প্রশ্ন: স্বামী স্ত্রীকে ফোনে বলল। তুই ফোন উঠাস না কেন, বৌ: আমি কাজে ছিলাম তাই। তখন স্বামী বলল: তাহলে শুন এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক জা মাগির জি। আমার জানার বিষয় হলো এখন স্ত্রীর কী করণীয়? মোহরের টাকা আদায় করে না থাকলে পাবে কিনা? ইদ্দত কোথায় পালন করবে? এবং খরচ কে বহন করবে? এই তালাকের কারনে স্বামী গোনাহগার হবে কিনা?

الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ

        শরয়ীদৃষ্টিতে তালাক একটি অপছন্দনীয় বৈধ কাজ। কথায় কথায় তালাক প্রদান বা এক সাথে তিন তালাক দেওয়া সামাজিক ও শরয়ী উভয় দৃষ্টিকোণে মারাত্মক অন্যায় ও গুণাহের কাজ। এতদসত্বেও যদি কেউ নিজ স্ত্রীকে উদ্দেশ্যকরে সুস্থজ্ঞানে একসাথে তিন তালাক উচ্চারণ করে তাহলে তা পতিত হয়ে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। আর শরয়ী দৃষ্টিকোনে সংগমকৃত তালাক প্রাপ্তাস্ত্রীর নির্ধারিত মহর বাকী থাকলে তা স্বামীর উপর ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। ইদ্দত পালনের সময়ের খোর পোষের ব্যবস্থা স্বামীকেই করতে হয়। আর স্ত্রীর জন্য স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত পালন করার বিধান রয়েছে, তবে স্বামী যদি রাজি হয় তাহলে অন্য কোন নিরাপদ ঘরেও ইদ্দত পালন করতে পারবে।

     সুতরাং, প্রশ্নোক্ত সূরতে স্ত্রী সংগমকৃত হয়ে থাকলে তার উপর তিন তালাক পতিত হওয়ায় এখন তার জন্য করণীয় হলো সম্পূর্নরূপে স্বামী থেকে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়ে পরিপূর্ণরূপে পর্দা রক্ষা করে স্বামীর ঘরে বা স্বামীর সম্মতিতে বাবার ঘরে ইদ্দত পালন করবে। মহরের টাকা আদায় না থাকলে তা স্বামী থেকে দাবী করে নিতে পারবে। আর ইদ্দতকালীন সময়ের খোরপোষের খরচ স্বামী বহন করবে। একসাথে তিন তালাক দেয়া শরীয়তে বিদআত গণ্য হওয়ায় এর কারণে স্বামী গুনাহগার হবে।


তিন তালাকের বিধান নিম্নে দেওয়া হলো

১. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যায়। তথা তালাকের পর থেকে তাদের পরস্পরের জন্য দেখা-সাক্ষাৎ, মেলা-মেশা তথা স্বামী-স্ত্রী সুলভ সকল যাবতীয় আচরণ নাজায়েয ও হারাম হয়ে যায়।

২. তখন স্ত্রীর ইদ্দত তথা তালাক পরবর্তী তিন মাসিক শেষ হওয়া পর্যন্ত, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তাকে খোর-পোষ দেয়া এবং মোহর আদায় না করে থাকলে মোহর আদায় করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব।

৩. যেহেতু তিন তালাক প্রদানকারী এখন আর এই স্ত্রীর স্বামী নন সেহেতু স্ত্রীর জন্য করণীয় হল, দ্রæত এই স্বামীর সংসার থেকে চলে যাওয়া৷ এরপর যদি অন্য কোথাও স্ত্রীর বিয়ে হয়, ঘর-সংসার হয়৷ সেই স্বামী কোনো কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় কিংবা মারা যায় তখন দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনের পর নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে শরীয়ত সম্মত পন্থায় প্রথম স্বামীর কাছে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে৷ এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই৷

আল্লাহ তাআলা বলেন, যে

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنۢ بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। (সূরা বাকারা-২৩০)

الادلة الشرعية

سورة النساء: الاية-25

     فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ...

سورة الطلاق: الاية-6

     أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُم مِّن وُجْدِكُمْ وَلا تُضَارُّوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ...

اعلاء السنن:8/4018

    عن جابر رض عن النبى ص ـ قال: المطلقة ثلاثا لها السكنى والنفقة.

الهداية:3/132مكتبة البشرى

     طلاق البدعة أن يطلقها ثلاثا بكلمة واحدة أو ثلاثا في طهر واحد فإذا فعل ذلك وقع الطلاق وكان عاصيا. (وايضا فيه: 3/55، 3/297)

الفتاوى الهندية: 1/587 زكريا

     المعتدة عن الطلاق تستحق النفقة والسكنة .... والاصل ان الفرقة متى كانت من جهة الزوج فلها النفقة.

رد المحتار:4/416 الازهر

     والبدعى منسوب الى البدعة المراد بها هنا المحرمة لتصريحهم بعصيانه.

آ پکے مسائل اور انکا حل:6/705 لدھیا نوی

      جواب: عورت اپنے شوہر کے گھر میں عدت گزارے گی اور جب تک عدت پوری نہیں ہو جائے اسکا اپنے شوہر کے گھر سے نکلنا جائز نہیں

فتاوی محمو دیہ: 13/433 فاروقیہ

     جواب: ... آپکا مہر اور خرچہ عدت بھی اسکے ذمہ واجب ہے۔

والله أعلم بالصواب .

 

 

      মুফতি শরীফ মালিক

    মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

   শিক্ষাসচিব ও সিনিয়র মুফতি: শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

   বিভাগীয় প্রধান- ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিভাগ