শ্বশুর পুত্রবধুকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করলে...
এ ব্যাপারে মৌলিক কথা হলো যদি সহ*বা*সের পরিবর্তে কেবল সহ*বা*সের ভুমিকামূলক আচরণ বা তার অনুরূপ কিছু সংঘটিত হয় যেমন চু*ম্ব*ন, আ*লি*ঙ্গন কিংবা দেহে হাত দেওয়া হয় তাহলে হুরমতের বিধান কার্যকর হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো রয়েছে। শর্তগুলো হলো
১. স্পর্শকারী পুরুষ ও স্পর্শিতা নারী-এর মাঝে কোনো অন্তরায় থাকবে না। আর যদি কোনো কাপড় বা অন্তরায় থাকেও, তবে তা এমন সূ² ও পাতলা হতে হবে, যাতে পুরুষের দেহের উষ্ণতা নারীর দেহে পৌঁছতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।
و من مسته امرأة بشهوة أي بدون حائل أو حائل رقيق تصل معه حرارة البدن إلى اليد.
ثم المس إنما يوجب حرمة المصاهرة إذا لم يكن بينهما ثوب، أما إذا كان بينهما ثوب فإن كان صفيقاً لا يجد الماس حرارة الممسوس لا تثبت حرمة المصاهرة، وإن انتشرت آلته بذلك، وإن كان رقيقاً بحيث تصل حرارة الممسوس إلى يده تثبت.
২. যে চুল সরাসরি মাথার চামড়ার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, কেবল তা স্পর্শ করলেই হু*রমতে মু*সাহারাত প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু যে চুল মাথা থেকে ঝুলে পড়ে থাকে, সেগুলো স্প*র্শ করলে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। যেমন খুলে রাখা বা আঁচড়ানো অবস্থায় মাথা থেকে আলগাভাবে ঝুলে থাকে চুল।
ولو لشعر على الرأس قال ابن عابدین: خرج به المسترسل.
৩. স্প*র্শের সময় কা*মো*দ্দীপনা থাকা আবশ্যক হুরমতে মুসাহারাত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শর্ত হলোÑস্পর্শের মুহূর্তে উভয়ের মধ্যে অথবা অন্তত একজনের মধ্যে কা*মো*ত্তে-জনা জাগতে হবে।
পুরুষের ক্ষেত্রে কামোত্তেজনার মানদন্ড হলো যদি পূর্বে যৌ*না*ঙ্গে কোনো নড়াচড়া না থাকে, তবে সেই স্প*র্শের ফলে তা সঞ্চারিত হবে; আর যদি আগে থেকেই কিছুটা উ*ত্তেজনা থাকে, তবে তাতে আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে যদি কারও মধ্যে উত্থান না ঘটে যেমন বার্ধক্য বা অক্ষমতার কারণে তাহলেও যদি অন্তরে ধকধকানি, তীব্রতা বা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, কিংবা পূর্বের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে এটিই কা*মো*দ্দী*পনা হিসেবে গণ্য হবে।
নারীর ক্ষেত্রেও কা*মো*ত্তে*জ*নার মানদন্ড একই। অর্থাৎ, হৃদয়ে ধকধকানি ও উ*ত্তে*জনা সৃষ্টি হওয়া, কিংবা পূর্বের উ*ত্তে*জনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া এটিই কামনার উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
١.وجود الشهوة من أحدهما يكفي.
٢.ولا تثبت بالنظر إلى سائر الأعضاء بشهوة ولا بمس سائر الأعضاء إلا عن شهوة بلا خلاف.
٣.وحد الشهوة أن تنتشر آلته بالنظر والمس، وإن كانت منتشرة فتزداد شدة والمجبوب والعنين يتحرك قلبه بالاشتهاء أو يزداد اشتهاء.
٤. وأما في حق النساء فالاشتهاء بالقلب من أحد الجانبين.
সতর্কীকরণ: নারী ও পুরুষের মধ্যে শরীরের যেকোনো অঙ্গ দ্বারা যদি স্পর্শ সংঘটিত হয় তা হাতের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো অঙ্গ দিয়ে তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে একে হাত দ্বারা স্পর্শের বিধানেই গণ্য করা হবে।
والمس شامل للتفخيذ والتقبيل والمعانقة
৪. হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণের জন্য স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে কা*মো*ত্তেজনা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। যদি স্পর্শের পর পরে কা*মো*ত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে তাতে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবে না। কেননা, পরবর্তী কা*মো*ত্তেজনা স*হ*বা*সের কারণ হিসেবে গণ্য হয় না।
والشهوة تعتبر عند المس والنظر حتى لو وجدا بغير شهوة ثم اشتهى بعد الترك لا تتعلق به الحرمة.
৫. স্পর্শ করার পর কা*মো*ত্তেজনা স্থির হওয়ার আগেই বী*র্য*পাত না হতে হবে। কা*মো*ত্তে*জনা স্থির হওয়ার আগে যদি বী*র্য*পাত ঘটে যায়, তবে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবে না। কারণ, একবার বী*র্যপাত হয়ে গেলে, তখন ওই স্পর্শ আর স*হ*বা*সের কারণ হিসেবে গণ্য হবে না যা মূলত অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি।
هذا إذا لم ينزل فلو نزل مع مس أو نظر فلا حرمة به يفتى، قال الشامي : لأنه بالإنزال تبين أنه غير مفض إلى الوطء.
৬. স্পর্শিতা নারী কামনাযোগ্য (مشتہاة) হওয়া জরুরিÑঅর্থাৎ, তার ব*য়স কমপক্ষে* ৯ বছর বা তদূর্ধ্ব হতে হবে। তেমনি স্প*র্শকারী পুরুষও কা*মনা*যোগ্য হওয়া অপরিহার্যÑঅর্থাৎ, তার এমন শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা থাকতে হবে যাতে কামনা-উদ্দীপনা জাগতে সক্ষম হয়। সাধারণভাবে এর ন্যূনতম বয়স ধরা হয় ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব।
ويشترط أن تكون المرأة مشتهاة، والفتوى على أن بنت تسع محل الشهوة لا ما دونها.
৭. যাকে স্পর্শ করা হবে সে পুরুষ হোক বা নারী অবশ্যই জী*বিত থাকতে হবে।
৮. আর কা*মোদ্দীপনা অবশ্যই সেই ব্যক্তির প্রতিই হতে হবে, যাকে স্প*র্শ করা হচ্ছে। যদি কামনা অন্য কারো প্রতি নিবিষ্ট থাকে এবং সেই সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো নারীর দেহে হাত পড়ে যায়, তবে যদি সেই স্প*র্শে উ*ত্তে-জনা বৃদ্ধি না পায় তাহলে এর দ্বারা হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবে না।
ويشترط وقوع الشهوة عليها لا على غيرها ... الخ
৯. যদি স্পর্শকারী নারী হন এবং তিনি কা*মো ত্তেজনার দাবি করেন, তবে স্বামীর মনে তার কথার সত্যতার ব্যাপারে প্রবল ধারণা সৃষ্টি হতে হবে। একইভাবে, যদি স্প*র্শকারী কোনো পুরুষ হন এবং তিনি উ*ত্তেজনার দাবি করেন, তবুও স্বামীর মনে তার বক্তব্যের সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত ধারণা থাকতে হবে। যদি স্বামীর দৃঢ় ধারণা হয় যে স্ত্রী কিংবা পুরুষ সত্য কথা বলেছে, তবে হুরমতে মুসাহারাত প্রমাণিত হবে; অন্যথায় প্রমাণিত হবে না।
কারণ, নারীর এ দাবির সাথে স্বামীর হক নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয় জড়িত। তাই কেবল দাবিই যথেষ্ট নয়; স্বামীর নিশ্চিত বিশ্বাস বা স্বীকৃতি থাকা আবশ্যক। আর যদি শরিয়তের নির্ধারিত সাক্ষ্য (দুজন পুরুষ, অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী) পাওয়া যায়, তবে স্বামীর স্বীকৃতির প্রয়োজন থাকবে না।
١. ثبوت الحرمة بلمسها مشروط بأن يصدقها ويقع أكبر رأيه بصدقها.
٢. وثبوت الحرمة بلمسها مشروط بأن يصدقها ويقع في أكبر رأيه صدقها وعلى هذا ينبغي أن يقال في مسه إياها لا تحرم على أبيه وابنه إلا أن يصدقها أو يغلب على ظنه صدقها.
তাই কোনো শ্বশুর যদি পুত্রবধুকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করে এবং উপরোক্ত শর্তগুলো পাওয়া যায় তবে সেই স্ত্রী ছেলের জন্য চিরস্থায়ীভাবে হা*রাম হয়ে যাবে। আর যদি শর্তগুলোর কোনো একটি অনুপস্থিত থাকে, তবে স্ত্রীর ওপর হারাম হওয়া সাব্যস্ত হবে না।
প্রকাশিতব্য ‘হুরমতেমুসাহারাত’ গ্রন্থ (মুফতি খাইরুল ইসলাম)
সত্যায়নে
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল