প্রশ্ন: নাভির নিচের লোম ৪০ দিনের বেশি হয়ে গেলে কি নামাজ-রোজা আদায়ে কোনো সমস্যা হবে? এ অবস্থায় নামাজ ও রোজার হুকুম কী? শরিয়তের দৃষ্টিতে ৪০ দিনের বেশি লোম না কাটার বিধান কী?  প্রকাশে অনিচ্ছুক।

 

الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ

      শরয়ী দৃষ্টিতে নাভির নিচের লোম ও বগলের লোম ৪০ দিনের বেশি রেখে দেওয়া গুনাহ এবং সুন্নতের খেলাফ।৪০ দিনের মধ্যে নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তবে ৪০ দিনের মধ্যে লোম পরিষ্কার না করলে ছালাত হবে না এমনটা নয়।

     উল্লেখ্য যে, ৪০ দিনের মধ্যে নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার অর্থ এই নয় যে, তা ৪০ দিন পর্যন্ত রাখতে হবে। বরং ৪০ দিন হওয়ার পূর্বেই পরিষ্কার করতে হবে। আনাস ইবনে মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করা। আমরা যেন ৪০ দিনের বেশী ছেড়ে না দিই । রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ফিৎরাত বা স্বভাব হলো পাঁচটি। যথা- খাৎনা করা, নাভীর নীচের লোম চেঁছে ফেলা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা তবে এর কারণে নামাজ বা রোজা বাতিল হয়ে যায় না।আনাস ইবন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত

وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ وَنَتْفِ الْإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَلَّا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً

আমাদের জন্য গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের লোম পরিষ্কার করা এবং নাভির নিচের লোম অপসারণের ব্যাপারে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেন আমরা ৪০ রাতের বেশি তা ছেড়ে না রাখি।

 

 (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৮৯; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৭; আবুদাঊদ, হা/৪১৯৮, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/৪৪২০)।(ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৮; ইবনু মাজাহ, হা/২৯৫, সনদ ছহীহ; নায়লুল আওত্বার, ১/১৬৮ পৃ.) সহীহ মুসলিম : ২৫৮]

 

উত্তর প্রদানে

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা