(১ম পর্ব)

অনেক ভাইকে দেখা যায়, দুর্বল হাদীস এবং জাল হাদীসকে এক মনে করেন এবং জাল হাদীসের মত দুর্বল হাদীসকেও প্রত্যাখ্যাত মনে করেন, কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। এবং এই চিন্তাটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই এ কথাটি বলতে শুনা যায় যে, এই আমলটি করা যাবে না, কেননা এ সংক্রান্ত হাদীস দুর্বল। কিন্তু আসলেই কি তাই? দুর্বল হাদীস কি কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য হবে না?

আমাদের কথা হলো, আপনি হাদীসটিকে যে দুর্বল বললেন, কিসের ভিত্তিতে বললেন? কোন মুহাদ্দিস উক্ত হাদীসকে দুর্বল বলেছেন, বা হাদীসের কোন রাবীকে দুর্বল বলেছেন তাই? আচ্ছা, আপনি কি এটা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই মুহাদ্দিসের বক্তব্যের বিপরিতে (যার কথার ভিত্তিতে আপনি হাদীসকে দুর্বল বলছেন) অন্য কোন মুহাদ্দিসের বক্তব্য নেই? না এর বিপরিতও কোন মুহাদ্দিসের বক্তব্য রয়েছে।

তখন তো প্রশ্ন আসবে, কেন আপনি ঐ মুহাদ্দিসের বক্তব্য গ্রহণ না করে (যিনি হাদীসটিকে বা হাদীসের রাবীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন) এই মুহাদ্দিসের মত গ্রহণ করলেন যিনি উক্ত হাদীসকে বা হাদীসের রাবীকে দুর্বল বলেছেন।

সহীহ-যয়ীফ তো ইজতিহাদী বিষয়। যে বিষয়ে হাদীসের ইমামদের মতানৈক্য আছে, সেখানে এক মুহাদ্দিসের বক্তব্য গ্রহণ করে, অন্যরা কেন এই মত গ্রহণ করল না, এ নিয়ে দোষারোপ করা, কখনই সঠিক হতে পারে না।

আর যদি এমন হয় যে, হাদীসটি দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে সকল ইমাম একমত, তবুও অন্য কেউ এই দুর্বল হাদীসের উপর আমল করলে তাকে দোষারোপ করা কখনোই আপনার উচিৎ নয়। কেননা যে মুহাদ্দিসদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আপনি হাদীসটিকে দুর্বল বলছেন সেই মুহাদ্দিসগণই তো বলেছেন, দুর্বল হাদীস কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণ যোগ্য হবে।

হাদীস দুর্বল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য আপনি গ্রহণ করলেন, দুর্বল হাদীস আমলযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সেই মুহাদ্দিসদের বক্তব্য আপনি মানেন না কেন? এটা কে দ্বিমুখি আচরণ হয়ে যাচ্ছে না?

আসুন! হাদীসের ইমামদের বক্তব্য ও কর্ম থেকে বিষয়টি একটু যাচাই করি।

প্রথম কথা হল, জাল হাদীস কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাল হাদীসের উপর আমল করা তো দূরের কথা, তা বর্ণনা করাও জায়েয নয়। হাঁ, শুধু মানুষদেরকে একথা বুঝানোর জন্য যে, এই হাদীসটি জাল; এর উপর আমল করা যাবে না-এজন্যে জাল হাদীস বর্ণনা করার সুযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين.

কেউ যদি আমার দিকে সম্বন্ধ করে কোন হাদীস বর্ণনা করে, যে হাদীস সম্পর্কে তার ধারণা হল, এটা মিথ্যা। তাহলে সে (বর্ণনাকারী) দুই মিথ্যাবাদীর একজন (একজন যে জাল রেওয়ায়েতটি তৈরী  করেছে, অপরজন যে হাদীসটি বর্ণনা করেছে)।

অপর হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

من كذب علي متعمدا فليتبوء مقعده من النار.

যে ইচ্ছাকৃত আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

যাই হোক, জাল হাদীস কোন ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু অন্যান্য সাধারণ দুর্বল হাদীস যেমন স্মৃতিশক্তি দুর্বল এমন রাবীর হাদীস বা যিনি রেওয়ায়েতের সময় ভুল করেন এ ধরনের রাবীর হাদীস, যদি তিনি মিথ্যাবাদী না হন এবং বর্ণনাকৃত রেওয়ায়েতটি মুনকার (আপত্তিজনক) কিংবা মাতরুক (পরিত্যাজ্য) না হয়; এধরনের বর্ণনাও কি জাল হাদীসের মত সর্বক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য হবে? এবং জাল হাদীসের মত এগুলোও কি বর্ণনা করা যাবে না এবং এর উপর আমল করাও যাবে না, না কোন কোন ক্ষেত্রে এগুলো গ্রহণযোগ্যও হবে?

মুহাদ্দিস ও ফুকাহাদের বক্তব্য এবং তাঁদের কর্ম অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, তাঁরা এ ধরনের হাদীসকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মনে করতেন। যেমন : ফাযায়েলে আমল অর্থাৎ নামায, রোযা, হজ, সদকা ইত্যাদি বিভিন্ন আমলের ফযীলত সংক্রান্ত যয়ীফ হাদীস এবং রিকাক তথা এমন হাদীস যা শুনলে অন্তর নরম এবং চিত্ত বিগলিত হয়। (যেমন- জান্নাত-জাহান্নাম, কিয়ামত ইত্যাদি সংক্রান্ত হাদীস ) ও আদব তথা শিষ্টাচার এবং পূর্ববর্তীদের কাহিনী ও ওয়াজ নছীহত সংক্রান্ত যয়ীফ হাদীস।

প্রায় সকল মুহাদ্দিস ও ফকীহ-এর মত হল, এসকল ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে, যা তাঁরা তাঁদের বক্তব্য ও কর্মের মাধ্যমে পরিস্কার করে দিয়েছেন। (মুহাদ্দিসগণের কয়েকটি বক্তব্য কমেন্টে দেখুন)

এক্ষেত্রে তাঁরা শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাদের বাস্তব আমলও তাই। মুহাদ্দিসগণ জাল এবং সাধারণ দুর্বল হাদীসকে কখনোই এক মনে করতেন না। তাইতো আমরা দেখতে পাই, ইমাম বুখারী (রহ.) একদিকে যেমন তার সহীহ বুখারী সংকলন করেছেন অপরদিকে আল- আদাবুল মুফরাদ নামক আরেকটি হাদীসের গ্রন্থ লিখেছেন, যাতে ফাযায়েল ও আদব সংক্রান্ত রেওয়ায়েত রয়েছে। সেখানে তিনি সহীহ হাদীস যেমন উল্লেখ করেছেন তেমনি অনেক যয়ীফ হাদীসও উল্লেখ করেছেন।

ইমাম আহমদ রহ. (১৬৪-২৪৪ হি:) ইমাম তিরমিযী রহ.(২১০-২৭৯ হি:) ইমাম আবু দাউদ রহ.(২০২-২৭৫ হি:) ইমাম নাসায়ী রহ.(২১৫-৩০৩ হি:) ইমাম ইবনে মাজা রহ.(২০৯-২৭৩ হি:)সহ সকল মুহাদ্দিস (যারা শুধু সহীহ হাদীস উল্লেখ করার শর্ত করেন নি) তাদের কিতাবে সহীহ হাদীসের পাশাপাশি যয়ীফ হাদীসও উল্লেখ করেছেন। আর তা একারণেই করেছেন যে, এগুলো বর্ণনা করতে কোন বাধা নেই এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা অবশ্যই রয়েছে।

মুহাদ্দেসীনদের অনেকেই জাল হাদীসের কিতাব রচনা করেছেন এবং এতে শুধু ঐ সকল বর্ণনাই আনার চেষ্টা করেছেন যেগুলো জাল। এগুলো বর্ণনাও করা যাবে না এবং এগুলোর উপর আমলও করা যাবে না। সাধারণ দুর্বল হাদীস যদি জাল হাদীসের মত সর্বক্ষেত্রে পরিত্যাজ্য হতো, তাহলে তাঁরা জাল এবং সাধারণ দুর্বল হাদীস সবগুলোকে এক কিতাবে উল্লেখ করে জাল হাদীস থেকে মানুষকে যেমন সতর্ক করেছেন, তেমনিভাবে সাধারণ দুর্বল হাদীস থেকেও মানুষকে সতর্ক করে দিতেন যে, সাবধান! এগুলোর উপর আমল করা যাবে না।

দুর্বল হাদীস গ্রহণযোগ্য হওয়া সংক্রান্ত মুহাদ্দিসদের উক্তিগুলো দেখুন।

ক্স ইদরীস ইবনে সিনান রাবী সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহ. (২৩৩ হি:) বলেন, তার হাদীস থেকে রিকাক (যে হাদীস শুনে চিত্ত বিগলিত হয়) সংক্রান্ত হাদীসগুলো লেখা যাবে। (নুকাতুয যারকাশী: ২/৩০৯; আল কামেল, ইবনে আদী: ১/৩৬৬)

ক্স আব্দুর রহমান ইবনে আবু হাতেম রহ.(৩২৭ হি:) বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহ.) এক ব্যক্তি থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করলে তাঁকে বলা হলো, এই লোক তো দুর্বল। তিনি বললেন, এই রাবী থেকে এইটুকু বা এধরনের জিনিস বর্ণনা করার সুযোগ আছে। ইবনে আবূ হাতেম প্রশ্ন করলেন, কোন ধরনের জিনিস? উত্তরে তিনি বললেন, আদাব সংক্রান্ত বা নসীহত সংক্রান্ত বা যুহদ সংক্রান্ত বিষয়। (নুকাতুয যারকাশী: ২/৩৯; আল জারহু ওয়াত তাদীল: ২/৩০)

ক্স ইবনে মাহদী রহ.(১৩৫-১৯৮ হি:) বলেন, আমরা যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হালাল হারাম এবং বিধানাবলী সম্পর্কিত কোন কিছু বর্ণনা করি তখন কঠোরতা অবলম্বন করি। আর যখন ফাযায়েল, ছওয়াব ও শাস্তি সংক্রান্ত কোন কিছু বর্ণনা করি তখন ইসনাদের ক্ষেত্রে সহজতা অবলম্বন করি এবং রাবীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেই। (আল-আজ ভিবাতুল ফাযিলা, ইমাম লাখনৌভী, পৃ. ৫০-৫১)

ক্স ইবনে আব্দুল বার রহ.(৩৬৮-৪৬৩ হি:) বলেন, ফাযায়েলের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তির বর্ণনা হওয়া জরুরী নয় যার হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ( ফাতহুল মুগীস, সাখাভী: ২/১৫২)

ক্স ইমাম আহমদ রহ. (১৬৪-২৪৪ হি:) বলেন, রাকাইক (যে সমস্ত হাদীস দ্বারা চিত্ত বিগলিত হয়) এগুলোর ক্ষেত্রে তাসাহুল তথা শিথিলতা মেনে নেয়া যায়। হাঁ, বিধানাবলী সংক্রান্ত কিছূ হলে ভিন্ন কথা। (আল-কিফায়া, খতীব বাগদাদী, পৃ. ১৬৩)

ক্স প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল-মুস্তাদরাক কিতাবের লিখক হাকীম আবু আব্দুল্লাহ রহ.(৩২১-৪০৫ হি:) বলেন, আমি আবু যাকারিয়্যা আম্বরিকে (৩৪৪ হি:) বলতে শুনেছি, খবর (হাদীস) যদি এমন হয় যার দ্বারা কোন হালাল হারাম হচ্ছে না এবং কোন হারাম হালাল হচ্ছে না অথবা কোন হুকুমকে ওয়াজিব করছে না বরং এটা তারগীব-তারহীব (উৎসাহ প্রদান ও ভয় প্রদর্শন সংক্রান্ত) হয় তাহলে এক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে এবং এর রাবীর ক্ষেত্রে সহজতা অবলম্বন করা হবে। (আল-কিফায়া, খতীব বাগদাদী, পৃ. ১৬৩)

ক্স মুসলিম শরীফের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (রহ.) তাঁর আত-তাকরীব গ্রন্থে বলেন, মুহাদ্দিসদের নিকট আল্লাহর গুণাগুণ এবং বিধানাবলী ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে যয়ীফ সনদের মধ্যে সহজতা অবলম্বন করা এবং জাল ব্যতিত অন্যান্য যয়ীফ হাদীস বর্ণনা করা এবং এর উপর আমল করাও যায়েজ আছে। (তাদরীবুর রাবী, সুয়ূতী: ১/৩৫০)

ক্স তিনি তাঁর অপর গ্রন্থ আল-আযকার (পৃ.৫) এ বলেন, মুহাদ্দেসীন, ফুকাহা ও অন্যান্য আলেমগণ বলেছেন, ফাযায়েল এবং তারগীব-তারহীবের (উৎসাহ প্রদান ও ভয় প্রদর্শন সংক্রান্ত) ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস-এর উপর আমল করা জায়েজ বরং মুস্তাহাব, যতক্ষণ না হাদীস জাল হয়। হাঁ, বিধান সংক্রান্ত বিষয় যেমন: বিক্রয়, বিবাহ-তালাক ইত্যাদির ক্ষেত্রে শুধু সহীহ ও হাসান হাদীসই গ্রহণযোগ্য হবে। অবশ্য ইহতিয়াত তথা সতর্কতা অবলম্বনের কিছু হলে ভিন্ন কথা।

ক্স প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা যাইনুদ্দীন ইরাকী রহ. (৮০৬ হি:) তাঁর আলফিয়াতুল হাদীস-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন, মউযূ (জাল) ছাড়া অন্যান্য যয়ীফ হাদীস যদি আকাঈদ এবং বিধানাবলী সংক্রান্ত না হয় বরং তারগীব-তারহীব, নসীহত, কাহিনী ও ফাযায়েলে আমাল সংক্রান্ত হয় এ ধরনের বিষয়ে হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে তাসাহুল তথা শিথিলতা অবলম্বন করা মুহাদ্দিসগণ জায়েজ বলেছেন। (আল-আজ ওয়ীবাতুল ফাযিলাহ, লাখনৌভী রহ. পৃ. ৩৯)

ক্স আল্লামা ইবনে হাজর হাইতামী রহ.(৯০৯-৯৭৪হি:) বলেন, ফাযায়েলে আ‌মালের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীস যে গ্রহণযোগ্য, এ বিষয়ে সকল উলামা একমত। (প্রাগুপ্ত, পৃ. ৪২)

ক্স প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মিশকাত শরীফের ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী ক্বারী রহ.(১০১৪ হি:) তাঁর আল-হাজ্জুল আউফার ফিল হাজ্জিল আকবার গ্রন্থে একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, আর কোনো কোনো মুহাদ্দিস যে, এই হাদীসের সনদ সম্পর্কে বলেছেন, এটা যয়ীফ, তাদের কথা সঠিক হলেও মূল উদ্দেশ্য অর্জনে কোন সমস্যা নেই। কেননা যয়ীফ হাদীস ফাযায়েলে আমালের ক্ষেত্রে সকল উলামাদের নিকট গ্রহণযোগ্য। (প্রাগুপ্ত,পৃ. ৩৭)

ক্স তিনি তাঁর অপর গ্রন্থ আল-মুওযূআত-এ বলেন, যয়ীফ হাদীস ফাযায়েলে আমালের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য। (প্রাগুপ্ত, পৃ. ৩৭)

ক্স ইমাম সুয়ূতী (রহ.(৯১১ হি:) তাঁর আত-তাজীমু ওয়াল মিন্নাহ ফি আন্না আবওয়াই রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিল জান্নাহ গ্রন্থে একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, এটা ঐ যয়ীফ এর অন্তর্ভূক্ত যেগুলো ফাযায়েলের ক্ষেত্রে হলে তার বর্ণনায় শিথিলতা অবলম্বন করা হয়। (প্রাগুপ্ত, পৃ. ৩৮-৩৯)

ক্স তিনি তাঁর অপর গ্রন্থ আল-মাকামাতুস সানদাসিয়্যাহ ফিন নিসবাতিশ শরীফাতিল মুসতাফিয়্যাহ গ্রন্থে বলেন, মুহাদ্দিসগণ মনে করেন, ফাযায়েলমানাকেবের ক্ষেত্রে সহীহ নয় এমন বর্ণনা উল্লেখ করা সঠিক। (প্রাগুপ্ত, পৃ. ৩৯)

এখানে আমি মুহাদ্দিসদের গুটিকয়েক বক্তব্য উল্লেখ করলাম। এছাড়াও অনেক মুহাদ্দিস থেকে এধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে একথা পরিস্কার হয় যে, ফাযায়েল, রিকাক, আদব, ওয়াজ-নসীহত, কাহিনী ইত্যাদির ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস বর্ণনা করা এবং এর উপর আমল করা মুহাদ্দিসগণ সঠিক মনে করতেন।

কোন কিতাবে হাদীসটি আছে সেটা বড় বিষয় নয়, হাদীসটি সহীহ কি না, সেটাই বড় বিষয়। বুখারী, তিরমিযিসহ কুতুবে সিত্তা রচিত হয়েছে নবীজীর ইন্তেকালের প্রায় দু'শ বছর পর। এগুলো রচিত হওয়ার আগে কি হাদীসের উপর আমল করতেন না মুসলমানগণ? সুতরাং কোন কিতাবের হাদীস, সেটা বিবেচ্য নয় হাদীসটি সহীহ কি না সেটাই বিবেচ্য। কখনো এমন হতে পারে আপনি তিরমিযি শরীফের কোন হাদীস কে দুবর্ল মনে করেছেন তাই এটা প্রত্যাখ্যান করে বুখারী শরীফের হাদীসকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন অথচ তিরমিযি শরীফের হাদীসটি সহীহ। কখনো এমনো হতে পারে তিরমিযি শরীফের হাদীসটি দুর্বল হলেও তিরমিযি শরীফের হাদীসের মর্মার্থ অন্য হাদীসের কিতাবে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

 

মাওলানা মাহবুবুল হাসান আরিফী

জামিয়া ইসলামিয়া মোমেনশাহী,বাংলাদেশ।