাৎ উঠাবসা করবে তখন পুরুষের অন্য নারীর প্রতি আর নারীর অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার স্বাভাবিক রাস্তা তৈরি হয়। সেখান থেকেই শয়তানের প্ররোচনায় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য তৈরি হয়। যা চূড়ান্তরূপে তালাকের পরিণতি ডেকে আনে।
২. বিয়ের পূর্বে অবৈধ প্রেম ভালোবাসা থেকে বিয়ে। যে সম্পর্কের ভিত্তি হারাম আর আল্লাহর
সন্তুষ্টির বাইরে হয় সেটার পরিণতি কখনো শুভ হতে পারেনা। তাছাড়া এসব অবৈধ সম্পর্কের বিয়েতে সাধারণত অভিভাবকের মতামতের তোয়াক্কা করা হয় না। নিজেদের বাচ্চাসূলভ আবেগের উপর ভিত্তি করে বিয়ে করে। স্থায়ী ও পবিত্র একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তব যে বিষয়গুলো লক্ষণীয় সেগুলো ফলো করা হয় না। তাছাড়া পরস্পরের প্রতি আবেগ ভালোবাসা যা ছিল সব তো বিয়ের আগেই উতরে দিয়েছে। এখন আর দিবে কি? তাই অধিকাংশ সময় এমন সম্পর্কের বিয়ে টিকে না। কারণ যে পুরুষ বা নারী বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক করতে পারে, সে বিয়ের পরেও অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।
৩. উচ্চাভিলাষ।
স্বামী বা স্ত্রীর কারো মনে বিশেষত স্ত্রীর মনে যদি জাগতিক বিষয়ে উচ্চাভিলাষ থাকে তাহলে সেখানে সুখ-শাদি অসম্ভব। একজন আদর্শ পুরু২ সবসময়ই তার সামর্থের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে স্ত্রী সন্তান পরিবার পরিজনকে সুখী রাখতে চান। এরপরও যখন স্ত্রীর পক্ষ থেকে বাসা বাড়ি, পোষাক-পরিচ্ছদ, গহনা-গাটি, ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে স্বামীর উপর অস্বাভাবিক আবদার বা চাপ দেয়া হয়। তখনি স্বামীর মনে তিক্ততা তৈরী হয়। যা শেষ পর্যন্ত খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
৪. যৌথ কর্মসংস্থান।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধুই কোন আইনী সম্পর্ক নয়। বরং মহব্বত ভালবাসার সম্পর্ক। আর এর জন্য প্রয়োজন একে অপরকে আপন করে নেওয়া। পরস্পরের সময় দেওয়া। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো যখন থেকে তথাকথিত নারী স্বাধীনতার নামে নারীদেরকে ঘরের বাইরে আনা হয়েছে। তখন থেকেই এই পবিত্র সম্পর্কের মাঝে ছেদ পড়তে শুরু করেছে। অর্থ উপার্জনের বাহানায় নারী সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরপুরুষের সাথে বসে কাজ করে। আবার পুরুষও পরনারীর সাথে পাশাপাশি বসে দিন কাটায়। অফিসের ক্লান্তি নিয়ে সন্ধ্যা বেলায় দুজনেই যখন ঘরে ফিরে তখন মেজাজ থাকে খিটখিটে। শরীর চায় একটু নিরব বিশ্রাম। কে শুনে কার দুঃখ? কে করে কার সেবা? উভয়েই তো উপার্জন করে আসছে। উভয়ের অজান্তে পবিত্র সম্পর্কের পাটাতনে ফাটল ধরে। ফুরফুরে মেজাজের সময়টা কাটে অফিসের সহকর্মীর সাথে। সুখ দুঃখের বিনিময় হয় তাদের সাথে। সেই সুযোগে শয়তান আরেকটু মধু সরবরাহ করে। উভয়েই অপরের দুর্বলতার জায়গা চিনতে ও বুঝতে শুরু করে। সেটাই আস্তে আস্তে উন্নতি করে কি পরিণতির সৃষ্টি করে তা মনে হয় এ সমাজের কাউকে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।
৫. বউ শাশুড়ির সম্পর্কের তিক্ততা।
আজকে যিনি নতুন বউ তিনিই আগামী দিনে 'শাশুড়ি। আবার যিনি এখন
শাশুড়ি তিনিই একসময় ছিলেন নতুন বউ। অনেক সময় অন্যের ব্যথা বা অবস্থান বুঝতে হলে আপনাকে তার জায়গায় নিয়ে চিন্তা করতে হয়। তখন সঠিক বিষয়ের উপলব্ধি করা সহজ হয়। নিজের অবস্থান থেকে চিন্তা করলে অপরকে ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে বউ শাশুড়ির সম্পর্কটাও এমন। প্রত্যেক শাশুড়ি যদি চিন্তা করে যে আমি যখন নতুন বউ ছিলাম তখন আমার চাওয়া কেমন ছিল? আবার বউ যদি চিন্তা করে আমি যখন ভবিষ্যতে শাশুড়ির অবস্থানে যাবো আমার চাহিদ
কেমন হবে? তাহলেই একে অপরকে বুঝতে অসুবিধা হবে না। শাশুড়ি নিজ মেয়েকে তার জামাই বাডিতে যেমন দেখতে চান। ছেলের বউকে তেমন করে দেখা চাই। কারণ আপনার খবরটাতো তার জামাইবাড়ি। আবার বউ নিজ মায়ের সাথে ভাবীদের যেমন আচরণ আশা করে সেও যদি শাশুড়ির সাথে সে আচরণ করে তাহলেই কোন ঝামেলা থাকেনা। অথচ আমাদের সামাজিক বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ধর্মীয় ও সামাজিক জ্ঞানের অভাবে বউ শাশুড়ি একে অপরকে প্রতিপক্ষ মনে করে। না আছে বউয়ের মধ্যে শাশুড়ির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। আর না আছে শাশুড়ির মাঝে বউয়ের প্রতি স্নেহবোধ। ছেলের বউকে চাপে রাখতে পারাকেই শাশুড়ি নিজের কৃতিত্ব মনে করে। আর বউও শাশুড়ি থেকে পৃথক থাকাকেই ভাবে সফলতা। এমন মানসিকতাই তিক্ততার জন্ম দেয়। যা আবশ্যকীয় পরিণতির দিকে ধাবিত করে।
৬. দাম্পত্য জীবনে অক্ষমতা।
প্রায়শই শুনতে পাওয়া যায় যে, একজন নারী তার স্বামীর শারীরিক অক্ষমতার অভিযোগ তুলে স্বামীর থেকে তালাক চায়। বা কাবিননামায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তালাক গ্রহণ করে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানে। অথচ অনেক সময়ই দেখা যায় স্বামী পরবর্তিতে আন্যত্র বিয়ে করে সুখের সংসার করছে। তার ঔরসে সন্তান জন্ম নিচ্ছে।। তাহলে পূর্বের স্ত্রীর অভিযোগ? হয়তো মিথ্যা অপবাদ। কত ভয়াবহ ব্যাপার! মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিয়ের মত পবিত্র সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানো। আর যদি অভিযোগ সত্যও হয়। তবুও শরীয়তের নির্দেশনা হলো স্বামীকে চিকিৎসা গ্রহনের সুযোগ দেওয়া। সুস্থ হলে তো ভাল। না হয় ধৈর্য্য ধারণ করে তার সংসারে থেকে যাওয়া। অথবা এই বিষয়টাকে গোপন রেখে অন্য কোন কারণ দেখিয়ে আলাদা হওয়ার চিন্তা করা।
৭. ভুল বোঝাবুঝি ও বনিবনা না হওয়া।
মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। ভাল-খারাপ মিলেই মানম। একজন মানষের সবদিকই খারাপ না। আবার সব দিক থেকেই একজন শ্রেষ্ঠ হবে এমনটিও সম্ভব না। মেজাজ ও স্বভাবের ভিন্নতা দিয়েই আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন। দুই অপরিচিত পরিবারের দুইজন এক হতে একটু সময় লাগাটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বয়সেরও একটা গ্যাপ থাকে। তাই দুজনের রুচিবোধে চাওয়া পাওয়ার মধ্যে ভিন্নতা থাকতেই পারে। শুরুতেই শতভাগ আশা করা বোকামি। সময়ের ব্যবধানে এক সময় ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দেখা যায় অধৈর্য হয়ে অনেক নারী পুরুষ "বনিবনা হয় না" এমন অজুহাত তুলে বিচ্ছেদের পথে পা বাড়ায়। পরে আফসোস করে।
বস্তুতঃ এমন কারণ খুঁজতে আর বর্ণনা করতে গেলে শেষ করা যাবে না। মানুষ বলে থাকে কাজ না করার হাজারো ওযর। 'আর করলে কোন ওযর আপত্তি নেই। ঠিক বৈবাহিক ক্ষেত্রেও কারো সামনে যখন আখেরাতের ভয় আর পরকালীন প্রাপ্তির বিষয় না থাকে তখন শয়তান বিচ্ছেদের হাজারো ঠুনকো ছুতা সামনে এনে দাঁড় করায়। আর পরিসংখ্যান বলে অধিকাংশ দায় নারীর। যা মিডিয়ায় প্রচারিত সাম্প্রতিক এক জরিপেও উঠে এসেছে। ৭৮% বিচ্ছেদ মেয়ের কারণে। আর ২২% পুরুষের কারণে। জরিপে এটাও এসেছে যে ৯২% পরে অনুতপ্ত। কিন্তু সব হারিয়ে সমাধানের বা উত্তরণের পথ। রুদ্ধ করে এখন অনুতপ্ত হয়ে কী লাভ?
তাই আসুন এর প্রতিকার করি। প্রথমত নিজের দ্বীন ও ঈমানকে জাগ্রত করি। দুনিয়ার সুখ-শান্তির বিপরীতে আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির ফিকির করি। তাকওয়ার জিন্দেগী গড়ে তুলি। বৈবাহিক জীবনে সুখের মূল চাবিকাঠি হলো তাকওয়া। তাইতো দেখা যায় বিয়ের যে খুতবা পাঠ করা হয় সেখানে যে তিন চারটি আয়াত তিলাওয়াত হয় তার প্রত্যেকটি তাকওয়া বিষয়ে। স্বামী স্ত্রী উভয়ে উত্তম আদর্শের বাস্তবায়ন করি। নবী ও নবী-পত্নীগণের আদর্শকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করি। একে অপরের বৈধ অধিকার পূরণে সচেষ্ট হই। নামাজ ও ধৈর্য্যের মাধ্যমে আল্লাহ্ সাহায্য কামনা করি। দিল ও দেমাগে একথা বসিয়ে দেই যে দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। চিরস্থায়ী সুখের ঠিকানা জান্নাত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল