মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমি একটি জরুরী মাসআলা জানতে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। তা হলো, আমার স্বামী আমাকে দুই ধাপে একসাথে তিনের অধিকন তালাক দিয়েছেন। এরমধ্যে প্রথমবার ২০২৫ সালের কুরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে আমার হাজবেন্ডের সাথে কোনো একটি বিষয় নিয়ে খুব ঝগড়াঝাঁটি হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে সে আমাকে বলেন, "তোকে তিন তালাক দিলাম।' এরপর, সে বলে রাগের মাথায় বলে, ফেলেছি, হুঁশ ছিলনা।" এ ঘটনার পর ঈদের আগের দিন আমার শ্বশুর বাড়ির লোক এসে বললেন, তারা কোনো এক আলেমের কাছে ফতওয়া নিয়েছেন যে, উক্ত তালাক এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে। তাই ঐদিনই আমি শ্বশুরবাড়ি চলে যাই।
বর্তমানে, আমি তিন মাসের গর্ভবর্তী, যা তিন তালাকের পর হয়। বার সংসার করাকালীন কনসিভ হয়েছে; কিন্তু এসব নিয়ে স্বামীর কোনো আগ্রহ নেই। সে বার বার আমাকে বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে। আমার বিয়ে তার পছন্দ অনুযায়ী হয়েছিল। এতে তার পরিবারের সম্মতি ছিলনা।
দ্বিতীয়বার, তালাকের ঘটনাটি ঘটে, গত তিনদিন আগে। সে আমার সাথে আবার ঝগড়া করে। এর এর আগে ঝগড়ার কারণে প্রায় ১৫ দিনের মতো আমাদের কথা হয়নি। ঝগড়ার আগে মেসেজের মাধ্যমে রাত ১টা দুই মিনিটে এক তালাক, দুই তালাক এবং ১টা তিন মিনিটে তিন তালাক লিখে পাঠায়। তবে এ সময় মেসেজে সে তালাকের কথা লিখলেও "দিলাম" শব্দটি বলেনি।
এখন আমার জানার বিষয় হলো:- ১। ১ম তালাকের ফতোয়া জানতে চাই।
২। দ্বিতীয়বার তালাকের ফতোয়া জোনতে চাই।
৩। আমাদের একসাথে থাকাটা বেধ ছিল কি? যদি না হয়, এবং প্রথমবারেই তিন তালাক হয়ে থাকে তাহলে তিন মাসের পেটের বাচ্চাটি কি করব? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাবিত করবেন।
নিবেদক,
তাসনীম জান্নাত নৌরীন
১২নং সেক্টর, উত্তরা, ঢাকা
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী বিধান মতে তালাক একটি নিকৃষ্ট গর্হিত বৈধ কাজ। একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত শরীয়ত তালাক দিতে নিরোৎসাহিত করে। তথাপিও যদি কোন ব্যক্তি কারণে-অকারণে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় লিখিত বা মৌখিকভাবে একসাথে বা পৃথকভাবে তালাক দিলে সংখ্যা অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যায়।
সুতরাং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী স্বামী যেহেতু একসাথে তিন তালাক প্রদান করেছে। ফলে সাথে সাথে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গিয়েছেন। উক্ত তালাকের পর থেকে আপনাদের জন্য সংসার করা বৈধ নয়। তবে ইদ্দত পালন পরবর্তী স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং উক্ত স্বামী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দত পালনের মাধ্যমে প্রথম স্বামীর সাথে সংসার করা আপনার জন্য বৈধ আছে অন্যথায় তিন তালাক পরবর্তী স্বামীর সাথে সংসার করা হারাম এবং শারীরিক সম্পর্ক জিনা হিসাবে গণ্য হবে।
আর গর্ব সেটা হালাল সহবাসের মাধ্যমে হোক অথবা হারাম সর্বাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভপাত করা বৈধ নয় তবে একান্ত ওজর দেখা দিলে যেমন গর্বের কারণে উক্ত মহিলার বা দুধ পানকারী শিশুর মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য অজরের কারণে চার মাসের পূর্বে গর্ভপাত করার অনুমতি রয়েছে অন্যথায় নয়।
আর তালাকের সর্বোচ্চ সংখ্যা যেহেতু তিন সেটা কার্যকর হয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী তিন তালাক অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু স্বামী গত কুরবানী ঈদের আগে আপনাকে তিন তালাক দিয়ে দিছে বিধায় তারপর থেকে আপনাদের সংসার করা বৈধ হয়নি বরং সংসার করা হারাম হয়েছে এবং উক্ত তালাক পরবর্তী শারীরিক সম্পর্ক যিনা হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য : এক শব্দে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে এটাই গ্রহণযোগ্য এবং এটাই চার মাযহাব তথা হানাফী, মালেকি, শাফিয়ী, হাম্বলি মাযহাব চতুষ্টয়ের ঐক্যবদ্ধ ফতোয়া এর বাহিরে মত রয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
الادلة الشرعية (سورة البقرة :
٢٣٠) فان طلقها فلا تحل له من
بعد حتى تنكح زوجا غيره (السنن الكبرى
للبيهقي:١٤٤٩٢) قال حسن : لولا اني سمعت
ابي يحدث عن جدي النبي صلى الله عليه وسلم : من طلق امراته ثلاثا لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره لراجعتها (المصنف لابن
ابى شيبة:١٨٠٨٧) عن واقع بن سحبان قال سئل
عمران بن حصين رضي الله عنه عن رجل طلق امراته
ثلاثا في مجلس قال اثم بربه و حرمت عليه امراته (مجموعة الفتاوى
لابن تيميه ٨/٣٣) فان ثلاثا في طهر واحد بكلمة واحدة مثل ان يقول انت
طالق ثلاثا فهذا للعلماء من السلف والخلف فيه ثلاثةاقوال الثاني : انه
طلاق محرم لازم وهو قول مالك وابي حنيفة واحمد في الرواية المتاخرة عنه واختارها
اكثر اصحابه وهذا القول منقول عن كثير من السلف من الصحابة والتابعين الدر المختار
مع رد المحتار (٩/٦١٥) ويكره ان يسقي لاسقاط حملها
وجاز لعذر حيث لا يتصور قال الشامي وقدروا تلك المدة بماة و عشرين يوما لانه ليس
بادمي وفيه صيانة ( حيث لا يتصور) قال
الشامي قيد جاز لعذر والتصور كما في
القنية ان يظهر له شعر او اصبع او رجل ونحو ذلك و الله اعلم بالصواب كتبه المجلس المشترك للإفتاء بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش