মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমি ৩ বছর পুর্বের করা একটি তালাক সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের উদ্দেশ্য আপনাদের দারস্থ হয়েছি। আমি ২০২১ সালে বিয়ে করেছি। আমি প্রায়ই ঝগড়া হলে আমার স্বামীর কাছে তালাকের চাইতাম। ২০২২ সালে এক রাগের মুহূর্তে আমার স্বামীর কাছে তালাক চাওয়ায় এবং তাকে জোর করায় স্বামী এসএমএসে তালাক, তালাক, তালাক লিখেছিলেন। মুখে তালাক বলেনি এবং তালাক দেয়ার নিয়ত ছিলো না। কেননা আমি পুর্বেও তার কাছে তালাক চেয়েছি বহুবার। পরিস্থিতি সামলাতে এবং রাগের বশবর্তী হয়ে তালাক লিখে দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন না বিষয়টি এতোটা গুরুতর পর্যায়ে যাবে। আমি এসএমএস দেয়ার পর যখন তাকে তালাক হয়ে গেছে বললাম তখন সে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে এভাবেও তালাক হয়ে যায়। তার উদ্দেশ্য ছিলো আমাকে কন্ট্রোল করা। বিচ্ছেদের উদ্দেশ্য তার ছিলো না। সে আল্লাহর নামে শপথ করে এটা বলেছেন। তালাকের বিষয়টি আমরা পরিবারে বলিনি। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের পুনর্বিবাহ হয়। আমাদের পূর্বের ভলের জন্য আমরা দুজনে এখনো অনুতপ্ত এবং তওবা প্রার্থী। আমরা ২ বছর ৭ মাস যাবৎ সম্পর্কে আছি। কখনও আমরা তালাকের কথা মুখেও আনি নি আর।

কিন্তু সম্প্রতি আমাদের মনে বার বার এই প্রশ্ন আসছে যে ২০২২ এর তালাকটি কি আমাদের উপর পতিত হয়েছিলো নাকি সেটা বাতিল ছিলো। ফতোয়া অনুযায়ী, আমাদের সম্পর্ক কি বৈধ? নাকি জিনায় আছি আমরা?

দয়া করে জানাবেন। আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি।

 

 

নিবেদক,

                                                                                  মোছা: সাবরিনা আক্তার

                                                                                    নতুন বাজার, ঢাকা



 
    الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب



ইসলামী বিধান মতে তালাক একটি নিকৃষ্ট গর্হিত বৈধ কাজ। একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত শরীয়ত তালাক দিতে নিরোৎসাহিত করে। তথাপিও যদি কোন ব্যক্তি কারণে-অকারণে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় লিখিত বা মৌখিকভাবে একসাথে বা পৃথকভাবে তালাক প্রদান করে সংখ্যা অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যায়। আর তালাকের জন্য ব্যবহরিত স্পষ্ট শব্দ দ্বারা তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ত জরুরী নয়। বরং শব্দের সংখ্যানুপাতে তালাক পতিত হয়।

 

সুতরাং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনার স্বামীর তালাক, তালাক, তালাক এসএমএস করার দ্বারা তিন তালাকে মুগাল্লাজা পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। উক্ত তালাকের পর থেকে আপনাদের জন্য সংসার করা বৈধ নয়। তবে ইদ্দত পালন পরবর্তী স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং উক্ত স্বামী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দত পালন পরবর্তী সেই স্বামীর সাথে নতুনভাবে বিবাহে আবদ্ধ হয়ে এক সাথে সংসার করা বৈধ আছে। অন্যথায় তিন তালাক পরবর্তী সংসার করা হারাম এবং শারীরিক সম্পর্ক জিনা হিসাবে গণ্য হবে। আর আপনাদের পরবর্তী বিবাহ শরয়ী হালালা তথা উপরে বর্ণিত পন্থায় অন্যত্রে বিবাহ করে নতুন বিবাহ করায় তা বৈধ হয়নি।

 

লক্ষণীয়: তিন তালাক পরবর্তী আপনাদের একত্রে থাকা সময়ের জন্য তওবা করতে হবে। আর দুজন একত্রে ঘর-সংসার করতে চাইলে উপরোক্ত বর্ণিত পন্থা অবলম্বন করতে হবে। 


الادلة الشرعية

 



سورة البقرة (٢٣٠)


              فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره


السنن الكبرى للبيهقي (١٤٤٩٢)

             قال حسن : لولا اني سمعت ابي يحدث عن جدي النبي صلى الله عليه وسلم : من طلق امراته ثلاثا لم تحل له  حتى تنكح زوجا غيره لراجعتها


المصنف لابن ابى شيبة(١٨٠٨٧)

            عن واقع بن سحبان قال سئل عمران بن حصين رضي الله عنه عن رجل طلق امراته  ثلاثا في مجلس  قال اثم بربه  و حرمت عليه امراته


مجموعة الفتاوى لابن تيميه (٨/٣٣

            فان ثلاثا في طهر واحد بكلمة واحدة مثل ان يقول انت طالق ثلاثا فهذا للعلماء من السلف والخلف فيه ثلاثة اقوال:

الثاني : انه طلاق محرم لازم وهو قول مالك وابي حنيفة واحمد في الرواية المتاخرة عنه واختارها اكثر اصحابه وهذا القول منقول عن كثير من السلف من الصحابة والتابعين

 


و الله اعلم بالصواب

كتبه                 

المجلس المشترك للإفتاء   

بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش