আসসালামু আলাইকুম! মুহতারাম, নিম্নের ঘটনাসমূহ বিচার-বিশ্লেষণ করে একটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য সমাধান দিন।মাযহাব: উভয়েই হানাফি।

ঘটনা-১: জুন মাসের শেষ সপ্তাহে (৩০ তারিখ) আমার ভাবি মেসেজ করে জানালেন, তোমার বউ ডিভোর্স দিতে বলছে। আমি বললামআমি পারব নাতাকে দিতে বলো।পরে মেসেজে আমার স্ত্রী বলেআমাকে ডিভোর্স দাও। আমি বললামআমি তোমাকে ডিভোর্স দিতে পারব নাপারলে তুমি দাও। তোমাকে ডিভোর্স দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দিলাম (৩ তালাক দেওয়ার ক্ষমতা ছিল)। ইচ্ছা করলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যেতে পারো।সে বলেআমি তোমাকে ডিভোর্স দিলাম। আমি বললামবলোতুমি এটা রাগ করে বলছ? সে বলেনারাগ করে বলছি না। আমি তোমাকে ডিভোর্স দিলাম। আমি বলিছেলেখেলা নয়ভেবে বলো। সে বলল, ভেবেই বলছিতোমাকে ডিভোর্স দিলাম। তোমার সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই। তখন আমি বলিমেনে নিলাম। ইদ্দত পালন করো। ভালো ছেলে দেখে বিয়ে করে নিও।সে একই দিনে তিনবার ডিভোর্স দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে। এটি ছিল জুন মাসের শেষের দিকের ঘটনা। কিন্তু আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যেরাগ করে বললেও তালাক হয়ে যায়। যার কারণে তার থেকে দূরে আছি।১৮ জুলাই আমাদের দেখা হয়, কিন্তু গুনাহের ভয়ে কোনো শারীরিক সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকি। আগস্ট মাসের ২১ তারিখ আবার দেখা হয়।

ঘটনা-২: আগস্ট মাসের ২৫ তারিখে আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তখন আমি স্ত্রীকে তোমাকে তালাক দিলাম এই কথাটি তিনবার বলি। আগস্ট মাসে তাকে যা বলেছিতার জন্য আমি অনুতপ্ত ও লজ্জিত।

মুহতারাম, গুনাহের ভয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ রেখেছি, কিন্তু আত্মিকভাবে তার সঙ্গে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন হতে পারিনি। একটি নিখুঁত ফয়সালা দিন, যা আমাদের আখিরাতের জন্য উত্তম হবে। আমরা ইসলামের সব নীতি মেনে জীবন পার করতে বদ্ধপরিকর।মাসিকের তারিখসমূহ:১. এপ্রিল মাসের ২৮ তারিখ।২. মে মাসের ২৮ তারিখ।৩. ২৬ জুন ২০২৬।৪. জুলাই মাসের ২৪ তারিখ।৫. আগস্ট মাসের ২১ তারিখ।তার প্রতিটি হায়েজ ৫ দিন স্থায়ী হয়। ২৬ জুন ২০২৬ থেকে এখন পর্যন্ত আলাদা বসবাস করছি।উপরের তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে শরিয়তের হুকুম নির্ধারণ করে দিন।

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

       ইসলামী শরিয়তে তালাক দেওয়ার অধিকার মূলত স্বামীর। স্ত্রী সরাসরি স্বামীকে তালাক দিতে পারে না। তাফবীযে তালাকের অধিকার দেওয়া থাকলেও স্ত্রী নিজের ওপর তালাক গ্রহণ করতে পারে বা নিজেকে তালাক দিতে পারেকিন্তু স্বামীকে তালাক দিতে পারে না।

      সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী৩০ জুন ২০২৬ তারিখে স্ত্রী স্বামীকে তোমাকে ডিভোর্স দিলাম বলার দ্বারা কোনো তালাক পতিত হয়নি। তবে এর জবাবে স্বামী মেনে নিলাম ও ইদ্দত পালন করো বলার দ্বারাও কোনো তালাক পতিত হয়নি। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বামী বাকবিতণ্ডার সময় স্পষ্ট ভাষায় তিন তালাক দেওয়ায় তিন তালাক (তালাকে মুগাল্লাযা) পূর্ণ হয়ে গেছে এবং আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। শরিয়তসম্মত হালালা ছাড়া পুনরায় সংসার করতে পারবেন না। (যদি অন্য কোথাও স্ত্রীর বিয়ে হয় এবং ঘর-সংসার হয়, সেই স্বামী কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন কিংবা মারা যান, তখন দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনের পর নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে শরিয়তসম্মত পন্থায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।)

নিম্নে তিন তালাকের বিধান দেওয়া হলো:

১. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যায়। অর্থাৎ, তালাকের পর থেকে তাদের পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, মেলামেশা তথা স্বামী-স্ত্রীসুলভ যাবতীয় আচরণ নাজায়েয ও হারাম হয়ে যায়।

২. তখন স্ত্রীর ইদ্দত তথা তালাক-পরবর্তী তিন হায়েজ শেষ হওয়া পর্যন্ত, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত, তার ভরণপোষণ এবং মোহর আদায় করা না হয়ে থাকলে মোহর আদায়ের বিষয়টি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

৩. যেহেতু তিন তালাক প্রদানকারী এখন আর এই স্ত্রীর স্বামী নন, সেহেতু স্ত্রীর করণীয় হলো, এই স্বামীর সংসার থেকে পৃথক থাকা। এরপর যদি অন্য কোথাও স্ত্রীর বিয়ে হয় এবং ঘর-সংসার হয়, সেই স্বামী কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন কিংবা মারা যান, তখন দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনের পর নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে শরিয়তসম্মত পন্থায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।আল্লাহ তাআলা বলেন

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোনো স্বামীকে বিয়ে না করবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করায় কোনো পাপ নেই, যদি তারা আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা রাখে। আর এগুলো হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে, তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়।(সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩০) 

الأدلة الشرعية

الموسوعة الفقهية (١٣/١١١)

       ذهب الحنفية ، والشافعي في الجديد إلى أن التفويض تمليك للطلاق، وعلى هذا قال الحنفية بعدم صحة رجوع الزوج عنه ، وذلك لأن التمليك يتم بالملك وحده بلا توقف على القبول .

الفتاوى الهندية (١/٣٨٧)

      وليس للزوج ان يرجع في ذلك ولا ينهاها عما جعل اليها ولا يفسخ كذا في الجوهرة النيرة

الدر المختار ٤/٥٣/الازهر

       (قال لها اختاري أو أمرك بيدك ينوي تفويض (الطلاق) لأنها كناية فلا يعملان بلا نية أو طلقي نفسك فلها أن تطلق في مجلس علمها به) مشافهة أو إخباراً

رد المحتار ٥٣/الازهر

      بَابُ تَفويض الطَّلَاقِ أي تفويضه للزوجة أو غيرها صريحاً كا ن  التفويض أو كناية؛ يقال : فوض له الأمر : أي : رده إليه حموي فالكناية قوله اختاري أو أمرك بيدك، والصريح قوله طلقى نفسك ' قوله : تفويض وتوكيل المراد بالتفويض : تمليك الطلاق كما يأتي.

الهداية (٢/١٣٢)

      وان كان الطلاق ثلاثا في الحرة او ثنتين في الامة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها او يموت عنها 

  السنن الكبرى للبيهقي (١٤٤٩٢)

      قال حسن : لولا اني سمعت ابي يحدث عن جدي النبي صلى الله عليه وسلم : من طلق امراته ثلاثا لم تحل له  حتى تنكح زوجا غيره

المصنف لابن ابى شيبة(١٨٠٨٧)

      عن واقع بن سحبان قال سئل عمران بن حصين رضي الله عنه عن رجل طلق امراته  ثلاثا في مجلس  قال اثم بربه  و حرمت عليه امراته

 

والله أعلم بالصواب

 

উত্তর প্রদানে

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা