মুহতারাম মুফতি সাহেব, একজন ১৫ বছর বয়সী মেয়ে এবং একজন ১৯ বছর বয়সী ছেলে হারাম সম্পর্ক থেকে বাচতে নিজেরা অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করেন। কিছু পুরুষ সাক্ষি রেখে যাদের সাথে রক্তের কোন সম্পর্ক নাই। এরপর তারা যে যার বাসায় থাকত। তবে তাদের ভিতরে শারিরিক সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল। এরপর কিছু মাস গেলে তাদের ভিতরে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে এক পরজায়ে মেয়ে তালাক দিতে জোর করাই ছেলের ইচ্ছা না থাকলেও শুধু তালাক বলে একবার। এরপর আবার মিল হয়ে যাই। তারপর আবার কিছু দিন গেলে মেয়ে তা আবার ঝগড়া হলে তালাক দিতে জোর করে তাই ছেলেটা আবার তালাক দেই একসাথে তিনবার। এরপর আবার কিছুদিন পর মেয়ে নিজের ভুল বুঝতে পারে। তারপর তারা ঠিক করে যে, দুই পরিবার এক করে পিতা মাতার অনুমতি নিয়ে পারিবারিকভাবে বিয়ে করবে। এবং পরবর্তীতে তারা তাই করে। এখন তাদের এই সংসারে একবছর হয়ে গেছে কিন্তু তারা আর তালাকের ধারের কাছে ও যাইনি।
এখন জানার বিষয় হচ্ছে, তাদের এ সম্পর্ক কি জায়েয আছে?
উল্লেখ্য: তাদের দুজনের কাররি তালাক এর নিয়ত ছিলনা। আর ছেলে তালাক সম্পর্কে জানতও না। এখন তারা যেকোনো হালালভাবে এই বৈবাহিক সম্পর্ক রাখতে চাই। বর্তমান এ তারা একই ঘরে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করে একবছর এর বেশি সংসার করছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছেন।
নিবেদক,
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক-খুলনা
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
গ্রহণযোগ্য মতানুসারে প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী ছেলে ও মেয়ে ওলির অনুমতি ব্যতিত শরয়ী স্বক্ষীর তথা দুজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুজন মেয়ের উপস্থিত সাক্ষীর মাধ্যমে বিবাহ করলে তা বৈধ হয়।
তালাকে স্পষ্ট শব্দে তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না এবং ফিকহে হানাফি অনুসারে এক সাথে তিন তালাক দিলে তা তিন তালাক বলেই বিবেচিত হয়। আর এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যায়। পররবর্তী শরয়ী পদ্ধতিতে হালালা ব্যতিত নতুন করে বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে ছেলে ও মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বাবা-মা বা শরয়ী ওলির অনুমতি ব্যতিত দুই বা ততোধিক পুরুষ স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ করায় তাদের বিবাহ বৈধ হয়েছে।
পরবর্তীতে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছেলে মেয়ের জোরাজোরির কারণে তালাকের স্পষ্ট শব্দে নিয়ত ব্যতিতই তালাক দেওয়ায় তা এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এরপর একে অপরের সাথে বৈবাহিক সাভাবিক অবস্থানে যাওয়ার পর আবার এক সাথে তিন তালাক দেওয়ায় তা তিন তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে। যার কারণে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছে।
বিবাহ নবায়ন পদ্ধতি: স্বাভাবিকভাবে মেয়ের অন্যত্রে বিবাহ পরবর্তী সেখান থেকে তালাক প্রাপ্তা হয়ে বা স্বামী ইন্তেকাল পরবর্তী ইদ্দত পালন করে বিবাহ নবায়ন করতে পরবে। অন্যথায় তাদের বিবাহের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং বর্তমানে তাদের পারিবারিকভাবে বিবাহ উপরোক্ত পদ্ধতি পরবর্তী হলে তা বৈধ। অন্যথায় তাদের বিবাহ বৈধ হয়নি।
الادلة الشرعية
(سورة البقرة: 230)
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ .
(صحيح البخارى-2/792، 2/803)
وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك
مسلم شريف: (رقم الحديث:1421)
عن عبد الله بن عباس: انّ رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: الايّم احق بنفسها من وليها.
(صحيح البخاري، 2639)
قال النبي صلي الله عليه وسلم: حتى تذوقي عسيلته ويذوق عسيلتك
(الهداية مع فتح القدير، ج 3، ص 198)
قال في الهداية: "وإن عَقَدَت المرأة البالغة العاقلة على نفسها نكاحًا من كفء بشهادة الشهود جاز النكاح
(الفتاوى الهندية، ج 1، ص 376)
"من طلق امرأته ثلاثًا بكلمة واحدة وقعن جميعًا، وحرمت عليه حتى تنكح زوجًا غيره
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش