মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমার স্বামী একদিন বলে তুমি যেনা তো দূরের কথা যদি কারো সাথে ভালোলাগার উদ্দেশ্যে কথা বলো তাহলে তুমি চিরদিনের জন্য হারাম, কখনো ই আর হালাল থাকবা না। এখন তুমি জানো হালাল থাকবা নাকি হারাম।
এতকিছুদিন পর স্বামী বলে শর্ত উঠিয়ে নিলাম , মেয়েটি ছেলেদের সাথে কথা বলে। জানতো না যে শর্ত উঠানো যায় না।
এরপর স্বামীর একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকায় সে একটা ফ্যাক আইডি খুলে তারপর স্বামীকে পরীক্ষা করে।
স্বামী বুঝে যায় যে তার স্ত্রী। তিনি বলেন যদি আজকে দিনের মধ্যে কারো সাথে কোনো ম্যাসেজ কলে কথা বলো তাহলে ৩ (তিন) তালাক।
কিন্তু মেয়ের মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে ম্যাসেজ আসলে সে জিজ্ঞাসা করে কে কেন না নক করছে ?
দুই তিন দিন পর স্বামী বলে আমার নিয়ত ছিলো নোংরা কথা বলা।
বাংলাদেশের মুফতি ফতুয়া দিয়েছে তালাক হয়নি।
পাকিস্তানের মুফতি ফতুয়া দিছে তালাক হয়েছে ।
দ্বিতীয় বারের ঘটনা।
এখন মেয়ে পাকিস্তানের ফতুয়া মেনে যথারীতি ইদ্দত পালন করে স্বামী কে না জানিয়ে অপর জায়গায় বিবাহ করে।
সে স্বামী তালাকের অধিকার দেয় , বলে তোমার অপর জায়গায় বিয়ে করতে মন চাইলে তালাক নিয়ে বিয়ে করবে জানানো লাগবে না। সে তালাক নিয়ে বিবাহ করে প্রথম স্বামীকে।
এখন প্রথম স্বামী কি হালাল আছে?
এবং প্রথমবার যে শর্ত দিছিলো চিরদিনের জন্য হারাম সেই শর্তের কি তালাক পড়ছে এবং সেই শর্ত কি এখনো আছে নতুন বিয়ের পর
আর প্রথম বার বিয়ের সময় তালাকের অধিকার ছিলো এখন নতুন বিয়ের পর কি আছে নাকি।
আরেকটা বিষয় হলো স্বামীকে না জানিয়ে বিয়ে করছে যাতে সংসারে সমস্যা না হয় এটাতে বিয়ে কি সহীহ হয়েছে?
স্বামী তো জানে না তালাক হয়ছে এখন সে যদি মনে করে শর্ত তো দিয়েই রাখছি তাহলে কি সেই শর্ত এখনো আছে ?
স্বামী কে না জানিয়ে ইদ্দত পালন করে বিয়ে করার পর তালাক হয় তখন স্বামীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয় (প্রথম স্বামী)
ইদ্দত পালনের পর আবার নতুন করে বিয়ে করে। সঠিক সমাধান দিয়ে সহযোগিতা করবেন ।
নিবেদক,
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক, কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে কোন শর্তের সাথে সম্পৃক্ত করে তালাক প্রদান করেন, তাহলে সেই শর্ত পাওয়া গেলে তালাক পতিত হয়ে যায়। আর স্ত্রী তালাকে মুগাল্লাজা পরবর্তী অন্যত্রে বিবাহে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর সাথে সহবাস করে এবং পরবর্তীতে বৈধভাবে তালাকপ্রাপ্তা হয় বা স্বামীর মৃত্যু ঘটে এবং ইদ্দত শেষ হয়; তাহলে পুনরায় আগের স্বামীকে বিয়ে করা বৈধ হয়।
সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে স্বামীর কথা “ তুমি যেনা তো দূরের কথা যদি কারো সাথে ভালোলাগার উদ্দেশ্যে কথা বলো তাহলে তুমি চিরদিনের জন্য হারাম, কখনো ই আর হালাল থাকবা না”। পরবর্তী স্ত্রীর ছেলেদের সাথে কথা বলায় স্ত্রী তিন তালাকে মুগাল্লাজা প্রাপ্তা হয়েছেন।
আর পরবর্তীতে স্ত্রীর অন্যত্রে বিবাহে আবদ্ধ হয়ে সেখান থেকে তাফবীজে তালাকের অধিকারের ভিত্তিতে তালাক গ্রহণ করে ইদ্দত পালন পরবর্তী প্রথম স্বামীকে বিবাহ করা বৈধ হয়েছে।
আর স্বামীর জন্য স্ত্রীর অন্যত্র বিবাহ পরবর্তী হালালা হওয়ার ব্যাপারে জানানো শর্ত নয়। তাই স্ত্রীর অন্যত্রে বিবাহ ও তালাকপ্রাপ্তা হয়ে প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ নবায়ন করার কথা প্রথম স্বামীকে না জানানোর কারণে কোন সমস্যা হবে না।
জ্ঞাতব্য,
তালাককে
কোন কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করার পর তার জন্য তা রহিত করার অধিকার বাকি থাকে না।
الادلة الشرعية (سورة البقرة:
230) فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ
لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا
جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ
وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ (صحيح البخاري،
الرقم: 2639) قَالَ رَسُولُ
اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَا يَحِلُّ لَهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَى
زَوْجِهَا حَتَّى تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ وَيَذُوقَ عَسِيلَهَا وَهُوَ يَذُوقُ
عَسِيلَهَا الهداية في شرح
بداية المبتدي: (1.244) واذا اضافه
بشرط وقع عقيب الشرط مثل ان يقول لامرأته ان دخلت الدار فانت طالق. الدر المختار :
٣/٥٢ «لا يتم العقد
قبل انقضاء العدة، فإن انقضت العدة جاز العقد (رد المحتار:
3/55، دار الفكر) "إذا زوجت
البالغة نفسها من كفء بشهادة رجلين مسلمين جاز، وإن كره الأولياء." (الدر المختار:
3/230) "والمطلقة
ثلاثاً لا تحل لزوجها الأول حتى تنكح زوجاً غيره نكاحاً صحيحاً ويدخل بها." و الله اعلم بالصواب كتبه المجلس المشترك للإفتاء بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش