মুহতারাম মুফতী সাহেব, আমরা ১০ জনের একটি জামাত ময়মনসিংহের মধুটিলা এলাকায় ঘুরতে যাই। সেখানে নামাজের সময় হওয়ায় আমাদের ওযুর প্রয়োজন হয়। আমাদের সামনে একটি গর্ত দেখতে পাই, সেই গর্তটির এক কর্নারে একটি বিড়াল মরে আছে। গর্তটি লম্বা ১৫ হাত হবে আর প্রস্থ হবে ৫ হাত এবং গর্তটির গভীরতা হবে ১ বিঘতের একটু কম। অতঃপর আমরা উক্ত গর্তের পানি দ্বারা ওযু করে নামাজ আদায় করি। জানার বিষয় হলো, উক্ত পানি দ্বারা আমাদের পবিত্রতা কি সহীহ হয়েছে? আর আমরা উক্ত গর্তকে বড় হাউজের মতো মনে করেছি। আমাদের ধারণা কি সঠিক হয়েছে? দলিলসহ জানাবেন।

নিবেদক: আব্দুল্লাহ আল মামুন।

الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ


শরয়ী দৃষ্টিতে বেশি ও কম পানি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রবল ধারণাই মূল বিবেচ্য। অর্থাৎ তাদের যদি প্রবল ধারণা হয় যে, কোনো হাউজ/গর্তের এক পার্শ্বে নাড়া দিলে পতিত নাপাক হাতের নাড়ায় এক মুহূর্তে অপর পার্শ্বে পৌঁছবে না, তাহলে উক্ত হাউজ/গর্ত বড় এবং তাতে বিদ্যমান পানি বেশি পানি হিসেবে গণ্য হবে। আর বেশি পানিতে নাপাক পড়লে পানির তিনটি বৈশিষ্ট্য—রং, স্বাদ, ঘ্রাণ—এর কোনো একটি পরিবর্তন না হলে উক্ত পানি পাক বলে বিবেচনা করা হয়।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত গর্তটিতে বিদ্যমান প্রাণীকে যদি আপনাদের প্রবল ধারণামতে বেশি পানি মনে হয় এবং পতিত বিড়ালের কারণে পানির উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যত্রয়ও অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে আলোচ্য গর্তের পানি দ্বারা আপনাদের কৃত ওযু সহিহ হয়েছে।

রেফারেন্স:মুখতাসারুল কুদুরী, পৃ. ২৩। আল-বুশরা আল-আসল: ১/৩৮, মাকতাবাতুল আহরার। ফাতহুল কাদির: ১/৮৩, রশিদিয়্যাহ।


মুফতি মুয়াজ বিন ইয়াহইয়া

ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ, শেখ জানূরুদ্দীন র. (চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসা) ঢাকা-১২১৯

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল