জোরপূর্বক তালাক ও হিলা প্রসঙ্গে।
মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমি ২ বিয়ে করছি। আমার ছোট বিবি আমাকে কিছুদিন আগে কল দিয়ে আমাকে বলছে আমাকে এখনি তালাক দেন। নাহলে আপনার অনেক বর ক্ষতি করবো। আগে এক বার একজন কে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিছিল আমার বিরুদ্ধে। তখন আমার অনেক ক্ষতি হইছি। তাই আমি তাকে অনেক ভয়ে পাই। তাই সে যা যা বলে আমি শুনি। কইদিন আগে সে আমাকে হুমকি দেই আমাকে ২ লক্ষ্য টাকা দিতে হবে তোখন আমি তাকে ২ লক্ষ্য টাকা দেই। কাল সে আমাকে এসএমএস দিয়ে বলে আমি ডা: কাছে যাবো টাকা দেন। পরে আমি অনুরোধ করি। আমাকে বিয়ে কর হিল্লাহ করে শে বলে আগে তোমার প্রথম বিবিকে তালাক দাও। তার আমি ভয়ে এসএমএস বলি তালাক দিলাম পরে শে আমাকে নামে লিখে দে আমার প্রথম বিবির
বলে আই ভাবে নামে লিখে তালাক দাও তারপর আমি তার কথার উপর সেই ভাবে লিখে দি ভয়ে জাতে আমাকে কোন বিপদে না ফেলে। কিন্তু আমি মনে মনে ভেবে নিছি এটা আমি আমার প্রথম বিবি কে তালাক দিচ্ছি না। সে লিখতে বলছে তাই লিখে দিলাম। এখন আমি জানতে চাচ্ছি আমার তালাক কি হয়ে যাবে।
আমার দ্বিতীয় বিবির সাথে এসএমএস এর কথোপকথন
আমার দ্বিতীয় বিবির সাথে যেভাবে আমি এসএমএসে তালাক দেই সেটা উল্লেখ করতেছি নিছে আমার দ্বিতীয় বউ
কসম দিয়ে তাকে তিন তালাক দাও। তারপর আমি লিখেছি “তালাক তালাক তালাক” হুমায়রা কিন্তু তার নামের স্পেলিং এখানে কিছুটা ভুল আছে। যা আমি ইচ্ছা করি করেছি। আমার ২ বিবি এই এসএমএস দেখে আমাকে বলেছে হয় নাই। তারপর সে লিখে দেয় এইভাবে তালাক দাও যে, আমি হুমায়রা কে তালাক দিলাম ১.২.৩
পরে আমি লিখি আমি যঁসধরৎধ কে তালাক তালাক তালাক দিলাম। পরে সে আবার লিখে, এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক, পরে আমি লিখি এক তালাক ২ তালাক ৩ তালাক দিলাম। এখানে আমি আবার নাম উল্লেখ করি নাই।
নিবেদক,
নাম মুহাম্মাদ
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, মৌখিকভাবে উচ্চারণ করা তালাকের মতোই লিখিতভাবে দেওয়া তালাকও কার্যকর হয়।
অতএব, আপনি মেসেজের মাধ্যমে স্ত্রীকে তিন তালাক (তালাক, তালাক, তালাক) প্রদান করে করেছেন তাই শরীয়ত মোতাবেক সেই তিন তালাকই কার্যকর হয়ে গেছে। ঐ স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়েছে।
এ অবস্থায় সেই স্ত্রীর সঙ্গে আপনার আর দাম্পত্য জীবন যাপন করা, একসাথে থাকা, বা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলা শরীয়ত সম্মত নয়।
জোরজবরদস্তির প্রসঙ্গে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, স্ত্রী আপনাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এই ধরনের হুমকি জোরজবরদস্তি হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এতে আপনার বাস্তবিক কোনো শারীরিক বা আইনগত ক্ষতি সাধনের উপক্রম ঘটেনি।
শরীয়ত অনুযায়ী জবরদস্তি তালাক বলতে বোঝায় যেখানে স্বামীর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, অথবা কারাবন্দি করার, প্রহার করার, বা ধ্বংস করার হুমকি বাস্তবভাবে কার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু এমন কোনো বাস্তব বিপদ বিদ্যমান ছিল না, তাই এই তালাককে জবরদস্তির তালাক বলা যাবে না। ফলে, আপনার দেওয়া লিখিত তিন তালাক বৈধ ও কার্যকর গণ্য হয়েছে।
হালালাহর বিধান
আপনি যদি এখন পুনরায় ঐ স্ত্রীকে বৈধভাবে ফিরে পেতে চান, তবে এর একমাত্র শরীয়তসম্মত উপায় হলো হালালাহ। অর্থাৎ স্ত্রী অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে নিয়মিত ও বৈধ বিবাহ করবে, তাদের মধ্যে বাস্তব স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক স্থাপিত হবে, অতঃপর কোনো কারণে যদি তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, এবং স্ত্রী ইদ্দত সম্পূর্ণ পালন করে, তাহলে সেই স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য পুনরায় বৈধ হবে। মনে রাখতে হবে-প্রথম স্বামীর বিবাহের উদ্দেশ্যে কোথাও স্ত্রীকে বিয়ে দিয়ে তালাকের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি পরিকল্পনামাফিক বিয়ে এবং তালাক সম্পাদন করা হালালাহ এর অন্তর্ভূক্ত নয়।
সূরা আল-বাকারা : আয়াত ২২৯-২৩০ আল-সুনানুল কুবরা, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৩৮ ফাতাওয়া, পৃষ্ঠা ৩৭৫ আদ-দুররুল মুখতার মা‘ রদ্দুল মুখতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫১ বদায়উেস সানায়, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১০০ আল-মাবসুত, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪ ফাতহুল কাদীর, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩৮ দারুল ইফতা দারুল উলুম ফতোয়া নং: ৫৯০/