মুহতারাম মুফতি সাহেব, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমি একটি জরুরি মাসআলা জানতে চাই।আমি আমার স্ত্রীকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তালাক লিখেছি। ঘটনাটি হলোপ্রথমবার: আমি ৯ এপ্রিল ২০২৩ সালে মেসেজে লিখেছি: “তালাক ১, ২, ৩”।দ্বিতীয়বার: পরের দিন আবার মেসেজে লিখেছি: “তালাক ১, ২, ৩”। প্রতিবারই আমার তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিলো এবং আমি সচেতনভাবে লিখেছি। এরপর থেকে আমরা একসাথে বাস করছি।
আমার জানার বিষয় হলো:-
১. এই অবস্থায় কি আমাদের তালাক সংঘটিত হয়েছে?
২. যদি হয়ে থাকে, তাহলে কতটি তালাক গণনা হবে?
৩. আমাদের একসাথে থাকা এখন জায়েজ হবে কি না?
আপনার কাছ থেকে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে সঠিক সমাধান চাই।
নিবেদক,
মোঃ রাসেল মিয়া
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী শরীয়াতে তালাক অত্যন্ত অপছন্দনীয় একটি হালাল বিষয়। তা ছাড়া ইসলামে স্ত্রীকে সতর্ক ও সংশোধন করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেসব প্রয়োগ না করে প্রথমেই তালাক দেয়া উচিত নয়। রাগের মাথায় তালাক দিলেও তালাক পতিত হয়, হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মতানুসারে লিখিত বা মৌখিক একসাথে তিন তালাক দিলে তা তিন তালাক বলেই বিবেচিত হয়।
সুতরাং আপনার প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী প্রথমবার ৯ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে আপনি লিখেছেন: “তালাক ১, ২, ৩”। এর মাধ্যমে তিন তালাক একসাথে পতিত হয়েছে। এবং একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত পরের দিন দ্বিতীয়বার আবার লিখেছেন “তালাক ১, ২, ৩”, অকার্যকর কারণ প্রথমবারেই স্থায়ীভাবে তিন তালাক হয়ে গেছে।
নিম্নোক্ত তিন তালাকের বিধান দেওয়া হলো
১. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যায়। তথা তালাকের পর থেকে তাদের পরস্পরের জন্য দেখা-সাক্ষাৎ, মেলা-মেশা বা এক কথায় স্বামী-স্ত্রী সুলভ সকল যাবতীয় আচরণ নাজায়েয ও হারাম হয়ে যায়।
২. তখন স্ত্রীর ইদ্দত তথা তালাক পরবর্তী তিন মাসিক শেষ হওয়া পর্যন্ত, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তাকে খোর-পোষ দেয়া এবং মোহর আদায় না করে থাকলে মোহর আদায় করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব।
৩. যেহেতু তিন তালাক প্রদানকারী এখন আর এই স্ত্রীর স্বামী নন সেহেতু স্ত্রীর জন্য করণীয় হল, দ্রত এই স্বামীর সংসার থেকে চলে যাওয়া। এরপর যদি অন্য কোথাও স্ত্রীর বিয়ে হয়, ঘর-সংসার হয়। সেই স্বামী কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় কিংবা মারা যায় তখন দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনের পর নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে শরীয়ত সম্মত পন্থায় প্রথম স্বামীর কাছে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
الادلة الشرعية
(البقرة: ٢٣٠)
﴿فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ﴾
(صحيح البخارى-2/792، 2/803)
وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك
(سنن الدار قطنى، كتاب الطلاق، دار الكتب العلمية-4\21، رقم-3932)
عن عائشة رضى الله عنها قاتل: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا طلق الرجل امرأته ثلاثا لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره، ويذوق كل واحد منهما عسليلة صاحبه
(صحيح البخاري، 5261)
عن عائشة رضي الله عنها: «أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت زوجا غيره، فجاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: لا، حتى تذوقي عسيلته ويذوق عسيلتك»
(صحيح مسلم، ١٤٧١)
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر طلاق الثلاث واحدة
(الفتاوى الهندية-1\478، جديد-1\535، مجمع الأنهر، دار الكتب العلمية بيروت-2/88، الفتاوى التاتارخانية-5/147، رقم-7503)
وإن كان الطلاق ثلاثا فى الحرة، وثنتين فى الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها، ثم يطلقها، أو يموت عنها
(رد المحتار على الدر المختار، ٣/٢٤٦)
قَوْلُهُ (وَلا يُعْتَبَرُ فِي الطَّلَاقِ وَالنِّكَاحِ إلَّا الإكْرَاهُ التَّامُّ) وَهُوَ مَا يُوجِبُ الْخَوْفَ عَلَى النَّفْسِ أَوْ عَلَى عُضْوٍ مِنْ أَعْضَاءِ الْبَدَنِ، أَمَّا غَيْرُهُ مِنْ إلْجَاءِ الْوَالِدَيْنِ أَوْ الْأَقَارِبِ فَلَا يُعْتَبَرُ إكْرَاهًا
(الفتاوى الهندية، ١/٣٧٦)
"وَلَوْ قَالَ: أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا، وَنَوَى وَاحِدَةً، تَقَعُ الثَّلَاثُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَصَاحِبَيْهِ."
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش