আসসালামু আলাইকুম। ২৩ মার্চ ২০২৬ বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগেই আমার হাসবেন্ড কে বুঝিয়েছিলাম ১৮ নং কলাম কি। কারন আমার অনেক ওসওয়াসা আছে এসব নিয়ে। আমি চাই নাই আমাকে এই অধিকার দেয়া হোক। সে জেনেছিল, বুঝেছিল, আর আমাকে বলেছিল আমাকে এই অধিকার দিবে না। তালাকের অধিকার উচ্চারণ করে নাই। কিন্তু সে বলেছিল, আমাকে অধিকার দিবে না। আমি টেনশন করি দেখে সে তালাক উচ্চারণ না করেই আমাকে বলতো অধিকার দিবে না।  কিন্তু কাজি কিছু না বলেই ১৮ নং কলামে অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। আর কিছু শর্ত লিখেছে। এগুলা কাজি বিয়ে পড়িয়ে বাড়িতে যেয়ে লিখেছে। এটা কাজি থেকে আমরা জেনেছি।  *কিন্তু আমাদের ইজাব কবুলের পরেই লিখেছিল* বিয়ের ৩ দিন পরে যখন কাবিন নামা হাতে পেলাম তখন দেখলাম। অনুমতি দেয়া। বিয়ের দিন আমাকে আর আমার হাসবেন্ড কে শুধু বলছে সাইন করতে। আমরা সাইন করেছি।

আমার হাসবেন্ড এর নিয়ত ছিল সে আমাকে কোনো অধিকার দিবে না, তাই সে কিছু না দেখেই, অন্যান্য ব্যস্ততার জন্য এই ১৮ নং কলাম খেয়াল না করেই সাইন করে দিয়েছে কাবিন নামা তে। আর সে যখন সাইন করেছে তখন তো এটা ফাকা ই ছিলো। যেহেতু কাজি নিজেই বলেছে এই ১৮ নং টা বিয়ে পড়িয়ে বাড়িতে যেয়ে লিখেছে।

১) এখন আমি কি অধিকার পাবো? একজন মুফতি বলেছিলেন যে, হাসবেন্ড যদি আগে থেকে জানে, জেনে সাক্ষর করে তাহলে নাকি অধিকার পাবে। হুজুর আমার হাসবেন্ড তো জানে এই বিষয়ে, তাও বিয়ের দিন খেয়াল করে নাই কাজি কি লিখছে। কিন্তু আমার হাসবেন্ড এর বিয়ের আগে থেকেই নিয়ত আমাকে কোনো অধিকার দিবে না।

২) আমি তাকে বিয়ের ৪ দিন পরে জিজ্ঞেস করি যে, আচ্ছা তুমি তো আমাকে কোনো অধিকার দাও নাই। তাই না?  তাকে আমি এভাবেই জিগ্যেস করি। "তালাকের অধিকার দাও নাই তো, তাই না? এভাবে জিগ্যেস করি না। আর আমার হাসবেন্ড এভাবে বললেই বুঝে যায়।  তখন আমার হাসবেন্ড ম্যাসেজ এ বলছে যে, 'না দেই নাই তো'। এখন  ম্যাসেজ এ লিখলে হবে? নাকি মুখে উচ্চারণ করে বলতে হবে অধিকার না দেয়ার কথা?

৩) যখন সাইন করেছে তখন ১৮ নং এ কিছু লিখা ছিল না।  অন্যান্য ঘরে লিখা ছিল। নাম, ঠিকানা। ১৮ নং টা বিয়ে পড়ানোর পরে কাজি লিখেছে বাড়িতে যেয়ে। আমার জামাই না দেখেই সাইন করেছে কিন্তু আমি পরে কাজির থেকে সিউর হয়েছি উনি বিয়ে পড়িয়ে লিখেছিলেন এই ১৮ নং কলাম। এখন আমি কি অধিকার পাবো?

৪) এখন এই অধিকার না দেয়া কি বিয়ের দিন থেকে ধরা হবে? নাকি বিয়ের ৪ দিন পর থেকে ধরা হবে? যেহেতু বিয়ের ৪ দিন পরে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তার মনে বিয়ের আগে থেকেই নিয়ত ছিল আমাকে কোনো অধিকার দিবে না।

৫) মুফতি রেজাউল করিম তার এক ফতোয়া তে বলেছে, কাজি কে নাকি  হাসবেন্ড এর পক্ষ থেকে উকিল মানা হয়। তাই উকিল যা করে হাসবেন্ড ও সেটা মেনে নিতে হবে৷  হাসবেন্ড কে ১৮ নং কলাম নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস না করে, কাজি যদি নিজে থেকে লিখে দেয় আর হাসবেন্ড না জেনে সেটাতে সাইন করে তাহলেও নাকি মেয়ে অধিকার পাবে। আমি ভিডিও পাঠাচ্ছি। সাথে।।উনার এই দলিল টা কি ঠিক আছে?https://www.facebook.com/share/v/1Uj95iSAym/

 

৬) আমি কেন এত টেনশন করছি এটার কারন হলো, এক এক জন মুফতি আমাকে এক এক উত্তর দিয়েছেন। আর আমার অনেক ওসওয়াসা আর অনেক রাগ। তাই আমি ভুল করে যদি কিছু বলে ফেলি এই ভয়েই আমি টেনশন করছি। আর আমি চাই না আমার এই অধিকার থাকুক।

৭) এখন আমি কোন মুফতির কথা শুনবো? আমি  কার কথার উপর আমল করবো?

 

الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ

          ইসলামী বিধান মতে  তালাকের মালিক একমাত্র স্বামী তবে যদি স্বামী স্ত্রীকে মৌখিকভাবে বা কাবিননামার ১৮ নং ধারায় লিখিতভাবে তালাক গ্রহণের অধিকার দিয়ে থাকে তাহলে স্ত্রী  তালাকের  মালিক হিসেবে গণ্য হয় এবং উক্ত অধিকার  কার্যকর করে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করিতে পারবে অন্যথায় নয়।  তবে আমাদের দেশে অনেক সময়  বিয়ের সময় কাজী সাহেব স্বামীর অজান্তে  নিজের পক্ষ থেকে ১৮ নং ধারায়  স্ত্রীকে  তালাক গ্রহনের অনুমতি দিয়ে থাকে এর দ্বারা যদিও মৌলিকভাবে স্ত্রী নিজের উপর তলাক গ্রহণের অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার  কথা নয় তথাপি  সামাজিক প্রচলনের  পাশাপাশি উক্ত  কাবিননামায় স্বামীর দস্তখত পাওয়া গেলে কাজি স্বামীর পক্ষ থেকে ওকিল হিসেবে বিবেচিত  হবে এবং  বিচারিকভাবে স্ত্রী তালাকের অধিকার পেয়েছে হিসেবে গণ্য হবে এবং এই অধিকার প্রয়োগ করে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে ।

        সুতরাং বর্ণিত নীতিমালা অনুযায়ী আপনার প্রশ্নের   জবাব প্রদত্ত হলো ১. ২. যদিও স্বামী তালাকের অধিকার দেয়নি যা পরবর্তীতে আপনার কাছে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে  তথাপি কাজি কর্তৃক তালাকের অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি কাবিন নামায় স্বামীর দস্তখত করার কারণে তালাক গ্রহণের অধিকার আপনার জন্য অর্জিত হয়ে যাবে।

৩. কাবিননামায়  ১৮ নং ধারায় বিবাহের সময় কোন কিছু লেখা না থাকলেও আমি যেহেতু কাবিন নামের স্বাক্ষর করেছে অতঃপর কাজী নিজে অধিকার দিয়ে দিয়েছে তাই আপনি তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবে।

৪. স্বামীর মনে স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও  কাজি যখন তালাক গ্রহনের অধিকার দিয়ে দিছে ফলে তখন থেকেই তালাকের অধিকার পেয়ে যায়।

৫. মুফতি রেজাউল করিম আবরারের কথা ঠিক আছে।

৬. আপনি না চাইলেও  তালাক গ্রহণের অধিকার আপনার জন্য প্রমাণিত হয়ে গেছে  এখন সেটা ফিরিয়ে দেওয়া  বা নেওয়া সম্ভব নয় ।

الأدلة الشرعية

البحر الرائق: (٣/٣٣٦ دار الكتاب الإسلامي)

      وقيد باقتصاره على التخيير المطلق لأنه لو قال لها اختاري الطلاق فقالت اخترت الطلاق فهي واحدة رجعية لأنه لما صرح بالطلاق فقد خيرها بين نفسها بتطليقة واحدة رجعية وبين ترك التطليقة وكذا في قوله: أمرك بيدك كذا في البدائع وهو مستفاد من قول المصنف آخر الباب اختاري تطليقة أو أمرك بيدك في تطليقة،

الموسوعة الفقهية (١٣/١١١)

      ذهب الحنفية ، والشافعي في الجديد إلى أن التفويض تمليك للطلاق، وعلى هذا قال الحنفية بعدم صحة رجوع الزوج عنه ، وذلك لأن التمليك يتم بالملك وحده بلا توقف على القبول .

الفتاوى الهندية (١/٣٨٧)

      وليس للزوج ان يرجع في ذلك ولا ينهاها عما جعل اليها ولا يفسخ كذا في الجوهرة النيرة

الدر المختار ٤/٥٣/الازهر

     (قال لها اختاري أو أمرك بيدك ينوي تفويض (الطلاق) لأنها كناية فلا يعملان بلا نية أو طلقي نفسك فلها أن تطلق في مجلس علمها به) مشافهة أو إخباراً

رد المحتار ٥٣/الازهر

      بَابُ تَفويض الطَّلَاقِ أي تفويضه للزوجة أو غيرها صريحاً كا ن  التفويض أو كناية؛ يقال : فوض له الأمر : أي : رده إليه حموي فالكناية قوله اختاري أو أمرك بيدك، والصريح قوله طلقى نفسك ،،،،،،،،،،،،،،،، قوله : تفويض وتوكيل المراد بالتفويض : تمليك الطلاق كما يأتي.

و الله اعلم بالصواب

 


মুফতি মুঈনুল ইসলাম  সিলেটি

 মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল 

মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মাহাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা